মত প্রকাশে কখনোই রাখঢাক করেন না আসিফ

মত প্রকাশে কখনোই রাখঢাক করেন না আসিফ স্পষ্টভাষী হিসেবে শিল্পীসমাজে আলাদা পরিচিতি রয়েছে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের। নিজের ভাবনা কিংবা মতামত প্রকাশে তিনি কখনোই রাখঢাক করেন না। এ কারণেই প্রশংসার পাশাপাশি মাঝেমধ্যে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয় তাকে। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের একটি অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে হাজির হন আসিফ আকবর। অনুষ্ঠানে উপস্থাপক দেশের কয়েকজন তারকার নাম উল্লেখ করে জানতে চান—তাদের সামনে পেলে কী প্রশ্ন করতে চান এই সোজাসাপ্টা গায়ক। এ সময় চিত্রনায়িকা পরীমণিকে নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানান আসিফ। তিনি বলেন, ‘পরীমণিকে যতটুকু দেখি, সে একটু খামখেয়ালী। তাকে আমি প্রশ্ন করতে চাই—তুমি আমাদের মুক্তি দেবে কবে? তুমি একটা কিছু করো, সেটেল ডাউন হও। কীভাবে করবে, সেটাও আমাকে বলো।’ পরীমণির ব্যক্তিত্ব প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘পরীমণির সঙ্গে এ নিয়ে আগেও কথা হয়েছে। সে সবসময় হাসিখুশি থাকে, সবকিছু খুব ক্যাজুয়ালি নেয়। এটা ওর একটা দারুণ দিক।’ শুধু তাই নয়, ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানকে নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে আসিফ আকবরের। তিনি বলেন, শাকিব খানের সঙ্গে দেখা হলে জানতে চাইবেন—‘আপনি যখন ডায়লগ দেন, তখন একরকম শোনায়। কিন্তু গানের সময় হঠাৎ গলা চিকন, একটু মেয়েলি হয়ে যায়। যেখানে এন্ড্রু কিশোর, মিলু ভাই, সৈয়দ আব্দুল হাদীর মতো কিংবদন্তিরা কণ্ঠ দিয়েছেন, সেখানে এখন যাদের সঙ্গে আপনি ঠোঁট মেলাচ্ছেন, সেই টোনটা আপনার সঙ্গে ঠিক যাচ্ছে না। আপনি এটা কীভাবে এনজয় করছেন?’ এ প্রসঙ্গে আসিফ আরও বলেন, ‘প্লেব্যাকের নিজস্ব একটা ব্যাকরণ আছে। সেটার দিকেও শিল্পীদের নজর দেওয়া জরুরি।’ এখানেই থেমে থাকেননি এই গায়ক। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা মাহফুজ এনাম জেমসকেও প্রশ্ন করতে চান তিনি। আসিফের ভাষায়, ‘আপনি এত বড় একজন শিল্পী। কিন্তু দেশের কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে আপনাকে দেখা যায় না। আপনার ফেসবুক আছে, নানা বিষয় শেয়ার করেন। কিন্তু শিল্পীদের সমস্যা বা দেশের সংকট নিয়ে কিছু বলেন না। আপনার মুখ থেকে কিছুই বের হয় না!’ সব মিলিয়ে আবারও নিজের স্পষ্টভাষী অবস্থানের মাধ্যমে আলোচনায় উঠে এলেন আসিফ আকবর। তার এমন খোলামেলা মন্তব্যে নেটিজেনদের মধ্যেও শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
নির্বাচনের আগে নেপালের সবচেয়ে পুরোনো দল বিভক্ত

