ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলাদেশসহ ৫ দেশ

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলাদেশসহ ৫ দেশ বাংলাদেশ ও ভারতসহ মোট ৫ দেশে ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একাধিকবার কম্পন অনুভূত হয়। আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১.৩৯ থেকে ভোর ৩.৪১ পর্যন্ত অনুভূত হয় কম্পনগুলো। এর মাত্রা ছিল ৪.০ থেকে ৪.৬ এর মধ্যে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, কম্পন অনুভূত হয় বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনে। এর কেন্দ্রস্থল ছিল সিকিমের নামচি এবং মাঙ্গান এলাকায়, ভূপৃষ্টের ৫ কিলোমিটার গভীরে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, ভারতের কলকাতায় পর্যন্ত কম্পন অনুভূত হয়েছে। ওই অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা কম্পন ও ঝাঁকুনি অনুভব করেছেন এবং বিভিন্ন বস্তু নড়াচড়া হতে দেখেছেন। ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সিকিম ও সংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ ‘ফল্ট লাইন’-এর ওপর অবস্থিত। বড় কম্পনের পর ছোট ছোট আফটারশক হওয়া স্বাভাবিক। এর আগে গত মঙ্গলবার মিয়ানমারের প্রায় ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান কেঁপে ওঠে।

প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার আর নেই

প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার আর নেই প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার মারা গেছেন। বেশ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। আজ শুক্রবার রাত আনুমানিক ৪টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। সুনীল কর্মকার ১৯৫৯ সালে ১৫ জানুয়ারি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানার বান্দনাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মাত্র সাত বছর বয়স থেকেই গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কেবল কণ্ঠ নয়, বেহালা, দোতারা, তবলা ও হারমোনিয়াম-একাধিক বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারদর্শী ছিলেন এ শিল্পী। বিখ্যাত বাউলশিল্পী ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর গান শুনেই গানের জগতে নিজেকে সঁপে দেন বালক সুনীল। ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর অসংখ্য গানে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন। এর মধ্যে বহু জনপ্রিয় ও খ্যাতনামা গান রয়েছে। এছাড়াও তার নিজের লেখা গানের সংখ্যাও কম নয় প্রায় দেড়শো থেকে দুইশোর কাছাকাছি গান রচনা করেছেন তিনি। ময়মনসিংহ বিভাগীয় বাউল সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো.নজরুল ইসলাম বলেন, উনি দীর্ঘকাল ধরে বাউল ও লোকসংগীতের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে আধ্যাত্মিক চেতনার বাণী পৌঁছে দিয়েছেন। সুনীল কর্মকার শুধু একজন গায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন গ্রাম বাংলার লোকজ ঐতিহ্যের ধারক। একতারা ও দোতারার ছন্দে তার কণ্ঠে সেই বিশেষ আবেদন শ্রোতাদের মুগ্ধ করতো। সুনীল কর্মকারের কাছে সংগীতই ছিল একমাত্র ধ্যান ও জ্ঞান। ওস্তাদ জালাল উদ্দীন খাঁর ‘মানুষ ধরো, মানুষ ভোজ’ বিখ্যাত গান গেয়ে ভীষণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন তিনি ।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন, ডিপজল

আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন, ডিপজল এক সময়ের জনপ্রিয় খল অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল উপহার দিয়েছেন দর্শকপ্রিয় ও ব্যবসাসফল অনেক সিনেমা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নতুন কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় না করলেও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও আয়োজনে তাকে তেমন দেখা যায় না। যদিও চলচ্চিত্র অঙ্গনে সরব না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত সক্রিয় ডিপজল। আজ (৬ ফেব্রুয়ারি) শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে পবিত্র জুম্মা উপলক্ষে তিনি সবার জন্য দোয়া ও শুভেচ্ছা জানান। পোস্টে ডিপজল লেখেন, “পবিত্র জুম্মার দিনে আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন, হেদায়েত দিন এবং শান্তিতে রাখুন। জুম্মা মোবারক। তার এই বার্তাটি মুহূর্তের মধ্যেই ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই লাইক ও মন্তব্যের মাধ্যমে ‘আমিন’ জানিয়ে জুম্মার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ১৯৬২ সালের এইদিনে জন্মগ্রহণ করেন ডিপজল। ‘সতী কমলা’ সিনেমায় প্রথম নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। ‘টাকার পাহাড়’, ‘হাবিলদার’, ‘ডাকাত’সহ বেশ কিছু সিনেমায় নায়কের ভূমিকায় দেখা গেছে তাকে। কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘তেজী’ সিনেমায় প্রথম খল চরিত্রে অভিনয় করেন এ অভিনেতা। এরপর অসংখ্য ব্যবসাসফল সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। ডিপজল অভিনীত ও প্রযোজিত বেশ কয়েকটি সিনেমা বর্তমানে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

