ইরানকে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম দিলেন ট্রাম্প

ইরানকে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম দিলেন ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে তেহরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তি করতে হবে, নাহলে ‘সত্যিই খারাপ কিছু’ ঘটবে। গতকাল তিনি এই হুমকি দিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ফলে বৃহত্তর যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, উত্তেজনাপূর্ণ অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে ইরানের সাথে আলোচনা ভালোভাবে চলছে। তবে তেহরানের একটি ‘অর্থপূর্ণ’ চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে।
ইসরায়েলে মারধর, অনাহার ও ধর্ষণের শিকার ৬০ সাংবাদিক

ইসরায়েলে মারধর, অনাহার ও ধর্ষণের শিকার ৬০ সাংবাদিক ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি কারাগারে আটক প্রায় ৬০ জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে মারধর, অনাহারে রাখা এবং ধর্ষণসহ যৌন সহিংসতার শিকার করা হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে বলে গতকাল জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) কয়েক ডজন সাক্ষ্য, ছবি এবং মেডিকেল রেকর্ড পর্যালোচনা করেছে। সেখানে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সেনা এবং কারারক্ষীদের হাতে গুরুতর নির্যাতনের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ৫৯ জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ৫৮ জন ইসরায়েলি হেফাজতে থাকাকালীন নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে সময় কাটাচ্ছেন সামিরা খান মাহি

যুক্তরাষ্ট্রে সময় কাটাচ্ছেন সামিরা খান মাহি বর্তমান সময়ের ছোটপর্দার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি। সাবলীল অভিনয় আর শরীরী সৌন্দর্যে খুব অল্প সময়েই দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। নাটকের ব্যস্ত শিডিউল আর শুটিংয়ের ব্যস্ততায় যখন তার সময় কাটে, ঠিক তখনই হঠাৎ বিরতির ঘোষণা দিলেন এই অভিনেত্রী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাহির সক্রিয়তা বরাবরের মতোই বেশি। তবে এবার সেখানে কোনো আনন্দঘন মুহূর্ত নয়, বরং মন খারাপের এক বার্তা ভাগ করে নিয়েছেন ভক্তদের সঙ্গে। মাহি জানিয়েছেন, জীবনের এই পর্যায়ে এসে তার একটু থামা প্রয়োজন। এক পোস্টে মাহি লিখেছেন, ‘প্রিয় ভক্তরা, জীবনের প্রতিটি যাত্রায় মাঝেমধ্যে একটু বিরতি দরকার হয়। এইবার সেই বিরতিটাই নিচ্ছি। মনটা একটু ভারী, কারণ কাজ আর তোমাদের ভালোবাসা ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ। হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত? তা নিয়ে ভক্তদের মনে কৌতূহল উঁকি দিলেও মাহি স্পষ্ট করেছেন এটি স্থায়ী কোনো বিদায় নয়। তিনি আরও বলেন, ‘তবে এটা বিদায় না, শুধু অল্প সময়ের জন্য থামা। দোয়া রেখো, খুব তাড়াতাড়ি আবার ফিরবো, ইনশাআল্লাহ। গতকাল নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন মাহি। সেখানে বোনের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা গেছে তাকে। ভিডিওতে বেশ প্রাণবন্ত ও হাস্যোজ্জ্বলভাবেই ধরা দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। মাহির এমন পোস্টের নিচে মন্তব্যের ঘরে ভক্তরা তাকে শুভকামনা জানাচ্ছেন। কেউ বলছেন কাজের চাপে মানসিক প্রশান্তির জন্য বিরতি প্রয়োজন, আবার কেউ তাকে দ্রুত পর্দায় ফেরার অনুরোধ জানাচ্ছেন। তবে বিরতির কারণ নিয়ে বিস্তারিত আর কিছুই জানাননি তিনি।
হতাশায় নিমজ্জিত অস্ট্রেলিয়াকে ভয় দেখাচ্ছে ওমানও

