৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা দিনে কতগুলো ডিম খেতে পারবে?

৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা দিনে কতগুলো ডিম খেতে পারবে? ডিমকে একটি সম্পূর্ণ খাদ্য হিসাবে উল্লেখ করা হয় এবং এর কারণটি পুরোপুরি যুক্তিসঙ্গত। এটি সাশ্রয়ী, রান্না করা সহজ এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণে ভরপুর, বিশেষ করে শিশুর বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য। তবে ছোট শিশুদের বাবা-মায়েদের জন্য, একটি সাধারণ প্রশ্ন বারবার আসে, ৫ বছরের কম বয়সী বাচ্চারা প্রতিদিন কতগুলো ডিম খেতে পারে? ডিম কেন শিশুদের জন্য ভালো ডিম ক্রমবর্ধমান শিশুদের জন্য একটি পুষ্টির শক্তি। ডিম উচ্চমানের প্রোটিন, উপকারী চর্বি, প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থে ভরপুর যা মস্তিষ্কের বিকাশ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং শারীরিক বৃদ্ধিকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। ডিমে পাওয়া সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পুষ্টি উপাদানের মধ্যে একটি হলো কোলিন, যা স্মৃতিশক্তি এবং মস্তিষ্কের দক্ষতা উন্নত করার জন্য পরিচিত, বিশেষ করে শৈশবের প্রথম দিকে যখন মস্তিষ্কের বিকাশ তার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। ডিম ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ তাই শিশুদের খাবার হিসেবে এটি বেশ কার্যকরী। ভিটামিন ডি হাড়ের বৃদ্ধি, ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং বি ভিটামিনের সঙ্গে শক্তি বিপাক সহায়তার ভূমিকা পালন করে। যেহেতু ডিম নরম এবং ভালোভাবে রান্না করলে চিবানো সহজ, তাই শিশুদের জন্য এটি উপযুক্ত। ৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য প্রতিদিন কতগুলো ডিম নিরাপদ? প্রতিদিন কতগুলো ডিম খাওয়া উচিত তা শিশুর বয়স এবং খাদ্যতালিকা দ্বারা নির্ধারিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে ১ থেকে ৩ বছর বয়সী শিশুরা প্রতিদিন অর্ধেক থেকে একটি ডিম খেতে পারে, যেখানে ৪ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রতিদিন একটি সম্পূর্ণ ডিম নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর। শিশুদের পেট ছোট এবং তাদের খাবার থেকে বঞ্চিত বোধ না করার জন্য তাদের সবকিছুই খাওয়ানো উচিত। কোনো একটি খাবার যত পুষ্টিকরই হোক না কেন তা দিয়ে পেট ভরিয়ে রাখলে শিশুরা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদানের প্রতি আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতে পারে না। শিশুরা কি প্রতিদিন ডিম খেতে পারে? হ্যাঁ, প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে ডিম খাওয়া যেতে পারে। তবে, ফল, শাক-সবজি, গোটা শস্য, ডাল এবং দুগ্ধজাত খাবারের সমন্বয়ে একটি সুষম খাদ্যতালিকায় ডিম অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। ছোট শিশুদের পুষ্টির জন্য কেবল ডিমই যথেষ্ট নয়। খাদ্যতালিকাগত বৈচিত্র্য নিশ্চিত করে যে শিশুরা ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট পাচ্ছে যা ডিম তাদের সরবরাহ করে না।
বোনের বিয়েতে কৃতির আবেগঘন স্মৃতিচারণ

বোনের বিয়েতে কৃতির আবেগঘন স্মৃতিচারণ বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যাননের ছোট বোন নূপুর শ্যানন। দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর নূপুরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সংগীতশিল্পী স্টেবিন বেন। দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে হিন্দু ও খ্রিস্টান উভয় রীতিতেই সম্পন্ন হয়েছে এই জমকালো আয়োজন। বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা ও আনন্দঘন মুহূর্ত শেষ হলেও বিদায়ের ক্ষণে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি কৃতি