সুইজারল্যান্ডের পানশালায় অগ্নিকাণ্ডে ‘নিহত ৪০’

সুইজারল্যান্ডের পানশালায় অগ্নিকাণ্ডে ‘নিহত ৪০’ সুইজারল্যান্ডের বিলাসবহুল স্কি রিসোর্ট শহর ক্র্যানস মন্টানার একটি পানশালায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সুইস পুলিশের বরাত দিয়ে  ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) পুলিশের মুখপাত্র গেতান লাথিয়ন জানিয়েছিলেন, বুধবার রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে ‘লে কনস্টেলেশন’ নামের পানশালায় আগুনের সূত্রপাত হয়। তখন সেখানে নববর্ষের উদযাপন চলছিল। ভবনটির ভেতরে শতাধিক মানুষ ছিলেন। এই ঘটনার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোনো যোগসূত্র নেই। ইতালীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুইস পুলিশের বরাত দিয়ে বলছে, তারা বিশ্বাস করে যে প্রায় ৪০ জন মারা গেছে। নিহতদের তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি কারণ তাদের দগ্ধের মাত্রা বেশি। এদিকে সুইস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘কয়েক ডজন’ মানুষ নিহত বলে ধারণা করা হচ্ছে, কমপক্ষে ১০০ জন আহত হয়েছে। হতাহতরা বিভিন্ন দেশের নাগরিক এবং তাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। আহতদের বেশিরভাগে অবস্থাই গুরুতর।’ ঘটনাস্থলে প্রায় ১০টি হেলিকপ্টার, ৪০টি অ্যাম্বুলেন্স এবং ১৫০ জন উদ্ধারকর্মী পাঠানো হয়েছে। জরুরি অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে। ভ্যালাইস হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট এখন পূর্ণ, বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পোড়া চিকিৎসার জন্য রোগীদের অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে। কর্মকর্তারা অতিরিক্ত যত্ন নেওয়ার এবং হাসপাতালে অপ্রয়োজনীয় চাপ না দেওয়ার জন্য জনগণকে সতর্ক করেছেন।

সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমল

সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমল দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ২ টাকা করে কমিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়। এ লক্ষ্যে সংশোধিত প্রাইসিং ফর্মুলার আলোকে জানুয়ারি মাসের জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডিজেলের বিক্রয়মূল্য প্রতি লিটার ১০৪.০০ টাকা হতে ২.০০ টাকা কমিয়ে ১০২.০০ টাকা, অকটেন ১২৪.০০ টাকা হতে ২.০০ টাকা কমিয়ে ১২২.০০ টাকা, পেট্রোলের দাম ১২০.০০ টাকা হতে ২.০০ টাকা কমিয়ে ১১৮.০০ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১১৬.০০ হতে ২.০০ টাকা কমিয়ে ১১৪.০০ টাকায় পুনর্নির্ধারণ/সমন্বয় করা হয়েছে। এটি ১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) থেকে কার্যকর হবে।

‘নতুন বছরে একটাই চাওয়া, কপালের টিপটা যাতে ঠিকঠাক পরতে পারি’

‘নতুন বছরে একটাই চাওয়া, কপালের টিপটা যাতে ঠিকঠাক পরতে পারি’ জীবন আনন্দে ভরা কোনো গিফট বক্স নয়। বরং অনন্দ-বেদনার মোড়ক। মুদ্রার এপিট ওপিট নিয়েই কেটে গেছে দুই হাজার পঁচিশ। নতুন উদ্যমে কাটানোর অভিলাষ নিয়ে নতুন বছরে যাত্রা শুরু করেছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও নতুন বছর নিয়ে নানা ভাবনার কথা প্রকাশ করছেন। চিরকুট ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার, সুরকার শারমীন সুলতানা সুমি। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ফেসবুকে একটি স্থিরচিত্র পোস্ট করে এই শিল্পী বলেন, “নতুন বছরে একটাই চাওয়া, কপালের টিপটা যাতে ঠিকঠাক মাঝখানে পরতে পারি। জাদুর শহরে ২০২৬ সালকে স্বাগত।” ভক্ত-অনুরাগীরা সুমির প্রশংসা করার পাশাপাশি নতুন বছরের শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন। একজন লেখেন, “মির্জা গালিব আপনাকে দেখলে কবিতা রচনা করতো।” শিজুল ইসলাম লেখেন, “ছোট টিপে তোকে ভালো লাগছে। হ্যাপি নিউ ইয়ার ২০২৬।”  রিয়াজ উদ্দিন লেখেন, “পূর্ণতা।” পরামর্শ দিয়ে রাফি লেখেন, “লাল টিপ পইরেন।” তুলতুলি লেখেন, “চাওয়াটা পূর্ণতা পাক রে।” নতুন গানের দাবি জানিয়ে আল আমিন লেখেন, “নতুন বছরে নতুন গান চাই আপু।” এমন অসংখ্য মন্তব্য ভেসে বেড়াচ্ছে কমেন্ট বক্সে।

