পিএসএল খেলতে দেশ ছেড়েছেন বাংলাদেশি তারকারা

পিএসএল খেলতে দেশ ছেড়েছেন বাংলাদেশি তারকারা পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)-এর একাদশ আসর সামনে রেখে দেশ ছেড়েছেন বাংলাদেশের চার ক্রিকেটার। সোমবার (আজ) সকালে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটিতে অংশ নিতে তারা পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা দেন। প্রথম ধাপে দেশ ছেড়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, পারভেজ হোসেন ইমন ও নাহিদ রানা। বাকি দুই ক্রিকেটার—রিশাদ হোসেন ও তানজিদ তামিম—পরবর্তীতে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। আসন্ন আসরে সরাসরি চুক্তিতে মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে নিয়েছে লাহোর কালান্দার্স। একই দলে খেলবেন পারভেজ হোসেন ইমনও। অন্যদিকে নিলামের মাধ্যমে দল পেয়েছেন রিশাদ হোসেন, নাহিদ রানা ও ইমন। রিশাদ খেলবেন রাওয়ালপিন্ডি ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে। এবারই প্রথমবারের মতো পিএসএলে সুযোগ পেয়েছেন শরিফুল ইসলাম ও তানজিদ তামিম। সবকিছু ঠিক থাকলে পেশোয়ার জালমির জার্সিতে দেখা যাবে শরিফুল, তামিম ও নাহিদ রানাকে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে এই ছয় ক্রিকেটারকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়া হয়েছে। এরপরই দেশে ফিরতে হবে তাদের, কারণ একই সময়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে কিউইদের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে টাইগাররা। আগামী ২৬ মার্চ পর্দা উঠছে পিএসএলের এবারের আসরের, যেখানে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে।

ব্রাজিল দলে শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন

ব্রাজিল দলে শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন আসন্ন আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের আগে দলে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে ব্রাজিল। ইনজুরির কারণে অভিজ্ঞ লেফট-ব্যাক অ্যালেক্স সান্দ্রো ছিটকে যাওয়ায় তার পরিবর্তে তরুণ ডিফেন্ডার কাইকি ব্রুনোকে দলে ডেকেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। রোববার ফ্লামেঙ্গো ও করিন্থিয়ান্সের মধ্যকার ম্যাচে চোট পান সান্দ্রো। ফলে শেষ মুহূর্তে স্কোয়াডে পরিবর্তন আনতে হয় ব্রাজিল কোচকে। ২০১৯ কোপা আমেরিকা জয়ী এই ডিফেন্ডারের অনুপস্থিতি দলের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তার পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া কাইকি ব্রুনো বর্তমানে ক্রুজেইরোর হয়ে খেলছেন। ২৩ বছর বয়সী এই ফুটবলার এখনো জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক না করলেও বয়সভিত্তিক দলে নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছেন। তিনি ২০২৩ সালে অনূর্ধ্ব-২০ দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী দলের সদস্য ছিলেন এবং একই বছরে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালেও খেলেন। এর আগে গোলরক্ষক অ্যালিসন ইনজুরিতে পড়ায় তার জায়গায় হুগো সুজাকে দলে নেওয়া হয়। ফলে প্রীতি ম্যাচের আগে একাধিক ইনজুরি নিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আগামী ২৬ মার্চ ফ্রান্সের বিপক্ষে বোস্টনে এবং ৩১ মার্চ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে অরল্যান্ডোতে প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই দুটি ম্যাচকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপে মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ডের সঙ্গে একই গ্রুপে রয়েছে ব্রাজিল। ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান।

বিশ্ববাজারে ৪ মাসের মধ্যে সোনার দামে সবচেয়ে বড় পতন

বিশ্ববাজারে ৪ মাসের মধ্যে সোনার দামে সবচেয়ে বড় পতন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব ইতিমধ্যে বিশ্ববাজারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে বড় পতন দেখা গেছে। এক দিনেই ২ শতাংশের বেশি কমে এটি প্রায় চার মাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে। সংঘাতের বিস্তার, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং বৈশ্বিক সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনাই এই ধসের প্রধান কারণ। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার (২৩ মার্চ) স্পট গোল্ডের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩৭২ দশমিক ৮৬ ডলারে নেমে এসেছে। টানা নবম দিনের মতো এ ধাতুর দরপতন অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহেই স্বর্ণের দাম ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বেড়েছে। এর প্রেক্ষাপটে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও জোরালো হয়েছে। এ পদক্ষেপ সাধারণত সোনার মতো বিনিয়োগকে কম আকর্ষণীয় করে তোলে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান জানিয়েছে, এমন কোনো হামলা হলে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করবে। একই প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে, যা মূল্যস্ফীতির চাপ আরো বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে সোনারবাজারে অস্থিরতা আরো বাড়তে পারে। অন্যদিকে, এই প্রভাব পড়েছে অন্যান্য ধাতুতেও। স্পট রুপার দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৫ দশমিক ৬১ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৬৬ দশমিক ৬৫ ডলার, আর প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৯৭ দশমিক ২৫ ডলারে নেমেছে।

