বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ সরে গেলে ভারতের ক্ষতি কতটা

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ সরে গেলে ভারতের ক্ষতি কতটা আসন্ন টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচের তিনটি কলকাতার ইডেন গার্ডেনে এবং একটি মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে আইপিএল থেকে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ইস্যুকে কেন্দ্র করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবি। নিরাপত্তা ইস্যুর কথা উল্লেখ করে বিসিবি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল আইসিসিকে জানিয়েছে, ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ দল পাঠানো হবে না। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো অন্য ভেন্যুতে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বোর্ড। এ বিষয়ে আইসিসি এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে ক্রিকেটবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজ জানিয়েছে, তাদের সূত্র অনুযায়ী ভারত থেকে বাংলাদেশের ম্যাচ সরে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বাস্তবে যদি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে বিশ্বকাপে ভারতের ক্ষতি কতটা হতে পারে, সেই হিসাব প্রকাশ করেছে দেশটির সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ম্যাচ সরে গেলে আইসিসির কেন্দ্রীয় রাজস্ব বা সম্প্রচার আয় বড় ধরনের প্রভাবের মুখে পড়বে না। তবে ম্যাচ ডে আয়, স্পনসরশিপ এবং স্থানীয় অ্যাক্টিভেশন ভ্যালুতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্বকাপের সি গ্রুপে থাকা বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ ইডেন গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওই তিন ম্যাচের পর নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল ওয়াংখেড়েতে। ইডেন গার্ডেনের দর্শক ধারণক্ষমতা প্রায় ৬৩ হাজার এবং ওয়াংখেড়ের ধারণক্ষমতা প্রায় ৩৩ হাজার। এ হিসাবে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচে মোট প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার টিকিট বিক্রির সম্ভাবনা ছিল। আইসিসির ঘোষিত তথ্য অনুযায়ী, ভারতের ম্যাচগুলোর টিকিটের দাম শুরু ১০০ রুপি থেকে। তবে অফিসিয়াল টিকিট ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, বাংলাদেশ ইতালি ম্যাচে সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ১০০ রুপি হলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশের ম্যাচে সেই দাম ছিল ৩০০ রুপি। মুম্বাইয়ে বাংলাদেশ নেপাল ম্যাচের টিকিটের দাম শুরু হয়েছে ২৫০ রুপি থেকে। হিন্দুস্থান টাইমস আরও জানিয়েছে, টিকিট বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থের সরাসরি মালিক বিসিসিআই নয়। আইসিসির টিকিট নীতিমালা অনুযায়ী, টিকিটের মালিকানা থাকে আইসিসি বিজনেস করপোরেশনের হাতে। বিসিসিআই টুর্নামেন্টের আয়োজক হিসেবে মাঠ পরিচালনা ও অপারেশনাল চুক্তির আওতায় নির্ধারিত অর্থ পায়। এই কারণে বিসিসিআইয়ের মূল ক্ষতিটা হবে ম্যাচ ডে ভিত্তিক উদ্বৃত্ত আয় থেকে। এর মধ্যে রয়েছে স্পনসরশিপ, স্থানীয় অ্যাক্টিভেশন, আতিথেয়তা এবং ভেন্যু কেন্দ্রিক অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম। এসব খাত থেকেই বড় অঙ্কের অর্থ হারাতে পারে ভারতের বোর্ড। হিন্দুস্থান টাইমসের বিশ্লেষণে আইসিসির সামনে তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে। প্রথমত, যদি বাংলাদেশের সব ম্যাচ ভারত থেকে একেবারে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং তার পরিবর্তে অন্য কোনো ম্যাচ ভারতে না দেওয়া হয়, তাহলে আনুমানিক ৭ থেকে ৩০ কোটি রুপি পর্যন্ত আয় ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এই হিসাব করা হয়েছে ৬০ থেকে ৯০ শতাংশ দর্শক উপস্থিতি এবং গড় টিকিট মূল্য ৫০০ থেকে ১৫০০ রুপি ধরে। দ্বিতীয় পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশের ম্যাচ সরিয়ে নেওয়া হলেও যদি তার বদলে অন্য ম্যাচ ভারতে আয়োজন করা হয়, তাহলে ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কমতে পারে। সে ক্ষেত্রে ক্ষতির অঙ্ক নির্ভর করবে বিকল্প হিসেবে কোন ম্যাচ দেওয়া হচ্ছে তার ওপর। তৃতীয় পরিস্থিতিতে, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে সহ আয়োজক হিসেবে শুধু ভেন্যু ও তারিখ অদলবদল করা হলে এবং ভারতে মোট ম্যাচের সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকলে রাজস্বে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না। সেক্ষেত্রে ক্ষতি সীমাবদ্ধ থাকবে লজিস্টিকস ও নতুন করে সূচি সাজানোর অতিরিক্ত খরচে। সব মিলিয়ে আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে, বাংলাদেশের ম্যাচ সরে গেলে বিশ্বকাপে ভারতের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ঠিক কতটা হবে।

ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন শফিউল

ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন শফিউল নিয়মিত ঘরোয়া লিগগুলোতে খেললেও, দীর্ঘদিন ধরেই নেই জাতীয় দলে। এক সময় দলের ভরসার প্রতীক ছিলেন শফিউল ইসলাম। তবে সেই পথচলাকেও এবার বিদায় বলে দিলেন তিনি।  রবিবার (৪ জানুয়ারি) রাতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন শফিউল। পোস্টে জাতীয় দলের সাবেক এই পেসার লিখেছেন, আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তটি নিতে যাচ্ছি। আমি শফিউল ইসলাম, আজ থেকে সকল ধরনের প্রফেশনাল ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিচ্ছি। বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সি গায়ে জড়ানো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয় ছিল। তিনি আরও লিখেছেন, এই দীর্ঘ পথচলায় পাশে থাকার জন্য আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), আমার সকল সতীর্থ, কোচ এবং অগনিত ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসা ছাড়া আজকে পর্যন্ত আসা সম্ভব ছিল না। শফিউল জানান, অনিচ্ছাকৃতভাবে যদি আমি কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকি বা কেউ আমার ব্যবহারে মনক্ষুণ্ন হন, তাহলে দয়া করে ক্ষমা করে দেবেন। নতুন জীবনে পদার্পণ করছি, সবাই আমার এবং আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। ক্রিকেটের সাথে ছিলাম, ক্রিকেটের সাথেই থাকব।  ধন্যবাদ সবাইকে। ২০০৭ সালে লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ দিয়ে ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু শফিউলের। শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ২০২০ সালের মার্চে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে। ৩৬ বছর বয়সী পেসার সব মিলিয়ে ৯১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন, উইকেট ১০৭টি।

বাংলাদেশে আইপিএলের সব সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশ

বাংলাদেশে আইপিএলের সব সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশ ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) দল থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সব খেলা ও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান প্রচার ও সম্প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সই করেন সহকারী সচিব ফিরোজ খান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃক আগামী ২৬ মার্চ ২০২৬ থেকে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) ক্রিকেট খেলায় বাংলাদেশের তারকা খেলোয়াড় মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এহেন সিদ্ধান্তের কোনো যৌক্তিক কারণ জানা নেই এবং এমন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণকে ব্যথিত, মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে। এমতাবস্থায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল)-এর সব খেলা এবং অনুষ্ঠান প্রচার/সম্প্রচার বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে ও জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হলো। উল্লেখ্য, ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী দলগুলোর লাগাতার বিক্ষোভের মুখে গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার নির্দেশনা দেন। এর পরপরই কলকাতা নাইট রাইডার্স আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, মুস্তাফিজ আর তাদের স্কোয়াডে নেই। খেলোয়াড়দের প্রতি এমন আচরণের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপকে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা সমর্থন জানাচ্ছেন। এর ফলে ২০২৬ সালের আইপিএল বাংলাদেশের কোনো টেলিভিশন চ্যানেল বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দেখা যাবে না।