নির্বাচনের আগে নেপালের সবচেয়ে পুরোনো দল বিভক্ত নেপালে আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনের আগে, দেশটির সবচেয়ে পুরোনো রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেসে ভাঙন দেখা দিয়েছে। দলটির বিদ্রোহী একটি অংশ সর্বসম্মতিক্রমে নতুন সভাপতি নির্বাচন করেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। এই বিভাজন নেপালের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গত সেপ্টেম্বর দুর্নীতি, শাসন ব্যবস্থার ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে দেশজুড়ে হওয়া বিক্ষোভে নেপালের আগের সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। আজ ভোরে দেওয়া বক্তব্যে নেপালি কংগ্রেসের নব-নির্বাচিত সভাপতি গগন থাপা বলেন, ‘আমি আপনাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমাকে নেপালি কংগ্রেসের মতো একটি দলের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে । এটি ছোট কোনো দায়িত্ব নয়। আমি আন্তরিকভাবে অঙ্গীকার করছি যে আপনাদের হতাশ করব না।’ তবে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে। নেপালি কংগ্রেসের কোন অংশটি বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং আগামী ৫ মার্চ নির্ধারিত নির্বাচনে ঐতিহ্যবাহী গাছ প্রতীক ও দলীয় পতাকা ব্যবহার করতে পারবে। নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র নারায়ণ প্রসাদ ভট্টারাই এএফপিকে বলেন, ‘কমিশন চিঠিপত্র পেয়েছে এবং এ বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবে।’ পাঁচবারের প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা ২০১৬ সাল থেকে নেপালি কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবিতে বিদ্রোহী নেতারা একটি বিশেষ সম্মেলনের আহ্বান করেন। বিভক্তি এড়াতে বুধবার পর্যন্ত আলোচনা চললেও, শের বাহাদুর দেউবার সরে দাঁড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরে থাপাসহ দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয় এবং বিদ্রোহী অংশ গগন থাপাকে তাদের সভাপতি নির্বাচন করে। ৪৯ বছর বয়সী গগন থাপা নেপালি কংগ্রেসের তরুণ প্রজন্মের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং তিনি আগে দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। নেপালি কংগ্রেসের এই ভাঙন দেশটির রাজনীতিতে বৃহত্তর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে প্রজন্মগত পরিবর্তন ও রাজনৈতিক জবাবদিহিতার দাবি পুরোনো দলগুলোর কাঠামো বদলে দিচ্ছে এবং নতুন মুখদেরকে রাজনীতিতে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করছে। গত সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ৭৩ বছর বয়সী সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা আরোপকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভে অন্তত ৭৭ জন নিহত হন। বছরের পর বছর অর্থনৈতিক স্থবিরতায় জন-অসন্তোষ আরও তীব্র হয়। অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি আগামী নির্বাচনের জন্য একটি ‘ন্যায্য ও ভয়মুক্ত’ পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ইরানে হামলার শঙ্কা: আতঙ্কে সৌদি, আমিরাত ও কাতার

ইরানে হামলার শঙ্কা: আতঙ্কে সৌদি, আমিরাত ও কাতার ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ওপর তেহরানের কঠোর দমনপীড়ন এবং ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একটি অনিয়ন্ত্রিত আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলো। তেহরান ইতিমধ্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যেসব প্রতিবেশী দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, ওয়াশিংটন যদি ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে তবে সেই ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানা হবে। এমন হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের অতিসত্ত্বর ইরান ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে।প্রয়োজনে তুরস্ক বা আর্মেনিয়া হয়ে স্থলপথে সীমান্ত পার হওয়ার নির্দেশনা জারি করেছে। এদিকে ইরানের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইসরায়েল সরাসরি বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানালেও সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিক্ষোভকারীদের সাহসের প্রশংসা করে ইরানে একটি নতুন গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে দেশটির সামরিক বাহিনী যেকোনো আকস্মিক পরিস্থিতির জন্য নিজেদের প্রস্তুত রেখেছে। উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত সংঘাত হয়েছিল। ইরানের পরমাণু ও সামরিক স্থাপনায় নজিরবিহীন হামলা চালানো হয়। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই এবার বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে সব পক্ষ। আরব দেশগুলোর মধ্যে বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমানে চরম সাবধানতা বজায় রাখছে। চীনের মধ্যস্থতায় ২০২৩ সালে ইরানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোড়া লাগানোর পর রিয়াদ এখন আর নতুন কোনো দ্বন্দ্বে জড়াতে আগ্রহী নয়। বিশেষ করে সৌদি আরব সরাসরি তেহরানকে আশ্বস্ত করেছে, ইরানের ওপর হামলার জন্য তারা তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না। সৌদি বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে যদি সম্পূর্ণ অরাজকতা তৈরি হয় বা বর্তমান সরকারের পতন ঘটে, তবে সেই বিশৃঙ্খলা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে। এটা রিয়াদের অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনার জন্য বড় হুমকি। একই সুর শোনা যাচ্ছে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কণ্ঠেও। কাতার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ের সাথেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে, তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যে কোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা এই অঞ্চলের জন্য বিপর্যয়কর ফলাফল বয়ে আনবে। গত জুনে কাতারে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার স্মৃতি এখনো দগদগে। অন্যদিকে ইরাকও এই সংকটের বাইরে নয়। যুদ্ধের আঁচ যেন তাদের সীমানায় না পৌঁছায় সে জন্য বাগদাদ কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরাক বর্তমানে কোনো পক্ষ নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই এবং সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনা ও ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে দেশটি চরম বিপাকে পড়বে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে সবাই চাইছে বড় কোনো সংঘাত এড়িয়ে শান্তি বজায় রাখতে।
দোলাচলে গ্রিনল্যান্ডবাসী, সেনা উপস্থিতি বাড়াচ্ছে ডেনমার্ক