মুক্তিযুদ্ধ-জুলাই গণ-অভ্যুত্থান গবেষণায় ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান

মুক্তিযুদ্ধ-জুলাই গণ-অভ্যুত্থান গবেষণায় ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে গবেষণায় অনুদান দিতে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক গবেষণা কার্যক্রমের জন্য সম্প্রতি ‘গবেষণা (পরিচালনা, অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনা) নির্দেশিকা ২০২৬’ প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। নির্দেশিকায় গবেষণার ধরন অনুযায়ী সর্বনিম্ন ৫ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অর্থ ব্যবস্থাপনায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহি নিশ্চিতের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, গবেষণাকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ক-শ্রেণির দলীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণায় ১০ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হবে। খ-শ্রেণির একক গবেষণায় ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং গ-শ্রেণির একক গবেষণায় সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। গবেষণার গুরুত্ব ও ব্যাপ্তি বিবেচনায় প্রয়োজনে এই আর্থিক সীমা পুনর্নির্ধারণ করা যাবে। গবেষণার মেয়াদ যথাক্রমে সর্বোচ্চ ১২, ৯ ও ৬ মাস নির্ধারণ করা হয়েছে। গবেষণার অনুদান ধাপে ধাপে ছাড় করা হবে। প্রারম্ভিক প্রতিবেদন (ইনসেপশন রিপোর্ট) গ্রহণের পর প্রথম কিস্তিতে ৪০ শতাংশ অর্থ দেওয়া হবে। গবেষণার অন্তত অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হলে মধ্যবর্তী প্রতিবেদন (মিড-টার্ম রিপোর্ট) উপস্থাপনের ভিত্তিতে আরও ৪০ শতাংশ এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা ও অনুমোদনের পর বাকি ২০ শতাংশ অর্থ ছাড় করা হবে। পূর্ববর্তী কিস্তির অর্থের হিসাব সমন্বয় না করা পর্যন্ত পরবর্তী কিস্তি দেওয়া হবে না বলে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, গবেষণার মোট বাজেটের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ সম্মানী হিসেবে গবেষণা পরিচালক, সহ-গবেষক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বণ্টন করা যাবে। এর মধ্যে গবেষণা পরিচালক সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ, সহ-গবেষকরা ১৫ শতাংশ এবং গবেষণা সহযোগী ও সহকারীরা সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত সম্মানী পাবেন। বাকি অর্থ তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, প্রতিবেদন প্রণয়ন, মুদ্রণ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করা যাবে। নির্দেশিকায় গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট, ইতিহাস-ইতিবৃত্ত, সংগ্রাম, প্রভাব ও ফলাফল; গণমানুষের অংশগ্রহণ; বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ তালিকার যাচাই এবং প্রশাসনিক সংস্কার; ১৯৭১ সালের গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও শরণার্থী বিষয়ক পরিসংখ্যান ও দলিলায়ন; শহীদ বুদ্ধিজীবী, বধ্যভূমি ও শহীদদের নিয়ে গবেষণা; মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক শিক্ষা, পাঠ্যক্রম ও জনসচেতনতা; নারী, শিশু ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ভূমিকা, আত্মত্যাগ ও অভিজ্ঞতা; ডিজিটাল আর্কাইভ, জিআইএস ম্যাপিং ও স্মৃতিভিত্তিক প্রামাণ্য সংরক্ষণ; পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও কারণ, প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও চ্যালেঞ্জ; শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসন; রাষ্ট্র সংস্কারে এর চেতনার বাস্তবায়ন; গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের বীরত্বগাঁথা—এছাড়াও মন্ত্রণালয় নির্ধারিত সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়েও গবেষণা পরিচালনা করা যাবে। অর্থ ব্যবস্থাপনায় কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গবেষণা শেষ না হলে বা প্রতিবেদন বাতিল হলে গৃহীত অনুদানের অর্থ ফেরত দিতে হবে। একইভাবে ব্যয় শেষে কোনো অর্থ উদ্বৃত্ত থাকলে তা মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। সব ধরনের ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভাউচার, রশিদ ও ব্যয় বিবরণী জমা দিয়ে হিসাব সমন্বয় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, গবেষণার অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেট, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বা উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে আসবে। ব্যয় নির্বাহে সরকারি আর্থিক বিধি-বিধান ও অডিট ব্যবস্থার অনুসরণ নিশ্চিত করা হবে। গবেষণা কার্যক্রম বাংলা এবং ইংরেজি মাধ্যমে সম্পাদন করা যাবে। এতে আরও বলা হয়েছে, গবেষণায় গুণগত মান, নিরপেক্ষতা ও নৈতিকতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। কোনো ধরনের চৌর্যবৃত্তি প্রমাণিত হলে গবেষণা বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গবেষণার ফলাফল নীতিনির্ধারণ, আইন সংস্কার, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক ফোরামে ব্যবহারের কথাও উল্লেখ আছে।

