আপনাদের সম্পর্ক কি সুন্দর?

আপনাদের সম্পর্ক কি সুন্দর? অনেকেই বলে থাকেন যে, যখন আপনি একটি ভালো সম্পর্কের মধ্যে থাকেন, তখন সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই প্রবাহিত হয়। অন্যরা যুক্তি দেবেন যে ভালোবাসায় অনায়াসে কিছু হয় না। সম্ভবত উভয়ই ঠিক। যাই হোক না কেন, আপনি যখন একটি সুস্থ সম্পর্কের মধ্যে থাকবেন তখন আপনি অবশ্যই বুঝতে পারবেন। ভাবছেন আপনার সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তা আছে কি না? চলুন মিলিয়ে নেওয়া যাক- সব পরিস্থিতিতে সম্মানজনক আচরণ দ্বন্দ্ব যেকোনো অংশীদারিত্বের একটি অংশ। কিন্তু আপনি বা আপনার সঙ্গী কীভাবে এটি মোকাবেলা করবেন? লৌহমুষ্টি দিয়ে নাকি ধৈর্য এবং বোধগম্যতার সাথে? মনে রাখবেন যে যেকোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্মান সবার আগে জরুরি। যদি আপনার সঙ্গী আপনার প্রতি রাগের সময়ও শ্রদ্ধাশীল থাকে, তবে বুঝে নেবেন আপনার সম্পর্ক সঠিক পথে চলছে। কারণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে, শ্রদ্ধা ভালোবাসার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনি দ্বিমত পোষণ করতে পারেন যখন ভিন্ন মূল্যবোধ, পটভূমি এবং লালন-পালনের দুটি মানুষ একটি জীবন ভাগ করে নেয়, তখন মতবিরোধ অবশ্যই ঘটবে। এই সত্যটি বোঝাই একটি সম্পর্ককে কার্যকর করে তোলে। সঙ্গীর প্রতিটি মতামতের সাথে আপনাকে একমত হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। কিন্তু আপনার মতামত তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়াও উচিত নয়। সহাবস্থানের এটাই সূক্ষ্ম শিল্প। রাজনীতি হোক, অভিভাবকত্বের নীতি হোক, অথবা ফ্যাশনের জ্ঞান, ক্ষমতার লড়াইয়ে না গিয়েও আপনি আপনার অবস্থান ধরে রাখতে পারেন। কাজ ভাগ করে নেওয়া নিজেদের কাজগুলো আপনারা মিলেমিলে করেন, যে যেটাতে দক্ষ, সেভাবে ভাগ করে নেন? এমনটা যদি থাকে, বুঝে নেবেন আপনি একটি সুস্থ ও সুন্দর সম্পর্ক বয়ে যাচ্ছেন। সুস্থ সম্পর্কের ক্ষেত্রে উভয় অংশীদারই অবদান রাখে। হতে পারে শুক্রবার রাতে একজন রান্না করা এবং অন্যজন পরিষ্কার করার মতো সহজ একটি উদাহরণ। ধারণাটি হলো রুমমেটের মতো কাজ ভাগ করে নেওয়া নয়, বরং একে অন্যের বোঝা ভাগ করে নেওয়া। দুজনেই সম্পর্কের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি সম্পর্কে থাকার অর্থ হলো সব সময় একে-অন্যের পাশে থাকা। শুধুমাত্র ভালো দিনগুলোতে নয়, বরং সেই দিনগুলিতেও যখন সবকিছু ভেঙে পড়ছে। একটি সুস্থ অংশীদারিত্বে উভয়ই উপস্থিত হয়। এখানে প্রতিশ্রুতি পারস্পরিক। তারা উভয়েই সম্পর্কের মধ্যে উপস্থিত। তারা একে অপরের পাশে সব সময় থাকে। নিজেকে প্রকাশ করার স্বাধীনতা সঙ্গী পাশে থাকাকালীনও যদি আপনাকে অন্য কারো মতো ভান করতে না হয়, তাহলে এটি একটি ভালো সম্পর্কের একটি অবিশ্বাস্য লক্ষণ। নিজের স্বভাবের মতো হতে পারা এবং অন্য কারো মতো জাহির না করা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। সম্পর্কের মধ্যে নিজেকে প্রকাশ করার স্বাধীনতা হলো একটি গ্রিন সিগনাল।
পেনাল্টি মিস করে সমালোচনার মুখে ভিনিসিয়ুস

পেনাল্টি মিস করে সমালোচনার মুখে ভিনিসিয়ুস রিয়াল মাদ্রিদের বড় জয়ের রাতেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। পেনাল্টি মিস করার কারণে ম্যাচ শেষে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে এই ফরোয়ার্ডকে। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় পায় রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের প্রথমার্ধে হ্যাটট্রিক করে দলকে এগিয়ে দেন উরুগুয়ের মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভার্দে। ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে আরেকটি গোল করার সুযোগ পায় রিয়াল মাদ্রিদ। পেনাল্টি পেলে স্পট কিক নিতে এগিয়ে আসেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তবে তার শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ইতালিয়ান গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। এই পেনাল্টি মিসের পরই শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। ম্যাচ শেষে সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ ও লিভারপুল উইঙ্গার স্টিভ ম্যাকম্যানামান ভিনিসিয়ুসের পেনাল্টি নেওয়ার কৌশল নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন। ম্যাকম্যানামান বলেন, “আমি এ ধরনের পেনাল্টি পছন্দ করি না। যদি ‘পানেনকা’ স্টাইলে নেন, তাহলে গোল করতেই হবে। কারণ জোরে মারলে গোলরক্ষক ঠেকাতে পারে। এভাবে শট নেওয়ার মানে হলো একটু দেখানো। এটা খুবই বাজে পেনাল্টি ছিল। ম্যাচ যদি তখন ০-০ থাকত, সে কখনোই এমনভাবে পেনাল্টি নিত না ‘যদিও পেনাল্টি মিস করেছেন ভিনিসিয়ুস, তবু ম্যাচের সামগ্রিক চিত্র ছিল রিয়াল মাদ্রিদের দাপট। ভালভার্দের হ্যাটট্রিকে শক্তিশালী ম্যানচেস্টার সিটিকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে এগিয়ে গেছে স্পেনের এই ক্লাবটি।
