‘কিছুই পাল্টায়নি, এখনও মহিলাদের হেনস্তা করা হচ্ছে’

‘কিছুই পাল্টায়নি, এখনও মহিলাদের হেনস্তা করা হচ্ছে’ ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌনী রায়ের সম্প্রতি হরিয়ানার কর্নলে স্টেজ শো করতে গিয়ে প্রকাশ্যেই শারীরিক হেনস্তারর শিকার হয়েছেন। আর এই ঘটনার প্রতিবাদে এবার সোচ্চার হয়েছেন টলিউড সুপারস্টার শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। কর্নলে একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন মৌনী। সেখানে মঞ্চে ওঠার সময় একদল ব্যক্তি ছবি তোলার কথা বলে তাকে ঘিরে ধরেন। মৌনীর অভিযোগ, ভিড়ের মধ্যে দাদুর বয়সী দুই ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের পুরুষ সদস্যরা অভিনেত্রীর কোমরে হাত দেন এবং অশালীনভাবে স্পর্শ করেন। এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন মৌনী। তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি অত্যন্ত হতাশ। মঞ্চের দিকে যাওয়ার সময় কয়েকজন কাকু এবং তাদের পরিবারের পুরুষরা আমার কোমরে হাত রেখে ছবি তুলছিলেন। বাধ্য হয়ে তাদের হাত সরাতে বললে তারা বিষয়টি সহজভাবে নেননি।’ মৌনীর এই সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়ে এগিয়ে এসেছেন শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। সামাজিক মাধ্যমে শুভশ্রী লেখেন, ‘কিছুদিন আগেই আমরা নতুন বছরের উদযাপন করেছি। ২০২৬ সালে বসবাস করছি। তবে কিছুই পাল্টায়নি। এখনও মহিলাদের হেনস্তা করা হচ্ছে। ‘তাদের ভোগপণ্য হিসাবে দেখা হয়। মৌনীকে যে অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে, সেটা একেবারেই কাম্য নয়। মৌনী, তুমি অত্য়ন্ত শক্তিশালী। তুমি সকল মহিলার প্রতিনিধি হয়ে তোমার সঙ্গে ঘটা এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছো। তোমাকে অনেক ধন্যবাদ, ভালোবাসা।’
সালমান খানের সম্পদ ও বিলাসিতার অজানা গল্প

সালমান খানের সম্পদ ও বিলাসিতার অজানা গল্প বিলাসিতা সবার কাছে এক রকম নয়। কারও কাছে বিলাস মানে পছন্দের বই কেনা, কারও কাছে আবার দামি গাড়ি বা বাড়ি। কেউ নিজের উপার্জন ব্যয় করেন সমাজসেবায়, আবার কেউ শখের বশে তৈরি করেন ব্যক্তিগত অবসরকেন্দ্র। বলিউড তারকারাও এর ব্যতিক্রম নন। শাহরুখ খানের বিলাসিতার প্রতীক তাঁর ২০০ কোটির বাড়ি ‘মান্নাত’। অন্যদিকে সালমান খান তাঁর বিলাসিতাকে দেখেন ভিন্ন চোখে। তিনি অর্জিত অর্থ ব্যয় করেছেন নিজের শখ আর পছন্দের জায়গাগুলোতে। সেই তালিকায় চোখ রাখলেই বোঝা যায়, মুম্বইয়ের ভাইজান বিলাস বলতে কী বোঝেন। শাহরুখ খানের মতো রাজপ্রাসাদ নয়, তবু সালমান খান যে বাড়িতে থাকেন সেটি মুম্বইয়ের বান্দ্রার গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্ট। বহু পুরোনো এই ঠিকানাতেই থাকে তাঁর পরিবার। আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকার এই বাড়ি বদলানোর কোনো আগ্রহ নেই তাঁর। এখানেই প্রতিদিন ভক্তদের ভিড় জমে প্রিয় তারকার এক ঝলক দেখার আশায়। তবে এটি সালমানের সবচেয়ে দামি সম্পত্তি নয়। মুম্বইয়ের কোলাহল থেকে দূরে পানভেলে রয়েছে তাঁর ফার্মহাউস। বিস্তীর্ণ সবুজ জমি ঘেরা এই বাড়িতে রয়েছে তাঁর পোষ্যদের থাকার জায়গা এবং নিজস্ব আঁকার স্টুডিও। অবসর পেলেই এখানে সময় কাটান সালমান