বিপিএল: প্রথম ও তৃতীয় দল চূড়ান্ত, দ্বিতীয় ও চতুর্থ দলের অপেক্ষা

বিপিএল: প্রথম ও তৃতীয় দল চূড়ান্ত, দ্বিতীয় ও চতুর্থ দলের অপেক্ষা রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের জয়ের ঘোড়া শেষ পর্যন্ত শীর্ষেই থাকল। শনিবার রাতে চট্টগ্রাম রয়‌্যালসকে ৩ উইকেটে হারিয়ে রাউন্ড রবিন লিগের অষ্টম জয় নিশ্চিত করেছে তারা। আগে থেকে শীর্ষে ছিল। ১৬ পয়েন্ট নিয়ে রাজশাহী নিজেদের অবস্থান এমন জায়গায় নিয়েছে যেখানে বাকিদের আর আসার সুযোগই নেই। তাতে এলিমিনেটর ম‌্যাচ নিশ্চিত হয়েছে তাদের। কিন্তু প্রতিপক্ষ কে? নিশ্চিত হবে আজ। বিপিএলের রাউন্ড রবিন লিগের শেষ দিনের খেলা আজ। দুইটি ম‌্যাচের পর চূড়ান্ত হবে এলিমিনেটর ও প্রথম কোয়ালিফায়ারের লাইনআপ। ছয় দলের টুর্নামেন্টে সেরা চারে উঠতে পারেনি ঢাকা ক‌্যাপিটালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস। প্রতিযোগিতার এক ম‌্যাচ আগে তারা ছিটকে গেছে। সেরা চারে উঠেছে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুর। এদের মধ্যে প্রথম দল রাজশাহী। তৃতীয় দল সিলেট। দ্বিতীয় ও চুতর্থ অবস্থানে কে থাকবে তা জানা যাবে আজ। রোববার দুপুরে মিরপুর শের-ই-বাংলায় মুখোমুখি হবে নোয়াখালী ও রংপুর। সন্ধ‌্যায় খেলবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম। রংপুর নিজেদের শেষ ম‌্যাচ জিতলে পয়েন্ট হবে ১২। তারা দ্বিতীয় স্থানে উঠে যেতে পারে চট্টগ্রাম রয়‌্যালসকে টপকে। শর্ত আছে, রান রেট ভালো থাকতে হবে। সন্ধ‌্যার মধ‌্য চট্টগ্রাম ঢাকাকে হারালে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে তারা দ্বিতীয় স্থানেই থাকবে। এছাড়া দুই দলের কেউই যদি না জেতে তাহলে চট্টগ্রাম দ্বিতীয় এবং রংপুর চতুর্থ দল থাকবে। শীর্ষ দুইয়ে থাকতে পারলে ফাইনাল খেলার একাধিক সুযোগ পাওয়া যায়। সেই সুযোগটি নিশ্চিতভাবে রংপুর ও চট্টগ্রাম হাতছাড়া করতে চাইবে না। এলিমিনেটর ম‌্যাচ যারা হারবে তারা চলে যাবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে। যারা জিতবে তারা চলে যাবে ফাইনালে। তৃতীয় ও চতুর্থ দল খেলবে প্রথম কোয়ালিফায়ার। এই ম‌্যাচের বিজয়ী দল খেলবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার। ম‌্যাচের বিজয়ী দল এরপর খেলবে ফাইনাল।

বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে হাত না মেলানো অনিচ্ছাকৃত: বিসিবি

বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে হাত না মেলানো অনিচ্ছাকৃত: বিসিবি বাংলাদেশ ও ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ম্যাচে টসের সময় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিলেও বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ও স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। জিম্বাবুয়ের বুলাওয়ায়োতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টসের সময় ভারতের অধিনায়ক আয়ুশ মাত্রের সঙ্গে হাত মেলাননি বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক জাওয়াদ আবরার। এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে নানা ব্যাখ্যা ও বিতর্ক শুরু হয়। তবে ম্যাচের প্রথম ইনিংস শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিসিবি জানায়, ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ও অনভিপ্রেত। বিসিবির ব্যাখ্যায় বলা হয়, অসুস্থতার কারণে নিয়মিত অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম টস করতে পারেননি। সে কারণে সহ-অধিনায়ক জাওয়াদ আবরার টসে দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। ওই সময় মুহূর্তের জন্য মনোযোগ বিচ্যুত হওয়ায় প্রতিপক্ষ অধিনায়কের সঙ্গে হাত মেলানো হয়নি। বিসিবি স্পষ্ট করে জানায়, এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ দলের প্রতি কোনো ধরনের অসম্মান, অবজ্ঞা কিংবা নেতিবাচক মনোভাবের প্রশ্নই ওঠে না। ক্রিকেটীয় শিষ্টাচার ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতির একটি মৌলিক অংশ, যা কোনোভাবেই লঙ্ঘিত হয়নি। ঘটনাটিকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেছে বোর্ড। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে টিম ম্যানেজমেন্টকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং খেলোয়াড়দের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে মাঠে ও মাঠের বাইরে প্রতিটি আচরণে ক্রীড়াসুলভ মনোভাব, পারস্পরিক সম্মান ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা তাদের দায়িত্ব। বিসিবি আরও জানায়, ক্রিকেটের মূল্যবোধ রক্ষা এবং প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন যে কোনো পর্যায়ে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে একটি অপরিহার্য শর্ত। এ বিষয়ে বোর্ড কোনো আপস করতে রাজি নয়। শেষ পর্যন্ত বিসিবি পুনর্ব্যক্ত করেছে, মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে সব ক্ষেত্রেই ক্রিকেটের চেতনা ও নৈতিকতার প্রতি তারা সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সঙ্গে গ্রুপ পরিবর্তনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান আয়ারল্যান্ডের

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সঙ্গে গ্রুপ পরিবর্তনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান আয়ারল্যান্ডের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলতে অনিচ্ছুক অবস্থানে এখনো অটল বাংলাদেশ। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প সমাধান হিসেবে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ঢাকায় আইসিসির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বিসিবি প্রস্তাব তোলে বাংলাদেশের গ্রুপের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা এবং আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ অদলবদল করার। কিন্তু বাংলাদেশের গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশের পরই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট। ক্রিকবাজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে আয়ারল্যান্ড ক্রিকেটের এক কর্মকর্তা জানান, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা চূড়ান্ত নিশ্চয়তা পেয়েছি যে সূচিতে কোনো পরিবর্তন আসছে না। আমরা আমাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কাতেই খেলব। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ড রয়েছে গ্রুপ ‘সি’-তে। এই গ্রুপে তাদের সঙ্গে আছে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে ও ওমান। অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলছে গ্রুপ ‘বি’-তে, যেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, নেপাল ও ইতালি। এই গ্রুপের ম্যাচগুলো আয়োজনের কথা রয়েছে ভারতের কলকাতা ও মুম্বাইয়ে। ভারতে খেলতে অনিচ্ছুক বাংলাদেশের জন্য আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ পরিবর্তন একটি বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হলেও, বিসিবির এই প্রস্তাব আইসিসি কিংবা আয়ারল্যান্ড কোনো পক্ষের কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়নি বলেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

মাদুরোকে অপহরণের আগে ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে গোপন আলাপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র

মাদুরোকে অপহরণের আগে ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে গোপন আলাপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের জন্য মার্কিন অভিযানের কয়েক মাস আগে ভেনেজুয়েলার কট্টর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলোর সাথে আলোচনা করেছিলেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তখন থেকেই তার সাথে যোগাযোগ রেখে চলেছেন ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক ব্যক্তির বরাত দিয়ে শনিবার রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। চারটি সূত্র জানিয়েছে, কর্মকর্তারা ৬২ বছর বয়সী ক্যাবেলোকে দেশের বিরোধী দলকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য তার তত্ত্বাবধানে থাকা নিরাপত্তা পরিষেবা বা শাসকদলের সমর্থকদের ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করেছিলেন। ৩ জানুয়ারি মার্কিন অভিযানের পরেও গোয়েন্দা পরিষেবা, পুলিশ এবং সশস্ত্র বাহিনীসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থাটি মূলত অক্ষত রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোকে গ্রেপ্তারের জন্য যে মার্কিন মাদক পাচারের অভিযোগ এনেছিল, সেই একই অভিযোগে ক্যাবেলোর নাম রয়েছে। কিন্তু অভিযানের অংশ হিসেবে তার নাম নেওয়া হয়নি। ক্যাবেলোর সাথে যোগাযোগ ট্রাম্প প্রশাসনের প্রাথমিক দিনগুলো থেকে শুরু হয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঠিক আগের সপ্তাহগুলোতেও তা অব্যাহত ছিল বলে আলোচনার সাথে পরিচিত দুটি সূত্র জানিয়েছে। মাদুরোর ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে প্রশাসন ক্যাবেলোর সাথেও যোগাযোগ রেখেছে বলে চারজন জানিয়েছেন। এমন যোগাযোগগুলো ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাবেলো যদি তার নিয়ন্ত্রণে থাকা শক্তিগুলোকে মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে এটি ট্রাম্প যে ধরণের বিশৃঙ্খলা এড়াতে চান তা বাড়িয়ে তুলতে পারে। একইসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের ক্ষমতার উপর দখলকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে মার্কিন উদ্বেগ সম্পর্কে অবহিত একটি সূত্র জানিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে ক্যাবেলোর আলোচনা ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল কিনা তা স্পষ্ট নয়। ক্যাবেলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা মেনে নিয়েছেন কিনা তাও স্পষ্ট নয়। তিনি প্রকাশ্যে রদ্রিগেজের সাথে ঐক্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যাকে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত প্রশংসা করেছেন। যদিও রদ্রিগেজকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলার কৌশলের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেখেছে, তবুও ক্যাবেলোর ব্যাপারে ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয় যে তিনি এই পরিকল্পনাগুলোকে ট্র্যাকে রাখতে বা সেগুলিকে প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা রাখেন। কথোপকথনের সাথে পরিচিত একজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার মন্ত্রী সরাসরি এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ রেখেছেন। হোয়াইট হাউস এবং ভেনেজুয়েলার সরকার তাৎক্ষণিকভাবে রয়টার্সকে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি।

