ঈদে শাকিব খানের সিনেমা দিয়ে খুলছে বগুড়ার ‘মধুবন’

ঈদে শাকিব খানের সিনেমা দিয়ে খুলছে বগুড়ার ‘মধুবন’ টানা লোকসানের কারণে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বগুড়ার আধুনিক সিনেমা হল ‘মধুবন সিনেপ্লেক্স’। দীর্ঘ বিরতির পর আসন্ন ঈদুল ফিতরের দিন থেকে শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ প্রদর্শনের মাধ্যমে এটি পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে। মাঝে কয়েক মাস হলটি কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। মধুবন সিনেপ্লেক্সের মালিক আর এম ইউনুস রুবেল জানান, মাসের পর মাস লোকসান গুনতে গুনতে তারা বাধ্য হয়ে হলটি বন্ধ করেছিলেন। তবে হলের সাথে জড়িয়ে আছে তাদের পারিবারিক আবেগ। তিনি বলেন, সিনেপ্লেক্স টিকিয়ে রাখতে ভালো সিনেমা দরকার। আমরা নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায় ছিলাম। আশা করছি, নতুন সরকার দেশি সিনেমার পাশাপাশি বিদেশি ভালো সিনেমা আমদানির উদ্যোগ নিয়ে আমাদের মতো হল মালিকদের সহযোগিতা করবেন। একসময় বগুড়া জেলাজুড়ে ৩৮টি সিনেমা হল সচল থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৭টিতে। এরই মধ্যে ৩১টি হল ভেঙে ফেলা হয়েছে। এমন সংকটের মুখে মধুবন সিনেপ্লেক্স পুনরায় চালু হওয়া স্থানীয় চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য বড় একটি স্বস্তির খবর।
অভিনয় থেকে দীর্ঘ বিরতিতে যাচ্ছেন বরুণ ধাওয়ান!

অভিনয় থেকে দীর্ঘ বিরতিতে যাচ্ছেন বরুণ ধাওয়ান! সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘বর্ডার ২’ বক্স অফিসে দারুণ ব্যবসা করছে এবং এতে বরুণ ধাওয়ানের অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে এই সাফল্যের মধ্যেই জানা গেল, বরুণ অভিনয় থেকে দীর্ঘদিনের জন্য বিরতি নিতে যাচ্ছেন। অভিনেতার ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, বরুণ এখন পুরো সময়টা তার পরিবারকে দিতে চান। বিশেষ করে তার মেয়ে লারার সঙ্গে সময় কাটানোর জন্যই তিনি কাজ থেকে সাময়িক ছুটি নিচ্ছেন। তবে ভক্তদের একাংশ মনে করছেন, ‘বর্ডার ২’ মুক্তির আগে বরুণ যেভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রোলিং বা কটাক্ষের শিকার হয়েছিলেন, সেটিও এই বিরতি নেওয়ার একটি কারণ হতে পারে। তখন বরুণের অভিনয় দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও ছবি মুক্তির পর তিনি সমালোচকদের উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন। বিরতিতে যাওয়ার আগে বরুণের একটি ছবি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। তার বাবা ডেভিড ধাওয়ানের পরিচালনায় ‘হ্যায় জাওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’ সিনেমাটি আগামী ১২ জুন মুক্তি পাবে। ইয়াশের ‘টক্সিক’ সিনেমার সাথে বক্স অফিসে সংঘাত এড়াতে ছবিটির মুক্তির তারিখ কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ছবিতে বরুণের বিপরীতে দেখা যাবে পূজা হেগড়ে ও মৃণাল ঠাকুরকে। বরুণ ধাওয়ান নিজে এই বিরতির বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি। তবে শোনা যাচ্ছে, ১২ জুনের ছবির কাজ শেষ করেই তিনি লম্বা ছুটিতে যাবেন।
ফের বুলবুলি হয়ে আসছেন তটিনী