হিজবুল্লাহর ১৫০ রকেট, ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল; ভয়ংকর রাত দেখল ইসরায়েল

হিজবুল্লাহর ১৫০ রকেট, ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল; ভয়ংকর রাত দেখল ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তাপ ছড়িয়ে বুধবার রাতে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চল লক্ষ্য করে নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। লেবানন সীমান্ত থেকে হিজবুল্লাহ অন্তত ১৫০টি রকেট নিক্ষেপ করেছে। চলতি মাসে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত এটা হিজবুল্লাহর সবচেয়ে বড় আক্রমণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। একই সময়ে ইরান থেকে ধেয়ে আসা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এই হামলাকে একটি ‘সমন্বিত অভিযানে’ রূপ দেয়। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ জানিয়েছে, এই জোরালো আক্রমণের ফলে দেশটির বিশাল এলাকা জুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে এবং লাখ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে আশ্রয় নিতে হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান বাহিনীর মধ্যে শুরু হওয়া প্রচণ্ড লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে হিজবুল্লাহ এই নতুন অভিযান শুরু করেছে। মূলত তাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইরানের ওপর চলমান হামলা ঠেকাতেই লেবানন থেকে এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর আইআরজিসি এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে তারা হিজবুল্লাহর সাথে একযোগে এই অভিযান পরিচালনা করেছে। হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে গ্যালিলি থেকে শুরু করে হাইফা এবং সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটার ভেতরের জনপদগুলোতেও সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়। ইসরায়েলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র এবং হিজবুল্লাহর রকেট রুখে দিতে সক্ষম হলেও বেশ কিছু স্থানে আঘাতের খবর পাওয়া গেছে। উত্তর ইসরায়েলের বি’ইনা নামক একটি শহরে রকেটের আঘাতে একটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর ফলে অন্তত দুজন সামান্য আহত হয়েছেন। মাগেন ডেভিড আদম অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে ৩৫ বছর বয়সী এক নারী এবং ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি রয়েছেন যারা বিস্ফোরণের সময় ছিটকে আসা বস্তুর আঘাতে জখম হন। এছাড়া বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাকে তীব্র আতঙ্কিত অবস্থায় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে উদ্ধারকারী দল নিশ্চিত করেছে। বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই তাণ্ডব বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। উত্তরাঞ্চলীয় শহর নাহারিয়া, একর এবং হাইফার উপকণ্ঠে ড্রোনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বারবার সাইরেন বাজানো হয়। হিজবুল্লাহ দাবি করেছে যে তারা তেল আবিবের উপকণ্ঠে অবস্থিত ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ইউনিট ৮২০০-এর সদর দপ্তর বা ‘গ্লিলট বেস’ লক্ষ্য করে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রের একটি ব্যারেজ নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের হোশেল হারনিয়েল এলাকায় একটি বাড়িতে সরাসরি রকেট আঘাত হানার খবর পাওয়া গেলেও সৌভাগ্যবশত সেখানে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। জবাবে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় দাহিয়েহ এলাকায় হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে। আইডিএফ জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার এবং অস্ত্র গুদামগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এই অভিযান পরিচালনা করছে। লেবাননের স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বৈরুত এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে ইসরায়েলি হামলায় বেশ কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, হিজবুল্লাহর হামলা আরও বাড়তে পারে এবং পরিস্থিতি একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ইসরায়েলের একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, লেবানন সরকার যদি হিজবুল্লাহর এই কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে ইসরায়েল দেশটির বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলা শুরু করতে পারে। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ রিপোর্ট করেছিল যে ইরান ও হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বড় ধরনের আক্রমণের আশঙ্কা করছে তেল আবিব। সেই আশঙ্কাই বুধবার রাতে বাস্তবে রূপ নিল যখন ইরান থেকে ছোঁড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জেরুজালেম এবং ইসরায়েলের দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত সতর্কতা সংকেত বাজাতে বাধ্য করল। হিজবুল্লাহ তাদের বিবৃতিতে বলেছে, লেবাননের ডজনখানেক শহর এবং বৈরুতের শহরতলিতে ইসরায়েলি হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই তারা এই রকেট হামলা চালিয়েছে। তারা এই অভিযানকে একটি নতুন পর্যায়ের শুরু হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ ফ্রন্ট কমান্ড উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বোম্ব শেল্টার বা নিরাপদ আশ্রয়ের কাছাকাছি থাকার পরামর্শ দিয়েছে। অনেক স্থানে রকেটের আঘাতে খোলা জায়গায় আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা রাতভর সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন।
ইরানের স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী: প্রাথমিক তদন্ত

ইরানের স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী: প্রাথমিক তদন্ত ইরানের স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য দায়ী যুক্তরাষ্ট্র, প্রাথমিক তদন্তে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। মার্কিন কর্মকর্তা সূত্রে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ইরানের ওই স্কুলে প্রাণঘাতী টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল মার্কিন বাহিনীই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথভাবে ইরানে হামলার প্রথম দিনেই এই ঘটনাটি ঘটে। ইরানের মিনাবে শাজারা তায়েব প্রাথমিক স্কুলে গিয়ে পড়ে ক্ষেপণাস্ত্র। ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৭৫ জন নিহত হয়। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই ওই প্রাথমিক স্কুলের ছাত্রী। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও দুই দেশের কেউই এর দায় স্বীকার করেনি। পরে জানা যায়, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়েছিল ওই স্কুলে। বস্তুত, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহার করে আমেরিকা। বিশ্বের আরও কিছু দেশের হাতেই এই ক্ষেপণাস্ত্র থাকলেও ইসরায়েলের কাছে তা নেই। বর্তমানে আমেরিকার প্রতিরক্ষা দফতর এই হামলার তদন্ত চালাচ্ছে। ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ জানিয়েছে, ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য দায়ী যুক্তরাষ্ট্র। প্রাথমিক অনুসন্ধানে এমন তথ্যই উঠে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। জানা গেছে, ‘ভুল’ করেই ওই স্কুলে হামলা করেছিল মার্কিন বাহিনী। ওই স্কুল লাগোয়া এক ইরানি ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছিল মার্কিন বাহিনী। দাবি করা হচ্ছে, যেখানে স্কুল ভবনটি রয়েছে, সেটিও আগে ইরানের সেনাঘাঁটিরই অংশ ছিল। মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া সেই পুরনো তথ্যের উপর ভিত্তি করেই নিশানা স্থির করেছিলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের কর্মকর্তারা। যদিও ওই সরকারি সূত্রের দাবি, এগুলো একেবারেই প্রাথমিক তথ্য। পুরনো তথ্য কেন যাচাই করে নেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্নেরও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও উত্তর মেলেনি বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তারা। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের পাশাপাশি বেশ কিছু নিরপেক্ষ সংস্থাও নিজেদের মতো করে ইরানের স্কুলে হামলার তদন্ত করছে। তেমন এক সংস্থা ‘বেলিংক্যাট’। তারাও প্রাথমিকভাবে দাবি করছে, হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী। যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের স্কুলে আছড়ে পড়ার তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই অস্বস্তি বৃদ্ধি পেয়েছে মার্কিন প্রশাসনের। ট্রাম্পকেও এ বিষয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। যদিও তার দাবি, কী হয়েছিল, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে তিনি এ-ও স্মরণ করিয়ে দেন যে, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র শুধু যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নেই। অন্য কিছু দেশের হাতেও এটি আছে বলে দাবি ট্রাম্পের। যদিও পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘর্ষে জড়িত দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রই এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে।
