ইফতারের টেবিলে রাখুন ফিশ ফিঙ্গার এবং গ্রিন চিকেন কাবাব

ইফতারের টেবিলে রাখুন ফিশ ফিঙ্গার এবং গ্রিন চিকেন কাবাব ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি তো ইফতারে রোজ রোজ খাওয়া হয়। স্বাদে বৈচিত্র্য আনতে মাঝে মাঝে বাসায় বানিয়ে ফেলুন ফিশ ফিঙ্গার কিংবা গ্রিন চিকেন কাবাব। রেসিপি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী মোস্তারিনা পারভীন রুনি ফিশ ফিঙ্গার উপকরণ: রুই মাছ ২৫০ গ্রাম, পেঁয়াজ বেরেস্তা ১ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ কুচি ১ টেবিল চামচ, আদা রসুন বাটা ১ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ, সেদ্ধ করা আলু বড় ১টি, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, মটরশুটি ১ টেবিল চামচ, গরম মসলার গুড়া ১ চা চামচ, কর্নফ্লাওয়ার ১ টেবিল চামচ, ধনিয়া পাতা কুচি ১ টেবিল চামচ, ডিম ১টি, ব্রেডক্রাম পরিমাণমতো, ভাজার জন্য সাদা তেল পরিমাণ মতো, লবণ পরিমাণমতো। প্রস্তুত প্রণালি: রুই মাছ এক কাপ পানি, আদা-রসুন বাটা, হলুদ দিয়ে ভালো করে সেদ্ধ করে নিন। সেদ্ধ করা হলে পানি ঝরিয়ে মাছের কাঁটা বেছে নিন। মটরশুটিও সেদ্ধ করে নিন। এবার আলু সেদ্ধ করে ম্যাশ করে মাছের সাথে মিশিয়ে তাতে ব্রেডক্রাম, তেল, ডিম বাদে সব উপকরণ একসাথে মেখে নিন। মাখানো হয়ে গেলে ফিঙ্গারশেপে বানিয়ে ডিমের গোলায় ডুবিয়ে ব্রেডক্রামে গড়িয়ে ডুবো তেলে ভেজে নিন। গ্রিন চিকেন কাবাব উপকরণ: বোনলেস চিকেন ৫০০ গ্রাম, ধনিয়া পাতা বাটা আধা কাপ, পুদিনা পাতা বাটা ২ টেবিল চামচ, আদা রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ, লবণ পরিমাণমতো, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, টক দই আধা কাপ, কাবাব মসলা ১ চা চামচ, জিরা গুড়া ১ চা চামচ, সরিষার তেল ২ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, গোল মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, সাদা তেল পরিমাণমতো। প্রস্তুত প্রণালি: হাড়ছাড়া মুরগির বুকের মাংস চার কণা করে কেটে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। সাদা তেল আর লেবুর রস বাদে সব উপকরণ মুরগির মাংসের সাথে ভালো করে মেখে নিন। মেরিনেট করে নরমাল ফ্রিজে ১ থেকে ২ ঘন্টা রাখুন। ফ্রিজ থেকে বের করে লেবুর রস দিন। ভালো করে নেড়েচেড়ে সাসলিকের কাঠিতে গেঁথে নিন। ননস্টিক ফ্রাই প্যানে অল্প আঁচে এপিঠ ওপিট ভালো করে ভেজে নিন। বাদামি রঙ আসলে নামিয়ে নিন পরিবেশন করুন মজাদার গ্রিন চিকেন কাবাব।
লালশাক খাওয়া যে কারণে জরুরি

লালশাক খাওয়া যে কারণে জরুরি নারীদের মধ্যে আয়রনের ঘাটতি সবচেয়ে সাধারণ পুষ্টিগত উদ্বেগের মধ্যে একটি, বিশেষ করে মাসিক, সন্তান জন্মদানের পর রক্তক্ষরণ এবং পুষ্টির ঘাটতির কারণে। প্রাথমিক সতর্কতা লক্ষণের মধ্যে সাধারণত ক্লান্তি, চুল পড়া, ফ্যাকাশে ত্বক এবং ঘন ঘন দুর্বলতা অন্তর্ভুক্ত থাকে। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আয়রন সমৃদ্ধ লাল শাক স্বাস্থ্যকর আয়রনের মাত্রা অনেকটাই বাড়াতে পারে। এছাড়া লাল রঙের অন্যান্য শাক-সবজিও এই তালিকায় রয়েছে। চলুন জেনে নেওয়ায যাক নারীর স্বাস্থ্যের জন্য লালশাক কেন জরুরি- ১. উদ্ভিদ-ভিত্তিক আয়রনের প্রাকৃতিক উৎস লালশাক নন-হিম আয়রনে সমৃদ্ধ, যা উদ্ভিদ-ভিত্তিক আয়রনের রূপ। হিমোগ্লোবিন উৎপাদনের জন্য আয়রন অপরিহার্য, এটি লোহিত রক্তকণিকার (RCB) প্রোটিন যা সারা শরীরে অক্সিজেন বহন করে। নিয়মিত