চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রাথমিকে শতভাগ ও মাধ্যমিকে চাহিদার কাছাকাছি বই বিতরণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রাথমিকে শতভাগ ও মাধ্যমিকে চাহিদার কাছাকাছি বই বিতরণ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ৫ উপজেলায় ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নতুন বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকের শতভাগ বই বিতরণ করা হয়েছে এবং মাধ্যমিকের চাহিদার তুলনায় অষ্টম শ্রেণীর কিছু বই বাকি আছে। বৃহস্পতিবার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণ করা হয়। সকালে জেলাশহরের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গ্রিনভিউ উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেখা যায় শিশু শিক্ষার্থীরা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ক্লাসরুমে ঢুকে বই নিয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করছে। শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন। মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা যায়, নতুন বইয়ের সঙ্গে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার হিসেবে ডিম ও বিস্কুট দেয়া হয়। জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল মতিন জানান, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য মোট বইয়ের চাহিদা ছিল (সাধারণ) ১২ লাখ ৭৫ হাজার ৩৬২ খানা। এর মধ্যে পাওয়া গেছে ৯ লাখ হাজার ৯৫ হাজার ৭৯৮ খানা। অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন শিক্ষার্থীদের জন্য মোট বইয়ের চাহিদা ছিল ৮ লাখ ৫০ হাজার ২০৫ খানা, পাওয়া গেছে ৪ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ খানা। এদিকে কারিগরির শিক্ষার্থীদের জন্য মোট বইয়ের চাহিদা ছিল ৫২ হাজার ১৫৫ খানা, পাওয়া গেছে ৩৮ হাজার ২১৭ খানা বই। তিনি আরো জানান, অষ্টম শ্রেণীর কিছু বই ছাড়া অন্যান্য শ্রেণীর সকল বই পাওয়া গেছে। কিছু বইয়ের গাড়ি এরই মধ্যে চলে এসেছে। আশা করছি, কয়েকদিনের মধ্যেই বাকি বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে পারব। আব্দুল মতিন বলেন, বইয়ের একাংশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি রয়েছে, যা দেখে শিক্ষার্থীরা অনুপ্রাণিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার প্রাথমিকে ১ম থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত মোট বইয়ের চাহিদা ছিল ৮ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৪ খানা। এছাড়া প্রাক-প্রাথমিকের জন্য চাহিদা ছিল ২৫ হাজার খানা বই। সকল বই শতভাগ পাওয়া গেছে এবং বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিরুল ইসলামের ইন্তেকাল, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিরুল ইসলামের ইন্তেকাল, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের কালুপুর চৌহদ্দীটোলা গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিরুল ইসলাম (৭৩) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি অইন্না ইলাহি রাজিউন)। গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী,এক ছেলে,৪ মেয়ে সহ বহু গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় কালুপুর গোরস্থান প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অনার প্রদানের পর নামাজে জানাজা শেষে ওই গোরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মারফ আফজাল রাজন,সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ,বীর মুক্তিযোদ্ধা খাইরুল ইসলাম,জয়নাল আবেদীন,সুলতান আলী,ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান মো: রাসেল সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ইয়াবাসহ আটক ১ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভাগ্যবানপুর গাইনপাড়া লিচু বাগানের ভিতর থেকে ৩০ পিচ ইয়াবাসহ ০১ জন মাদক কারবারীকে আটক করেছে র্যাব। র্যাব জানায় গতকাল মহারাজপুর ইউনিয়নের ভাগ্যবানপুর গাইনপাড়া ঐ এলাকায় অবৈধ মাদকদ্রব্য বিক্রয় করা হচ্ছে। এমন তথ্যেও ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে বারোঘরিয়ার রবিউল শেখের ছেলে দুরুল হুদাকে আটক করে। গ্রেফতারকৃত আসামী ও উদ্ধারকৃত আলামত পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