ফের বুলবুলি হয়ে আসছেন তটিনী বুলবুলির কথা এত সহজে ভুলে যাওয়ার কথা নয় নাটকের নিয়মিত দর্শকদের। যে বুলবুলি এত কথা বলে যে, তাতে করে পদে পদে ঝামেলা ডেকে আনে। নিজের ঘর থেকে স্বামীর ঘরে গিয়েও তার এই বুলবুলি পাখির মতো বেশি কথা বলার অভ্যাস কমেনি। যার অতিকথনে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে শ্বশুরবাড়ির সব লোক। সেই বুলবুলি চরিত্রে অভিনয় করে তাক লাগিয়ে দেন ছোট পর্দার বড় তারকা হয়ে ওঠা তানজিম সাইয়ারা তটিনী। তার অভিনয়ে গত বছরের আলোচিত কাজের মধ্যে অন্যতম হয়ে আছে ‘বেশি বলে বুলবুলি’। এবার ঈদ উৎসবে ফের একই চরিত্রের নতুন অগ্রগতি নিয়ে হাজির হচ্ছেন অভিনেত্রী। ‘বেশি বলে বুলবুলি ২’ নির্মাণ করেছেন রুবেল হাসান। মেজবাহ উদ্দিন সুমনের চিত্রনাট্যে এতে তটিনীর স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন তৌসিফ মাহবুব।সিনেমাটোগ্রাফিতে ছিলেন বিশ্বজিৎ দত্ত। নির্মাতা বলেন, ‘প্রথম পর্বে বুলবুলির বেশি কথায় অতিষ্ঠ হয়ে ছিলেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এবার সেটি সম্প্রচারিত হয়ে পৌঁছাবে পাড়া-প্রতিবেশী হয়ে স্বামীর অফিস পর্যন্ত। যাতে তাদের সংসারে নেমে আসবে অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ। এবারের পর্বটিও বেশ উপভোগ্য হবে বলে আশা করছি।’ প্রযোজক এস কে সাহেদ আলী পাপ্পু জানান, এবারের ঈদে সিএমভির আয়োজনের অন্যতম নাটক হিসেবে থাকছে ‘বেশি বলে বুলবুলি ২’। এটি মুক্তি পাবে প্রতিষ্ঠানটির ইউটিউব চ্যানেলে, ঈদ সপ্তাহের যেকোনো দিন।
ইথিওপিয়ায় বন্যায় মৃত অন্তত ৩০

ইথিওপিয়ায় বন্যায় মৃত অন্তত ৩০ ইথিওপিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের গামো এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যায় অন্তত ৩০ জন মারা গেছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মঙ্গলবার রাতে গামো অঞ্চলের যোগাযোগ বিভাগ জানায়, ‘ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে, বিশেষ করে দেগামা এলাকায়, ৩০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় অঞ্চল প্রশাসন গভীর শোক প্রকাশ করেছে।’ সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পূর্ব আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র বন্যা দেখা দিয়েছে। প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে গত শুক্রবার প্রতিবেশী কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিসহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যা হলে সেখানে ডজনখানেক মানুষ নিহত হন। গত ২০ বছরে পূর্ব আফ্রিকায় চরম মাত্রার শুষ্ক ও অতিবৃষ্টির সময়কাল ক্রমশ বাড়ছে— এমন প্রবণতা একাধিক গবেষণায় উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রবল বর্ষণসহ চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির সম্ভাবনা, স্থায়িত্ব ও তীব্রতা বাড়ছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী ৬টি পারমাণবিক বোমা হারিয়ে ফেলেছে

