বয়স বাড়ার সঙ্গে আরও ‘অ্যাডভেঞ্চারাস’ হচ্ছেন জয়া আহসান

বয়স বাড়ার সঙ্গে আরও ‘অ্যাডভেঞ্চারাস’ হচ্ছেন জয়া আহসান পশ্চিমবঙ্গে ৬ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পেয়েছে জয়া আহসান অভিনীত সিনেমা ওসিডি। ছবিটি পরিচালনা করেছেন সৌকর্য ঘোষাল। সিনেমাটির প্রচারণা উপলক্ষে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে অভিনয়, দুই বাংলার সিনেমা এবং ব্যক্তিগত নানা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। দুই বাংলার সিনেমা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে জয়া বলেন, তিনি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ দুই ইন্ডাস্ট্রির কাজ নিয়েই সমানভাবে আশাবাদী। ‘ওসিডি’ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ছবিটিতে অভিনয়ের জন্য বড় পরিসর ছিল। এর আগে তিনি ‘ডিয়ার মা’ ও ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’-র মতো ভিন্ন ঘরানার ছবিতে কাজ করেছেন। তার ভাষায়, তিনটি সিনেমাই আলাদা মাত্রার একটি পারিবারিক, একটি ক্ল্যাসিক ধারার এবং ‘ওসিডি’-তে রয়েছে শক্তিশালী সামাজিক বার্তা। বাংলাদেশের সিনেমা প্রসঙ্গে জয়া বলেন, নানা পরিস্থিতির মধ্যেও গত বছর তার অভিনীত ‘উৎসব’ ও ‘তান্ডব’ ব্লকবাস্টার সাফল্য পেয়েছে। সামনে আরও কয়েকটি ভালো কাজ আসছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রইদ’ নামের একটি ছবির ট্রেলার ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে যা নিয়ে তিনি আশাবাদী। দুই বাংলার সিনেমা পারস্পরিকভাবে মুক্তি না পাওয়ার বিষয়েও আক্ষেপ করেন জয়া। তার আশা অদূর ভবিষ্যতে এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া তার ব্যক্তিগত জায়গা নয় বরং এটি তার পেশাদার ইমেজের একটি আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম। যদিও মাঝে মাঝে ব্যক্তিগত কিছু মুহূর্তও শেয়ার করেন। সাক্ষাৎকারের শেষ অংশে ‘র্যাপিড ফায়ার’ পর্বে বয়স বাড়া নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে জয়া জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজের মধ্যে বাবার ছাপ খুঁজে পাচ্ছেন এ বিষয়টি তিনি উপভোগ করছেন। পাশাপাশি তিনি জানান, সময়ের সঙ্গে তিনি আরও অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় হয়ে উঠছেন। কোনো কিছু করতে নিজেকে ‘না’ বলেন না তিনি।
সন্তানের কথা ভেবে কাঁদলেন বুবলী

সন্তানের কথা ভেবে কাঁদলেন বুবলী ঢাকাই চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। পর্দায় সবসময় গ্ল্যামারাস ও হাসিখুশি দেখা গেলেও বাস্তব জীবনের সংগ্রাম ও মাতৃত্বের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে ক্যামেরার সামনেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন তিনি। সম্প্রতি রুম্মান খানের পডকাস্ট অনুষ্ঠানে হাজির হন নায়িকা; সে সময় সন্তান শেহজাদ খান বীরের জন্মের সময়ের কঠিন পরিস্থিতির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এই নায়িকা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে করোনা মহামারির সময়ে একাকীত্বের দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন বুবলী। ২০২০ সালে যখন বিশ্বজুড়ে কোভিডের ভয়াবহতা, ঠিক সেই সময়েই মা হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। সেই দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে বুবলী বলেন, সেটা ছিল আমার পুনর্জন্ম। আমি তখনো জানি না মায়ের জার্নিটা কেমন হয়। প্রেগন্যান্ট অবস্থায় আমেরিকায় ছিলাম, কোভিডের ওই ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা আমরা কেউ জানতাম না। কথাগুলো বলার সময় কণ্ঠ জড়িয়ে আসে