লালশাক খেলে তা আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার সম্ভাবনা কমাতে সাহায্য করতে পারে, বিশেষ করে প্রজনন বয়সের নারীদের মধ্যে। ২. ভিটামিন সি এর সঙ্গে আয়রন শোষণ উন্নত করে লালশাকের একটি প্রধান সুবিধা হলো এতে প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা আয়রনের শোষণ উন্নত করে। উদ্ভিদ-ভিত্তিক আয়রন প্রাণি-ভিত্তিক আয়রনের মতো সহজে শোষিত হয় না; তাই শোষণ বৃদ্ধির জন্য খাবারে লেবুর রস, টমেটো বা সাইট্রাস ফল যোগ করা উচিত। ৩. ফোলেট সমৃদ্ধ ভিটামিন বি৯, যা ফোলেট নামেও পরিচিত, সুস্থ লোহিত রক্তকণিকা গঠনে অপরিহার্য। লাল শাকে ফোলেট থাকে এবং তাই এটি উপকারী, বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় নারীদের জন্য, যেখানে তাদের পুষ্টির চাহিদা বেশি থাকে। ফোলেটের পর্যাপ্ত ব্যবহার ভ্রূণের বিকাশে সহায়তা করে এবং কিছু জন্মগত ত্রুটির ঘটনা রোধ করে। ৪. ক্লান্তি কমায় আয়রনের ঘাটতি হলে সাধারণত কম শক্তি এবং দুর্বলতা দেখা যায়। আয়রন ছাড়াও, লাল শাকে ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম খনিজও থাকে, যা পেশী বিকাশ, শক্তি এবং সামগ্রিক সুস্থতার জন্য উপকারী। সুস্থ হিমোগ্লোবিনের মাত্রার মাধ্যমে উন্নত অক্সিজেন সরবরাহ স্থায়ী ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে। ৫. ফাইবার সমৃদ্ধ, কম ক্যালোরি লালশাকে প্রচুর পুষ্টি থাকে কিন্তু ক্যালোরি কম থাকে। এতে প্রচুর ফাইবার থাকে, যা পাচনতন্ত্রে সাহায্য করে এবং পুষ্টির শোষণ বাড়ায়, পরোক্ষভাবে আয়রন শোষণে সহায়তা করে। শরীরের হরমোন স্থিতিশীলতা এবং স্বাস্থ্যের জন্য অত্যাবশ্যক ওজনের ভারসাম্য নিশ্চিত করতেও এগুলো কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
অস্ট্রেলিয়ায় মেয়েদের এশিয়ান কাপ শুরু

অস্ট্রেলিয়ায় মেয়েদের এশিয়ান কাপ শুরু ১৯৭৫ থেকে ২০২২। এই সময়ের মধ্যে ২০ বার হয়েছে এএফসি নারী এশিয়ান কাপ ফুটবল। আয়োজক হওয়া তো দূরের কথা এশিয়ার নারী ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশ। তাই এশিয়ান কাপ নিয়ে চার বছর আগেও কোনো আগ্রহ ছিল না লাল-সবুজের দলটির। কিন্তু গত বছরের জুলাই থেকেই বাংলাদেশের ফুটবলে বইছে অন্যরকম এক আবহ। বাছাইপর্বে মিয়ানমারকে হারিয়ে এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করার পর থেকেই আফঈদা খন্দকার-ঋতুপর্ণা চাকমাদের ঘিরে নতুন স্বপ্নের জাল বোনেন ফুটবল সমর্থকরা। আসল লড়াইয়ে তাদের ফুটবল শৈলী দেখার অপেক্ষায় কোটি বাঙালি। সেই অপেক্ষা ফুরাচ্ছে মঙ্গলবার। এশিয়ান কাপে গ্রুপ ‘বি’তে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সিডনিতে চীনের মুখোমুখি হবে পিটার বাটলারের দল। তবে এশিয়ান কাপের সেরা ১২ দলের আসল লড়াই শুরু হচ্ছে আজ। পার্থ স্টেডিয়ামে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া খেলবে ফিলিপাইনের বিপক্ষে। মেয়েদের এশিয়ান কাপ মানেই চীনের দাপট। এখন পর্যন্ত প্রতিযোগিতায় ৯ বার শিরোপা জিতেছে তারা। তিনবার করে চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া ও চায়নিজ তাইপে। গ্রুপ ‘বি’তে বাংলাদেশের সঙ্গী চীন ও উত্তর কোরিয়া। আছে উজবেকিস্তানও। গ্রুপ ‘এ’তে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া ছাড়া বাকি দলগুলো হলো দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান ও ফিলিপাইন। গ্রুপ ‘সি’তে খেলবে জাপান, ভিয়েতনাম, চায়নিজ তাইপে ও ভারত। প্রতিটি গ্রুপের সেরা দুটি করে ছয়টি এবং সেরা দুটি তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলবে উঠবে কোয়ার্টার ফাইনালে। এর মধ্যে চার কোয়ার্টার ফাইনালজয়ী দল সরাসরি টিকিট কাটবে ২০২৭ নারী ফুটবল বিশ্বকাপের। বাকি চার দল খেলবে প্লে-অফে। সেখান থেকে দুটি দল উঠবে বিশ্বকাপে। গ্রুপের দিকে তাকালে বাংলাদেশের সেরা দুই দলের একটি হওয়া কঠিন। পিটার বাটলারের দলের টার্গেট উজবেকিস্তান। ৯ মার্চ পার্থে এই ম্যাচ জিতলে তৃতীয় হওয়া সেরা দুটির একটি হওয়ার সম্ভাবনা জাগবে। তাতে খুলে যাবে বিশ্বকাপের দরজা। বাংলাদেশের প্রথম দুটি ম্যাচ সিডনিতে। তাই বেশ কয়েকদিন ধরেই সেখানে প্রস্তুতি নিচ্ছে লাল-সবুজের দলটি। আর সিডনির জুবিলি স্টেডিয়ামে আফঈদাদের নিয়ে বাড়তি মনোযোগ কোচ বাটলারের। হাতে যেহেতু সময় কম, তাই শেষ মুহূর্তের ভুলত্রুটি সংশোধনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কোচ। ওয়েস্টার্নের বিপক্ষে প্রীতিম্যাচের পর এখন পুরো দলকে আসল লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করছেন বাটলার। সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে চীনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে শনিবারও অনুশীলনে ঘাম ঝরিয়েছে মেয়েরা। এখন লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ফরোয়ার্ড সুরভি আকন্দ প্রীতি, ‘এই প্রথমবার বাংলাদেশ এত বড় একটা মঞ্চে আসছে, তো এটা ভালো লাগারই কথা। কাজ তো হচ্ছেই, সব দিক দিয়েই ট্রেনিং সেশনে যা আমাদের ভুলত্রুটি হয় সেটা ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তো ওইটা শোধরানোর চেষ্টা করছি আমরা। ভালো (প্রস্তুতি হচ্ছে), সবকিছু মিলিয়ে। এখানে আসার পর আমরা একটা প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলেছি, তো ওখানে যা ভুলত্রুটি হয়েছে, কোচ আমাদের সেটা নিয়ে দুটি ট্রেনিং সেশন করিয়েছেন, ওখানে শুধরে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ‘ওই ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে (১-১ ড্র হয়েছিল ম্যাচটি)। আমরা ভালো করেছি, ওরাও তো শক্তিশালী দল। ফিজিও ইস্যুতে শুরুতে সমস্যা ছিল বাংলাদেশ শিবিরে। নিয়মিত ফিজিও লাইজু ইয়াসমিন লিপা ব্যক্তিগত কারণে সরে দাঁড়ালে দায়িত্ব পড়েছিল জাকিয়া রহমানের কাঁধে। তিনিও অ্যাপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্ত হওয়ায় কাজ চালিয়ে যেতে পারেননি। ফিজিও ছাড়াই অস্ট্রেলিয়া এসে ঝামেলায় পড়েছিল দল। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা কম হয়নি। তবে আশার কথা অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় ফিজিও ইসনাদ জামকনকে নিয়োগ দিয়ে সমস্যার সমাধান করেছে বাংলাদেশ।
সরে দাঁড়াচ্ছেন শ্রীলঙ্কার কোচ জয়াসুরিয়া

সরে দাঁড়াচ্ছেন শ্রীলঙ্কার কোচ জয়াসুরিয়া শ্রীলঙ্কার প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সনাৎ জয়াসুরিয়া। সুপার এইটে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ রানের পরাজয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয় শ্রীলঙ্কার। এরপর তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান। আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডকে তিনি কিছু না জানালেও তিনি বলেন, কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ পর্যন্ত থাকার সিদ্ধান্ত তিনি নিয়ে রেখেছিলেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ৫ রানে পরাজয়ের পর এই সিদ্ধান্ত জানাতে গিয়ে জয়াসুরিয়া বলেন, ‘আমি মনে করেছি দায়িত্বটা অন্য কারও হাতে তুলে দেওয়ার সময় হয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে ইংল্যান্ড সিরিজ চলাকালেই বলেছিলাম, আমি দীর্ঘদিন এই পদে থাকার আশা করছি না। তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম বিশ্বকাপে ভালো ফল করে ইতিবাচকভাবে বিদায় নিতে পারব। কিন্তু সেটা আমার প্রত্যাশামতো হলো না, এ নিয়ে আমি দুঃখিত। তবে তিনি এখনও পদত্যাগ করছেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি। আগামী ১৩ মার্চ থেকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার সাদা বলের সিরিজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে (যদিও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সিরিজটি অনিশ্চয়তার মুখে)। বোর্ড চাইলে ওই সিরিজ পর্যন্ত তাকে দায়িত্বে রাখতে পারে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমার চুক্তির মেয়াদ জুন পর্যন্ত। আমি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ডকে কিছু জানাইনি। তারা জানেও না যে আমি এমন ঘোষণা দিতে যাচ্ছি। আমাকে তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। যদি তারা অন্য কাউকে দায়িত্ব দিতে পারে, তাহলে অবশ্যই সেটাই করা উচিত। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরপরই জয়াসুরিয়া প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন। শুরুর কয়েক মাসেই আসে কিছু উল্লেখযোগ্য সাফল্য। সে বছরের আগস্টেই ২৭ বছর পর শ্রীলঙ্কা ভারতের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয় করে। এরপর সেপ্টেম্বরে দ্য ওভালে একটি টেস্ট জয় এবং ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজে হারানোর কৃতিত্বও অর্জন করে। জয়াসুরিয়া বলেন, ‘গত দেড় বছরে আমি দলকে অনেকটা এগিয়ে নিতে পেরেছি। ওয়ানডেতে আমরা ছিলাম অষ্টম বা নবম স্থানে, এমনকি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও খেলতে পারিনি। এখন আমরা চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছি। টেস্ট দলকে ছয়ে এবং টি-টোয়েন্টি দলকে ছয় বা সাত নম্বরে নিয়ে এসেছি (বর্তমানে অষ্টম স্থানে)। তবে এই সাফল্যের পেছনে যে তিনি একা কাজ করেছেন এমনটা নয়। কৃতিত্ব দিয়েছেন নিজের সহকর্মীদেরুও, ‘আমি একা এটা করিনি। আমার সহকারী কোচিং স্টাফ অসাধারণ সহযোগিতা করেছে। শুরু থেকেই তাদের সহায়তা চেয়েছিলাম, কারণ কোচ হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা বেশি ছিল না। তবে খেলোয়াড়ি জীবনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমি দায়িত্ব সামলাতে পেরেছি। তবে তার দায়িত্বের শেষ বছরে সংক্ষিপ্ত সংস্করণে ব্যর্থতাই বেশি চোখে পড়েছে। ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা চার ম্যাচ হেরে বিদায় নেওয়া ছিল সবচেয়ে বড় ধাক্কা। এছাড়া ২০২৫ এশিয়া কাপে মাঝারি মানের পারফরম্যান্স এবং গত বছর পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি ত্রিদেশীয় সিরিজেও প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয় শ্রীলঙ্কা। এর আগে জয়াসুরিয়া দুই দফায় প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বও পালন করেছিলেন।
আনুষ্ঠানিকতা পেরিয়ে প্রধান নির্বাচক পদে হাবিবুল পাবেন দায়িত্ব!