একসঙ্গে ছুটিতে রাশমিকা-বিজয়, নতুন বছরের পোস্ট নিয়ে তুমুল আলোচনা

একসঙ্গে ছুটিতে রাশমিকা-বিজয়, নতুন বছরের পোস্ট নিয়ে তুমুল আলোচনা ক্ষিণী তারকা রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবেরাকোন্ডার বিয়ে নিয়ে গুঞ্জন নতুন নয়। যদিও এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কখনো কোনো কথা বলেননি তারা। আবার পুরোপুরি অস্বীকারও করেননি। ফলে প্রতিটি নতুন ছবি ও পোস্ট ঘিরেই বাড়ছে অনুরাগীদের কৌতূহল। কিছুদিন আগে বন্ধুদের ‘গার্ল গ্যাং’ নিয়ে শ্রীলঙ্কায় ছুটি কাটাতে দেখা যায় রাশমিকাকে। এরপরই শোনা যায়, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি বিজয়ের সঙ্গে তার বিয়ের দিনক্ষণ নাকি চূড়ান্ত। সেই সফরকে অনেকেই রাশমিকার ব্যাচলরেট ট্রিপ বলেও ধরে নেন। শ্রীলঙ্কা সফর শেষ না হতেই নতুন গুঞ্জন-বিয়ের আগেই নাকি বিজয়ের সঙ্গে ‘প্রি-হানিমুনে’ রোমে গিয়েছেন রাশমিকা। এই জল্পনার মাঝেই সোশ্যাল মিডিয়ায় রোমে তোলা একাধিক ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেন রাশমিকা। একই লোকেশন থেকে ছবি শেয়ার করেন বিজয়ও। যদিও এই বিষয়ে কেউই প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি ছবি পোস্ট করেন বিজয় দেবেরাকোন্ডা। সেখানেই নেটিজেনদের চোখে পড়ে বিশেষ এক মুহূর্ত। ছবিতে বিজয়কে দুই হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে থাকতে দেখা যায় এক নারীকেই, যাকে দেখে অনুরাগীদের ধারণা-তিনি রাশমিকাই। যদিও সেই ছবিতে তাদের সঙ্গে বন্ধুরাও ছিলেন। নতুন পোস্টের ক্যাপশনে বিজয় লেখেন, ‘নতুন বছরের শুভেচ্ছা। আমরা একসঙ্গে আগামী দিনে আরও অনেকটা পথ চলব। একসঙ্গে বড় হব, ভালোবাসা ছড়িয়ে দেব সকলের মধ্যে। অনেকটা ভালোবাসা।’ এই বার্তাও নতুন করে আগুনে ঘি ঢালার কাজ করেছে। সিনেদুনিয়ার গুঞ্জন অনুযায়ী, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে রাজস্থানে রাজকীয় আয়োজনে সাতপাক ঘুরতে পারেন রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবেরাকোন্ডা। শোনা যাচ্ছে, গোপনে তাদের বাগদানও সম্পন্ন হয়েছে। ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি উদয়পুরের এক রাজপ্রাসাদে পরিবার ও কাছের বন্ধুদের উপস্থিতিতে মালাবদল করবেন এই তারকা জুটি।