শ্যানন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শৈশব থেকে বর্তমান পর্যন্ত বোনের সঙ্গে কাটানো নানা স্মৃতির ছবি শেয়ার করে নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। এক আবেগঘন পোস্টে কৃতি লেখেন, ‘আমি বলে বোঝাতে পারব না ঠিক কী অনুভব করছি। আমার ছোট্ট বোনটার নাকি বিয়ে হয়ে গেল! যখন আমার বয়স মাত্র পাঁচ বছর, তখন ওকে প্রথম কোলে নিয়েছিলাম। আর আজ সেই হাত দিয়েই ওর বিয়ের গাঁটছড়া বেঁধে দিলাম। নূপুর, তুই আমার দেখা সবচেয়ে সুন্দরী কনে। ভগ্নিপতি স্টেবিন বেনকে উদ্দেশ করে কৃতি লেখেন, ‘গত পাঁচ বছর ধরেই তুমি আমাদের পরিবারের অংশ। আজ তা পূর্ণতা পেল। পোস্টের শেষাংশে কৃতি আরও লেখেন, ‘আমি সারাজীবনের জন্য কেবল একজন ভাই নয়, বরং একজন ভালো বন্ধুও পেলাম। তোমাদের দু’জনের বিয়ের মুহূর্তটা আমার জীবনের সবচেয়ে আবেগপ্রবণ স্মৃতিগুলোর একটি হয়ে থাকবে। তবে মনে রেখো স্টেবিন, নূপুর আমার জান। আমি ওকে তোমার হাতে তুলে দিচ্ছি না, বরং তোমাকে আমাদের শ্যানন পরিবারে স্বাগত জানাচ্ছি। কৃতির এই আবেগঘন পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যেই ভক্তদের হৃদয় ছুঁয়েছে। শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় ভাসছেন নবদম্পতি নূপুর শ্যানন ও স্টেবিন বেন।
ভারতে নিউজিল্যান্ডের রেকর্ড গড়ে জয়

ভারতে নিউজিল্যান্ডের রেকর্ড গড়ে জয় সিরিজ বাঁচাতে জিততেই হতো—এমন সমীকরণে ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নেমেছিল নিউজিল্যান্ড। ড্যারিল মিচেলের দুর্দান্ত অপরাজিত সেঞ্চুরিতে আশা বাঁচিয়ে রেখেছে কিউইরা। স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৭ উইকেটের বড় জয়ে সিরিজে ১-১ সমতা ফেরাল সফরকারীরা। রাজকোটে আজ প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৮৪ রান করে ভারত। জবাবে ১৫ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড। ভারতের মাটিতে এটি সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয় নিউজিল্যান্ডের। এর আগে ২০২৩ সালে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আহমেদাবাদে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করেছিল কিউইরা। ২০২৩ সালের পর টানা ৮ ওয়ানডে হারের পর ভারতের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের প্রথম জয় এটি। ভারতের মাটিতে ২০১৭ সালের পর টানা ৮ ওয়ানডে হারের পর প্রথম জয়। রান তাড়ায় নিউ জিল্যান্ডের দুই ওপেনার দ্রতই ফিরে যান। তৃতীয় উইকেটে ১৬২ রানের জুটি গড়েন উইল ইয়াং ও ড্যারিল মিচেল। ইয়াং ৯৮ বলে ৮৭ রানে ফেরেন। তবে সেঞ্চুরি তুলে দলকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন মিচেল। ১১৭ বলে ১৩১ রানের ইনিংস খেলেন এই ব্যাটার। ভারতের বিপক্ষে গত ৪ ম্যাচের তিনটিতেই শতক পেলেন ম্যাচসেরার পুরষ্কার তোলা মিচেল। এর আগে টসে হেরে লোকেশ রাহুলের অপরাজিত ১১২ ও শুবমান গিলের ৫৬ রানের উপর ভর করে ২৮৫ রানের সংগ্রহ পায় ভারত। ইন্দোরে সিরিজ নির্ধারর্ণী ম্যাচে রোববার ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে নিউ জিল্যান্ড। এরপর দুইদল ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে মুখোমুখি হবে।
পাঁচ বছর পর শীর্ষে কোহলি

পাঁচ বছর পর শীর্ষে কোহলি ওয়ানডে ক্রিকেটে দুর্দান্ত সময় কাটাচ্ছেন বিরাট কোহলি। টানা পাঁচ ম্যাচে অন্তত পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলার সুফল পেলেন ভারতের এই তারকা ব্যাটার। প্রায় পাঁচ বছর পর আইসিসি ওয়ানডে ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে এসেছেন কোহলি। গতকাল আইসিসি প্রকাশিত সাপ্তাহিক হালনাগাদে দেখা যায়, পুরুষদের ওয়ানডে ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর থেকে তিনে নেমে গেছেন ভারতের বর্তমান অধিনায়ক রোহিত শর্মা। তার জায়গা দখল করেছেন বিরাট কোহলি। আর তিন নম্বর থেকে দুইয়ে উঠে এসেছেন নিউজিল্যান্ডের ড্যারেল