দোলাচলে গ্রিনল্যান্ডবাসী, সেনা উপস্থিতি বাড়াচ্ছে ডেনমার্ক হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে একসঙ্গে উদ্বেগ ও স্বস্তির অনুভূতি দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রে থাকা দ্বীপটি নিয়ে বুধবার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন আর্কটিক এই ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ‘মৌলিক মতপার্থক্যের’ কথা জানান। অন্যদিকে ট্রাম্প বলেন, তিনি মনে করেন ‘ শেষ পর্যন্ত কিছু একটা সমাধান আসবে।’ এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প অনমনীয় মনোভাব প্রকাশের পর সেখানে সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোপেনহেগেন। ইতোমধ্যে ডেনমার্কের সেনাবাহিনীর অগ্রবর্তী কমান্ডের বেশ কয়েকটি ইউনিটকে গ্রিনল্যান্ডে পাঠানোর প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। ডেনমার্কের সংবাদমাধ্যম ডিআর-এর বরাতে আরও জানা গেছে, সেনাবাহিনীর অগ্রবর্তী কমান্ডের এই ইউনিটগুলোর মূল দায়িত্ব হবে গ্রিনল্যান্ডে আরও বেশি সংখ্যক সেনা উপস্থিতির জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনা তৈরি করা। ডেনমার্কের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল এনহেডস্লিস্টেন পার্টি সরকারের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। এনহেডস্লিস্টেন পার্টির এক মুখপাত্র এ প্রসঙ্গে ডি আর-কে বলেন, আমরা গত সপ্তাহে সরকারকে এমন একটি অনুরোধ করেছিলাম। এটা খুবই সময়োপযোগী পদক্ষেপ এবং আমরা সংবাদ পেয়েছি যে ইউরোপের অন্যান্য দেশও গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠাচ্ছে। গ্রিনল্যান্ডে যদি কোনো বড় শক্তি হামলা করতে চায়, সেক্ষেত্রে এটা সেই বড় শক্তির উদ্দেশে পাঠানো স্পষ্ট সতর্কতা সঙ্কেত। উল্লেখ্য, বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের আয়তন ২১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা মাত্র ৫৬ হাজার ৫৮৩ জন। এই জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশই ইনুইট জাতিগোষ্ঠীভুক্ত। গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান উত্তর আমেরিকা অঞ্চলে হলেও এই দ্বীপটি ডেনমার্কের অধীন একটি স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রদেশ। এ দ্বীপের বাসিন্দারাও ডেনমার্ক এবং ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নাগরিক।
ফের আকাশসীমা চালু করল ইরান

ফের আকাশসীমা চালু করল ইরান হঠাৎ করেই আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান। ফলে শুরু হয়েছিল নতুন গুঞ্জন। অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো আসন্ন মার্কিন হামলা রুখতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। তবে কয়েক ঘণ্টা যেতেই আবারও নিজেদের আকাশসীমা চালু করেছে ইরান। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ ঘণ্টার অচলাবস্থা কাটিয়ে স্থানীয় সময় আজ ভোররাতে আকাশসীমায় বিমান চলাচল স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেয় দেশটি। সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কায় বুধবার গভীর রাতে হঠাৎ করেই আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তেহরান। মার্কিন ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নোটিশ অনুযায়ী, বুধবার গ্রিনিচ মান সময় রাত দশটা পনেরো মিনিট থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। সে সময় আন্তর্জাতিক আগমন ও প্রস্থানকারী বিশেষ অনুমোদিত ফ্লাইট ছাড়া সব ধরনের বাণিজ্যিক বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে গ্রিনিচ মান সময় বৃহস্পতিবার রাত তিনটার কিছু আগে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সার্ভিস ফ্লাইটরাডার-টোয়েন্টিফোর জানিয়েছে, আকাশসীমা খোলার পরপরই ইরানের অভ্যন্তরীণ বেশ কিছু ফ্লাইট পুনরায় যাত্রা শুরু করেছে।
গণভোট নিয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সভা