মার্কিন সামরিক বাহিনী ৬টি পারমাণবিক বোমা হারিয়ে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার থেকে বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া ছয়টি শক্তিশালী পারমাণবিক বোমা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। মার্কিন সামরিক পরিভাষায় ‘ব্রোকেন অ্যারো’ বা পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত ৩২টি ঘটনার মধ্যে এই ছয়টি বোমার হদিস আজও পাওয়া যায়নি। বর্তমান সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভয়াবহ উত্তেজনা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ‘মৃত্যু ও ধ্বংসের’ হুমকির প্রেক্ষাপটে এই নিখোঁজ অস্ত্রগুলো কোনোভাবে শত্রুরাষ্ট্রের হাতে পড়তে পারে কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। এদিকে পারমাণবিক বহনকারী ‘ডুমসডে প্লেন’ ইরানের দিকে পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বোয়িং ৭০৭ এয়ারফ্রেমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই বিমানগুলো মূলত পারমাণবিক হামলা শুরু করা ও আকাশ থেকে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, তারা যেহেতু এই বোমাগুলো খুঁজে পায়নি, তাই তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীরাও এগুলো খুঁজে পাবে না; তবে সমুদ্রের তলদেশে বা নির্জন স্থানে পড়ে থাকা এই মারণাস্ত্রগুলো যেকোনো সময় একটি বড় শহর ধ্বংস করে লাখ লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। নিখোঁজ এই অস্ত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম আলোচিত ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৫৮ সালে টাইবি দ্বীপের কাছে। তখন একটি বি-৪৭ হাইড্রোজেন বোমারু বিমান মাঝআকাশে অন্য একটি বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষের শিকার হলে নিজের কাছে থাকা ‘মার্ক ১৫’ হাইড্রোজেন বোমাটি সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি একটি নকল বা ডামি বোমা বলে দাবি করা হলেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন তথ্যে জানা যায় যে এটি একটি পূর্ণ মাত্রার শক্তিশালী অস্ত্র ছিল। ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়েও আজ পর্যন্ত সেই বোমার কোনো হদিস মেলেনি। এ ছাড়া গত কয়েক দশকে এমন আরও পাঁচটি পারমাণবিক বোমা সমুদ্রের অতল গহ্বরে অথবা দুর্গম স্থানে হারিয়ে গেছে যা এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি এই হারানো মারণাস্ত্রগুলোর ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ইরান যদি কোনোভাবে এই নিখোঁজ প্রযুক্তির নাগাল পায় তবে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য এক চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে টাইবি দ্বীপের মতো জায়গায় যেখানে বোমাটি হারিয়েছে, সেখানে এখন কোনো অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে না। কিন্তু আধুনিক উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে ইরান বা অন্য কোনো পক্ষ যদি সমুদ্রের গভীরে তল্লাশি চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পুরনো ভুলগুলোই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছরের শেষ দিকে পেন্টাগনকে রাশিয়া ও চীনের পাল্লা দিয়ে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন, যা এই খাতে নতুন করে প্রতিযোগিতার জন্ম দিয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্রের এই আধুনিকায়ন এবং হারানো অস্ত্রের শঙ্কা—দুইয়ে মিলে বিশ্ব এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পুরনো ‘ব্রোকেন অ্যারো’ ঘটনাগুলো কেবল ইতিহাসের অংশ নয় বরং এগুলো বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য একটি জীবন্ত হুমকি। যতদিন এই ছয়টি মারণাস্ত্রের চূড়ান্ত অবস্থান নিশ্চিত না হবে, ততদিন পর্যন্ত এগুলো যেকোনো পক্ষকে আকস্মিক পারমাণবিক শক্তির অধিকারী করে দেওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে। সূত্র: মিরর ইউএস
ভারতে প্রথম স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিলেন সুপ্রিম কোর্ট