শীতে খসখসে হাত ঘরোয়া যত্নেই ফিরুক নরম মসৃণ স্পর্শ

শীতে খসখসে হাত ঘরোয়া যত্নেই ফিরুক নরম মসৃণ স্পর্শ শীত এলেই ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দেয়। মুখের সঙ্গে সঙ্গে হাতের ত্বকও হয়ে ওঠে রুক্ষ ও খসখসে। অনেকের ক্ষেত্রে হাত ফাটা, সাদা সাদা খোসা ওঠা কিংবা জ্বালাপোড়ার সমস্যাও দেখা দেয়। তবে একটু যত্ন নিলেই শীতকালেও হাত রাখা যায় নরম ও সুন্দর। সবচেয়ে ভালো খবর হলো এই যত্নের বেশিরভাগ উপকরণই রয়েছে ঘরের হাতের কাছেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতে ত্বকের আর্দ্রতা দ্রুত কমে যায়। তাই নিয়মিত ময়েশ্চারাইজিংয়ের পাশাপাশি সপ্তাহে এক-দু’দিন স্ক্রাব ও প্যাক ব্যবহার করলে হাতের ত্বক সুস্থ থাকে। জেনে নিন সহজ কিছু ঘরোয়া উপায় ১. চিনি ও অলিভ অয়েলের স্ক্রাব দুই চা-চামচ চিনি ও আধা চা-চামচ অলিভ অয়েল ভালো করে মিশিয়ে নিন। দু’মিনিট হাতে আলতো করে ম্যাসাজ করুন। এটি ডেড স্কিন তুলে ত্বককে মসৃণ করবে। এয়ারটাইট কৌটোয় রেখে এই স্ক্রাব বেশ কয়েকদিন ব্যবহার করা যায়। ২. আলু ও আমন্ড অয়েলের প্যাক একটি ছোট আলু সেদ্ধ করে ঠাণ্ডা হলে থেঁতো করুন। তার সঙ্গে এক চা-চামচ আমন্ড অয়েল মিশিয়ে হাতে লাগান। ১৫ মিনিট রেখে উষ্ণ জলে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বক নরম হবে ও ফাটাভাব কমবে। ৩. রাতভর তেলের যত্ন ঘুমানোর আগে হাতে নারকেল তেল, ক্যাস্টর অয়েল বা অলিভ অয়েল লাগিয়ে নিন। এরপর কটন গ্লাভস পরে শুতে গেলে তেল ভালোভাবে শোষিত হবে এবং সকালে হাত থাকবে মসৃণ। ৪. ডিটারজেন্ট থেকে সুরক্ষা বাসন মাজা বা কড়া ডিটারজেন্ট ব্যবহারে হাত বেশি রুক্ষ হয়ে পড়ে। যারা নিয়মিত এসব কাজে যুক্ত, তারা অবশ্যই রাতে শোবার আগে হ্যান্ড ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করবেন। ৫. কলা ও দুধের সর পাকা কলা চটকে তার সঙ্গে সামান্য দুধের সর মিশিয়ে দু’হাতে লাগান। এটি প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে এবং ত্বকে উজ্জ্বলতাও বাড়ায়। ৬. হাতেও সানস্ক্রিন জরুরি বাইরে বেরোনোর সময় মুখে সানস্ক্রিন লাগালেও অনেকেই হাতে লাগাতে ভুলে যান। এর ফলে হাত দ্রুত ট্যান হয়ে যায়। মুখ ও ঘাড়ের পাশাপাশি হাতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করাও জরুরি। ৭. নখ ও কিউটিকলের যত্ন পুরনো নেলপালিশ তুলে ফেলুন। সময় পেলে ম্যানিকিওর করাতে পারেন। চাইলে ঘরেই নখের যত্ন নেওয়া যায়। ৮. কিউটিকল পরিষ্কার করার সহজ উপায় গরম পানিতে মাইল্ড শ্যাম্পু মিশিয়ে তাতে কিছুক্ষণ হাত ডুবিয়ে রাখুন। এরপর নরম ব্রাশ দিয়ে কিউটিকল পরিষ্কার করুন। শেষে ভালো করে হ্যান্ড ক্রিম লাগাতে ভুলবেন না। শীত মানেই রুক্ষ হাত নয়। নিয়মিত যত্ন ও ঘরোয়া টোটকায় সহজেই শীতকাল জুড়েই হাত রাখতে পারেন নরম, মসৃণ ও সুন্দর।

পাম স্প্রিংস উৎসবে হাজির হতে পারলেন না লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও

পাম স্প্রিংস উৎসবে হাজির হতে পারলেন না লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে রাজধানী কারাকাস থেকে তুলে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নেওয়ার ঘটনার পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যেমন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তেমনি এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক বিমান চলাচলেও। সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতিতে কিছু এলাকায় বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলে তার আঁচ গিয়ে লাগে হলিউড তারকা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর ওপর। আকাশসীমা সীমিত হয়ে পড়ায় ক্যারিবীয় দ্বীপ সেন্ট বার্থেলেমিতে আটকা পড়েন ডিক্যাপ্রিও। ফলে ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত পাম স্প্রিংস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের গালা অ্যাওয়ার্ডসে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি তিনি।উৎসবে তার অভিনীত নতুন সিনেমা ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’এর জন্য তাকে ডেজার্ট পাম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করার কথা ছিল। তবে ভ্রমণ জটিলতার কারণে সেই সম্মাননা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। বিনোদনবিষয়ক গণমাধ্যম ভ্যারাইটির প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘাতের পর আরোপিত এলাকাভিত্তিক বিমান উড্ডয়নের নিষেধাজ্ঞার কারণেই সেন্ট বার্থেলেমি ত্যাগ করতে পারেননি ডিক্যাপ্রিও। নতুন বছরের আগে সেখানে তাকে পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে ছুটি কাটাতে দেখা গেছে। সেই দলে ছিলেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস ও তার সঙ্গী লরেন স্যানচেজও। পাম স্প্রিংস চলচ্চিত্র উৎসবের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, “অপ্রত্যাশিত ভ্রমণ বাধা ও সীমিত আকাশসীমার কারণে লিওনার্দো আজ আমাদের সঙ্গে সশরীরে থাকতে পারছেন না। তবুও তার অসাধারণ কাজ এবং চলচ্চিত্র জগতে দীর্ঘদিনের অবদানকে সম্মান জানাতে পেরে আমরা গর্বিত।উল্লেখ্য, ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ সিনেমাটিতে ডিক্যাপ্রিও একজন সাবেক বিপ্লবীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। গল্প অনুযায়ী, নিজের কন্যাকে উদ্ধারের জন্য তাকে আবারও ফিরতে হয় সেই বিপজ্জনক ও সহিংস অতীত জীবনে। সিনেমাটি মুক্তির আগেই ডিক্যাপ্রিওর অভিনয় ঘিরে সমালোচকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা যে বিনোদন জগতেও অপ্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারে, ডিক্যাপ্রিওর এই ঘটনা তারই সাম্প্রতিক উদাহরণ।

মার্ভেল ভক্তদের নতুন থিওরিতে তোলপাড়

মার্ভেল ভক্তদের নতুন থিওরিতে তোলপাড় মার্ভেল ভক্তদের উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ ঘিরে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। এরই মধ্যে তিনটি টিজার সামনে এসেছে যার মধ্যে দুটি ইতোমধ্যেই অফিসিয়ালি মুক্তি পেয়েছে। টিজারগুলোতে নতুন চরিত্র, অন্ধকারাচ্ছন্ন আবহ আর ভয়ংকর হুমকির ইঙ্গিত মিললেও, সিনেমার শেষ পরিণতি নিয়ে মার্ভেল স্টুডিও এখনও পুরোপুরি মুখ খোলেনি। তবে এই অনিশ্চয়তার মাঝেই সামাজিক মাধ্যম রেডিটে ছড়িয়ে পড়েছে একেবারেই ভিন্নধর্মী ও চাঞ্চল্যকর এক থিওরি। ভক্তদের একাংশ দাবি করছেন, অ্যাভেঞ্জার্স সিরিজের প্রতিটি সিনেমার লোগোর মধ্যেই নাকি লুকিয়ে থাকে গল্পের ফলাফল! রেডিটের সেই থিওরি অনুযায়ী, অ্যাভেঞ্জার্স লোগোর ‘A’ অক্ষরের পাশে ও নিচে থাকা সার্কেল বা বৃত্তের নকশা নাকি ইঙ্গিত দেয় শেষ পর্যন্ত অ্যাভেঞ্জার্স জিতবে, নাকি পরাজয়ের স্বাদ পাবে। আগের সিনেমাগুলোর লোগো বিশ্লেষণ করে তারা দাবি করছেন, যেসব ছবিতে সার্কেলটি সম্পূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ ছিল, সেখানে অ্যাভেঞ্জার্সের জয় নিশ্চিত হয়েছে।আর যেখানে সার্কেলটি ভাঙা, অসম্পূর্ণ বা ছায়ায় ঢাকা ছিল, সেখানে গল্পের শেষটা হয়েছে আরও অন্ধকার ও ট্র্যাজিক।এই সূত্র ধরে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ এর প্রকাশিত লোগো বিশ্লেষণ করে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এবার হয়তো অ্যাভেঞ্জার্সদের জন্য অপেক্ষা করছে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন পরিণতি। যদিও অনেকে আবার এটিকে নিছক কাকতালীয় বলেই মনে করছেন।এদিকে মার্ভেল স্টুডিও এই থিওরি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য না করলেও, ভক্তদের আলোচনায় স্পষ্ট ডুমসডে শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং মার্ভেল ইউনিভার্সের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এক বড় মোড় হতে চলেছে। সব মিলিয়ে, লোগোর ছোট্ট একটি সার্কেল ঘিরেই এখন তুমুল উত্তেজনা। সত্যিই কি মার্ভেল এত সূক্ষ্মভাবে আগাম ইঙ্গিত দেয়, নাকি সবটাই ভক্তদের কল্পনার ফসল তা জানতে হলে অপেক্ষা করতে হবে সিনেমা মুক্তি পর্যন্তই।  