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সদরদপ্তরে হামলার দাবি ইরানের

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সদরদপ্তরে হামলার দাবি ইরানের ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত সদরদপ্তর এবং গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তেল আবিবে অবস্থিত ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের সদরদপ্তর লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের পালমাচিম বিমানঘাঁটি এবং দক্ষিণ ইসরায়েলের ওভদা বিমানঘাঁটিতেও সফলভাবে ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে ইরানি বাহিনী। এই সামরিক অভিযানের সমান্তরালে চলমান সংঘাত বন্ধে তিনটি শর্ত ঘোষণা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে ফোনালাপের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই শর্তগুলো তুলে ধরেন। পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের বৈধ অধিকারের স্বীকৃতি, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে পুনরায় আগ্রাসন না চালানোর বিষয়ে আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা দিলেই কেবল এই যুদ্ধের অবসান সম্ভব। ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও বেসামরিক স্থাপনায় ক্রমাগত হামলা চলছে। এরই মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের নিহতের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
১৮ মার্চ সুপ্রিম কোর্টে সাধারণ ছুটি ঘোষণা

১৮ মার্চ সুপ্রিম কোর্টে সাধারণ ছুটি ঘোষণা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগে আগামী ১৮ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের স্মারক অনুযায়ী, আসন্ন শবে কদর ও ঈদুল ফিতরের পূর্ব নির্ধারিত ছুটির মধ্যবর্তী ১৮ মার্চ একদিন সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এমন অবস্থায় প্রধান বিচারপতির অনুমোদনক্রমে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগে ১৮ মার্চ একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলো।
ইরানে সরকার পতনের ঝুঁকি নেই : মার্কিন গোয়েন্দা

ইরানে সরকার পতনের ঝুঁকি নেই : মার্কিন গোয়েন্দা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা প্রায় দুই সপ্তাহের সামরিক হামলার পরও অদূর ভবিষ্যতে ইরানে সরকার পতনের ঝুঁকি নেই বলে মনে করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এমন মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে। সূত্রগুলো জানায়, সাম্প্রতিক গোয়েন্দা বিশ্লেষণে ধারাবাহিকভাবে দেখা গেছে যে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং দেশটির জনগণের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বজায় আছে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় সূত্রগুলো নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য জানায়। একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ আলোচনাতেও স্বীকার করা হয়েছে যে চলমান যুদ্ধের ফলে ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো সতর্ক করে বলেছে, মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও যেকোনো সময় ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের কার্যালয় ও সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ)। হোয়াইট হাউসও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, পারমাণবিক স্থাপনা এবং দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সদস্যরা। যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জনগণকে নিজেদের সরকার নিজেরাই দখল করার আহ্বান জানালেও পরে তার শীর্ষ সহকারীরা বলেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য নয়। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছাড়াও বহু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর উচ্চপদস্থ কমান্ডার নিহত হয়েছেন।
হাইকোর্টের রায় বহাল, কন্টেইনার টার্মিনাল নিয়ে লিভ টু আপিল খারিজ