ভারতে প্রথম স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিলেন সুপ্রিম কোর্ট ভারতে প্রথমবারের মতো স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট। দীর্ঘ তেরো বছর শয্যাশায়ী অবস্থায় থাকা দিল্লির যুবক হরীশ রানাকে কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রাখা চিকিৎসা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। এই সিদ্ধান্তকে ভারতের বিচার ব্যবস্থায় এক গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে। হরীশ রানার বয়স বর্তমানে ৩২ বছর। তিনি এক সময় পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। ২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলের পাঁচতলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। এতে তার মেরুদণ্ডে মারাত্মক আঘাত লাগে এবং তিনি কোয়াড্রিপ্লেজিয়া রোগে আক্রান্ত হন। এরপর থেকে তিনি সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী। তার শরীরের চারটি অঙ্গই কার্যত অচল। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে হরীশ এমন এক অবস্থায় আছেন যেখানে বাইরের জগৎ সম্পর্কে তার কোনো সচেতনতা নেই। নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কেও তার কোনো অনুভূতি নেই। কেবল চিকিৎসা ব্যবস্থার মাধ্যমে তার শ্বাসপ্রশ্বাস এবং শরীরের ন্যূনতম কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হরীশের বাবা-মা আদালতের দ্বারস্থ হন। তারা আদালতের কাছে আবেদন জানান, ছেলেকে কৃত্রিমভাবে জীবিত রাখার চিকিৎসা ব্যবস্থা বন্ধ করার অনুমতি দেওয়ার জন্য। পরিবারের দাবি ছিল দীর্ঘ তেরো বছর ধরে এক অনিশ্চিত ও কষ্টকর পরিস্থিতিতে তাদের সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে এবং সুস্থ হয়ে ওঠার কোনো বাস্তব সম্ভাবনা নেই। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট নয়ডা জেলা হাসপাতালে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেন। চিকিৎসকদের একটি বিশেষজ্ঞ দল হরীশ রানার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনে জানানো হয়, হরীশের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা কার্যত নেই। এরপর কেন্দ্র সরকার এবং চিকিৎসকদের মতামত বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক পর্যায়ে শুনানি হয়। গত বছর শুনানির সময় আদালত এই মামলাকে অত্যন্ত কঠিন সমস্যা বলে উল্লেখ করেছিলেন। আদালতের মতে, বিষয়টি শুধু আইনের প্রশ্ন নয়, এর সঙ্গে মানবিকতা চিকিৎসা নীতি এবং জীবনের মর্যাদার বিষয়ও জড়িত। অবশেষে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালত হরীশ রানাকে কৃত্রিমভাবে জীবিত রাখার চিকিৎসা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দেন। রায় ঘোষণার সময় বিচারপতিরা উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত নাটক হ্যামলেটের একটি লাইন উল্লেখ করেন— টু বি অর নট টু বি। আদালত ইঙ্গিত দেন, জীবনের অস্তিত্ব এবং মৃত্যুর প্রশ্ন অনেক সময় গভীর নৈতিক ও মানবিক দ্বন্দ্বের জন্ম দেয়। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ভারতে সক্রিয় ইউথানেশিয়া (স্বেচ্ছামৃত্যু) এখনো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং তার সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনা করে প্যাসিভ ইউথানেশিয়ার (অন্যের সহায়তায় স্বেচ্ছামৃত্যু) অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে আদালত কেন্দ্র সরকারকে স্বেচ্ছামৃত্যু নিয়ে স্পষ্ট আইন প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় ভারতের চিকিৎসা নীতি ও মানবাধিকার বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করতে পারে।
টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে শুরু হবে ম্যাচটি। বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। টস জিতে প্রথমে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তিন ম্যাচের এই সিরিজের প্রথম ম্যাচটি ঘিরে দুই দলের মধ্যেই রয়েছে বাড়তি উত্তেজনা। ঘরের মাঠে সিরিজ শুরু হওয়ায় ভালো শুরু করতে মরিয়া বাংলাদেশ দল। অন্যদিকে সফরকারী পাকিস্তানও চায় প্রথম ম্যাচ জিতে সিরিজে এগিয়ে যেতে। প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করতে পারলে বাংলাদেশ দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়বে। তিন ম্যাচের সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে একই ভেন্যুতে।
অ্যাতলেতিকোয় বিধ্বস্ত টটেনহাম, আতালান্তাকে উড়িয়ে দিল বায়ার্ন

অ্যাতলেতিকোয় বিধ্বস্ত টটেনহাম, আতালান্তাকে উড়িয়ে দিল বায়ার্ন চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলো পর্বের প্রথম লেগে দুই ভিন্ন ম্যাচে একই রকম গল্প দেখা গেল। একদিকে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ইংলিশ ক্লাবকে বিধ্বস্ত করেছে অ্যাতলেতিকো, অন্যদিকে ইতালিয়ান প্রতিপক্ষকে গোলবন্যায় ভাসিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। মাদ্রিদের মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়ামে টটেনহামকে ৫-২ গোলে হারিয়েছে অ্যাতলেতিকো। ম্যাচের শুরুতেই গোলরক্ষক আন্তোনিন কিনস্কির একের পর এক ভুলে বিপর্যয়ে পড়ে টটেনহাম। প্রথম ১৫ মিনিটেই তিন গোল হজম করে বসে দলটি। ৬ মিনিটে কিনস্কির ভুল থেকে বল পেয়ে যান হুলিয়ান আলভারেজ, তার পাস থেকে গোল করেন মার্কোস লরেন্তে। এরপর ১৪ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান আঁতোয়ান গ্রিয়েজমান। এর এক মিনিট পর আবারও কিনস্কির ভুলে সহজ গোল পান আলভারেজ। পরিস্থিতি সামাল দিতে কিনস্কিকে তুলে মাঠে নামানো হয় গুলিয়েলমো ভিকারিওকে। কিন্তু কর্নার থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান ৪–০ করেন রবিন লে নরমান্ড। পরে পেদ্রো একটি গোল শোধ করলেও দ্বিতীয়ার্ধে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন আলভারেজ। শেষদিকে ডমিনিক সোলান্কে গোল করে ব্যবধান কমান। এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল অ্যাতলেতিকো। অন্য ম্যাচে ইতালির আতালান্তার মাঠে গোল উৎসব করেছে বায়ার্ন। আতালান্তাকে ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে জার্মান জায়ান্টরা। এই জয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন মাইকেল ওলিসে। দুটি গোল করার পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্টও করেন তিনি। এ ছাড়া গোল করেন জসিপ স্ট্যানিসিস, সের্জ গানাব্রি, নিকোলাস জ্যাকসন ও জামাল মুসিয়ালা। শেষদিকে মারিও প্যাসিালিক একটি সান্ত্বনার গোল করলেও তাতে বড় পরাজয় এড়াতে পারেনি আতালান্তা। প্রথম লেগের এমন বড় জয়ের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে বায়ার্ন মিউনিখও।
সিটি তারকার ‘প্রেমে’ পড়েছেন রিয়াল সভাপতি পেরেজ