গিনির প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন সামরিক নেতা ডুম্বুয়া

গিনির প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন সামরিক নেতা ডুম্বুয়া পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনির প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন ২০২১ সালে দেশটির সামরিক অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী জেনারেল মামাদি ডুম্বুয়া। খবর আল-জাজিরার।  গত মাসের নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষিত হওয়ার পর শনিবার (১৭ জানুয়ারি) হাজার হাজার সমর্থক এবং বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রপ্রধানের উপস্থিতিতে এই শপথ অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। চার বছর আগে প্রেসিডেন্ট আলফা কন্ডেকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ডুম্বুয়ার অধীনে এটিই ছিল দেশটিতে প্রথম নির্বাচন। ক্ষমতা দখলের পর শুরুতে নির্বাচনে না দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও, শেষ পর্যন্ত ডুম্বুয়া আটজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে তার প্রধান বিরোধীরা নির্বাসিত থাকায় বিরোধী দলগুলো এই নির্বাচন বয়কটের ডাক দিয়েছিল। পরবর্তীতে গিনির সুপ্রিম কোর্ট জানায় যে, ডুম্বুয়া ৮৬.৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। রাজধানী কোনাক্রির উপকণ্ঠে জেনারেল ল্যানসানা কন্টে স্টেডিয়ামে কয়েক ঘণ্টা ব্যাপী এই অনুষ্ঠানে প্রথাগত পোশাক পরিহিত ডুম্বুয়া সংবিধান রক্ষার শপথ নেন। উল্লেখ্য, তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে সম্প্রতি দেশটির সংবিধানে পরিবর্তন আনা হয়। শপথ বাক্য পাঠকালে তিনি বলেন, “আমি ঈশ্বর এবং গিনির জনগণের সামনে আমার সম্মানের শপথ নিচ্ছি যে, আমি সংবিধান, আইন, বিধিবিধান এবং বিচারিক সিদ্ধান্তগুলো অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে সম্মান ও কার্যকর করব। অনুষ্ঠানে রুয়ান্ডা, গাম্বিয়া এবং সেনেগালসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা যোগ দেন। এছাড়া চীন, নাইজেরিয়া, ঘানা এবং নিরক্ষীয় গিনির ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। ২০২০ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী দেশ মালির ক্ষমতায় আসা জেনারেল আসিনি গোইতাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেপ্টেম্বরে গিনির নাগরিকরা এক নতুন সংবিধানের অনুমোদন দেয়, যা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেয়। এই সংবিধানে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে সাত বছর করা হয়েছে এবং দুই মেয়াদের সীমাবদ্ধতা রাখা হয়েছে। ডুম্বুয়ার দাবি, আলফা কন্ডের শাসনামলে ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার কারণে সামরিক অভ্যুত্থান অনিবার্য ছিল। ১৯৫৮ সালে গিনি স্বাধীনতা লাভের পর ২০১০ সালে আলফা কন্ডে দেশটির ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। তিনি ২০১৫ এবং ২০২০ সালেও পুনরায় নির্বাচিত হন। তবে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এরপর জেনারেল মামাদি ডুম্বুয়ার সামরিক সরকার গত চার বছর ক্ষমতায় থাকাকালীন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বিলুপ্ত করে ও সংবিধান স্থগিত করে। এই সময়ে তারা পশ্চিম আফ্রিকার আঞ্চলিক জোট ইকোওয়াস-এর সঙ্গে বেসামরিক গণতান্ত্রিক সরকারে ফেরার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল। তবে ডুম্বুয়ার বিরুদ্ধে নাগরিক স্বাধীনতা খর্ব করা, বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগও রয়েছে। গিনির প্রায় ৫২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করে। ডুম্বুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি দেশটির বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষ করে বিশ্বের বৃহত্তম বক্সাইট ভাণ্ডার এবং অব্যবহৃত আকরিক লোহা উত্তোলন করে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবেন।