সংসার জীবন নিয়ে গায়িকা সিঁথি

সংসার জীবন নিয়ে গায়িকা সিঁথি ভালোবেসে নিউজিল্যান্ড প্রবাসী এক তরুণকে বিয়ে করেছিলেন সংগীতশিল্পী সিঁথি সাহা। এ সংসারে তাদের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। তবে এ সংসার সুখের হয়নি শিল্পীর। কয়েক দিন আগে একটি পডকাস্টে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন। সংসার জীবনের অজানা অধ্যায় ভাগ করে নেন। সিঁথি সাহা জানান একজন রাক্ষস পাশে নিয়ে ঘুমাতেন তিনি। এ আলাপচারিতায় সঞ্চালক জানতে চান, প্রেম-বিয়ে নিয়ে আপনার একটা খামখেয়ালিপনা ছিল। আপনার কি মনে হয় এটা অপরিপক্ক সিদ্ধান্ত ছিল? জবাবে সিঁথি সাহা বলেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই তাই মনে হয়। কারণ আমার বিয়েটাই ভুল ছিল। যে বিয়ের কারণে আমার ক্যারিয়ার নষ্ট হলো। ২০১০-১১ সাল আমার উঠতি ক্যারিয়ার ছিল। আমি রাইজিং সুপারস্টার ছিলাম। ওই সময়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া, পাগলের মতো প্রেমে পড়ে নিউজিল্যান্ড চলে যাওয়া, অবশ্যই একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। এটা কোনো হ্যাপি ম্যারেজ ছিল না। আমার জীবনটা ধ্বংস করে দিয়েছে। প্রেম করে বিয়ের পরও এমনটা কেন হলো? এ প্রশ্নের উত্তরে সিঁথি সাহা বলেন, “এ বিয়েতে আমার বাবা-মা কেউই রাজি ছিলেন না। আমার পাগলের মতো প্রেম, তারপর বিয়ে। ছেলেও আমাকে বিয়ে করার জন্য মরিয়া ছিল। আমাকে বিয়ে করার জন্য নিউজিল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে চলে আসে। তারপর বিয়ে হয়। এটা একটা অসম সম্পর্ক ছিল। খানিকটা ব্যাখ্যা করে সিঁথি সাহা বলেন, “শুরুতে তাদের (শ্বশুরবাড়ির লোকজন) কাছে আমার গান ভালো লাগত। বিয়েটা হয়ে যাওয়ার পর শ্বশুরবাড়িতে নিয়ম করা হলো রাত ৯টার পর আমি বাড়ির বাইরে থাকতে পারব না। সুতরাং আমি আর রাতে কোনো শো করতে পারতাম না। আমার বন্ধুরা দাওয়াত দিলেও যেতে পারতাম না। আর যদি যেতামও তাড়াতাড়ি চলে আসতাম। এমনকি, এখনো সেই আতঙ্ক কাজ করে; আমাকে রাত ৯টার মধ্যে বাসায় ফিরতে হবে। ওই বাসার মধ্যে অসুস্থ একটা পরিবেশ ছিল, আমি অ্যাবিউজড হয়েছি। প্রেম পবিত্র জিনিস। বিয়ের আগে তো ক্যারিয়ার নিয়েও কথাবার্তা হয়, সেরকম কিছু আপনাদের হয়নি? জবাবে সিঁথি বলেন, “প্রেম তো মানুষ অন্ধভাবে করে। বিয়ের আগে এতসব বুঝতে পারি নাই। তখন ওরা যথেষ্ট বিনয়ী ছিল। একটি ঘটনা বর্ণনা করে সিঁথি সাহা বলেন, “বিয়ের পর যেদিন আমি ওদের বাড়ি গেলাম। বিয়ের পরের দিন ওর বাবা-মা-বোন সবাই মিলে একটা গোল মিটিং করছিল। সেখানে আমাকে ডেকে নিয়ে বলল, ‘গীতা ছুঁয়ে বলো তুমি আর তোমার বাবা-মায়ের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে পারবে না।’ বিয়ের দিন একটা সমস্যা হয়েছিল, সেটা নিয়ে এমন বক্তব্য আসে। কিন্তু তাই বলে এটা তো হতে পারে না! এটা একটা ছোট ঘটনা। যাইহোক, বাসাটার মধ্যে একটা অসুস্থ পরিবেশ ছিল; আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিল। কারণ আমি মানসিক-শারীরিকভাবে অ্যাবিউজড ছিলাম।” সিঁথিকে তার স্বামী নির্যাতন করতেন। এ তথ্য স্মরণ করে এই শিল্পী বলেন, “আমি ছোটবেলায় ভূত খুব ভয় পেতাম। আমি ওয়াশরুমে গেলেও মা দাঁড়িয়ে থাকতেন। যেদিন আমার বিয়ে হয়েছে, তারপর থেকে আমি আর ভূত ভয় পাই না। কারণ আমি আমার পাশে একজন রাক্ষস নিয়ে ঘুমাতাম। দেখা যেত, রাতে কোথাও থেকে ফিরল, এসেই আমাকে টর্চার করা শুরু করল। একপর্যায়ে আমার জীবন হুমকির মুখে পড়ে গেল। ওর বাবা-মা থানায় জিডি করতে গেল। এটা বাংলাদেশের ঘটনা, নিউজিল্যান্ডেও এরকম হয়েছে। সংসার টিকানোর চেষ্টা করেছেন সিঁথি। সবশেষে তা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সিঁথি সাহা বলেন, “আমরা তো বাবা-মাকে দেখেই বড় হই। আমাদের হিন্দু ধর্মে বলা হয়, একটাই স্বামী। বিয়ে একবারই হয়। একটু সহ্য করো সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। ওর মা-ও বলত, বাবু (সিঁথির স্বামী) ছোট মানুষ, একটু ধৈর্য ধরো সব ঠিক হয়ে যাবে। এই ঠিক হয়ে যাওয়ার চক্করে আমার জীবন থেকে ১০টি বছর নাই হয়ে গেছে। শেষ অধ্যায়ে কী পেলাম? কিছুই না। চেষ্টা করলাম সংসার টিকানোর, সংসারও টিকলো না, ক্যারিয়াও নষ্ট হয়ে গেল। আর এই যে ট্রমা নিলাম, এই ট্রমার কারণে এখনো রাতেরবেলায় মনে হয়, কেউ আমার উপরে হামলে পড়বে! শৈশবে মায়ের কাছ থেকে সংগীতের হাতেখড়ি সিঁথি সাহার। তারপর শাস্ত্রীয়, লোক ও আধুনিক সংগীত রপ্ত করেন ছায়ানট ও সম্মেলন পরিষদ থেকে। রবীন্দ্রসংগীতের জন্য চারটি জাতীয় পুরস্কারসহ অনেক সম্মাননা পেয়েছেন এই শিল্পী। এরই মধ্যে তার শরীরে ক্যানসার বাসা বেঁধেছিল। তবে এই যুদ্ধে জয়ী হয়ে সুস্থ হয়েছেন। এখন সন্তান ও গান নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন এই শিল্পী।