মিচেল। সবশেষ ২০২১ সালে ওয়ানডে ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিলেন কোহলি। এরপর দীর্ঘ সময় শীর্ষস্থান দখলে রাখেন পাকিস্তানের বাবর আজম। ২০২২ সালে এক পর্যায়ে সেরা দশ থেকেও ছিটকে যান কোহলি। তবে ২০২৩ সাল থেকে শুরু হয় তার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন। ২০২৫ সালের শেষ দিকে দুই নম্বরে ওঠার পর এবার রোহিত শর্মাকে টপকে আবারও এক নম্বরে জায়গা করে নিলেন তিনি। কোহলি ছাড়া ওয়ানডে ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। ভারতের কেএল রাহুল ও শ্রীলঙ্কার পাথুম নিসাঙ্কা এক ধাপ করে এগিয়েছেন। রাহুল বর্তমানে ১১তম এবং নিসাঙ্কা রয়েছেন ১৪তম স্থানে। বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে সেরা অবস্থানে আছেন তাওহীদ হৃদয়। ৫৬৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে তিনি আছেন ৩৩ নম্বরে। আর নাজমুল হোসেন শান্ত রয়েছেন ৪১তম স্থানে, যিনি শীর্ষ ৫০-এর মধ্যে থাকা আরেক বাংলাদেশি ব্যাটার। এদিকে ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশ বোলার ও অলরাউন্ডারদের তালিকায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। বোলারদের মধ্যে শীর্ষে আছেন আফগানিস্তানের রশিদ খান। আর অলরাউন্ডারদের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন আরেক আফগান তারকা আজমাতুল্লাহ ওমরজাই।
পরিচালক নাজমুলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ বিসিবির

পরিচালক নাজমুলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ বিসিবির আপত্তিকর মন্তব্য করায় বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তাকে কারণ দর্শানোর জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বিসিবি। পাশাপাশি বিপিএলের চূড়ান্ত পর্ব নির্বিঘ্নে শেষ করতে ক্রিকেটারদের সহায়তা চাওয়া হয়। এর আগে, গতকাল বিকেলে বিসিবি পরিচালক ও অর্থ কমিটির প্রধান এম নাজমুল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেললে ক্রিকেটারদের ক্ষতি বিষয়ক সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘তারা গিয়ে যদি কিছুই না করতে পারে, তাহলে ওদের পিছনে আমরা যে এত কোটি কোটি টাকা খরচ করছি, আমরা কি ওদের কাছ থেকে ওই টাকা ফেরত চাচ্ছি নাকি।’ এ ছাড়া কয়েকদিন আগে তামিম ইকবালকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভারতীয় দালাল’ বলে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন তিনি। একের পর এক এমন আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে নাজমুল ইসলামকে আজ দুপুর একটায় বিপিএলের ম্যাচের আগে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিয়েছেন ক্রিকেটাররা। তিনি পদত্যাগ না করলে সব ধরনের খেলা বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন। গতকাল রাতে জুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, ক্রিকেটারদের নিয়ে নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মোহাম্মদ মিঠুন বলেন, গত কিছুদিন ধরে আপনারা দেখছেন একজন বোর্ড পরিচালক যেভাবে প্লেয়ারদের নিয়ে মন্তব্য করছেন, একজন দায়িত্বরত বোর্ড পরিচালক কখনো এভাবে প্লেয়ারদের নিয়ে কথা বলতে পারেন না। আমরা উনার পদত্যাগ চাচ্ছি। উনি যদি আজ বিপিএলের প্রথম ম্যাচের আগে পদত্যাগ না করেন, তাহলে আমরা সব ধরনের ক্রিকেট বন্ধ ঘোষণা করছি। এসব ঘটনায় গতকাল রাতেই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বোর্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনো পরিচালকের ব্যক্তিগত মন্তব্যের দায় বিসিবি বহন করবে না এবং ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছে, বোর্ডের একজন সদস্যের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য অনুচিত, আপত্তিকর এবং খেলোয়াড়দের জন্য কষ্টদায়ক হতে পারে। এ ধরনের বক্তব্যের জন্য বোর্ড আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে। বিসিবি মনে করে, এ সব মন্তব্য বোর্ডের মূলনীতি ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিসিবি কঠোরভাবে সতর্ক করে দিয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি যদি ক্রিকেটারদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ করেন কিংবা বাংলাদেশের ক্রিকেটের সুনাম ও ভাবমূর্তির ক্ষতি করেন, তবে তার বিরুদ্ধে যথাযথ শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বোর্ড বুঝিয়ে দিয়েছে যে, পরিচালকের পদে থাকলেও কাউকেই জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে রাখা হবে না। বোর্ড তার বিজ্ঞপ্তিতে পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, ক্রিকেটাররাই বাংলাদেশ ক্রিকেটের মূল কেন্দ্রবিন্দু। অতীতে এবং বর্তমানে যারা দেশের জন্য অবদান রেখেছেন, তাদের প্রতি বিসিবির পূর্ণ সম্মান ও সমর্থন রয়েছে। খেলোয়াড়দের মর্যাদা ও কল্যাণ রক্ষায় বিসিবি সবসময় অটল থাকবে এবং ক্রিকেটের প্রতিটি স্তরে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা হবে।
বছরে তিনটির বেশি বিদেশি লিগ খেলতে পারবেন না রশিদ-নবীরা

বছরে তিনটির বেশি বিদেশি লিগ খেলতে পারবেন না রশিদ-নবীরা আফগান ক্রিকেটারদের দেশের বাইরে লিগে অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন নীতি গ্রহণ করেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। নতুন নীতি অনুযায়ী- ইচ্ছেমতো সব লিগে খেলার অনুমতি আর দেওয়া হবে না রশিদ খান, মোহাম্মাদ নবীদেরকে। বছরে তিনটির বেশি বিদেশের লিগে খেলতে পারবেন না তারা। কাবুলে এসিবির বার্ষিক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসিবির বিবৃতিতে বলা হয়, নানা দিক ভাবনায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্রিকেটারদের ফিটনেসের সুরক্ষা ও মানসিকভাবে ভালো থাকার ব্যাপারটিকে প্রাধান্য দিয়ে বিদেশি লিগের ব্যাপারে নতুন নীতি অনুমোদন করেছে বোর্ড। ক্রিকেটাররা এখন থেকে আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগ এবং আর মাত্র তিনটি আন্তর্জাতিক লিগে খেলতে পারবেন। ক্রিকেটারদের ওয়ার্কলোড সামলানো এবং জাতীয় দলের হয়ে সেরা পারফরম্যান্স নিশিচত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে আফগান ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকা রাশিদ খানের ওপর। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সফলতম বোলার আইপিএলে খেলছেন গুজরাট টাইটান্সে। চলতি এসএ টোয়েন্টিতে এমআই কেপ টাউনের অধিনায়ক তিনি। এই ফ্র্যাঞ্চাইজিরই অন্যান্য লিগের দল এমআই এমিরেটস ও এমআই নিউ ইয়র্কে তিনি খেলে থাকেন। এছাড়া অন্যান্য প্রায় সব লিগেই তিনি খেলেন বা খেলেছেন নানা সময়ে। এছাড়াও মোহাম্মাদ নবী, নুর আহমাদ, আজমাতউল্লাহ ওমারজাই, রাহমানউল্লাহ গুরবাজ, মুজিব উর রাহমান, এএম গাজানফার, নাভিন উল হাক, ফাজালহাক ফারুকিদের দেখা যায় বিভিন্ন লিগে। আফগান বোর্ডের সভাপতি এখন মিরওয়াইস আশরাফ, যিনি রাশিদ-নাবিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলেছেন দীর্ঘদিন। ক্রিকেটারদের বিদেশের লিগে খেলার ক্ষেত্রে নানারকম বাধ্যবাধ্যকতা আছে অন্য কিছু দেশের বোর্ডেরও। ভারতের ক্রিকেটাররা দেশের বাইরের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার অনুমতি পান না। পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের বছরে দুটি বিদেশি লিগে খেলার ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
মত প্রকাশে কখনোই রাখঢাক করেন না আসিফ