খান। এই ফার্মহাউসের মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা। সম্পত্তির বাইরেও সালমান খান এর বিলাস ছড়িয়ে আছে তাঁর ব্র্যান্ডে। বলিউডে তারকাদের নিজস্ব ব্র্যান্ড চালুর চল শুরু হওয়ার অনেক আগেই সালমান খান তৈরি করেছিলেন তাঁর ব্র্যান্ড বিইং হিউম্যান। এই ব্র্যান্ড শুধু ফ্যাশন নয়, সামাজিক কাজের সঙ্গেও যুক্ত। দেশের বাইরেও এর ফ্যাশন শো হয়েছে, যেখানে হাঁটেছেন বলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রীরা। বর্তমানে এই ব্র্যান্ডের বাজার মূল্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। প্রযোজনার জগতেও সালমান খান বড় নাম। তাঁর নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা সালমান খান ফিল্মস থেকে তৈরি হয়েছে বজরঙ্গী ভাইজানসহ একাধিক জনপ্রিয় ছবি। বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি ভিন্ন ধারার সিনেমাতেও বিনিয়োগ করেছে এই সংস্থা। এর বর্তমান মূল্য ৫০০ কোটিরও বেশি বলে ধারণা করা হয়। এ ছাড়া সালমান খান এর আরেকটি বড় শখ হলো হাতঘড়ি। এই শখ নিয়ে খুব বেশি কথা না হলেও তাঁর ঘড়ির সংগ্রহের মূল্য আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে কয়েকটি ঘড়ি একেবারেই বিরল, যা শুধু তাঁর জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সালমান খানের বিলাসিতা চোখে পড়ার মতো জাঁকজমকপূর্ণ না হলেও, তাঁর শখ আর বিনিয়োগের তালিকা দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যায় ভাইজানের বিলাস ভাবনার গভীরতা।
প্রথমবারের মতো অ্যাকশন ছবিতে জুটি বাঁধছেন অজয়-সঞ্জয়

প্রথমবারের মতো অ্যাকশন ছবিতে জুটি বাঁধছেন অজয়-সঞ্জয় জমজমাট অ্যাকশন থ্রিলার নিয়ে আসছেন বলিউড নির্মাতা লাভ রঞ্জন। যেখানে মুখ্য চরিত্রে দেখা যাবে অজয় দেবগন, সঞ্জয় দত্ত এবং তামান্না ভাটিয়াকে। চূড়ান্ত না হলেও আপাতত ছবিটির শিরোনাম রাখা হয়েছে ‘রেঞ্জার’।সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে লাভ রঞ্জন বলেন, ‘রেঞ্জার’ এখন শুধুই একটি টেন্টেটিভ টাইটেল। এ ছবির জন্য উপযুক্ত একটি নাম খুঁজেছি আমরা। ছবির মুক্তি তো এখনো প্রায় ১১ মাস বাকি, তাই আশা করছি তার মধ্যেই এই নাম নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারব আমরা। একইসঙ্গে ছবির মুক্তির সময় নিয়েও স্পষ্ট করেছেন তিনি। পরিচালক নিশ্চিত করেছেন, চলতি বছরের ৪ ডিসেম্বর মুক্তির লক্ষ্যেই এগোচ্ছে ছবিটি। এই ছবির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, প্রথমবারের মতো অ্যাকশন ছবিতে জুটি বাঁধছেন অজয় ও সঞ্জয়। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তারা একাধিক ছবিতে একসঙ্গে কাজ করলেও আশ্চর্যজনকভাবে কখনো অ্যাকশন ঘরানায় তাদের একসঙ্গে দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়েই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন লাভ রঞ্জন। তার কথায়, ২৫ বছরেরও বেশি সময়ে অজয় স্যার আর সঞ্জু স্যার অনেক ছবি একসঙ্গে করেছেন, কিন্তু কোনো অ্যাকশন ফিল্ম নয়। এটা সত্যিই অবাক করার মতো। এবার প্রথমবার তাদের অ্যাকশন ছবিতে একসঙ্গে দেখা যাবে, এটাই এই ছবির অন্যতম রোমাঞ্চকর দিক। এর আগে, এই দুই তারকাকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছে ‘মেহবুবা’, ‘হাম কিসিসে কম নেহি’, ‘অল দ্য বেস্ট’, ‘রাস্ক্যালস’ ও ‘সন অব সর্দার’-এর মতো ছবিতে। পাশাপাশি সালমন খানের ‘রেডি’ ছবিতে অতিথি শিল্পী হিসেবে কাজ করেছিলেন সঞ্জয়-অজয় এবং অজয়ের ‘রাজু চাচা’ ছবিতেও একঝলকের জন্য দেখা গিয়েছিল সঞ্জয় দত্তকে। যদিও দুজনেই আলাদাভাবে ‘এলওসি কার্গিল’, ‘ট্যাঙ্গো চার্লি’ এবং ‘ভুজ: দ্য প্রাইড অব ইন্ডিয়া’-র মতো অ্যাকশন ছবিতে অভিনয় করেছেন, তবে কোনো ছবিতেই তাদের অ্যাকশন দৃশ্যে একসঙ্গে দেখা যায়নি।
ভিসা জটিলতায় বাংলাদেশের পরিবর্তে বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া স্কটল্যান্ড

ভিসা জটিলতায় বাংলাদেশের পরিবর্তে বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া স্কটল্যান্ড শেষ মুহূর্তে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জায়গা পেলেও প্রস্তুতি ও আনুষঙ্গিক জটিলতায় পড়েছে স্কটল্যান্ড দল। খেলোয়াড়দের ভারত যাত্রার ভিসা প্রক্রিয়া, জার্সি প্রস্তুত না হওয়া এবং স্পন্সর সংকট সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে ক্রিকেট স্কটল্যান্ড। বিশেষ করে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত পেসার সাফিয়ান শরিফসহ কয়েকজন খেলোয়াড়ের ভিসা দ্রুত সম্পন্ন করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এসব জটিলতার মধ্যেও ভারত পৌঁছাতে কোনো বিলম্ব হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী ট্রুডি লিন্ডব্লেড। বাংলাদেশের পরিবর্তে শেষ মুহূর্তে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে স্কটিশ ক্রিকেট বোর্ড। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিরাপত্তাজনিত কারণে সরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরানোর প্রস্তাব আইসিসি প্রত্যাখ্যান করলে বাংলাদেশ অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অংশগ্রহণকারী নয় এমন দলগুলোর মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ে সবার ওপরে (১৪তম) থাকায় স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেয় আইসিসি। আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্তার ফোন পাওয়ার পর থেকেই প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে বলে জানান লিন্ডব্লেড। তিনি বলেন, ‘আমন্ত্রণ পেয়ে আমরা রোমাঞ্চিত, তবে পরিস্থিতি সত্যিই ব্যতিক্রমী ও চ্যালেঞ্জিং। তবুও সময়মতো সব খেলোয়াড়কে পাঠাতে পারব বলে আমরা আত্মবিশ্বাসী।’ বিশ্বকাপ সামনে রেখে দ্রুত বড় কোনো স্পন্সর যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। নতুন জার্সি সময়মতো পাওয়া নিয়েও আশাবাদী স্কটল্যান্ড। তবে তা সম্ভব না হলে নিয়মিত ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের জার্সিতেই খেলতে পারে দলটি। বাংলাদেশের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই টুর্নামেন্ট খেলবে স্কটল্যান্ড। উদ্বোধনী দিনে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা তাদের। আপাতত সেই ম্যাচ পিছিয়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা দেখছেন না লিন্ডব্লেড।
ভারতে নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব, বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে শঙ্কা!