সাবেক ও বর্তমান প্রেম নিয়ে অজানা কথা শোনাবেন মিথিলা

সাবেক ও বর্তমান প্রেম নিয়ে অজানা কথা শোনাবেন মিথিলা মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ বিজয়ী ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নাম উজ্জ্বল করা মডেল তানজিয়া জামান মিথিলা এবার বড় পর্দায় অভিষেক ঘটাতে যাচ্ছেন। জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’-র নতুন এক পর্বে অতিথি হয়ে নিজের সাবেক ও বর্তমান প্রেম নিয়ে বেশ কিছু অজানা তথ্য শেয়ার করেছেন তিনি। একইসঙ্গে বড় পর্দায় নায়িকা হিসেবে আসার খবরটি। থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ‘মিস ইউনিভার্স ২০২৫’-এ সেরা ৩০-এর মধ্যে ১২তম স্থান অধিকার করে আলোচনায় আসা এই তারকা জানান, সিনেমার জন্য সব কথাবার্তা চূড়ান্ত। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে আসবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। আগে ওটিটির জন্য নির্মিত ‘রোহিঙ্গা’ সিনেমায় কাজ করলেও অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে আরও ভাঙতে চান মিথিলা। পডকাস্টে নিজের সীমাবদ্ধতা নিয়ে অকপটে তিনি বলেন, অভিনেত্রী হিসেবে আমার অনেক ধরনের সীমাবদ্ধতা আছে। আমি এখনো নায়িকাদের মতো নাচতে পারি না। তবে আমি একজন অভিনেত্রী হওয়ার জন্য যা যা জানা দরকার, সব কিছুই জানতে চাই, শিখতে চাই। মডেলদের অভিনয় দক্ষতা নিয়ে প্রচলিত ধারণা প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, অনেকে বলেন, মডেলরা অভিনয় পারেন না। কিন্তু যারা আজ সুপ্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী, তাদের মধ্যেও অনেকে শুরুতে অভিনয় পারতেন না। তাদের সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পেছনে দীর্ঘ সময় পাড়ি দিতে হয়েছে। মডেলরাও লেগে থাকলে ভালো অভিনয় করতে পারবে। জেড আই ফয়সাল প্রযোজিত এবং রুম্মান রশীদ খানের সঞ্চালনায় এই পর্বটি আগামী শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টায় মাছরাঙা টেলিভিশন এবং রেডিও দিনরাত ৯৩.৬ এফএম-এ প্রচারিত হবে।