মত প্রকাশে কখনোই রাখঢাক করেন না আসিফ স্পষ্টভাষী হিসেবে শিল্পীসমাজে আলাদা পরিচিতি রয়েছে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের। নিজের ভাবনা কিংবা মতামত প্রকাশে তিনি কখনোই রাখঢাক করেন না। এ কারণেই প্রশংসার পাশাপাশি মাঝেমধ্যে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয় তাকে। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের একটি অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে হাজির হন আসিফ আকবর। অনুষ্ঠানে উপস্থাপক দেশের কয়েকজন তারকার নাম উল্লেখ করে জানতে চান—তাদের সামনে পেলে কী প্রশ্ন করতে চান এই সোজাসাপ্টা গায়ক। এ সময় চিত্রনায়িকা পরীমণিকে নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানান আসিফ। তিনি বলেন, ‘পরীমণিকে যতটুকু দেখি, সে একটু খামখেয়ালী। তাকে আমি প্রশ্ন করতে চাই—তুমি আমাদের মুক্তি দেবে কবে? তুমি একটা কিছু করো, সেটেল ডাউন হও। কীভাবে করবে, সেটাও আমাকে বলো।’ পরীমণির ব্যক্তিত্ব প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘পরীমণির সঙ্গে এ নিয়ে আগেও কথা হয়েছে। সে সবসময় হাসিখুশি থাকে, সবকিছু খুব ক্যাজুয়ালি নেয়। এটা ওর একটা দারুণ দিক।’ শুধু তাই নয়, ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানকে নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে আসিফ আকবরের। তিনি বলেন, শাকিব খানের সঙ্গে দেখা হলে জানতে চাইবেন—‘আপনি যখন ডায়লগ দেন, তখন একরকম শোনায়। কিন্তু গানের সময় হঠাৎ গলা চিকন, একটু মেয়েলি হয়ে যায়। যেখানে এন্ড্রু কিশোর, মিলু ভাই, সৈয়দ আব্দুল হাদীর মতো কিংবদন্তিরা কণ্ঠ দিয়েছেন, সেখানে এখন যাদের সঙ্গে আপনি ঠোঁট মেলাচ্ছেন, সেই টোনটা আপনার সঙ্গে ঠিক যাচ্ছে না। আপনি এটা কীভাবে এনজয় করছেন?’ এ প্রসঙ্গে আসিফ আরও বলেন, ‘প্লেব্যাকের নিজস্ব একটা ব্যাকরণ আছে। সেটার দিকেও শিল্পীদের নজর দেওয়া জরুরি।’ এখানেই থেমে থাকেননি এই গায়ক। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা মাহফুজ এনাম জেমসকেও প্রশ্ন করতে চান তিনি। আসিফের ভাষায়, ‘আপনি এত বড় একজন শিল্পী। কিন্তু দেশের কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে আপনাকে দেখা যায় না। আপনার ফেসবুক আছে, নানা বিষয় শেয়ার করেন। কিন্তু শিল্পীদের সমস্যা বা দেশের সংকট নিয়ে কিছু বলেন না। আপনার মুখ থেকে কিছুই বের হয় না!’ সব মিলিয়ে আবারও নিজের স্পষ্টভাষী অবস্থানের মাধ্যমে আলোচনায় উঠে এলেন আসিফ আকবর। তার এমন খোলামেলা মন্তব্যে নেটিজেনদের মধ্যেও শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
নির্বাচনের আগে নেপালের সবচেয়ে পুরোনো দল বিভক্ত

নির্বাচনের আগে নেপালের সবচেয়ে পুরোনো দল বিভক্ত নেপালে আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনের আগে, দেশটির সবচেয়ে পুরোনো রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেসে ভাঙন দেখা দিয়েছে। দলটির বিদ্রোহী একটি অংশ সর্বসম্মতিক্রমে নতুন সভাপতি নির্বাচন করেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। এই বিভাজন নেপালের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গত সেপ্টেম্বর দুর্নীতি, শাসন ব্যবস্থার ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে দেশজুড়ে হওয়া বিক্ষোভে নেপালের আগের সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। আজ ভোরে দেওয়া বক্তব্যে নেপালি কংগ্রেসের নব-নির্বাচিত সভাপতি গগন থাপা বলেন, ‘আমি আপনাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমাকে নেপালি কংগ্রেসের মতো একটি দলের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে । এটি ছোট কোনো দায়িত্ব নয়। আমি আন্তরিকভাবে অঙ্গীকার করছি যে আপনাদের হতাশ করব না।’ তবে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে। নেপালি কংগ্রেসের কোন অংশটি বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং আগামী ৫ মার্চ নির্ধারিত নির্বাচনে ঐতিহ্যবাহী গাছ প্রতীক ও দলীয় পতাকা ব্যবহার করতে পারবে। নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র নারায়ণ প্রসাদ ভট্টারাই এএফপিকে বলেন, ‘কমিশন চিঠিপত্র পেয়েছে এবং এ বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবে।’ পাঁচবারের প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা ২০১৬ সাল থেকে নেপালি কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবিতে বিদ্রোহী নেতারা একটি বিশেষ সম্মেলনের আহ্বান করেন। বিভক্তি এড়াতে বুধবার পর্যন্ত আলোচনা চললেও, শের বাহাদুর দেউবার সরে দাঁড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরে থাপাসহ দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয় এবং বিদ্রোহী অংশ গগন থাপাকে তাদের সভাপতি নির্বাচন করে। ৪৯ বছর বয়সী গগন থাপা নেপালি কংগ্রেসের তরুণ প্রজন্মের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং তিনি আগে দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। নেপালি কংগ্রেসের এই ভাঙন দেশটির রাজনীতিতে বৃহত্তর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে প্রজন্মগত পরিবর্তন ও রাজনৈতিক জবাবদিহিতার দাবি পুরোনো দলগুলোর কাঠামো বদলে দিচ্ছে এবং নতুন মুখদেরকে রাজনীতিতে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করছে। গত সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ৭৩ বছর বয়সী সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা আরোপকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভে অন্তত ৭৭ জন নিহত হন। বছরের পর বছর অর্থনৈতিক স্থবিরতায় জন-অসন্তোষ আরও তীব্র হয়। অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি আগামী নির্বাচনের জন্য একটি ‘ন্যায্য ও ভয়মুক্ত’ পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ইরানে হামলার শঙ্কা: আতঙ্কে সৌদি, আমিরাত ও কাতার

ইরানে হামলার শঙ্কা: আতঙ্কে সৌদি, আমিরাত ও কাতার ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ওপর তেহরানের কঠোর দমনপীড়ন এবং ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একটি অনিয়ন্ত্রিত আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলো। তেহরান ইতিমধ্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যেসব প্রতিবেশী দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, ওয়াশিংটন যদি ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে তবে সেই ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানা হবে। এমন হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের অতিসত্ত্বর ইরান ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে।প্রয়োজনে তুরস্ক বা আর্মেনিয়া হয়ে স্থলপথে সীমান্ত পার হওয়ার নির্দেশনা জারি করেছে। এদিকে ইরানের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইসরায়েল সরাসরি বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানালেও সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিক্ষোভকারীদের সাহসের প্রশংসা করে ইরানে একটি নতুন গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে দেশটির সামরিক বাহিনী যেকোনো আকস্মিক পরিস্থিতির জন্য নিজেদের প্রস্তুত রেখেছে। উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত সংঘাত হয়েছিল। ইরানের পরমাণু ও সামরিক স্থাপনায় নজিরবিহীন হামলা চালানো হয়। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই এবার বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে সব পক্ষ। আরব দেশগুলোর মধ্যে বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমানে চরম সাবধানতা বজায় রাখছে। চীনের মধ্যস্থতায় ২০২৩ সালে ইরানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোড়া লাগানোর পর রিয়াদ এখন আর নতুন কোনো দ্বন্দ্বে জড়াতে আগ্রহী নয়। বিশেষ করে সৌদি আরব সরাসরি তেহরানকে আশ্বস্ত করেছে, ইরানের ওপর হামলার জন্য তারা তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না। সৌদি বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে যদি সম্পূর্ণ অরাজকতা তৈরি হয় বা বর্তমান সরকারের পতন ঘটে, তবে সেই বিশৃঙ্খলা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে। এটা রিয়াদের অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনার জন্য বড় হুমকি। একই সুর শোনা যাচ্ছে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কণ্ঠেও। কাতার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ের সাথেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে, তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যে কোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা এই অঞ্চলের জন্য বিপর্যয়কর ফলাফল বয়ে আনবে। গত জুনে কাতারে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার স্মৃতি এখনো দগদগে। অন্যদিকে ইরাকও এই সংকটের বাইরে নয়। যুদ্ধের আঁচ যেন তাদের সীমানায় না পৌঁছায় সে জন্য বাগদাদ কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরাক বর্তমানে কোনো পক্ষ নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই এবং সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনা ও ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে দেশটি চরম বিপাকে পড়বে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে সবাই চাইছে বড় কোনো সংঘাত এড়িয়ে শান্তি বজায় রাখতে।
দোলাচলে গ্রিনল্যান্ডবাসী, সেনা উপস্থিতি বাড়াচ্ছে ডেনমার্ক

দোলাচলে গ্রিনল্যান্ডবাসী, সেনা উপস্থিতি বাড়াচ্ছে ডেনমার্ক হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে একসঙ্গে উদ্বেগ ও স্বস্তির অনুভূতি দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রে থাকা দ্বীপটি নিয়ে বুধবার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন আর্কটিক এই ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ‘মৌলিক মতপার্থক্যের’ কথা জানান। অন্যদিকে ট্রাম্প বলেন, তিনি মনে করেন ‘ শেষ পর্যন্ত কিছু একটা সমাধান আসবে।’ এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প অনমনীয় মনোভাব প্রকাশের পর সেখানে সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোপেনহেগেন। ইতোমধ্যে ডেনমার্কের সেনাবাহিনীর অগ্রবর্তী কমান্ডের বেশ কয়েকটি ইউনিটকে গ্রিনল্যান্ডে পাঠানোর প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। ডেনমার্কের সংবাদমাধ্যম ডিআর-এর বরাতে আরও জানা গেছে, সেনাবাহিনীর অগ্রবর্তী কমান্ডের এই ইউনিটগুলোর মূল দায়িত্ব হবে গ্রিনল্যান্ডে আরও বেশি সংখ্যক সেনা উপস্থিতির জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনা তৈরি করা। ডেনমার্কের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল এনহেডস্লিস্টেন পার্টি সরকারের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। এনহেডস্লিস্টেন পার্টির এক মুখপাত্র এ প্রসঙ্গে ডি আর-কে বলেন, আমরা গত সপ্তাহে সরকারকে এমন একটি অনুরোধ করেছিলাম। এটা খুবই সময়োপযোগী পদক্ষেপ এবং আমরা সংবাদ পেয়েছি যে ইউরোপের অন্যান্য দেশও গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠাচ্ছে। গ্রিনল্যান্ডে যদি কোনো বড় শক্তি হামলা করতে চায়, সেক্ষেত্রে এটা সেই বড় শক্তির উদ্দেশে পাঠানো স্পষ্ট সতর্কতা সঙ্কেত। উল্লেখ্য, বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের আয়তন ২১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা মাত্র ৫৬ হাজার ৫৮৩ জন। এই জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশই ইনুইট জাতিগোষ্ঠীভুক্ত। গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান উত্তর আমেরিকা অঞ্চলে হলেও এই দ্বীপটি ডেনমার্কের অধীন একটি স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রদেশ। এ দ্বীপের বাসিন্দারাও ডেনমার্ক এবং ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নাগরিক।