আনুষ্ঠানিকতা পেরিয়ে প্রধান নির্বাচক পদে হাবিবুল পাবেন দায়িত্ব! বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাচক হিসেবে গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর মেয়াদ শেষ হয়েছে গতকাল। আজ থেকে এই পদে দায়িত্ব নেওয়া প্রায় চূড়ান্তই হয়েছিল হাবিবুল বাশার সুমনের! আলোচনা গড়িয়েছিল অনেকদূর। বেতন, বাড়তি সুযোগ সুবিধা, ছুটি-ছাটা সেসব নিয়েও কথাবার্তা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু দুজন পরিচালকের অনিচ্ছায় তা পিছিয়ে যায়। সিদ্ধান্ত হয় সকল আনুষ্ঠানিকতা মেনেই নিয়োগ দেয়া হবে প্রধান নির্বাচক। বিসিবি কাউকে প্রস্তাব দেবে না। বিসিবি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেবে। আগ্রহীরা সেই বিজ্ঞপ্তির পর আবেদন করবেন। এরপর সাক্ষাৎকার শেষে নিয়োগ চূড়ান্ত হবে। বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও এই প্রক্রিয়ায় যেতে রাজী হন। তাতে পিছিয়ে যায় হাবিবুলের নিয়োগ। নতুন নির্বাচক খুঁজে পেতে বিসিবি আজ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এই বিজ্ঞপ্তিতে দুজন নতুন নির্বাচক নেওয়ার কথা জানায় বিসিবি। গাজী আশরাফ সরে যাওয়ার পর হাসিবুল হোসেন শান্ত আপাতত একা। তিন সদস্যর নির্বাচক প্যানেল চাইছে বোর্ড। এজন্য দুজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। পরবর্তীতে একজনকে প্রধান করা হবে। আগ্রহীরা আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় থাকবেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ, ক্রিকেট পরিচালনা প্রধান নাজমুল আবেদীনসহ বিসিবির আরও দুই পরিচালক খালেদ মাসুদ ও আবদুর রাজ্জাক। নিয়োগ প্রাপ্ত নির্বাচকদের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে দুই বছরের চুক্তি করবে বিসিবি। এরপর পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই গাজী আশরাফকে আরও কয়েক মাস দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল বিসিবির পক্ষ থেকে। ব্যক্তিগত কারণে বিসিবির অনুরোধ রাখতে পারেননি তিনি। তবে সামনে পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজে কাজ করবেন তিনি। এটাই হতে যাচ্ছে তার শেষ অ্যাসাইনমেন্ট। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হাঁটলেও হাবিবুলের প্রধান নির্বাচক হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। বাকি একটি জায়গায় জন্য সাক্ষাৎকারের আয়োজন করা হবে বলেও জানিয়েছেন এক বোর্ড পরিচালক। ভবিষ্যতের কথা ভেবে আগ্রহীদের সম্পর্কে ধারণা পেতেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার আয়োজন করেছে বিসিবি। নিয়োগের জন্য বেশ কিছু ক্রাইটেরিয়াও ঠিক করে দিয়েছে বিসিবি। যেখানে উল্লেখযোগ্য শর্ত হলো, সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে বা লিস্ট ‘এ’ ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট মিলিয়ে অন্তত ১০০ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। জাতীয় নির্বাচক প্যানেলকে জাতীয় দল, বাংলাদেশ ‘এ’ দল, এইচপি ইউনিট, জাতীয় ক্রিকেট লিগ, বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ এবং অনান্য স্কোয়াড তৈরি করার কাজ করতে হবে। এছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেট চলাকালীন মাঠে গিয়ে খেলা দেখার শর্তও এবার জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধে দুবাইয়ে আটকা পড়েছেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা

যুদ্ধে দুবাইয়ে আটকা পড়েছেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। এতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। এমন বৈরি পরিস্থিতির মধ্যে দুবাইয়ে আটকা পড়েছেন ইংল্যান্ড লায়ন্সের ক্রিকেটাররা। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে মিসাইল ছুড়েছে ইরান। দুবাইয়ের পাম জুমেইরা রিসোর্টে হামলা চালিয়েছে দেশটি। এমন অবস্থায় নিরাপত্তা শঙ্কায় আবুধাবিতে পাকিস্তান শাহিন্সের বিপক্ষে ইংল্যান্ড লায়ন্সের ৫০ ওভারের দ্বিতীয় ম্যাচটি বাতিল ঘোষণা করেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। এক বিবৃতিতে ইসিবি বলেছে, ‘আমাদের দল ও স্টাফদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা সবার আগে। মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান পরিস্থিতির কারণে আমরা নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি এবং তাদের নির্দেশনা মানা হচ্ছে। ইংল্যান্ড লায়নসের ২৫ জনের বহর আটকা পড়েছে দুবাইয়ে। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে আমিরাতের আকাশপথ বন্ধ করা হয়েছে। যাদের মধ্যে আছেন কোচ অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ ও ইংল্যান্ডের সাদা বলের তারকা ক্রিকেটার জনি বেয়ারস্টো।
হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা

হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ‘স্কাইলাইট’ নামের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ওমানের সমুদ্রবিষয়ক নিরাপত্তা কেন্দ্র। খবর আল-জাজিরা। ওমানের মুসানদাম এলাকা থেকে প্রায় ৫ নটিক্যাল মাইল দূরে পালাউয়ের পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘স্কাইলাইট’ লক্ষ্য করে এ আক্রমণ চালানো হয়। ওমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পরপরই জাহাজে থাকা ২০ জন নাবিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আহত চারজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। কে বা কারা এ হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়েও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। এর আগে ওমানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, দেশটির দুকম বন্দর এলাকায় দুটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওই হামলায় একজন বিদেশি শ্রমিক আহত হন। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হলো হরমুজ প্রণালি। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পরিবহনের বড় অংশই এই পথ দিয়ে হয়ে থাকে। ফলে এ এলাকায় যেকোনো হামলা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
যেভাবে হত্যা করা হয় খামেনিকে

যেভাবে হত্যা করা হয় খামেনিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ অভিযান চালিয়ে শনিবার ভোরের দিকে তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করেছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের শেষ মুহূর্তের তথ্যের ভিত্তিতে তেহরানে উচ্চপর্যায়ের অত্যন্ত গোপনীয় এক বৈঠক চলাকালীন ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়। একেবারে গোপনীয় এবং সুরক্ষিত কক্ষে বৈঠকের সময় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নিখুঁত হামলা ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীকে সেই সময় একেবারে অপ্রস্তুত করে দেয়। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ও মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে ওই তথ্য জানানো হয়েছে। রয়টার্সকে একাধিক মার্কিন সূত্র বলেছে, খামেনি শনিবার সকালে তেহরানের মধ্যাঞ্চলের একটি সুরক্ষিত ভবনে শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন বলে গোয়েন্দারা নিশ্চিত করেছিলেন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ গত কয়েক মাস ধরে খামেনিকে নজরদারিতে রেখেছিল এবং তার অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য তাদের কাছে ছিল। সেসব তথ্য প্রতি মুহূর্তে ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে আসছিল সিআইএ। • শেষ মুহূর্তের গোয়েন্দা তথ্যে নির্ধারিত হয় খামেনির পরিণতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শুরুতে রাতের দিকে ইরানে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু ইসরায়েলি গোয়েন্দারা জানতে পারেন, খামেনির নির্ধারিত বৈঠকটি সন্ধ্যার পরিবর্তে শনিবার সকালেই শুরু হয়েছে। গোয়েন্দাদের এই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হয়। মার্কিন সূত্র বলেছে, শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে খামেনির বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই মার্কিন-ইসরায়েলের যৌথ বিমান ও নৌ হামলা শুরু হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে লক্ষ্য করে হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কারণ সময় পেলে তিনি আত্মগোপনে যেতে পারেন; এমন ধারণা ছিল মার্কিন গোয়েন্দাদের। ইরানি দুটি নিরাপত্তা সূত্র বলেছে, হামলার কিছুক্ষণ আগেই ইরানের সর্বোচ্চ এই নেতা দেশটির প্রতিরক্ষা পরিষদের সেক্রেটারি আলী শামখানি এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী লারিজানির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। ইসরায়েলি সময় ভোর ৬টায় শুরু হওয়া এই অভিযানে ইসরায়েলের ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান তেহরানে পৌঁছাতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নেয়। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে খামেনির ব্যাপক নিরাপত্তা বেষ্টিত ভবনে ৩০টি বোমা ফেলে তা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, মার্কিন ট্র্যাকিং সিস্টেম খামেনির অবস্থান শনাক্ত করেছিল এবং এই হামলায় তাকেসহ অন্য ইরানি নেতাদের হত্যা করা হয়েছে। ইসরায়েলের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তাও খামেনির মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইসরায়েল বলেছে, খামেনির সঙ্গে আলী শামখানি এবং আইআরজিসির কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরসহ কয়েকজন সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাও নিহত হয়েছেন। • শোকে ভাসছে ইরান রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা ইসরায়েলি-মার্কিন হামলায় শামখানি ও পাকপুরের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। এছাড়া বিপ্লবী গার্ডের অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার সৈয়দ মজিদ মুসাভি এবং গোয়েন্দা উপমন্ত্রী মোহাম্মদ শিরাজিসহ প্রায় ৪০ জন কর্মকর্তা ওই যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন। দেশটির বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনির পরিবারের কয়েকজন সদস্যও হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে তার মেয়ে, জামাতা, নাতি এবং এক পুত্রবধূ রয়েছেন। পরে ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আবদুর রহিম মুসাভির মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করা হয়েছে। • খামেনির দায়িত্বে কারা? ইরান এই ঘটনায় ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হামলার আদেশদাতারা শিগগিরই তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনা করবে। খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবার বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ দ্রুত নতুন নেতা নির্বাচন করবে। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগীয় প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন আলেমকে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের কাউন্সিল খামেনির দায়িত্ব পালন করবে। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ বলছে, খামেনির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে আইআরজিসির কট্টরপন্থীরা ক্ষমতায় আসতে পারেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অভিযানকে ইরানের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এর ফলে একটি কূটনৈতিক সমাধানের পথ সুগম হয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য কয়েকজন ভালো প্রার্থী রয়েছেন। সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, রয়টার্স, এএফপি।
কেন ঠিকানা বদলে ফেললেন শ্রদ্ধা

কেন ঠিকানা বদলে ফেললেন শ্রদ্ধা বাড়ি আছে, তবু ঠিকানা বদলে ফেললেন শ্রদ্ধা কাপুর। নিজ বাড়ি ছেড়ে হয়ে গেলেন ভাড়া বাড়ির বাসিন্দা। সেই বাড়ির জন্য শ্রদ্ধাকে প্রতি মাসে খরচ করতে হবে ৬ লাখ রুপি! তারচেয়ে বড় বিষয় হলো, মুম্বাইয়ের জুহুতে অবস্থিত সেই বাড়ির এক বছরের ভাড়া বাবদ জমা দিতে হবে ৭২ লাখ রুপি! এমন খবর শুনে নেটিজেনদের অনেকের প্রশ্ন, হঠাৎ এমন কী হলো শ্রদ্ধার? যার কারণে হঠাৎ নিজের ঠিকানা বদলে ফেললেন? এসব প্রশ্নে কোনো উত্তর মেলেনি এই বলিউড তারকার কাছ থেকে। আনন্দবাজারসহ ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেছে, একান্ত নিজের মতো করে বসবাসের জন্য মুম্বাইয়ের জুহুতে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছেন শ্রদ্ধা কাপুর। তবে এই ঠিকানা বদলে ফেলায় অভিনেত্রীর পরিবারের তরফ থেকে কোনো আপত্তি বা বাধা আসেনি। বিষয়টি সবাই স্বাভাবিকভাবে নিয়েছেন। সংবাদ মাধ্যমগুলো আরও জানিয়েছে, এরই মধ্য নতুন বাড়িতে বসবাসের জন্য শ্রদ্ধার সঙ্গে ৭২ লাখ রুপির একটি চুক্তি হয়ে গেছে; যার জন্য প্রতি মাসে ৬ লাখ রুপি করে ভাড়া দিতে হবে অভিনেত্রীকে। তবে ভাড়ার অঙ্ক নিয়ে মোটেও বিচলিত নন শ্রদ্ধা। কারণ, তিনি বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক নিয়ে একেকটি সিনেমায় অভিনয় করে থাকেন। তাই হাত খুলে খরচ করতেও দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন না। সে কারণে ৩,৯২৯ বর্গফুটের নতুন বাড়িটির ভাড়া নিয়ে কম নাকি বেশি, তা নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবেননি। কিন্তু নিজ বাড়ি ছেড়ে জুহুতে কেন শ্রদ্ধার ছুটে যাওয়া? তা নিয়ে কৌতূহলও তৈরি হয়েছে অনেকের। এ বিষয়ে শ্রদ্ধা নিজ থেকে কিছু না বললেও অনেকের অনুমান, বলিউডের হেভিওয়েট তারকাদের প্রতিবেশী হওয়ার আকাঙ্ক্ষাতেই জুহুতে বাড়ি ভাড়া নেওয়া। শহরের হেভিওয়েট তারকারা এখানে থাকতে পছন্দ করেন, প্রতিটি বাড়ি সমুদ্রমুখী হওয়ার কারণে। তাই অমিতাভ বচ্চন, অক্ষয় কুমার, অজয় দেবগন, বরুণ ধবন ও হৃতিক রোশন বসবাসের জন্য জুহুকে বেছে নিয়েছেন। অভিনেতা ইমরান খান ও তাঁর প্রেমিকা লেখা ওয়াশিংটনও এর আগে ‘লিজ’-এ ফ্ল্যাট নিয়েছেন। তাঁরা মাসে ৯ লাখ টাকা করে ভাড়া দিতেন। রণবীর সিং ও দীপিকা পাড়ুকোনও একটি বাড়ি ভাড়ায় নিয়েছিলেন। মাসে ৭ লাখ টাকা করে ভাড়া দিতেন তাঁরা। এদিকে, ২০২৪ সালে ‘স্ত্রী ২’ সিনেমা মুক্তির পর শ্রদ্ধা কাপুরকে বলিউড সিনেমায় দেখা যায়নি। এই অভিনেত্রীর হাতে তেমন কোনো কাজও নেই বলা শোনা যায়। যশরাজ থেকে শুরু করে করণ জোহরের ধর্মা প্রডাকশনসহ বড় বেশ কিছু প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শ্রদ্ধার দিক থেকে নজর ফিরিয়ে নিয়েছেন। একের পর এক হিট সিনেমা দেওয়ার পরও শ্রদ্ধা কেন উপেক্ষিত, তা নিয়ে এখনও কেউ মুখ খোলেননি; যার পরিপ্রেক্ষিতে অভিনেত্রীর ক্যারিয়ার গ্রাফ ক্রমশ নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। বড় নির্মাতাদের কাছ থেকেও আগের মতো নতুন সিনেমার প্রস্তাব আসছে না। তার ওপর কিছুদিন আগে ২৫২ কোটি টাকার মাদক মামলায় নাম জড়িয়েছিল এই অভিনেত্রীর ভাই সিদ্ধান্ত কাপুরের। মুম্বাই পুলিশ জেরাও করেছিল তাঁকে, যা নিয়ে অনেক জল ঘোলাও হয়েছে। এরপরেই আবার বিপাকে পড়ছিলেন শুটিং করতে গিয়ে আহত হয়ে। ‘ঈথা’ সিনেমার শুটিংয়ে এই ঘটনা ঘটে। সিনেমাটি নির্মিত হচ্ছে মারাঠি লোকশিল্পী বিঠাবাঈ ভাউ মঙ্গ নারায়ণগাঁওকরের জীবনী নিয়ে। যে কারণে শুরু থেকেই এই কাজটি নিয়ে প্রচণ্ড পরিশ্রম করে যাচ্ছেন শ্রদ্ধা। কারণ ‘ঈথা’ সিনেমার সাফল্যের ওপরই নির্ভর করছে তাঁর ক্যারিয়ার।
ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে যুদ্ধের আতঙ্কে নুসরাত ফারিয়া

ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে যুদ্ধের আতঙ্কে নুসরাত ফারিয়া ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক আকাশপথে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, তুরস্কের ইস্তাম্বুল থেকে দুবাই যাওয়ার কথা থাকলেও হঠাৎ পরিস্থিতির পরিবর্তনে সেই পরিকল্পনা বাতিল করে শেষ পর্যন্ত ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিতে বাধ্য হন তিনি। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ছবি ও আবেগঘন স্ট্যাটাস শেয়ার করে অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন নসুরাত ফারিয়া। এ পোস্টে তিনি জানান, দিনটি তার কাছে ছিল একেবারেই দুঃস্বপ্নের মতো। নুসরাত ফারিয়া লেখেন, “ঘুম থেকে উঠে শুনলাম যুদ্ধ, ইউএই-এর আকাশপথ বন্ধ। মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু থেমে গেল। ইস্তাম্বুল থেকে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল। এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিল চারপাশের পৃথিবীটা বদলে যাচ্ছে, এত অনিশ্চয়তা, এত চাপ, এত ভয়। সংকটকালে নুসরাত ফারিয়ার এক বন্ধু তাকে সহযোগিতা করেন। তা স্মরণ করে এই অভিনেত্রী লেখেন, “এই বিশৃঙ্খলার মাঝেও আল্লাহর রহমত আর মানুষের ভালোবাসা আমাকে ধরে রেখেছে। ইস্তাম্বুলে আমার বন্ধু আর তার পরিবার যেভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে, বারবার খোঁজ নিয়েছে, নিশ্চিত করেছে আমি নিরাপদ আছি, সেটা কোনোদিন ভুলব না। তাদের যত্ন আর ভালোবাসা আজ আমাকে ভেঙে পড়তে দেয়নি। নুসরাত ফারিয়া ১৪ ঘণ্টা আগে তার এই পোস্ট দেন। ঢাকায় ফেরার কথা উল্লেখ করে এই অভিনেত্রী লেখেন, “এখন প্লেনে বসে ঢাকায় ফিরছি। মনটা ভারী, কিন্তু কৃতজ্ঞ। শুধু চাই, ‘পৃথিবীটা যেন একটু শান্ত হয়। ফেসবুকে শেয়ার করা ছবিতে দেখা যায়, ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের একটি লাউঞ্জে বসে আছেন ফারিয়া। সামনে রাখা পাসপোর্ট ও বোর্ডিং পাস, পেছনের টেলিভিশন স্ক্রিনে ভেসে উঠছে যুদ্ধসংক্রান্ত সংবাদ। পুরো দৃশ্যেই ধরা পড়ে অনিশ্চয়তা আর ক্লান্তির ছাপ।