ভারতে নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব, বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে শঙ্কা! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। এবারের আসরের প্রধান আয়োজক ভারত, সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা। তবে ভারতে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে নিপা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর এশিয়ার একাধিক দেশ ভারতফেরত যাত্রীদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং চালু করেছে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে পুনরায় কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা চালুর আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অংশ নিতে আসা ক্রিকেটার, কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও দর্শকদের ভোগান্তি বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা ভারতে নিপা ভাইরাসের বিস্তার নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। জিও সুপার, ট্যাপম্যাড, হেলথ মাস্টার, খাইবার নিউজসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। নিপা ভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক এবং প্রাণঘাতী। সাধারণত কাঁচা খেজুরের রস পানসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এটি মানবদেহে সংক্রমিত হয়। একবার মানবদেহে প্রবেশ করলে দ্রুত অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই ভাইরাসের কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা বা কার্যকর টিকা এখনো নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নিপা ভাইরাসকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও মহামারি সৃষ্টির সম্ভাবনাসম্পন্ন ভাইরাস হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সিজিটিএনের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ইতোমধ্যে চিকিৎসাকর্মীসহ অন্তত পাঁচজন নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। জনবহুল দেশ হওয়ায় সবার কার্যকর স্ক্রিনিং করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, নিপা ভাইরাসে মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত। যারা সুস্থ হন, তাদের অনেকের মধ্যেও পরবর্তীতে স্নায়ুবিক জটিলতা দেখা যায়।
রেকর্ড দামে বিক্রি হলো ব্র্যাডম্যানের ব্যাগি গ্রিন ক্যাপ

রেকর্ড দামে বিক্রি হলো ব্র্যাডম্যানের ব্যাগি গ্রিন ক্যাপ ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ব্যাটার হিসেবে পরিচিত স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের ব্যবহৃত একটি বিরল ব্যাগি গ্রিন ক্যাপ নিলামে রেকর্ড দামে বিক্রি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তির এই ঐতিহাসিক ক্যাপটি সম্প্রতি ৪ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এটি ব্র্যাডম্যানের কোনো ব্যাগি গ্রিন ক্যাপের জন্য এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ মূল্য। অস্ট্রেলিয়া ডে উপলক্ষে গোল্ড কোস্টে লয়েডস অকশনসে অনুষ্ঠিত নিলামে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অস্ট্রেলিয়ান সংগ্রাহক এই ক্যাপটি কিনে নেন। নিলাম কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্রেতা নিশ্চিত করেছেন এই মূল্যবান স্মারকটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জাদুঘরে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে সাধারণ দর্শনার্থীরা এটি দেখতে পারেন। নিলামে বিক্রি হওয়া ব্যাগি গ্রিন ক্যাপটি ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ চলাকালে ব্র্যাডম্যান নিজ হাতে সতীর্থ ক্রিকেটার এস ডব্লিউ সোহোনিকে উপহার দিয়েছিলেন। এটি ছিল ঘরের মাঠে ব্র্যাডম্যানের শেষ টেস্ট সিরিজ। ১৯৪৮ সালে অবসর নেওয়ার আগে টেস্ট ক্রিকেটে তিনি রেখে যান অবিশ্বাস্য ৯৯.৯৪ গড়, যা আজও ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বোচ্চ। নিলাম তালিকায় লয়েডস উল্লেখ করে, ‘ফার্মার্স সিডনি নির্মিত এবং ক্রিকেট কোট অব আর্মস সংবলিত ১৯৪৭-৪৮ সালের এই ব্যাগি গ্রিন ক্যাপ ক্রিকেট ইতিহাসের এক অনন্য স্মারক। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক সংগ্রহে থাকা এই ক্যাপটি ডন ব্র্যাডম্যানের অজেয় যুগ এবং ভারতীয় দলের সঙ্গে এক ঐতিহাসিক বিনিময়ের স্মৃতি বহন করে।’ উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ক্যাপটি ৭৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে একই পরিবারের কাছে সংরক্ষিত ছিল এবং এর আগে কখনো জনসমক্ষে প্রদর্শন বা নিলামে তোলা হয়নি। ব্র্যাডম্যানের যুগের ব্যাগি গ্রিন ক্যাপ অত্যন্ত দুর্লভ; হাতে গোনা কয়েকটিই টিকে আছে। ফলে এগুলো ক্রিকেট স্মারক জগতের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত নিদর্শনের মধ্যে অন্যতম।