মেয়ের জন্য নতুন বছরে যে সিদ্ধান্ত নিলেন আলিয়া

মেয়ের জন্য নতুন বছরে যে সিদ্ধান্ত নিলেন আলিয়া ২০২২ সালে মা হওয়ার পর খুব বেশি বিরতি নেননি বলিউড তারকা আলিয়া ভাট। সে সময় ‘রকি অউর রানী কি প্রেম কাহানি’ সিনেমার শুটিং চলছিল। মা হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই আবার শুটিংয়ে ফিরেছিলেন তিনি। এরপরও টানা কাজ করে গেছেন এই অভিনেত্রী। বর্তমানে তার মেয়ে রাহার বয়স তিন বছর। তবে এবার কর্মজীবনে কিছুটা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আলিয়া। পুরোপুরি বিরতি না নিলেও কাজের সংখ্যা কমানোর কথা জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি এক ঘোষণায় অভিনেত্রী জানান, বছরে একটি ছবি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। মা হওয়ার পর মেয়েকে সময় দেওয়ার তাগিদ থেকেই এমন সিদ্ধান্ত বলে জানান আলিয়া। এ বিষয়ে আলিয়া ভাট বলেন, ‘আগে বছরে একসঙ্গে তিনটি করে সিনেমা করতাম, সেটাই স্বাভাবিক মনে হতো। এখন মা হওয়ার পর জীবনের গতি অনেকটাই ধীর করেছি।’ এখন আর বছরে একাধিক সিনেমাতে কাজ করার প্রয়োজন বা তাগিদ অনুভব করেন না বলেও জানান তিনি। বর্তমানে আলিয়ার হাতে দুটি সিনেমার কাজ রয়েছে। একটি ‘আলফা’, অন্যটি ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’। ‘আলফা’ সিনেমায় বেশ কিছু অ্যাকশন দৃশ্যে অভিনয় করেছেন তিনি। এই ধরনের চরিত্র ও কাজেই বর্তমানে আগ্রহ বেশি আলিয়ার। সিনেমাটিতে তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন শর্বরী ওয়াঘ ও ববি দেওল। অন্যদিকে সঞ্জয় লীলা ভানসালীর পরিচালনায় নির্মিত ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ সিনেমায় আলিয়ার সঙ্গে দেখা যাবে রণবীর কাপুর ও ভিকি কৌশলকে। সিনেমাটি ২০২৬ সালে মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও এখন শোনা যাচ্ছে, মুক্তির তারিখ কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে।  