গণভোট নিয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সভা রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের অংশ হিসেবে ‘জুলাই সনদ’কে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে এবং আসন্ন গণভোটে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণে ‘গণভোট ২০২৬’ উপলক্ষ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ ও অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন— এই তিনটি প্রধান ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ করছে। রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত কমিশনগুলোর প্রস্তাবনা এবং সকল রাজনৈতিক দলের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ’। এই সনদকে স্থায়ীভাবে সংবিধানে রূপ দিতেই জাতীয় নির্বাচনের দিন একই সাথে গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে। সভায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ভিডিও ক্লিপ তৈরি করেছে। তৃণমূল পর্যায়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে, তার মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রচারণা চালানোর জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
অভিমান করেই সিনেমা ছেড়েছিলাম: ডলি জহুর

অভিমান করেই সিনেমা ছেড়েছিলাম: ডলি জহুর নন্দিত অভিনেত্রী ডলি জহুর পর্দায় যার উপস্থিতি মানেই মায়ের চরিত্রে এক আলাদা আবেশ। অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এই অভিনেত্রী দীর্ঘ ১৫ বছর বড় পর্দা থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছিলেন। অবশেষে বিরতি ভেঙে আবারও সিনেমায় ফিরছেন তিনি। জানা গেছে, ২০১০ সালে অভিমান করেই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন ডলি জহুর। দীর্ঘ বিরতির পর সম্প্রতি তিনি অভিনয় করেছেন ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’ শিরোনামের একটি কাজে। বর্তমানে রেদওয়ান রনি পরিচালিত সিনেমা ‘দম’-এর শুটিংয়ে ব্যস্ত রয়েছেন এই অভিনেত্রী। কাজে ফেরার অভিজ্ঞতা জানিয়ে ডলি জহুর বলেন, “অভিমান করেই সিনেমা ছেড়েছিলাম। কমার্শিয়াল সিনেমা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। একই ধরনের চরিত্র, একই গল্প আর কত ভালো লাগে? কিন্তু এবার রেদওয়ান রনির অনুরোধ ফেলতে পারিনি। ও খুব যত্ন নিয়ে কাজ করে। আগামীকাল পর্যন্ত পাবনায় শুটিং চলবে। সবাই খুব খেয়াল রাখছে, ভালো লাগছে। চলনবিলের শুটিং সেট থেকে নিজের অনুভূতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রী বলেন, “চলনবিলের ওপর দিয়ে জীবনে কতবার গিয়েছি, কিন্তু এবার এখানে শুটিং করছি এটাই আলাদা অনুভূতি। একটু ঠান্ডা লেগেছে, ওষুধ খাচ্ছি। তারপরও মনটা খুব ভালো। তাহলে কি এখন থেকে নিয়মিত বড় পর্দায় দেখা যাবে তাকে এমন প্রশ্নের উত্তরে বাস্তবসম্মত জবাব দেন ডলি জহুর। তিনি বলেন, “সেই বয়স কি আর আছে? আর এখন তো আমাদের কেন্দ্র করে গল্প লেখা হয় না। একই ধরনের চরিত্রে বারবার কাজ করার ইচ্ছাও নেই। উল্লেখ্য, এসভিএফ ও আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড প্রযোজিত এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি সহপ্রযোজিত সিনেমা ‘দম’ মুক্তি পাবে ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরে। সিনেমাটিতে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে দেখা যাবে আফরান নিশো ও চঞ্চল চৌধুরীকে। প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করছেন পূজা চেরি।
এনআইডির তথ্য বিক্রি করে কোটি টাকা আয়: ইসির কর্মচারীসহ গ্রেপ্তার ২