১১ আরোহী নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার

১১ আরোহী নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশে নিখোঁজ হওয়া মৎস্য নজরদারি বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিমানে থাকা ১১ জন আরোহীকে এখনো পাওয়া যায়নি। কুয়াশাচ্ছন্ন একটি পাহাড়ি এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। খবর রয়টার্সের। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানায়, ইন্দোনেশিয়া এয়ার ট্রান্সপোর্টের মালিকানাধীন এটিআর ৪২-৫০০ মডেলের টার্বোপ্রপ বিমান শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে দক্ষিণ সুলাওয়েসির মারোস অঞ্চলের আকাশসীমায় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিমানটিতে আটজন ক্রু এবং তিনজন যাত্রী ছিলেন। যাত্রীরা ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক বিষয়ক ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের কর্মী। মৎস্য নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মন্ত্রণালয় বিমানটি ভাড়া করেছিল। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দক্ষিণ সুলাওয়েসির উদ্ধারকারী সংস্থার প্রধান মুহাম্মদ আরিফ আনোয়ার স্থানীয় টেলিভিশনে বলেন, ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়ার পর এখন নিখোঁজ যাত্রী ও ক্রুদের সন্ধানে ১ হাজার ২০০ উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হবে। তিনি বলেন, “আমাদের অগ্রাধিকার হলো ভিকটিমদের খুঁজে বের করা এবং আমরা আশা করছি যে তাদের কয়েকজনকে আমরা নিরাপদে উদ্ধার করতে পারব।” যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে বিমানটি ইয়োগিয়াকার্তা প্রদেশ থেকে রওনা হয়ে দক্ষিণ সুলাওয়েসির রাজধানী মাকাসারের দিকে যাচ্ছিল। দক্ষিণ সুলাওয়েসির উদ্ধারকারী সংস্থার কর্মকর্তা আন্দি সুলতান জানান, রবিবার সকালে স্থানীয় উদ্ধারকারীরা মারোস অঞ্চলের মাউন্ট বুলুসারাউং-এর আশেপাশে বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পান। পাহাড়টি দেশটির রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। সুলতান সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের হেলিকপ্টার ক্রুরা সকাল ৭টা ৪৬ মিনিটে বিমানের জানালার ধ্বংসাবশেষ দেখতে পান। এরপর সকাল ৭ টা ৪৯ মিনিটের দিকে আমরা বিমানের বড় একটি অংশ দেখতে পাই, যা বিমানের ফিউজলেজ (মূল কাঠামো) বলে ধারণা করা হচ্ছে।” তিনি আরো যোগ করেন, পাহাড়ের ঢালের নিচে বিমানের পেছনের অংশও দেখা গেছে। সুলতান জানান, যেখানে ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে সেখানে উদ্ধারকারীদের পাঠানো হয়েছে। তবে ঘন কুয়াশা এবং পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে তল্লাশি অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। উদ্ধারকারী সংস্থার শেয়ার করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ঘন কুয়াশা ও প্রবল বাতাসের মধ্যে পাহাড়ে বিমানের একটি জানালা ছড়িয়ে ছিঁড়ে পড়ে আছে। সুলতান আরো জানান, ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা কমিটি এই দুর্ঘটনার তদন্তে নেতৃত্ব দেবে। দুর্ঘটনার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ দুর্ঘটনা একাধিক কারণের সমন্বয়ে ঘটে থাকে। ফরাসি-ইতালীয় বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এটিআর-এর তৈরি এটিআর ৪২-৫০০ মডেলটি একটি আঞ্চলিক টার্বোপ্রপ বিমান, যা ৪২ থেকে ৫০ জন যাত্রী বহনে সক্ষম। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার ২৪ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছে, বিমানটি সমুদ্রের ওপর দিয়ে কম উচ্চতায় উড়ছিল, যার ফলে এর ট্র্যাকিং কভারেজ সীমিত ছিল।