সংগ্রাম আর বেঁচে থাকার লড়াইয়ে গাজায় নতুন বছর শুরু

সংগ্রাম আর বেঁচে থাকার লড়াইয়ে গাজায় নতুন বছর শুরু দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ-সংঘাতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে গাজাবাসী। বেঁচে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত লড়াই, সংগ্রাম করে যাচ্ছে অবরুদ্ধ এই উপত্যকার সাধারণ মানুষ। ভয়াবহ মানবিক সংকটে দিশেহারা তারা। নতুন বছরেও তাদের মনে কোনো আনন্দ নেই। আছে শুধু বিষাদ আর হতাশা। এমনই একজন সানা ইসরা। সাদা প্লাস্টিকের তেরপলিন দিয়ে তৈরি তাঁবুতে সানা ইসা তার মেয়েদের সঙ্গে বসেছিলেন। নতুন বছর এবং গাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর নিয়ে সানা আল জাজিরার সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু বৃষ্টিতে তাঁবুতে ভেজা কম্বলের ওপর শুয়ে থাকা সানার কাছে ইতিবাচক হওয়ার মতো তেমন কোনো বিষয় এখন আসলে নেই। গাজা উপত্যকায় তিনি এবং তার মতো অন্যান্য বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের যে কঠিন বছরের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তার বর্ণনা দিয়ে সানা আল জাজিরাকে বলেন, আমরা যুদ্ধ, ঠান্ডা, নাকি ক্ষুধাকে দোষ দেব তা বুঝতে পারছি না। আমরা এক সংকট থেকে অন্য সংকটে চলে যাচ্ছি। মানবিক অবস্থার অবনতির মধ্যে গাজার ফিলিস্তিনিদের একসময়ের উচ্চাকাঙ্ক্ষী আশা, উন্নত ভবিষ্যৎ, সমৃদ্ধি এবং পুনর্গঠনের স্বপ্ন, হারিয়ে গেছে। এর বদলে জায়গা করে নিয়েছে মৌলিক মানবিক চাহিদা- আটা, খাবার এবং বিশুদ্ধ খাবার পানি নিশ্চিত করা, ঠান্ডা থেকে রক্ষা করার জন্য তাঁবু সংগ্রহ করা, চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করা এবং বোমাবর্ষণ থেকে বেঁচে থাকা। সানার মতো ফিলিস্তিনিদের জন্য, নতুন বছরের আশা বেঁচে থাকার জন্য প্রতিদিনের সংগ্রামে পরিণত হয়েছে। ৪১ বছর বয়সী সানা সাত সন্তানের জননী। ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার প্রথম বছরের শেষে ইসরায়েলি হামলায় তার স্বামী নিহত হওয়ার পর থেকে তিনি তার সন্তানদের লালন-পালনের একমাত্র দায়িত্বে ছিলেন। সানা তার পরিবারের সাথে আল-বুরেইজ থেকে মধ্য গাজার দেইর এল-বালাহ এলাকায় পালিয়ে আসেন। শিশুদের প্রতি দায়িত্ব, স্থানচ্যুতি, খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা, এখানে-সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া সবকিছুই তার কাছে ছিল বেশ কঠিন বিষয়। ২০২৫ সালে সানার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ‘একটি রুটি’ জোগাড় করা এবং তার পরিবারের জন্য প্রতিদিন এক কেজি আটা জোগাড় করা। তিনি তিক্ত স্বরে বলেন, দুর্ভিক্ষের সময় আমি একটাই ইচ্ছা নিয়ে ঘুমাতাম এবং জেগে উঠতাম, সেটা হলো দিনের জন্য পর্যাপ্ত রুটি জোগাড় করা। যখন আমার বাচ্চারা আমার সামনে অনাহারে ছিল, আর আমি কিছুই করতে পারছিলাম না আমার মনে হচ্ছিল আমি মারা যাচ্ছি। আটার সন্ধানে অবশেষে সানা গাজাজুড়ে মে মাসের শেষের দিকে খোলা মার্কিন-সমর্থিত জিএইচএফ ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, প্রথমে আমি ভীত এবং দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম, কিন্তু আমরা যে ক্ষুধার মধ্য দিয়ে বাস করছি তা আপনাকে এমন কিছু করতে বাধ্য করতে পারে যা আপনি কখনো কল্পনাও করেননি। কিন্তু সাইটগুলিতে যাওয়া কেবল সানার জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল না, এটি এমন একটি পথ ছিল যা তার মর্যাদা কেড়ে নিয়েছিল এবং স্থায়ী ক্ষত রেখে গিয়েছিল। একবার মধ্য গাজার নেটজারিম বিতরণ পয়েন্টে সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করার সময় সানা তার বাহুতে ছুরি দিয়ে আঘাত পান এবং রাফাহর পূর্বে মোরাগ পয়েন্টে তার ১৭ বছর বয়সী মেয়ে বুকে আঘাত পান। কিন্তু তার এই আঘাত তাকে আবারও চেষ্টা করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। যদিও এরপর থেকে তিনি তার সন্তানদের তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এলাকায় রেখে একাই যাওয়া শুরু করেন। গাজায় যুদ্ধের ফলে খাদ্য ও মানবিক সহায়তায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে। গত বছরের মার্চের শেষের দিকে এই পরিস্থিতি শুরু হয় এবং জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি ঘোষণা করে যা অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। যদিও যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এই পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে তবে সংকট একেবারে শেষ হয়নি। গাজার কিছু অংশে খাদ্য সংকট ভয়াবহ পর্যায়ে প্রবেশ করায় খাদ্য, পানি এবং ওষুধের তীব্র ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে শিশু এবং গর্ভবতী নারীদের মধ্যে অপুষ্টির হার বেড়ে গেছে।

‘বিসিবি সিলেটের’ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ৩ জানুয়ারি

‘বিসিবি সিলেটের’ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশের ক্রিকেট অনুরাগীদের জন্য তো বটেই, বিশেষ করে সিলেটবাসী ও সিলেট ক্রিকেট অনুরাগীদের জন্যও ‘সুখবর।’ দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে বিসিবির প্রথম শাখা অফিস খোলা হচ্ছে সিলেটে। এবং আর মাত্র ২ দিন পর ৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বিসিবি সিলেটের। ক্রিকেট পাড়ার গুঞ্জন নয়। খোদ বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুলের দেয়া তথ্য। ইংরেজী নতুন বছর ২০২৬ এর প্রথম দিন জাগো নিউজের সঙ্গে একান্ত আলাপে বিসিবি প্রধান দিয়েছেন এ সুখবর। আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেট তৃণমূলে ছড়িয়ে দিতে আঞ্চলিক ক্রিকেট পরিদপ্তর। আঞ্চলিক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন করা তথা অন্তত বিভাগীয় পর্যায়ে সকল বিভাগে বিসিবির আঞ্চলিক অফিস তৈরী হচ্ছে প্রথম কথা। দীর্ঘদিন ধরেই সে লক্ষ্য ও পরিকল্পনার কথা বলা হয়। আমরা চেষ্টা করছি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশালসহ পর্যায়ক্রমে সব বিভাগে একটি করে বিসিবি অফিস চালু করতে।’ বুলবুল আরও বলেন, ‘আমরা অনেক ভেবেচিন্তে অ্যাসোসিয়েশন নামকরণ করিনি। তাতে করে অনেকটা জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার মত শোনায়। এবং ওই নামকরণে বিভাগ ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে একটা সাংঘর্ষিক ব্যাপার হতে পারে। তাই আমরা বিভাগীয় পর্যায়ের ক্রিকেট কার্যালয়গুলোর নামকরণ নির্দিষ্ট বিভাগের নামেই নামকরণ করছি। বিসিবি সিলেট। বিসিবি বরিশাল। বিসিবি খুলনা। বিসিবি চট্টগ্রাম।’ প্রথম ধাপ হিসেবে আগামী ৩ জানুয়ারী ‘বিসিবি সিলেট’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। বিসিবি বিগ বস আর জানান যে, বিসিবির ওই অফিস শুধু নামেই থাকবেনা। তার প্রত্যেক জোনাল বা আঞ্চলিক অফিসে একজন হেড থাকবেন। তার নেতৃত্বে পরিচালিত হবে সব কার্যক্রম। তাদের আলাদা অর্গানোগ্রাম থাকবে। তারা ঠিক করে অফিস স্টাফ। খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে সিলেট বিসিবির আঞ্চলিক অফিসের প্রধান হবেন কে ? আমিনুল ইসলাম বুলবুলের জবাব, আমরা রীতিমতো মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দিয়ে ঐ পদের জন্য আহ্বান করবো। আমরা চাই প্রতিটি আঞ্চলিক অফিসের প্রধান হবেন যোগ্য ব্যক্তি। বিসিবি সভাপতি আরও যোগ করেন, ‘পর্যায়ক্রমে সিলেটের পর অন্যান্য বিভাগীয় পর্যায়েও আঞ্চলিক কার্যালয় হবে। এবং এখন তিনি সেই কাজেই ব্রত। বলে রাখা ভালো, পৃথিবীর সব টেষ্ট খেলুড়ে দেশেই বিভিন্ন রাজ্য, প্রদেশ বা বিভাগীয় পর্যায়ের আঞ্চলিক কার্যালয় আছে। তারাই দেশের ক্রিকেটের যাবতীয় কাজ পরিচালনা করে। ভারতে বিভিন্ন রাজ্য ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন আছে। মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব ও তামিলনাড়ু। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন তাদের নিজ নিজ ক্রিকেটের দেখভাল করে।’ বাংলাদেশের জেলাভিত্তিক ক্রিকেটে মান খুব একটা মানসম্মত নয়। প্রায়শই আক্ষেপ করতে শোনা যায় জেলার ক্রিকেটারদের। সেই মান উন্নতির লক্ষ্যেই মূলত এমন উদ্যোগ। বিসিবি সভাপতি তাই ভারতের রাজ্য ক্রিকেটের মতো ব্যবস্থাপনার বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশের আঞ্চলিক ক্রিকেটের উন্নয়নেও। ভারতের রাজ্য ক্রিকেটে সবার অন্তত একটি করে উন্নত ও আধুনিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম আছে। বিভিন্ন রাজ্য ক্রিকেট দল আছে। তৃনমূল থেকে কিশোর প্রতিভার অন্বেষণ, তাদের সুপ্রশিক্ষণসহ যাবতীয় কাজ করে ওই বিভিন্ন রাজ্য ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। রঞ্জি ট্রফিতে দল সাজাচ্ছে ওই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। সকল আনুষাঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান, সর্বাধুনিক ক্রিকেট ভেন্যু, প্র্যাকটিস ভেন্যু, জিমনেসিয়াম ও ইনডোর ফ্যাসিলিটিজ সব ঐ প্রাদেশিক কার্যালয় থেকেই পরিচালিত হয়। একইভাবে অস্ট্রেলিয়া , ইংল্যান্ড, দ. আফ্রিকা , পাকিস্তানসহ প্রায় দেশের রাজ্য, প্রাদেশিক ও বিভাগীয় আঞ্চলিক কার্যালয়ই নিজ নিজ ক্রিকেট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো সর্বত্র বিসিবির তত্ত্বাবধানেই চলে। তাতে করে ঢাকার বাইরে যে ক’টা ভেন্যুতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয় চট্টগ্রাম ও সিলেটে, সেখানেও সে অর্থে কোন আঞ্চলিক সেটআপ গড়ে ওঠেনি। সে ধারার অবসান ঘটিয়ে ঢাকার বাইরেও ক্রিকেট ম্যানেজমেন্ট ও অ্যাডমিনিস্ট্রেশন গড়ে তুলতে উৎসাহি বিসিবি প্রধান। বাংলাদেশেও অন্তত বিভাগীয় পর্যায়ে সেই রকম ব্যবস্থাপনা চালু করতে চান বিসিবি বর্তমান সভাপতি। তবে কাজটা সহজ না। ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা আছে প্রচুর। নতুন নতুন তরুণ প্রতিভাবান ক্রিকেটারও উঠে আসেন অগণিত। কিন্তু তারপরও দেশের ক্রিকেটের আঞ্চলিক অফিস পরিচালনা এবং পুরো বিভাগের ক্রিকেট কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যে মানের দক্ষ, সংগঠক, ভাল প্রশাসক ও ক্রিকেট জ্ঞানে পরিপূর্ন ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব দরকার, ঢাকার বাইরে তা খুব কম। সংশ্লিষ্ট বিভাগে দক্ষ, যোগ্য ও উৎসাহী মানসম্পন্ন ক্রিকেট ব্যবস্থাপক প্রয়োজন। বাংলাদেশে বিশেষ করে ঢাকার বাইরে সে মানের দক্ষ সংগঠক, ব্যবস্থাপক, প্রশাসক পাওয়া কঠিন। এজন্য সাবেক ক্রিকেটার ও ক্রিকেট ব্যক্তিত্বদের সম্পৃক্ত করা গেলে হয়তো বিভাগীয় পর্যায়ের ক্রিকেট কার্যালয়গুলো ইতিবাচক ভুমিকা রাখতে পারবে। না হয় নাম সর্বস্ব অফিস থাকবে। কিন্তু কাজের কাজ হবেনা। এখন দেখার ব্যাপার হলো আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে কারা কাজ করেন, কাদের মনোনীত করা হয়। চলমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে কিন্তু সেই জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোর মতো হবে। নির্দিষ্ট বিভাগ বিসিবি অফিসেও জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার মত রাজনৈতিক পরিচয়ের লোকজন দিয়ে ভরে গেলে কাজের কাজ কিচ্ছু হবেনা। বিসিবির বিভিন্ন আঞ্চলিক অফিস পরিচালনা ও ক্রিকেটীয় কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য দরকার ক্রিকেট মনষ্ক মানুষ। ক্রিকেট বোঝেন, জানেন, বিশ্ব ক্রিকেট সম্পর্কে ধারণা আছে এমন ব্যক্তিত্বর। তা কি হবে ? সেটাই দেখার।