কোরিয়ার বরেণ্য অভিনেতা আন সাং-কি মারা গেছেন

কোরিয়ার বরেণ্য অভিনেতা আন সাং-কি মারা গেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার বরেণ্য অভিনেতা আন সাং-কি মারা গেছেন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে সিউলের সুনচুনহিয়াং বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। দক্ষিণ কোরিয়ার আধুনিক চলচ্চিত্রের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেন আন সাং-কি। দ্য কোরিয়া টাইমস এ খবর প্রকাশ করেছে। এ প্রতিবেদন জানানো হয়েছে, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর বাড়িতে খাবার খাওয়ার সময়ে আন সাং-কির গলায় খাবার আটকে গিয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। অচেতন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সুনচুনহিয়াং বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু কোনো চেষ্টায় তাকে ফেরানো যায়নি। মৃত্যুর সময়ে তার পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ২০১৯ সালে আন সাং-কির ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসার পর ২০২০ সালে জানানো হয়, ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পরবর্তীতে রোগটি আবার ফিরে আসে। তারপর থেকে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন এই অভিনেতা। স্বাস্থ্যগত এতটা চ্যালেঞ্জ থাকার পরও চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। অসুস্থতার পর ২০২৩ সালে একটি চলচ্চিত্র উৎসবে প্রকাশ্যে দেখা দেন এই অভিনেতা। ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন আন। শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে পা রাখেন। কিম কি-ইয়াং নির্মিত ‘দ্য টোয়ালাইট ট্রেন’ তার অভিনীত প্রথম সিনেমা। এটি ১৯৫৭ সালে মুক্তি পায়। একই পরিচালকের বিখ্যাত হরর ঘরানার ‘দ্য হাউজমেইড’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। এটি ১৯৬০ সালে মুক্তি পায়। ছয় দশকের বেশি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১৪০টির বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ‘আ ফাইন, উইন্ডি ডে’ (১৯৮০) এর মতো সিনেমা উপহার দিয়ে সুপারস্টার হয়ে ওঠেন আন। এই সিনেমার জন্য সেরা নতুন অভিনেতা বিভাগে দেইজং ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন তিনি। এরপর ‘চিলসু অ্যান্ড মানসু’, ‘টু কপস’, ‘নোহোয়্যার টু হাইড’, ‘সিলমিডো’, ‘রেডিও স্টার’, ‘দ্য ডিভাইন ফিউরি’-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন এই তারকা।