বাংলাদেশি সাংবাদিকদের ‘সুুসংবাদ’ দিলো আইসিসি

বাংলাদেশি সাংবাদিকদের ‘সুুসংবাদ’ দিলো আইসিসি নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে না। ফলে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই টাইগারদের বাদ দেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের অনুমতি (অ্যাক্রেডিটেশন) নিয় জটিলতা সৃষ্টি হয়। বিসিবি এই ঘটনার ব্যাখ্যা চায় আইসিসির কাছে। তারপরই সুর বদল করে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বাংলাদেশের সাংবাদিকদের নতুন করে সুযোগ দেয়ার কথাও জানানো হয়। বাংলাদেশ জাতীয় দল ভারত সফর থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়াতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনে আইসিসি। ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আসরের জন্য প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন বাংলাদেশি সাংবাদিক আবেদন করেছিলেন। যাদের অনেকের আবেদনই প্রাথমিকভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। তবে আইসিসি জানিয়েছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতি এবং সূচি অনুযায়ী তারা এখন পুরো প্রক্রিয়াটি পুনরায় মূল্যায়ন করছে এবং সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত যোগ্যতার ভিত্তিতে নতুন করে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আইসিসি সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট দেশের জন্য অ্যাক্রেডিটেশনের একটি নির্ধারিত কোটা থাকে, যা সর্বোচ্চ ৪০ জনের মতো হতে পারে। এই কোটা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সুপারিশকে প্রধান্য দেওয়া হয়। এদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের আবেদন কেন বাতিল করা হয়েছিল সে বিষয়ে তারা আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। অনেক অভিজ্ঞ সাংবাদিক, যারা এর আগে একাধিক বিশ্বকাপ কাভার করেছেন তারাও এবার প্রথমবারের মতো প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তবে আইসিসি এখন বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছে এবং নতুন করে আবেদন করার পর প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে যাচাই-বাছাই করে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। বাংলাদেশ খেলতে আগ্রহ না দেখানোয় পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে মূল টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, প্রা*ণ*হা*নি বেড়ে ৩০

তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, প্রাণহানি বেড়ে ৩০ যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ তুষারঝড়ে মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। তীব্র ঠাণ্ডায় এখন পর্যন্ত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। রেকর্ড পরিমাণ তুষারপাতে চাপা পড়েছে রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি। বাতিল করা হয়েছে হাজার হাজার ফ্লাইট। বিদ্যুৎ–বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে আট লাখের বেশি সেবাগ্রহীতা। এ দুর্যোগ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অন্তত ২৫টি অঙ্গরাজ্যে আবহাওয়া-সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। শীতের এ তীব্রতা ছড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নিউইয়র্ক ও ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্য থেকে দক্ষিণের টেক্সাস ও নর্থ ক্যারোলাইনা পর্যন্ত। এসব অঞ্চলে ১৮ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাত হয়েছে। তাপমাত্রা নেমে গেছে মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। তুষারঝড়ের কবলে পড়েছেন ১১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ। দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে। সেখানে পাঁচজন মারা গেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুল নিউইয়র্ক শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছেন। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে স্কুল ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থতিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সেগুলো খোলা হবে না। সেই সঙ্গে খুব জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত জনগণকে বাড়ির বাইরে বের নাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কারণে বিমান চলাচলও স্থগিত আছে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ বিমানবন্দরে। দেশটির বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর বরাতে জানা গেছে, রবিবার বিভিন্ন মার্কিন বিমান বন্দরে বাতিল করা হয়েছে ১৭ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট। করোনা ভাইরাস মহামারির পর এই প্রথম একদিনে এত বেশিসংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।
ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭, বহু মানুষ নিখোঁজ

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭, বহু মানুষ নিখোঁজ প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে ইন্দোনেশিয়ার প্রধান দ্বীপ জাভায় ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় কমপক্ষে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। সোমবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম জাভার মাউন্ট বুড়াংরাং ঢাল থেকে নামা এই ধস পাসির লানগু গ্রামের ৩৪টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেয়। এতে অনেক মানুষ কাদা, বড় পাথর এবং বড় গাছের নিচে চাপা পড়ে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ঙ্কর যে, স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশকে অস্থায়ী সরকারি আশ্রয়ে সরিয়ে আনা হয়েছে। স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার করতে একের পর এক চেষ্টা চালাচ্ছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, উদ্ধারকারীরা ফার্ম টুল এবং নির্দিষ্ট হাতের সাহায্যে কাদাতে ঢেকে থাকা মরদেহ তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা প্রায় অসম্ভব, কারণ ভূমি খুবই নরম এবং অস্থিতিশীল। কাদা মাটির মধ্য দিয়ে সাবধানে এগোতে বাধ্য হচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কারণ অনেক মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্যোগকবলিত এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে এবং জরুরি ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ভারতে ছড়াচ্ছে নিপাহ ভাইরাস, এশিয়ার বিভিন্ন বিমানবন্দরে সতর্কতা

ভারতে ছড়াচ্ছে নিপাহ ভাইরাস, এশিয়ার বিভিন্ন বিমানবন্দরে সতর্কতা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে থাইল্যান্ড ও নেপালের মতো দেশগুলো তাদের বিমানবন্দর ও সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে কড়া নজরদারি এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করেছে। থাইল্যান্ড বিশেষ করে ব্যাংকক এবং ফুকেট বিমানবন্দরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং করার পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঘোষণাপত্র সংগ্রহ করছে। একইভাবে নেপালও কাঠমান্ডু বিমানবন্দরসহ ভারতের সাথে সংযুক্ত স্থল সীমান্তগুলোতে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এমনকি তাইওয়ান কর্তৃপক্ষ নিপাহ ভাইরাসকে তাদের জনস্বাস্থ্যের জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ (ক্যাটাগরি ফাইভ) রোগ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বারাসাতের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে এই সংক্রমণের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে পাঁচজন স্বাস্থ্যকর্মী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা প্রায় ১১০ জনকে বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। নিপাহ একটি অত্যন্ত বিপদজনক ভাইরাস। এটি মূলত পশু থেকে মানুষের দেহে ছড়ায়, তবে এটি মানুষ থেকে মানুষেও সংক্রমিত হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ভাইরাসটিকে কোভিড-১৯ এবং জিকার মতো শীর্ষ দশটি অগ্রাধিকারমূলক রোগের তালিকায় রেখেছে। এর প্রধান কারণ হলো, এই রোগের মৃত্যুর হার অনেক বেশি (৪০ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে)। এখন পর্যন্ত এর কোনো কার্যকর টিকা বা সুনির্দিষ্ট ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সাধারণত চার থেকে চৌদ্দ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে। প্রাথমিকভাবে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা এবং বমি ভাব দেখা দিলেও তীব্র সংক্রমণের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া এবং মস্তিষ্কের প্রদাহ বা এনসেফালাইটিস হতে পারে। এগুলোই রোগীর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ায় প্রথম এই ভাইরাসটি শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এর প্রকোপ দেখা গেছে। বিশেষ করে ভারতের কেরালা রাজ্যে গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকজন এই ভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। আন্তর্জাতিক মহল অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সূত্র: বিবিসি