মার্শের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়ার প্রাথমিক দল ঘোষণা

মার্শের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়ার প্রাথমিক দল ঘোষণা ২০২১ সালের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর জন্য আজ বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি, ২০২৬) ১৫ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য এই বৈশ্বিক আসরের আগে চোট ও ফিটনেস পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজন হলে স্কোয়াডে শেষ মুহূর্তে পরিবর্তনের সুযোগও রাখা হয়েছে। ঘোষিত স্কোয়াডের নেতৃত্বে থাকছেন মিচেল মার্শ। দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফিরেছেন প্যাট কামিন্স, ক্যামেরন গ্রিন ও কুপার কনোলি। যারা সম্প্রতি ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলতে পারেননি। স্পিননির্ভর কম্বিনেশনে অস্ট্রেলিয়া: ভারত ও শ্রীলঙ্কার কন্ডিশন মাথায় রেখে স্পিন আক্রমণকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে অজি নির্বাচকরা। অভিজ্ঞ অ্যাডাম জাম্পার সঙ্গে স্কোয়াডে রয়েছেন ম্যাথিউ কুনেম্যান, কুপার কনোলি এবং অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও ম্যাথিউ শর্ট। স্পিনে গভীরতা আনতেই এমন ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠনের দিকে ঝুঁকেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাচক জর্জ বেইলি বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আমাদের সাফল্য বেশ ধারাবাহিক। সে কারণেই ভারত ও শ্রীলঙ্কার ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশন সামলাতে পারে এমন খেলোয়াড়দের নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ একটি স্কোয়াড বেছে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছি।” তিনি আরও জানান, “প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজেলউড ও টিম ডেভিড দ্রুত ফিট হয়ে উঠছেন। আমরা আশাবাদী, বিশ্বকাপের সময় তারা সবাই অ্যাভেইলাবল থাকবেন। যেহেতু এটি প্রাথমিক স্কোয়াড, প্রয়োজন হলে পরে পরিবর্তন আনা হবে।” পেস আক্রমণে ভিন্ন সিদ্ধান্ত: এই স্কোয়াডে কোনো বাঁহাতি ফাস্ট বোলার না রাখার সিদ্ধান্তও চোখে পড়ার মতো। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে মিচেল স্টার্কের অবসর এবং স্পেন্সার জনসনের চোটের কারণে একই ধাঁচের বিকল্প হিসেবে বেন ডোয়ারশুইসের বদলে ডানহাতি পেসার জেভিয়ার বার্টলেটকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০২৬ আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত। যৌথ আয়োজক হিসেবে টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো হবে ভারত ও শ্রীলঙ্কায়। সাবেক চ্যাম্পিয়ন দলটি এবার জায়গা পেয়েছে গ্রুপ ‘বি’-তে। এই গ্রুপে তাদের সঙ্গী হিসেবে রয়েছে আয়ারল্যান্ড, ওমান, স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা এবং জিম্বাবুয়ে। সূচি অনুযায়ী, ১১ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করবে অস্ট্রেলিয়ানরা। উপমহাদেশের কন্ডিশনে অস্ট্রেলিয়ার পারফরম্যান্স নিয়ে থাকবে আলাদা কৌতূহল। অভিজ্ঞতা, শক্ত স্কোয়াড ও বিশ্বকাপের মঞ্চে ধারাবাহিক সাফল্যের আত্মবিশ্বাস নিয়ে এবারও শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে নামবে মার্শ-কামিন্সদের দল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ এর জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রাথমিক স্কোয়াড: মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জেভিয়ার বার্টলেট, কুপার কনোলি, প্যাট কামিন্স, টিম ডেভিড, ক্যামেরন গ্রিন, নাথান এলিস, জশ হ্যাজেলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, ম্যাথিউ কুনেম্যান, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ম্যাথিউ শর্ট, মার্কাস স্টয়নিস ও অ্যাডাম জাম্পা।

জনসংখ্যা বাড়াতে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর ওপর ১৩ শতাংশ কর বসালো চীন

জনসংখ্যা বাড়াতে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর ওপর ১৩ শতাংশ কর বসালো চীন টানা জনসংখ্যা হ্রাস মোকাবিলায় গর্ভনিরোধক সামগ্রীর ওপর ১৩ শতাংশ বিক্রয় কর আরোপ করেছে চীন সরকার। গত বছরের শেষের দিকে ঘোষিত নতুন এই নীতিটি আজ ১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে দেশটিতে কার্যকর করা হয়েছে। খবর বিবিসির।  প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন ২০১৫ সালে তাদের বির্তকিত ‘এক সন্তান নীতি’ বাতিলের পর থেকেই জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। গত ডিসেম্বরে ঘোষিত সর্বশেষ নিয়মে একদিকে যেমন গর্ভনিরোধক সামগ্রীর ওপর বিক্রয় কর আরোপ করা হয়েছে, অন্যদিকে  শিশু যত্ন বা চাইল্ডকেয়ার পরিষেবাগুলোকে কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নতুন এই নিয়মে বিয়ে-সংক্রান্ত পরিষেবা এবং বয়স্কদের যত্ন নেওয়ার বিষয়গুলোকেও ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স বা ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এটি মূলত সন্তান জন্মদানের জন্য দীর্ঘ মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং নগদ অর্থ সহায়তার মতো বেইজিংয়ের বিস্তৃত প্রচেষ্টারই একটি অংশ। ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনসংখ্যা এবং ধীরগতির অর্থনীতির মুখে বেইজিং তরুণদের বিয়ে করতে এবং দম্পতিদের সন্তান নিতে উৎসাহিত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টানা তিন বছর ধরে চীনের জনসংখ্যা কমছে। ২০২৪ সালে মাত্র ৯.৫৪ মিলিয়ন শিশু জন্ম নিয়েছে, যা এক দশক আগের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। এক দশক আগে থেকেই চীন তাদের সন্তান ধারণের সীমাবদ্ধতা শিথিল করতে শুরু করেছিল। এদিকে, কনডম, জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল এবং অন্যান্য সরঞ্জামের ওপর এই কর আরোপ অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ এবং এইচআইভি সংক্রমণের হার বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একইসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে হাস্যরসেরও সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, সন্তান পালনের খরচের তুলনায় দামী কনডম মানুষকে সন্তান নিতে উৎসাহিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। বেইজিংয়ের ইউওয়া পপুলেশন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন শিশু লালন-পালনের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল দেশ। উচ্চ প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে স্কুলের ফি এবং কর্মজীবী নারীদের জন্য মাতৃত্ব ও কর্মক্ষেত্রের ভারসাম্য রক্ষা করা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্পত্তি খাতের সংকট এবং অর্থনৈতিক মন্দা সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ে আঘাত হেনেছে। ফলে পরিবারগুলো, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছে। হেনান প্রদেশের ৩৬ বছর বয়সী ড্যানিয়েল লুও বলেন, “আমার একটি সন্তান আছে এবং আমি আর চাই না।” তিনি কনডমের দাম বৃদ্ধি নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন। তার ভাষ্য, “এক বক্স কনডমের দাম হয়তো ৫ ইউয়ান বা বড়জোর ২০ ইউয়ান বাড়বে। বছরে যা কয়েকশ ইউয়ান মাত্র, যা বহনযোগ্য।” তবে শি’আন শহরের বাসিন্দা রোজি ঝাও মনে করেন, অন্যদের জন্য এই খরচ সমস্যার কারণ হতে পারে। তিনি বলেন, গর্ভনিরোধক একটি মৌলিক প্রয়োজন, এর দাম বেড়ে গেলে শিক্ষার্থী বা আর্থিকভাবে অসচ্ছলরা ‘ঝুঁকি নিতে’ পারে। তার মতে, এটিই এই নীতির ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক ফলাফল’ হতে পারে।