আনারসের ঢাকা সফর মঞ্চে প্রশংসিত 

আনারসের ঢাকা সফর মঞ্চে প্রশংসিত  টাঙ্গাইলের মধুপুরের একটি বাগানের আনারসের ঢাকায় আগমনকে কেন্দ্র করে শিশুদের জন্য মঞ্চস্থ হচ্ছে ‘আনারসের ঢাকা সফর’ নাটক। নাটকটিতে দেখানো হয়েছে কীভাবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের আনারসগুলো শহরে এসে পৌঁছে, এবং সেই আনারস বিক্রি করে কৃষক ফুলগাজি নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে অগ্রসর হন। নাটকে ফুটে উঠেছে প্রাকৃতিক উপায়ে রসালো আনারস ফলানোর গল্প, যেখানে রাসায়নিক সার ব্যবহারের কোনো স্থান নেই। মধুপুরের বাগানে শেয়াল, কোকিল, কাক, ইঁদুর ও বেড়ালের দুষ্টুমির সঙ্গে আনারসের দীর্ঘদিনের শেকড় ছেড়ে মানুষের কল্যাণে আত্মত্যাগের গল্পও উঠে এসেছে। ঢাকায় কাওরান বাজারে আনারসগুলো পৌঁছালে শহরের ব্যস্ততা এবং দেশের-বিদেশের ফলের সঙ্গে ভিন্ন এক মেলবন্ধন তৈরি হয়। বিক্রির মাধ্যমে কৃষকের সংগ্রাম, আশা ও শ্রমও জীবন্তভাবে উঠে আসে। সব আনারস বিক্রি হয়ে গেলেও দুটো ফিরে আসে মধুপুরে-ফুলগাজির বাগানকে নতুন জীবন দান করে। নাটকটি রচনা করেছেন আনজীর লিটন, নির্দেশনা দিয়েছেন মনামী ইসলাম কনক, সহযোগী নির্দেশক মনিরুজ্জামান রিপন। এটি গত ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে বিকেল মঞ্চস্থ হয়েছে। নাটকটি দর্শকের কাছ থেকে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। ঢাকা লিটল অপেরা শিশুদের সাংস্কৃতিক বিকাশ ও সৃজনশীল চর্চার জন্য একটি আদর্শ প্ল্যাটফর্ম। নাটক, কবিতা আবৃত্তি, পাঠাভিনয়, নৃত্য ও বাচিক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের মঞ্চে উপস্থাপনের অভিজ্ঞতা দেওয়াই প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য। ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা ঢাকা লিটল অপেরা ‘আনারসের ঢাকা সফর’ নাটকের মাধ্যমে গ্রামের জীবন ও শহরের সংযোগকে তুলে ধরছে। শিশুদের দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতা কেন্দ্র করে গল্প বলার নতুন যাত্রা হিসেবে এটি বিবেচিত হচ্ছে।

তাহসানপত্নী রোজা নতুন রূপে নজর কাড়লেন

তাহসানপত্নী রোজা নতুন রূপে নজর কাড়লেন ঝলমলে সিকুইন দেওয়া বডিকন গাউনে গ্ল্যামারাস লুকে ধরা দিয়েছেন রোজা। দেখতে দেখতে দাম্পত্য জীবনের এক বছরে পা রাখলেন দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান ও তার সহধর্মিণী রোজা আহমেদ। প্রথম বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে ভালোবাসা, আয়োজন আর শুভেচ্ছায় ভরে উঠেছে এই তারকা দম্পতির বিশেষ দিনটি। বিবাহবার্ষিকী ঘিরে রোজা আহমেদের ব্যতিক্রমী আয়োজন ও নজরকাড়া লুক ইতোমধ্যেই শোবিজ অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পাশাপাশি ভক্ত-অনুরাগীদের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন তাহসান-রোজা। সম্প্রতি রোজা আহমেদ নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে অ্যানিভার্সারির কয়েকটি ছবি শেয়ার করেন। মুহূর্তেই ছবিগুলো ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয় নানা আলোচনা। বরাবরের মতোই রোজা তার ফ্যাশন সেন্স দিয়ে নজর কাড়লেও এবার যেন চমক আরও বেশি। প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ঝলমলে সিকুইন দেওয়া বডিকন গাউনে গ্ল্যামারাস লুকে ধরা দিয়েছেন রোজা। তার এই স্টাইলিশ লুক ভক্তদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এদিকে, অ্যানিভার্সারি উদযাপনের আয়োজনে ছিল দৃষ্টিনন্দন কেক। সাদা ক্রিমে মোড়ানো কেকটি সাজানো ছিল বিশাল লিলি ফুল ও মোমবাতিতে। কেকের পাশে রাখা ছিল একটি গোলাপের তোড়া। অনেক নেটিজেনের ধারণা, প্রথম বিবাহবার্ষিকীতে স্ত্রীকে এমন বিশেষ সারপ্রাইজ দিয়েছেন তাহসান। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তাহসান খান ও রোজা আহমেদ। তাদের বিয়ের মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাতারাতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে এই তারকা দম্পতি।