ঈদের ছুটি শেষে ব্যাংক-অফিস-আদালত খুলছে কাল

ঈদের ছুটি শেষে ব্যাংক-অফিস-আদালত খুলছে কাল পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি শেষ হতে যাচ্ছে আজ সোমবার (২৩ মার্চ)। আগামীকাল মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) খুলছে অফিস-আদালত, ব্যাংক-বিমা ও শেয়ারবাজার। চলতি সপ্তাহের শনিবার (২১ মার্চ) দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। ঈদ উপলক্ষে গত ১৭ মার্চ থেকে ছুটি শুরু হয়। আজ সোমবার (২৩ মার্চ) মোট সাত দিনের নির্ধারিত সরকারি ছুটি শেষ হচ্ছে। আগামীকাল খুলবে ব্যাংক-বিমা, শেয়ারবাজার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও। তবে ঈদের পর অফিস খোলার মাত্র এক দিন পরে আবারও ছুটি পাচ্ছেন চাকরিজীবীরা। আগামী বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসের ছুটি আছে। এরপরের দুদিন যথাক্রমে শুক্র-শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে অফিস খোলার পরের দিনই আবারও তিন দিনের ছুটি পেতে যাচ্ছেন চাকরিজীবীরা। এদিকে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা পাঁচ দিন ছুটিতে আছেন সংবাদপত্রে কর্মরত সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। আজ সোমবার তাদের ছুটিও শেষ হতে যাচ্ছে। আগামীকাল তারা কর্মস্থলে যোগ দেবেন। সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত ১৯ থেকে আজ ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা ছুটি ঘোষণা করে।

ফিলিং স্টেশন মালিকদের জন্য সতর্কবার্তা, ডিসি-এসপিদের চিঠি

ফিলিং স্টেশন মালিকদের জন্য সতর্কবার্তা, ডিসি-এসপিদের চিঠি দেশের জ্বালানি তেল পাম্পগুলোতে তেল সংকট দেখা দিয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটি শেষে ব্যাংক খুললে পে-অর্ডারের পর তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। এদিকে তেল না পেয়ে পাম্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন গ্রাহকরা। অনেক এলাকায় স্টেশন স্টাফদের মারধরের তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস ও বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। স্টেশনের স্টাফদের মারধরসহ ফিলিং স্টেশন ভাঙচুরের ঘটনা রোধে পেট্রল পাম্প মালিকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে অ্যাসোসিয়েশন থেকে। সোমবার (২৩ মার্চ) ঢাকা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস ও বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ইরানের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল ডিপোসমূহ থেকে আমাদের অস্বাভাবিক চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করতে পারছে না বা আপাতত তা সরবরাহ করতেও পারবে না। অন্যদিকে মোটরসাইকেল ও সাধারণ ভোক্তাদের ফিলিং স্টেশনে উপচে পড়া ভিড় ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ ভোক্তা ও মোটরসাইকেল চালকরা ফিলিং স্টেশনের স্টাফদের মারধরসহ ফিলিং স্টেশন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে এবং যা প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে। এমতাবস্থায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে ফিলিং স্টেশন চালু রাখতে হবে। অন্যথায় কারো আদেশের অপেক্ষায় না থেকে ফিলিং স্টেশন পরিচালনার ক্ষেত্রে নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই নিয়ে চলতে হবে বলেও জানানো হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পাম্পের সব কর্মচারীদের নিরাপত্তা দিয়ে নিজেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। যাতে কোনোভাবে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। এমনটা চিঠিতে জানানো হয়।

দেশে তেলের কোনো সংকট নেই, সরবরাহ অব্যাহত

দেশে তেলের কোনো সংকট নেই, সরবরাহ অব্যাহত দেশে তেলের সংকট নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, ‘দেশে তেলের কোনো সংকট নেই। সরবরাহ অব্যাহত আছে। তবে ঈদের কারণে গত দুই দিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। আজ সোমবার নিজ দুপুরে নিজ বাসায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা বলেন। এ সময় মন্ত্রী গ্রাহকদের প্যানিক না হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি তেল আমদানি করা হচ্ছে। সবাই তেল পাবে।  তাই জনগণকে প্যানিক বা আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। সবাই তেল পাবে।’এদিকে প্রয়োজনে পাম্পকেন্দ্রিক নিরাপত্তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি বলেন, তেলের সংকটকে কেন্দ্র করে দাম বাড়ানোর যে পাঁয়তারা ছিল সেটিও সরকার সুন্দরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে। ঈদের আগে যে শঙ্কা ছিল সেখান থেকে আমরা বের হয়ে আসতে পেরেছি। পাম্পকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ঈদের আগেও দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে এখনো করবে।