হতাশায় নিমজ্জিত অস্ট্রেলিয়াকে ভয় দেখাচ্ছে ওমানও এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ে, শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টানা তিনটি ম্যাচেই হেরেছে ওমান। এর আগে ২০২৪ আসরেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একমাত্র দেখায় বড় ব্যবধানে হেরেছিল দলটি। সেই ওমানই কিনা এবার ভয় দেখাচ্ছে অস্ট্রেলিয়াকে! আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পাল্লেকেলেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে ওমান। অস্ট্রেলিয়ার জন্য ম্যাচটি কার্যত নিয়মরক্ষার। জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে এরই মধ্যে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। হতাশায় নিমজ্জিত এই অস্ট্রেলিয়াকেই শেষ ভয়টা দেখাতে চায় ওমান।
পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে ‘বাঘিনীরা’

পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে ‘বাঘিনীরা’ ব্যাংককের তারথাই ক্রিকেট গ্রাউন্ডে যেন চলল ফাহিমা খাতুনের ‘ওয়ান ম্যান শো’। তার অলরাউন্ড নৈপুণ্যে পাকিস্তানকে পাত্তাই দিল না বাংলাদেশ ‘এ’ দল। উইমেনস এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্সের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে ৫৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে টাইগ্রেসরা। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ভারত। আজ টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১১০ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। ১১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৫৬ রানেই অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান।
ঢাবির টিএসসিতে দুই দিনব্যাপী চলচ্চিত্র প্রদর্শনী

ঢাবির টিএসসিতে দুই দিনব্যাপী চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অমর একুশে ফেব্রুয়ারি স্মরণে ‘ঢাকা ফিল্ম ক্লাব’-এর উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি-সংলগ্ন সড়ক দ্বীপে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ভাষা আন্দোলনভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে উন্মুক্ত এ আয়োজন চলবে আজ ও আগামীকাল। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় আয়োজিত এ প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত। প্রদর্শনীর প্রথম দিন আজ দেখানো হচ্ছে কিংবদন্তি নির্মাতা জহির রায়হান পরিচালিত কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’। ১৯৭০ সালে নির্মিত এ ছবিটি বাংলা চলচ্চিত্রে রাজনৈতিক রূপকের এক অনন্য উদাহরণ। একটি পরিবারের ভেতরের দমন-পীড়নের গল্পের মাধ্যমে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের প্রতীকী চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ড্রাকুলা চরিত্রের রূপক ব্যবহার করে শাসনব্যবস্থার নির্মমতা এবং জনগণের প্রতিবাদী চেতনা ফুটিয়ে তুলেছেন নির্মাতা। চলচ্চিত্রটিতে ভাষা আন্দোলনের আবহ আরও শক্তিশালী হয়েছে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রচিত অমর সংগীত ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ ব্যবহারের মাধ্যমে। শুটিং চলাকালে ‘রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক চলচ্চিত্র’ নির্মাণের অভিযোগে জহির রায়হানকে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হলেও পরে প্রমাণের অভাবে তাঁকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী। ছবিটিতে অভিনয় করেছেন রাজ্জাক, সুচন্দা, রোজী সামাদ, খান আতাউর রহমান, রওশন জামিল ও আনোয়ার হোসেনসহ প্রখ্যাত শিল্পীরা। এই আয়োজনের দ্বিতীয় দিন শনিবার প্রদর্শিত হবে শহীদুল হক খান পরিচালিত কলমীলতা। ১৯৮১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এ চলচ্চিত্রে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজ হিসেবে দেখানো হয়েছে। পারিবারিক গল্পের আবহে একুশে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ইতিহাসের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়েছে ছবিটিতে। চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন কবরী, বুলবুল আহমেদ, সুচরিতা, ইলিয়াস কাঞ্চন, গোলাম মুস্তাফা, রোজী সামাদ ও টেলি সামাদসহ আরও অনেকে।আয়োজকদের মতে, বাংলা চলচ্চিত্রে ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নির্মাণের সংখ্যা এখনও সীমিত। নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাসনির্ভর গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্রগুলো পৌঁছে দেওয়া এবং ভাষা আন্দোলনের চেতনা পুনরুজ্জীবিত করাই এ প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ নানা বয়সী দর্শকের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এ আয়োজনকে ঘিরে তৈরি করেছে এক ভিন্ন আবহ।
বিপদ কেটে গেলে মানুষ অহংকারী হয়ে ওঠে : আসিফ আকবর