এনআইডির তথ্য বিক্রি করে কোটি টাকা আয়: ইসির কর্মচারীসহ গ্রেপ্তার ২ জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) গোপন তথ্য চুরি ও অবৈধভাবে বিক্রির মাধ্যমে প্রতি মাসে কোটি টাকার বেশি আয় করার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এক কর্মচারীসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আজ সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান গণমাধ্যমকে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন নির্বাচন কমিশনের কম্পিউটার অপারেটর কাম অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য পাচার এবং এনআইডিতে ভুয়া তথ্য সংযোজনের মতো গুরুতর অপরাধে লিপ্ত ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, এই সংঘবদ্ধ চক্রটি নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ তথ্যভাণ্ডারে প্রবেশ করে নাগরিকদের এনআইডি সংশোধন এবং ব্যক্তিগত তথ্য অবৈধভাবে বিভিন্ন পক্ষের কাছে বিক্রি করে আসছিল। এই কর্মকাণ্ডের বিনিময়ে তারা প্রতি মাসে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত। বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান জানান, চক্রটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে নাগরিকদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে আসছিল। এই চক্রের সঙ্গে ইসির আরও কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা অন্য কেউ জড়িত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে সিআইডি তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ আরও জানিয়েছে যে, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই জালিয়াতির গভীরতা এবং এর মাধ্যমে কতজন নাগরিকের তথ্য ঝুঁকিতে পড়েছে তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। অবৈধভাবে এনআইডি সংশোধন ও ভুয়া তথ্য সংযোজনের মাধ্যমে তারা কোনো ধরনের আর্থিক বা রাষ্ট্রীয় জালিয়াতির পথ সুগম করছিল কি না, সেটিও সিআইডির গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে। এই জালিয়াতি প্রতিরোধে নির্বাচন কমিশনের তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির দুর্বলতাগুলো নিয়েও তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই চাঞ্চল্যকর গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদানের জন্য আজ দুপুরে সিআইডি সদর দপ্তরে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় এবং তাদের অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পর্কে গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত করা হবে। সিআইডি কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই চক্রটিকে গ্রেপ্তারের ফলে এনআইডি জালিয়াতি এবং ব্যক্তিগত তথ্য পাচারের একটি বড় নেটওয়ার্ক সমূলে উৎপাটন করা সম্ভব হবে।
নতুন পে-স্কেল: সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ হতে পারে আজ

নতুন পে-স্কেল: সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ হতে পারে আজ নবম জাতীয় পে-স্কেল নির্ধারণে আজ ফের আলোচনায় বসছে জাতীয় পে-কমিশন। আজ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পুরাতন ভবনের সভাকক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সভাতেই চূড়ান্ত হতে পারে বেতন কাঠামোর মূল রূপরেখা। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণের পাশাপাশি গ্রেড সংখ্যা, বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ও উৎসব ভাতা, অবসরকালীন সুবিধাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা হবে আজকের বৈঠকে। কমিশনের সদস্যরা একমত হলে এসব বিষয়ে আজই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য জানিয়েছেন, এবারের সুপারিশে শুধু সংখ্যার হিসাব নয়, বরং বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি, শিক্ষা ব্যয় এবং আবাসন সংকটের বাস্তব চিত্রকে প্রধান সূচক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরইমধ্যে গত ৮ জানুয়ারির সভায় বেতনের অনুপাত ১:৮ চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। কমিশন ১:৮, ১:১০ এবং ১:১২–এই তিন ধরনের অনুপাত নিয়ে পর্যালোচনার পর তুলনামূলক বৈষম্যহীন ১:৮ অনুপাতটি গ্রহণ করে।
গ্যাস বিল পরিশোধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিতাসের নতুন নির্দেশনা

গ্যাস বিল পরিশোধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিতাসের নতুন নির্দেশনা গ্যাস বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রতারক চক্র থেকে গ্রাহকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি। আজ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি কিছু প্রতারক চক্র নিজেদেরকে ‘তিতাস গ্যাস টি অ্যান্ড ডি পিএলসি’র কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে গ্রাহকদের মোবাইল ফোনে কল করছে। তারা গ্রাহকদেরকে ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে বকেয়া গ্যাস বিল পরিশোধ করার জন্য চাপ ও হুমকি দিচ্ছে। তিতাস গ্যাসের পক্ষ থেকে গ্রাহকদেরকে অনুরোধ করা যাচ্ছে যে, শুধু কোম্পানির নির্ধারিত ব্যাংকে এবং অনলাইন ‘মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস’ অ্যাপের মাধ্যমে (বিকাশ, রকেট, উপায় ও ট্যাপ) গ্যাস বিল পরিশোধ করুন। কারও ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে গ্যাস বিল পরিশোধ করবেন না।