সিটি তারকার ‘প্রেমে’ পড়েছেন রিয়াল সভাপতি পেরেজ রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ দীর্ঘদিন ধরেই মুগ্ধ ম্যানচেনস্টার সিটি তারকা রদ্রিতে। সিটির এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারকে ভবিষ্যতে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে দেখতে চান তিনি। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদের মাঝমাঠ শক্তিশালী করার জন্য রদ্রিকেই সবচেয়ে উপযুক্ত খেলোয়াড় মনে করেন পেরেজ। মাঝমাঠ থেকে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করা এবং দলকে ভারসাম্য দেওয়ার মতো একজন সংগঠক মিডফিল্ডারের খোঁজেই ছিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। এমনকি ক্লাবের ভেতরে পেরেজ নাকি স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘যদি রদ্রি না হয়, তাহলে নতুন করে কাউকে সই করানোর প্রয়োজন নেই।’ তবে এই সম্ভাব্য ট্রান্সফার সহজ নয়। কারণ রদ্রির সঙ্গে ম্যানচেস্টার সিটির চুক্তি রয়েছে ২০২৭ সাল পর্যন্ত। ফলে তাকে দলে ভেড়াতে চাইলে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে রিয়ালকে। ক্লাব ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, রদ্রির ফুটবল দক্ষতার পাশাপাশি তার ব্যক্তিত্ব ও পেশাদার মনোভাবও মুগ্ধ করেছে পেরেজকে। মাঠের বাইরে পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ এবং পেশাদার ক্যারিয়ারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও রিয়াল সভাপতির কাছে তাকে আরো বিশেষ করে তুলেছে। এদিকে সিটির হয়ে আবারও সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে খেলতে ফিরছেন রদ্রি। ম্যাচের পাশাপাশি এই সফরকে ঘিরে ভবিষ্যতে কোনো সম্ভাব্য ট্রান্সফার আলোচনা শুরু হয় কি না, সেটিও এখন দেখার বিষয়।
আফগানিস্তান–শ্রীলঙ্কা সিরিজ স্থগিত, জানা গেল কারণ

আফগানিস্তান–শ্রীলঙ্কা সিরিজ স্থগিত, জানা গেল কারণ আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ও ভ্রমণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার নির্ধারিত দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সিরিজ স্থগিত করা হয়েছে। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা এই সিরিজটি এখন ২০২৬ সালের শেষ দিকে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী ১৩ মার্চ থেকে সিরিজটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। ছয় ম্যাচের এই সাদা বলের সিরিজে তিনটি টি–টোয়েন্টি ও তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ আয়োজনের সূচি নির্ধারিত ছিল। সূচি অনুযায়ী তিনটি টি–টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৩, ১৫ ও ১৭ মার্চ। এরপর তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২০, ২২ ও ২৫ মার্চ। সিরিজ আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর এমিরেটস ক্রিকেট বোর্ড–এর সহায়তায় শারজাহ ও দুবাই—দুই ভেন্যুতেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে মার্চের শুরুতে অপ্রত্যাশিত কিছু পরিস্থিতির কারণে দলগুলোর যাতায়াত এবং সিরিজ পরিচালনায় লজিস্টিক জটিলতা তৈরি হয়। এ অবস্থায় আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে। আলোচনায় এমিরেটস ক্রিকেট বোর্ড এবং দুই ভেন্যুর কর্তৃপক্ষও অংশ নেয়। প্রথমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিরিজ চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হলেও শেষ পর্যন্ত সমস্যাগুলো সমাধান না হওয়ায় সিরিজটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসিবি জানিয়েছে, নতুন সূচি অনুযায়ী সিরিজটি আয়োজনের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। দুই বোর্ডের পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে পরবর্তীতে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।