বিপদ কেটে গেলে মানুষ অহংকারী হয়ে ওঠে : আসিফ আকবর বাংলাদেশে শিল্পীদের সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া একটি পোস্টে করোনাকালীন সংকট ও সংগীতাঙ্গনের নাকাল পরিস্থিতির কথাও বর্ণনা করেন এই শিল্পী। আসিফ আকবর বলেন, পবিত্র রমজান মাস এলেই করোনাকালীন যন্ত্রণা তাড়িয়ে বেড়ায়। এমনিতেই বাংলাদেশের সমস্ত সমস্যা প্রতিফলিত হয় সংস্কৃতি অঙ্গনে, প্রথম চালানেই বন্ধ হয় সংগীতের কার্যক্রম। এই দেশে শিল্পীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সামাজিক নিরাপত্তা প্রাপ্তির কোনো অপশন নেই, ব্যাংক লোন দেয় না, বাড়িওয়ালা দেয় না বাসা ভাড়া। তবু থেমে নেই চর্চা, চলছে পেশা নিয়ে টিকে থাকার যুদ্ধ। সংগীতশিল্পী ও প্রযোজক ধ্রুব গুহকে স্মরণ করে আসিফ আকবর বলেন, “করোনার সময় আমরা রেকর্ডিং করতাম মোবাইল ফোনে। স্টুডিও বন্ধ, টেকনিশিয়ান নাই, সব কাজ হতো বাসায় অবস্থান করেই। নিরাপত্তা আতঙ্কে মিউজিশিয়ানরা কেউ চলে গেছেন শহর ছেড়ে, কেউ প্রবাসে, কেউ বদলে ফেলেছেন পেশা। তবু শুকরিয়া, ধ্রুব গুহ দাদার মতো দু-একজন বোকা প্রোডিউসার ছিলেন আমাদের পাশে। রাজনীতি, মিউজিক-ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা বর্ণনা করে আসিফ আকবর বলেন, “যেভাবে সরকার যায় সরকার আসে, ঠিক সেভাবেই চাটুকারের দল যায়, চাটুকারের দল আসে। একঘেয়ে গালভরা বুলি আর স্বপ্ন পোড়া ছাই—এই টম অ্যান্ড জেরির গল্প যেন শেষ হবার নয়! এখন দেশে মিউজিক বা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি বলে কিছু নেই, যা আছে সেগুলো কঙ্কালসার অবয়ব। এই অবয়ব দিয়ে ল্যাবেও (গবেষণা) কাজ হবে না। বিপদ কেটে গেলে মানুষ অহংকারী হয়ে ওঠে। এ বিষয়ে উদাহরণ দিয়ে আসিফ আকবর বলেন, “করোনা শিক্ষা আর আতঙ্ক নিয়ে এসেছিল, চলেও গেছে। আমরা সব ভুলে যাই বরাবরের মতো, বিপদ কেটে যাওয়ায় আবারও হয়ে গেছি অহংকারী। সংস্কৃতিকর্মীদের নিজেদের স্বার্থপরতায় প্রতি পদে পদে নিহত হয় সম্ভাবনা, আর সাংস্কৃতিক বলয়ে ছড়ি ঘোরায় অভিশপ্ত পদাতিক। তবু। ভালোবাসা অবিরাম।