বুবলীর। একপর্যায়ে তিনি চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি; নিজেকে সামলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বুবলী বলেন, আমি আমার মাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি পৃথিবীতে। বাবা-মা দুজনকে আমরা সবাই ভালোবাসি কিন্তু আমার মায়ের জন্য আমার ফিলিংটা যেমন আলাদা, তেমনি আমার সন্তানের জন্য। আম্মু সবসময় একটা কথা বলতেন আমাদেরকে যখন ছোটবেলা থেকে শাসন করতেন- যে, মা হলে বুঝবি। পডকাস্টে নিজের ক্যারিয়ার ও প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়েও কথা বলেন বুবলী। ক্যারিয়ারের শুরুতে নবাগত হিসেবে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার পাওয়ার বিষয়টি তার জন্য বড় অনুপ্রেরণা ছিল। পরিবারের অমতে শোবিজে এসে সেই পুরস্কারটি ছিল তার জন্য বড় অর্জন। তবে পরবর্তীতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বেশ কিছু পুরস্কার পাওয়ার আশ্বাস পেয়েও শেষ পর্যন্ত না পাওয়ার আক্ষেপও ঝরেছে তার কণ্ঠে। বুবলী বলেন, অনেক সময় কনগ্রাচুলেশন জানানো হয়েছে যে আমি পুরস্কার পাচ্ছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পাইনি। তখন মনে হয়েছে, এটাই জীবনের অংশ। প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ড জিউস মেডিকেল হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন শাকিব খান ও বুবলীর সন্তান শেহজাদ খান বীর। কাকতালীয়ভাবে, বুবলীর ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমার সংখ্যাও ২১টি। ব্যক্তিগত জীবনে নানা চড়াই-উতরাই ও শাকিব খানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন থাকলেও বর্তমানে কাজ ও সন্তানকে নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন এই নায়িকা।
‘ভয় ও মন্দ কথা বলে যারা বাজার গরম রাখত, তাদের ক্ষতি হয়ে গেল’

‘ভয় ও মন্দ কথা বলে যারা বাজার গরম রাখত, তাদের ক্ষতি হয়ে গেল’ অভিনেতা ও নির্মাতা আফজাল হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয়। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে তিনি নিয়মিত মতামত প্রকাশ করে থাকেন। সম্প্রতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে উদ্বেগভিত্তিক রাজনীতির সমালোচনা করেছেন এবং সাধারণ মানুষের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেন, ভয় দেখিয়ে ও হতাশার কথা বলে যারা বাজার গরম রাখার চেষ্টা করছিলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তাদের অবস্থান দুর্বল হয়েছে। এ বিষয়ে আফজাল হোসেন বলেন, “যারা ভয় দেখিয়ে, মন্দ, হতাশ হওয়ার মতো কথা বলে বলে বাজার গরম করে রাখতে পছন্দ করেন, তাদের বেশ ক্ষতি হয়ে গেল। দেশের সব মানুষ রাজনীতি করে না কিন্তু দেশকে ভালোবাসে। দেশের সব মানুষ রাজনীতি না করলেও দেশকে ভালোবাসে। তারা চায় দেশ ও মানুষের ভোগান্তির অবসান হোক, দীর্ঘ কষ্টের পর দেশ একটু স্বস্তি পাক। সাধারণ মানুষ দেশ নিয়ে উচ্চকণ্ঠ না হলেও তাদের মায়া, ভালোবাসা ও উদ্বেগ গভীরে। এ তথ্য উল্লেখ করে আফজাল হোসেন বলেন, “নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় বহুদিন পর মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। কিছু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা আশঙ্কা ও নেতিবাচক ভবিষ্যদ্বাণী ছড়িয়ে জনমনে উদ্বেগের পাহাড় তৈরি করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা সেই আশঙ্কাকে ভুল প্রমাণ করেছে; ফলে তাদের মুখে চুনকালি পড়েছে বলে মত অভিনেতার। আশঙ্কার কথা ব্যাখ্যা করে আফজাল হোসেন বলেন, “সাধারণ মানুষকে বারবার শোনানো হয়েছে- তারেক রহমান দেশে ফিরবেন না, তাকে ফিরতে দেওয়া হবে না; এমনকি খালেদা