পবিত্র কোরআন হাতে নিউ ইয়র্কের মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন মামদানি

পবিত্র কোরআন হাতে নিউ ইয়র্কের মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহর নিউ ইয়র্কের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন জোহরান মামদানি। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) নতুন বছরের প্রথম প্রহরে ম্যানহাটনের একটি পরিত্যক্ত ঐতিহাসিক সাবওয়ে স্টেশনে পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে এই শপথ গ্রহণ করে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তিনি। খবর আল-জাজিরার। এই শপথের মাধ্যমে ৩৪ বছর বয়সী মামদানি নিউ ইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম এবং গত কয়েক প্রজন্মের মধ্যে কনিষ্ঠতম মেয়র হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন। শপথ অনুষ্ঠানে তিনি পবিত্র কোরআনের ওপর হাত রেখে তার দাপ্তরিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।  শপথ অনুষ্ঠানে মামদানি তার দাদার ব্যবহৃত কোরআন এবং নিউ ইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি থেকে সংগৃহীত ২০০ বছরের পুরোনো একটি কোরআন ব্যবহার করেন। নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস তাকে এই ঐতিহাসিক শপথবাক্য পাঠ করান, যা শহরটির বৈচিত্র্যময় রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। মধ্যরাতের এই ঘরোয়া অনুষ্ঠানের পর দুপুর ১টায় নিউ ইয়র্কের সিটি হলে আয়োজিত একটি বড় ধরনের জনসমাবেশে তিনি পুনরায় শপথ নেবেন। এ অনুষ্ঠানে মামদানি তার দাদা ও দাদির ব্যবহৃত দুটি কোরআন শরিফ ছুঁয়ে শপথ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। এই মূল অনুষ্ঠানে মামদানির অন্যতম রাজনৈতিক আদর্শ ও মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স তাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন এবং কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ উদ্বোধনী বক্তব্য রাখবেন। এরপর ব্রডওয়ের ‘ক্যানিয়ন অব হিরোস’-এ একটি বর্ণাঢ্য গণসংবর্ধনা ও ব্লক পার্টির আয়োজন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হাতেগোনা কয়েকজন রাজনীতিবিদের মধ্যে মামদানি একজন, যারা ধর্মীয় গ্রন্থ ছুঁয়ে শপথ নিয়েছেন। নিউ ইয়র্কে মেয়রের শপথ গ্রহণের জন্য কোনো ধর্মীয় গ্রন্থ ব্যবহার বাধ্যতামূলক নয়, তবে অতীতের অনেক মেয়র বাইবেল ব্যবহার করেছেন। সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ তার পারিবারিক ১০০ বছরের পুরোনো বাইবেল ব্যবহার করেছিলেন, বিল ডি ব্লাসিও ব্যবহার করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের একটি বাইবেল। আর মামদানির পূর্বসূরি এরিক অ্যাডামসও শপথের জন্য পারিবারিক বাইবেল ব্যবহার করেছিলেন।