পে স্কেল বাস্তবায়নে যে নীতি বেছে নিল সরকার

পে স্কেল বাস্তবায়নে যে নীতি বেছে নিল সরকার ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রভাবে সারা বিশ্বের অর্থনীতি প্রায় নাস্তানাবুদ হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে জ্বালানির সংকট। এ ছাড়া সরকারের রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ফলে অর্থসংকটে রয়েছে সরকার। এ জন্য নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ব্যাপারে ধীরে চলো নীতি বেছে নিয়েছে সরকার। জানা গেছে, এ নিয়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আলোচনা হতে পারে। অবশ্য সেই প্রস্তাব রিভিউ করারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।  আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। এর পরে রয়েছে বাজেট অধিবেশন। ইতিমধ্যে সংসদের কার্যপ্রণালী প্রণয়নের প্রস্তুতি চলছে। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেহেতু বলেছেন তাই সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন এই বেতনকাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হতে পারে। তবে এখনই সব বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, এ জন্য কিছুটা সময় নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এদিকে গতকাল সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন পিকেএসএফ ও পে কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। যদিও শিডিউলে দেওয়া তথ্য বলছে, তিনি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন পিকেএসএফের চেয়ারম্যান হিসেবে। তবে বৈঠকে পে কমিশনের প্রতিবেদন ও সুপারিশ বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে, নতুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১৮ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘পে স্কেলের সুপারিশ আমাদের দেখতে হবে। না দেখে এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। আমাদের দেখতে হবে মোট অ্যামাউন্ট কত। এটা কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব সেগুলো দেখতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান আর্থিক অবস্থায় যেখানে বাংলাদেশের ট্যাক্স রেভিনিউ, ট্যাক্স জিডিপি রেশিও সবচেয়ে খারাপ, এমনকি দক্ষিণ এশিয়াতে সবচেয়ে খারাপ। এসব দেখে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কতটুকু কখন কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায়। সেটা আমরা পরীক্ষানিরীক্ষা করে দেখব।’ সূত্র জানান, আসছে নতুন অর্থবছর ২০২৬-২৭-এ প্রস্তাবিত নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের কথা বললেও বাস্তবে সেটা কতখানি সম্ভব হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। কেননা সরকারের মধ্যে অর্থসংকট আরো বেড়েছে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যসংকট। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে। তবে পে স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবিদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ুক এমন পরিস্থিতি তৈরিও করতে চায় না সরকার। ইতিমধ্যে প্রস্তাবিত পে স্কেল রিভিউও করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে দেশে আর্থিক সংকট আরো বেড়েছে। এ যুদ্ধ কতটা দীর্ঘায়িত হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। যুদ্ধ যতটা দীর্ঘায়িত হবে সংকট ততই বাড়বে। এমনিতেই অর্থবছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকার ওপরে। জানা গেছে, রাজনৈতিক, আর্থিক ও সামাজিক সংকট আমলে নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামোর জন্য একটি কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু আর্থিক সংকট বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনের আগে তা বাস্তবায়ন করে যেতে পারেনি ড. ইউনূস সরকার। তবে পে কমিশন যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, সে অনুযায়ী একটি বেতনকাঠামোর সুপারিশমালা বর্তমান সরকারের কাছে রয়েছে। যেটি রিভিউ করার ঘোষণা দিলেও এখনো শুরু করা হয়নি। তবে বাজেট প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলে সেটি রিভিউ করা হতে পারে। অবশ্য তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব ছাড়ার প্রাক্কালে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেছিলেন, ‘কমিশন যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সেটা বাস্তবসম্মত। আমরা এটা বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচিত সরকারের হাতে দিয়ে যাচ্ছি। আশা করি সরকার সেটা বিবেচনা করবে। এ ক্ষেত্রে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় রাখতে বলা হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা ছিল সময়োপযোগী একটি বেতনকাঠামো ঘোষণা করা।’ এদিকে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পে স্কেল নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তবে যেহেতু সামনে অধিবেশন রয়েছে, তাই সেটা সংসদে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যথাসময়ে পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি। গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে ২১ সদস্য নিয়ে বেতন কমিশন গঠিত হয়। সাবেক অর্থ সচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানকে কমিশনের প্রধান করা হয়। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি কমিশন তাদের সুপারিশ জমা দেয়।

৬ জাহাজ থেকে খালাস হচ্ছে জ্বালানি, পথে আরো ৪ জাহাজ

৬ জাহাজ থেকে খালাস হচ্ছে জ্বালানি, পথে আরো ৪ জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ৬টি জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হারবার অ্যান্ড মেরিন সদস্য কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ। আজ বুধবার এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এলপিজি, এলএনজি ও জ্বালানি তেলবাহী আরো ৪টি জাহাজ দেশের পথে রয়েছে। ব্রিফিংয়ে আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ জানান, দেশের পথে জ্বালানিবাহী চারটি জাহাজের মধ্যে একটি আজ এবং দুইটি ১২ মার্চ ও ১৪ মার্চ বন্দরের জলসীমায় প্রবেশ করার কথা রয়েছে। জ্বালানিবাহী সব জাহাজকে অগ্রাধিকার বার্থিং সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া বহির্নোঙরে মাদার ভেসেলের নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদে ভাষণ দেবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘জুলাই সনদের সব কিছু ধারণ করা হবে। আগামীকাল সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসবে। এই সংসদেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। তাদের শপথ গ্রহণ করাবেন রাষ্ট্রপতি।’ মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দুপুরে সংসদ থেকে বের হয়ে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, বেশ কিছু ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হবে কাল। সংসদ নেতা স্বাগত বক্তব্য দিয়ে অধিবেশনে সভাপতি কে হবেন, সেটি উপস্থাপন করবেন। সংসদের বিধি মোতাবেক শপথ নেবেন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার। আর ১৫ তারিখ অধিবেশন হয়ে এরপর বিরতি হতে পারে।  তিনি আরো বলেন, সংসদ অধিবেশন বসার পর জনপ্রত্যাশা, শহীদদের আকাঙ্ক্ষাসহ জুলাই সনদে যা কিছু সম্মত হয়েছি, সেটি ধারণ করবো। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।  জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশন নিয়ে এতে আলোচনা হয়।