জিয়া না থাকলে তার দল শেষ হয়ে যাবে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, দলটির ইতিবাচক ভাবমূর্তি নষ্ট হয়ে গেছে এবং নির্বাচনই হবে না। এছাড়া নির্বাচন বয়কট হবে, মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাবে না, দেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়বে-এমন নানা আশঙ্কাও ছড়ানো হয়েছিল। এসব ঘোষণাই উল্টোভাবে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বহু মানুষ-যারা দীর্ঘদিন রাজনীতির ওপর আস্থা হারিয়েছিলেন বা ভোট দিতে অনাগ্রহী ছিলেন; তারাও পরিবার-পরিজন নিয়ে ভোটকেন্দ্রে গেছেন বলে মনে করেন এই শিল্পী। রাজনৈতিক দল ও নেতাদের উদ্দেশে আফজাল হোসেন বলেন, “সাধারণ মানুষই মূল চালিকাশক্তি এ কথা মনে রাখা উচিত। মানুষের দেশপ্রেমের কারণেই জয় এসেছে; তাই মানুষ ও দেশের প্রতি সম্মান বজায় রাখলে সেই সম্মান নেতৃত্বকেও মর্যাদাবান রাখবে। যারা সর্বদা নেতিবাচক কথা বলে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চান, তারা সাময়িকভাবে চুপ থাকলেও সুযোগ পেলেই আবার বাজে কথার দোকান খুলে বসবেন।
‘তুমি বললেই’ বাপ্পা-টিনার ভালোবাসার গান

‘তুমি বললেই’ বাপ্পা-টিনার ভালোবাসার গান এবারের ভালোবাসা দিবসে দর্শক-শ্রোতাদের জন্য দারুণ এক উপহারের বার্তা দিলেন সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদার। সেটি হলো ‘তুমি বললেই’ শিরোনামের নতুন একটি গান; যার সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন শিল্পী নিজেই। এতে তার কণ্ঠসঙ্গী হয়েছেন টিনা রাসেল। গানটি লিখেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত গীতিকবি জুলফিকার রাসেল। বাপ্পা-জুলফিকার-টিনা- এই তিনের দ্বিতীয় সম্মিলিত সৃষ্টি ‘তুমি বললেই’। এর আগে ২০২৩ সালে প্রকাশিত হয় জুলফিকার রাসেলের কথা, বাপ্পা মজুমদারের সুর-সংগীতে টিনার কণ্ঠে ‘কিছু নেই যার’। সেই গানের মাধ্যমে ১২ বছরের বিরতি ভেঙে আবারও একসঙ্গে কাজ করেন সংগীতাঙ্গনের অন্যতম সফল ও প্রশংসিত জুটি বাপ্পা মজুমদার ও জুলফিকার রাসেল। নতুন গান বেঁধে পুনর্মিলন হলো তাদের। বনানীতে বাপ্পার স্টুডিওতে এর রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে বাপ্পা মজুমদার শেয়ার করেছেন ‘তুমি বললেই’ গানের পোস্টার। টিনা রাসেল নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মিউজিক ভিডিওর বিহাইন্ড দ্য সিন পোস্ট করেন। ঢাকার একটি লোকেশনে এর শুটিং হয়েছে। ‘তুমি বললেই’ গানের ভিডিও নির্মাণ করেছেন চন্দন রয় চৌধুরী। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টায় ইউটিউবে টিনা রাসেল চ্যানেলে গানটি প্রকাশ হবে। নতুন গান প্রসঙ্গে বাপ্পা মজুমদার বলেন, জুলফিকার রাসেল আমার ভীষণ প্রাণের একজন মানুষ। সে আমার সংগীত সত্তার একটি অংশ। আমরা একসঙ্গে পাঁচ শতাধিক গান করেছি। তার লেখা গান করা আমার জন্য বরাবরই আনন্দের। টিনার গায়কী সুন্দর। আমার বিশ্বাস, নতুন কাজটি দারুণ লাগবে দর্শক-শ্রোতাদের।গীতিকবি জুলফিকার রাসেল বলেন, “বাপ্পা ভাই ও আমি একসঙ্গে প্রচুর কাজ করেছি। এ তালিকায় ‘তুমি বললেই’ নতুন সংযোজন। টিনার গায়কী আমার আলাদাভাবে ভালো লাগে। এবারের কাজটি নিয়ে আমি ভীষণ আশাবাদী। দর্শক-শ্রোতাদের ভালো লাগলে আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে। বাপ্পা ও জুলফিকার রাসেল জুটির নতুন গানে অংশ হতে পেরে দারুণ উচ্ছ্বসিত টিনা রাসেল। তার কথায়, এর আগে জুলফিকার রাসেলের কথায় ও বাপ্পা ভাইয়ের সুরে গান গাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। এবার রাসেলের কথায় বাপ্পা ভাইয়ের সঙ্গে ডুয়েট গাইতে পেরে খুব ভালো লাগছে। আমাকে এই সুযোগ দেওয়ায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।