হাইকোর্টের রায় বহাল, কন্টেইনার টার্মিনাল নিয়ে লিভ টু আপিল খারিজ চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বা এনসিটির ব্যবস্থাপনা বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়া সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নে রুল খারিজে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি) খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে চুক্তির প্রক্রিয়া বৈধই থাকল। আজ প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। গত ২৯ জানুয়ারি বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চ (তৃতীয় বেঞ্চ) রায় ঘোষণা করেছিলেন। এর আগে, গত বছরের ২৫ নভেম্বর শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৪ ডিসেম্বর দিন রেখেছিলেন হাইকোর্ট। ওইদিন চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বা এনসিটির ব্যবস্থাপনা বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়া সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে রুলের ওপর দ্বিধাবিভক্ত রায় দেওয়া হয়। বিচারপতি ফাতেমা নজীব প্রক্রিয়া অবৈধ ঘোষণা করলেও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রুল খারিজ করে দেন। ফলে বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। তিনি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চে পাঠান। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বা এনসিটির ব্যবস্থাপনা বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়া সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে যুব অর্থনীতি ফোরামের সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হাসান রিট করেন। ওই রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ৩০ জুলাই রুল দেন হাইকোর্ট। রুলে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ আইন লঙ্ঘন করে দেশীয় অপারেটরদের অনুমতি না দিয়ে চট্টগ্রাম নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশিদের সঙ্গে চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে যে কোনো অপারেটরকে কন্টেইনার টার্মিনাল হ্যান্ডলিং পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার আগে আইন অনুসারে ন্যায্য ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বানের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, সে মর্মেও রুল জারি করা হয়। নৌসচিব, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, বিগত আওয়ামী লীগ আমলে এই টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার দুবাইভিত্তিক একটি বিদেশি কোম্পানিকে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দেওয়ার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, সেটিই তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আবার গতি পেয়েছে-এমন খবরে অনেকেই এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন।
জাতীয় দিবসের তালিকা থেকে বাদ ৭ মার্চ ও ১৫ আগস্ট, আছে ৫ আগস্ট

জাতীয় দিবসের তালিকা থেকে বাদ ৭ মার্চ ও ১৫ আগস্ট, আছে ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনের যে তালিকা প্রণয়ন করেছিল, তা বহাল রেখেছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ও ১৫ আগস্টসহ যে আটটি জাতীয় দিবস বাতিল করেছিল, তার কোনোটি ফেরানো হয়নি বর্তমান তালিকায়। গতকাল জারি করা এক পরিপত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে উদযাপন ও পালনের জন্য মোট ৮৯টি দিবস রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ‘ক’ শ্রেণিতে ১৭টি, ‘খ’ শ্রেণিতে ৩৭টি এবং ‘গ’ শ্রেণিতে ৩৫টি দিবস রয়েছে। নতুন পরিপত্রেও ক-শ্রেণিতে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিনটিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালনের কথা জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলন চলাকালে রংপুরে পুলিশের গুলিতে ছাত্র আবু সাঈদের নিহত হওয়ার দিন ১৬ জুলাইকে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালন করা হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। নতুন সরকারের সময়েও তা বহাল থাকল। নতুন পরিপত্রেও আগের মতোই দিবসগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। ক-শ্রেণিতে থাকা জাতীয় পর্যায়ের ১৭টি দিবস/উৎসবকে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন বা পালন করা হবে। খ-শ্রেণির ৩৭টি দিবসের মধ্যে যেসব দিবস ঐতিহ্যগতভাবে পালন করা হয়ে থাকে বা বর্তমান সময়ে দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও সামাজিক উদ্ধুদ্ধকরণের জন্য বিশেষ সহায়ক, যেসব দিবস উল্লেখযোগ্য কলেবরে পালন করা যেতে পারে। মন্ত্রীরা এসব অনুষ্ঠানের সম্পৃক্ত থাকবেন এবং এ ধরনের অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এ পর্যায়ে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সরকারি উৎস থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। গ-শ্রেণিতে থাকা ৩৫টি দিবস নিয়ে পরিপত্রে বলা হয়েছে, বিশেষ খাতের প্রতীকী দিবসগুলো সীমিত কলেবরে পালন করা হবে। মন্ত্রীরা এসব দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিতির বিষয় বিবেচনা করবেন। উন্নয়ন খাত থেকে এসব দিবস পালনের জন্য কোনো বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হবে না। পরিপত্রে বলা হয়, তিন ধরনের দিবস ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো আরও কিছু দিবস পালন করে থাকে যেগুলো গতানুগতিক ধরনের। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এগুলো পুনরাবৃত্তিমূলক এবং বর্তমান সময়ে তেমন কোনো গুরুত্ব বহন করে না। সরকারের সময় এবং সম্পদ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি সংস্থাগুলো এ ধরনের দিবস পালনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পরিহার করতে পারে। শিক্ষা সপ্তাহ, প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ, বিজ্ঞান সপ্তাহ, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ (১-৭ আগস্ট), বিশ্ব শিশু সপ্তাহ (২৯ সেপ্টেম্বর-৫ অক্টোবর), জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ (নভেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহ) সশস্ত্র বাহিনী দিবস (২১ নভেম্বর), পুলিশ সপ্তাহ, বিজিবি সপ্তাহ, আনসার সপ্তাহ, মৎস পক্ষ, বৃক্ষরোপন অভিযান এবং জাতীয় ক্রীড়া সপ্তাহ পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে কর্মসূচি গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদিত কর্মসূচি অনুযায়ী এসব অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হবে বলে পরিপত্রে জানানো হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের উৎসব ছাড়াও সাধারণভাবে দিবস পালনের বিষয়ে পরিপত্রে বলা হয়েছে, সাজসজ্জা ও বড় ধরনের বিচিত্রানুষ্ঠান যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে। তবে বেতার ও টেলিভিশনে আলোচনা এবং সীমিত আকারে সেমিনার বা সিম্পোজিয়াম আয়োজন করা যাবে। কর্মদিবসে সমাবেশ বা শোভাযাত্রা পরিহার করা হবে। কোনো সপ্তাহ পালনের ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানসূচি সাধারণভাবে তিন দিনের মধ্যে সীমিত রাখার নির্দেশনা দিয়ে পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকারিভাবে গৃহীত কোনো কর্মসূচি যাতে অফিসের কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত না ঘটায় তা নিশ্চিত করতে হবে এবং আলোচনা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছুটির দিনে অথবা অফিস সময়ের পরে আয়োজনের চেষ্টা করতে হবে। পরিপত্রে আরও বলা হয়, নগদ কিংবা উপকরণ আকারে অর্থ বা সম্পদ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে এমন সাধারণ ইভেন্টগুলো ছুটির দিনে কিংবা কার্যদিবসে আয়োজন করা যাবে। যেমন- রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী প্রচার, পতাকা উত্তোলন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), ঘরোয়া আলোচনা সভা, রেডিও ও টেলিভিশনে আলোচনা, পত্রিকায় প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রদান ইত্যাদি। কোনো দিবস বা সপ্তাহ পালন উপলক্ষ্যে রাজধানীর বাইরে থেকে/জেলা পর্যায় থেকে কর্মকর্তা/কর্মচারীদেরকে ঢাকায় আনা যথাসম্ভব পরিহার করা হবে। সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে মন্ত্রণালয়/বিভাগগুলোর নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে সমধর্মী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনকে প্রাধান্য দিয়ে এরূপ দিবস একই তারিখে একত্রে পালন করা আবশ্যক। মন্ত্রণালয়/বিভাগুলো প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এ বিষয়ক সারসংক্ষেপ মন্ত্রিসভা-বৈঠকে উপস্থাপনের লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাবে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছুটির দিনে জ্বালানি তেল নিয়ে সরকারের জরুরি নির্দেশনা

ছুটির দিনে জ্বালানি তেল নিয়ে সরকারের জরুরি নির্দেশনা চলমান জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় একের পর এক নির্দেশনা দিচ্ছে সরকার। সেই ধারাবাহিকতায় এবার সরকারি ছুটির দিন প্রধান ডিপো খোলা রেখে জ্বালানি তেল সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) আজ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি ছুটির দিন (শুক্রবার ও শনিবার) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) অধীনস্থ বিপণন কম্পানিসমূহের প্রধান স্থাপনা/ডিপো খোলা রেখে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে। এতে আরও বলা হয়, ‘জনগণের চাহিদা মোতাবেক দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে বিদেশ হতে আমদানি কার্যক্রম/সূচি নির্ধারিত রয়েছে এবং নিয়মিতভাবে পার্সেল দেশে আনা হচ্ছে।