নাচোলে দেশীয় অস্ত্র ও এ্যামোনিশন উদ্ধার করেছে র্যাব-৫

নাচোলে দেশীয় অস্ত্র ও এ্যামোনিশন উদ্ধার করেছে র্যাব-৫ নাচোল থানার নিজামপুর ইউনিয়নের ২নং বহেরুল ওয়ার্ডের ইলামিত্র গেইটের দিঘির উত্তর পার্শ্বের পাটাল থেকে আধিপত্য বিস্তারে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র ও এ্যামোনিশন উদ্ধার করেছে র্যাব-৫। র্যাবের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে জানানো হয়, গতকাল রাতে নাচোল থানার নিজামপুর ইউনিয়নের ২নং বহেরুল ওয়ার্ডের ইলামিত্র গেইটের দিঘির উত্তর পার্শ্বের পাটাল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৬টি দেশীয় অস্ত্র এবং ০৩ রাউন্ড তাজা এ্যামোনিশন আলামত হিসাবে উদ্ধার করা হয়। অস্ত্রগুলোর হচ্ছে ১টি প্লাস্টিকের বস্তার ভিতর সবুজ কাপড়ে মোড়ানো লোহার বড় হাসুয়া ৪টি, কাঠের বাটযুক্ত লোহার ছোট হাসুয়া ৪টি, কাঠের বাটযুক্ত ১টি খড়গ, কিরিচ ১টি, লোহার চাইনিজ কুড়াল ২টি, দ্বি-মুখী চাইনিজ কুড়াল ৩টি, স্টিলের হাতলযুক্ত লোহার চেইন স্টিক ১টি সহ সর্বমোট ১৬টি দেশীয় অস্ত্র এবং সাদা কাগজে মোড়ানো অবস্থায় ০৩ রাউন্ড তাজা এ্যামোনিশন আলামত হিসাবে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামত সমূহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নাচোল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবি’র পৃথক অভিযানে ১০টি ভারতীয় গবাদিপশু জব্দ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবি’র পৃথক অভিযানে ১০টি ভারতীয় গবাদিপশু জব্দ চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর এবং শিবগঞ্জ উপজেলা সীমান্তে বিজিবির পৃথক ৫টি অভিযানে ৮টি গরু ও ২টি মহিষসহ ১০টি ভারতীয় গবাদিপশু জব্দ হয়েছে। তবে এ সব অভিযানে কেউ আটক হয় নি। বিজিবি জানায়, গতকাল সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এসব অভিযান চালানো হয়। এ সব গবাদিপশুর বাজার মূল্য প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা। গতকাল দিবাগত রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে.কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, জহুরপুরটেক বিওপি সদরের চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের সাদ্দমের চর এলাকা থেকে ২টি গরু, জহুরুপর বিওপি সদরের সূর্যনারায়নপুর সাতরশিয়া গ্রাম থেকে ২টি গরু, ওয়াহেদপুর বিওপি শিবগঞ্জের পাঁকা ইউনিয়নের দশরশিয়া গ্রাম হতে ২টি গরু, শিংনগর বিওপি শিবগঞ্জের মনাকষা ইউনিয়নের সাহাপাড়া গ্রাম থেকে ২টি গরু এবং মনাকষা বিওপি বোগলাউড়ি গ্রাম থেকে ২টি মহিষ জব্দ করে। জব্দ গবাদিপশু চাঁপাইনবাবগঞ্জ শুল্ক কার্যালয়ে জমা করা হয়েছে বলেও জানান অধিনায়ক।
‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ উদযাপন শুরু করেছিলেন যে সম্রাট

‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ উদযাপন শুরু করেছিলেন যে সম্রাট থার্টি ফার্স্ট নাইট হলো গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ৩১শে ডিসেম্বরের শেষ রাত। এই রাতে নতুন বছরের প্রথম প্রহরকে স্বাগত জানানো হয়। শুরুটা হয়েছিলো পাশ্চাত্য খ্রিস্টীয় সংস্কৃতিতে, পরবর্তীতে দেশে দেশে শুরু হয় থার্টি ফার্স্ট উদযাপন। এই দিবস পালন প্রথম প্রবর্তন করেন জুলিয়াস সিজার। তিনি ১৫৮২ সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তনের পরে নববর্ষ পালনের ক্ষণটি নির্দিষ্ট করেন। যদিও বর্তমানে এটি বিশ্বজুড়ে একটি বৈশ্বিক উৎসবের রূপ নিয়েছে, অনেকেই পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেন নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে। এক নজরে জুলিয়াস সিজারের জীবনী জুলিয়াস সিজার ছিলেন রোমান ইতিহাসের এমন এক চরিত্র- যার ব্যক্তিত্বে প্রতিফলিত হতো ভক্তি ও বিদ্বেষ, শ্রদ্ধা, আতঙ্ক—ও ভালোবাসা। তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ যাকে উপেক্ষা করা সম্ভব ছিলো না। পরাজিত শত্রুদের তিনি ক্ষমা করতেন, সুযোগ দিতেন, এমনকি বহু শত্রুকেই পরে নিজের প্রশাসনে জায়গা করে দিতেন। কিন্তু এই উদারতা তাকে নিরাপদ করেনি। বরং অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, ‘‘সিজারের ক্ষমাশীলতাই শেষ পর্যন্ত তার হত্যার পথ প্রশস্ত করেছিল—কারণ যাদের তিনি ক্ষমা করেছিলেন, তাদের মধ্য থেকেই অনেকেই ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল।’’ সিজারের সৈন্যরা তাকে গভীরভাবে ভালোবাসত ও শ্রদ্ধা করত। তিনি শুধু একজন সেনানায়কই ছিলেন না; তিনি ছিলেন সংগঠক, মনস্তত্ত্ববিদ এবং অনুপ্রেরণার উৎস। রাজনীতি ও সামরিক কৌশলে সিজারের প্রতিভা ছিল অসাধারণ। প্রশাসন পরিচালনা, যুদ্ধ পরিকল্পনা, জনসমর্থন আদায় এবং নিজের ভাবমূর্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনন্য। আধুনিক অর্থে যাকে ‘প্রোপাগান্ডা’ বলা হয়, সিজার তা দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করতেন—নিজের লেখা ও ভাষণের মাধ্যমে তিনি নিজেকেই ইতিহাসের নায়ক হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। ইতিহাসবিদরা বলেন, ‘‘সিজারের মানবিকতাই তার রাজনৈতিক বাস্তবতাবোধকে কখনো কখনো দুর্বল করে তুলেছিল।’’ সাহিত্যিক হিসেবেও সিজার ব্যতিক্রমী। তার লেখা Commentaries on the Gallic War এবং Civil War শুধু ঐতিহাসিক দলিলই নয়, বরং ল্যাটিন সাহিত্যের উৎকৃষ্ট নিদর্শন। ভাষা ছিল সংযত, স্পষ্ট ও শক্তিশালী—অতিরঞ্জনহীন, অথচ গভীরভাবে প্রভাবশালী। যদিও এসব রচনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল, তবুও সাহিত্যগুণে সেগুলো অনন্য। সবচেয়ে বিস্ময়কর ছিল সিজারের অশেষ কর্মশক্তি। শারীরিক ও মানসিক—উভয় দিক থেকেই তিনি ছিলেন অদম্য। যুদ্ধের ময়দান, প্রশাসনিক সভা, দীর্ঘ সফর ও লেখালেখি—সবকিছু তিনি একসঙ্গে সামলাতে পারতেন। যুদ্ধ চলাকালীনও তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতেন। ব্যক্তিগত জীবনেও তার প্রাণশক্তির প্রকাশ ছিল স্পষ্ট। প্রেমের কারণে তিনি সমালোচিত হয়েছেন, বিশেষ করে মিসরের রানি ক্লিওপেট্রার সঙ্গে তার সম্পর্ক রোমের অভিজাতদের মধ্যে সন্দেহ ও ক্ষোভ তৈরি করেছিল। এই সম্পর্ক রাজনৈতিকভাবেও তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল। সূত্র: ব্রিটানিকা
দুই সন্তান থাকলে নারীদের মানসিক রোগের ঝুঁকি কমে: গবেষণা

দুই সন্তান থাকলে নারীদের মানসিক রোগের ঝুঁকি কমে: গবেষণা নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে দুটি সন্তান থাকা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। চীনের সুচাউ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল যুক্তরাজ্যের ৫৫ হাজারেরও বেশি নারীর দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যতথ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, যেসব নারীর সন্তান রয়েছে—বিশেষ করে দুটি সন্তান, তাদের মধ্যে বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও বিষণ্নতার মতো গুরুতর মানসিক রোগের ঝুঁকি সন্তানহীন নারীদের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম। বিখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ‘জার্নাল অব অ্যাফেকটিভ ডিসঅর্ডার্স’-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, সন্তানের সংখ্যা শূন্য থেকে দুই পর্যন্ত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানসিক রোগের ঝুঁকি ধাপে ধাপে হ্রাস পায়। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, সন্তানের সংখ্যা দুইয়ের বেশি হলে এই সুরক্ষামূলক প্রভাব আর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে না; বরং তা স্থিতিশীল হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘‘এই মানসিক সুরক্ষার পেছনে রয়েছে জৈবিক ও মনস্তাত্ত্বিক—উভয় ধরনের কারণ।গর্ভাবস্থায় নারীর শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এসব হরমোন মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং আবেগ ও মেজাজ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘমেয়াদে এই হরমোনগত পরিবর্তনগুলো মুড ডিসঅর্ডারের বিরুদ্ধে একটি প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করতে পারে।’’ মা–শিশুর বন্ধন ও মানসিক তৃপ্তি সন্তান জন্মের পর মা ও নবজাতকের মধ্যকার নিবিড় আবেগী বন্ধন এবং শিশুর যত্ন নেওয়ার প্রক্রিয়া মস্তিষ্কের ‘ডোপামিন রিওয়ার্ড সিস্টেম’কে সক্রিয় করে। এর ফলে মায়ের মধ্যে গভীর মানসিক তৃপ্তি তৈরি হয়, যা বিষণ্নতা ও নেতিবাচক অনুভূতি দূরে রাখতে সহায়ক। দ্বিতীয় সন্তান হলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ‘‘দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে মায়েরা সাধারণত বেশি আত্মবিশ্বাসী থাকেন। প্রথম সন্তানের সময় যে মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা থাকে, তা অনেকটাই কমে যায়। দৈনন্দিন রুটিনের পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ায় উদ্বেগ ও মানসিক চাপও তুলনামূলকভাবে কম অনুভূত হয়।’’ বিশ্বজুড়ে যেখানে প্রজনন হার কমছে এবং একই সঙ্গে মানসিক রোগের প্রকোপ বাড়ছে—সেই বাস্তবতায় এই গবেষণার ফলাফল তাৎপর্যপূর্ণ। এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, ‘‘১৬ থেকে ২৯ বছর বয়সী নারীদের একটি বড় অংশ মাঝারি থেকে মারাত্মক বিষণ্নতায় ভোগেন। এই প্রেক্ষাপটে দুটি সন্তানের মা হওয়া অনেক নারীর মানসিক সুস্থতার জন্য একটি শক্তিশালী রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করতে পারে।’’
নতুন বছরে আর্থিক সফলতার জন্য যা করবেন

নতুন বছরে আর্থিক সফলতার জন্য যা করবেন আজ বছরের শেষ দিন। ঘড়ির কাঁটা ১২টা বাজলে আশা এবং সম্ভাবনায় ভরা একটি নতুন বছর শুরু হবে। ২০২৬ সাল আপনার জন্য হোক সৌভাগ্য এবং সমৃদ্ধি প্রকাশের বছর। সফলতা কোনো জাদু নয়, এটি আপনার মানসিকতা, শক্তি এবং কর্মকে একত্রিত করে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়। নতুন বছরে আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ হতে চাইলে আপনাকে কিছু কাজ নিয়মিত করতে হবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কী করবেন- লক্ষ্য লিখে রাখুন : একটি ছোট জার নিন। কাগজের টুকরোতে ১০টি নির্দিষ্ট অর্থ লক্ষ্য লিখুন। সেগুলো ভাঁজ করে একটি জারে রাখুন, মুদ্রা বা স্ফটিক যোগ করুন। এই জারটি এমন জায়গায় রাখুন যেখানে আপনি প্রতিদিন এটি দেখতে পাবেন, যেমন আপনার কাজের ডেস্ক। এই সহজ প্রকাশ কৌশলটি আপনার মস্তিষ্ককে পুনর্জীবিত করতে সাহায্য করবে। ধীরে ধীরে আপনার অবচেতন মন অভাব থেকে প্রাচুর্যে পরিবর্তিত হবে, যা প্রত্যাশিত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে কাজ করে। আয়নায় আত্মবিশ্বাস : প্রতিদিন সকালে, আপনি প্রস্তুত হওয়ার পর এবং কাজে বের হওয়ার আগে, আয়নায় নিজেকে দেখুন এবং তিনবার বলুন: আমি সাফল্যের যোগ্য। ২০২৬ সালে অর্থ উপার্জন করা আমার পক্ষে সহজ। শুধু এই কথা বলবেন না, বরং এতে বিশ্বাস করুন। এটি আপনার আত্মবিশ্বাসকে বাড়িয়ে তুলবে এবং কর্মক্ষেত্রে আপনার সর্বোত্তম প্রচেষ্টায় আপনাকে সাহায্য করবে। ভবিষ্যতের নিজের প্রতি কৃতজ্ঞতা পত্র লিখুন : ১ জানুয়ারি, ২০২৬ সকালে, নতুন বছরে ধনী এবং সফল হওয়ার জন্য সঠিক উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে আপনার দিন শুরু করুন। এর একটি অংশের মধ্যে রয়েছে আপনার ভবিষ্যতের নিজের প্রতি কৃতজ্ঞতা পত্র লেখা, কঠিন সময়ে অটল থাকার জন্য নিজেকে ধন্যবাদ জানানো। এটি আপনাকে ২০২৬ সালে স্থির থাকতে এবং সফল হতে সাহায্য করবে। সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ুন : সঞ্চয়ের অভ্যাস আপনাকে মুহূর্তেই ধনী করে দেবে না ঠিকই, তবে এটি আপনাকে একজন সুসংগঠিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করবে। মনে রাখবেন, সবকিছুই অভ্যাসের বিষয়। আপনি যখন প্রতিদিন অল্প করে হলেও সঞ্চয়ের অভ্যাস করবেন, তখন এটি আপনাকে আরও অনেক বিষয়ে গোছালো করে তুলবে। এছাড়া অল্প হলেও আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
নতুন বছরে সুস্থ থাকতে যা করবেন

নতুন বছরে সুস্থ থাকতে যা করবেন সুস্থতাই সবচেয়ে বড় সম্পদ। এটি আপনি ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন যখন অসুস্থতা এসে আপনাকে গ্রাস করবে। অসুখে ভুগে ভুগে উপলব্ধি হওয়ার থেকে আগে থেকেই যদি নিজের প্রতি যত্নশীল হন, তাহলে সুস্থ থাকার পথ অনেকটাই সহজ হবে। নতুন বছরে সফল হতে চান, ধনী হতে চান, সবকিছুই ঠিক আছে। তবে সবার আগে সুস্থ থাকা জরুরি। কারণ শরীর সুস্থ থাকলে বাকিসব অর্জন সহজ হয়ে যায়। নতুন বছরে সুস্থ থাকার জন্য আপনাকে এই কাজগুলো করতে হবে- স্বাস্থ্যকর খাবার খান : সুস্থতার জন্য সবার আগে জরুরি স্বাস্থ্যকর খাবার। খাবার যদি স্বাস্থ্যকর না হয় তাহলে অসুখ-বিসুখ আসার দরজা খুলে যাবে। কারণ আমরা প্রতিদিন যা খাই, সেসব খাবার থেকেই আমাদের শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করে। তাই খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টি না থাকলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও জোরদার হয় না। টাটকা ও স্বাস্থ্যকর নিয়মিত খেতে হবে। এতে শরীর সুস্থ থাকবে। প্রয়োজনীয় ঘুম : ঘুম এমন একটি বিষয়, যা আমাদের বেশিরভাগই অবহেলা করি। সুস্থ থাকার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবারের মতোই স্বাস্থ্যকর ঘুম জরুরি। রাতে আগে ঘুমিয়ে পড়া এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠা সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির জন্য প্রতি রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুম জরুরি। রাতে বিছানায় যাওয়ার অন্তত ঘণ্টাখানেক আগে সব ধরনের ডিভাইস দূরে সরিয়ে রাখুন। এতে ঘুম ভালো হবে। অযথা রাত জাগবেন না। এতে স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। শরীরচর্চা : আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষই শরীরচর্চার প্রতি মনোযোগী নন। অনেকে আবার শরীরচর্চা বলতে বোঝেন কেবল জিমে গিয়ে ভারী ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে ব্যায়াম করা। আসলে এটি সঠিক নয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে বাইরে আধা ঘণ্টার মতো হাঁটলেও আপনার শরীরচর্চার কাজ অনেকটাই হয়ে যাবে। এছাড়া সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটাও ভালো ব্যায়াম হিসেবে কাজ করে। এছাড়া সময় ও সুযোগে মিললে জিমে গিয়েও শরীরচর্চা করতে পারেন। এতে শরীর সুস্থ থাকবে। ইতিবাচক থাকা : এটি মূলত দৃশ্যমান কোনো কাজ নয়। ইতিবাচকতা থাকতে হবে আপনার স্বভাবে। জীবনে চলার পথে নানা ধরনের মানুষের সঙ্গে দেখা হবে, নানাকিছু জমা হবে অভিজ্ঞতার ঝুলিতে। আপনি যদি স্বভাব থেকে ইতিবাচকতা হারিয়ে ফেলেন তবে আপনারই ক্ষতি। কারণ নেতিবাচক স্বভাব আমাদের শরীর ও মনের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। আপনি যদি সবকিছুর মধ্য থেকে ইতিবাচকতা খুঁজে পান তাহলে এগিয়ে যাওয়া সহজ হবে। মন ভালো থাকলে শরীরও ভালো থাকবে।
১ জানুয়ারি এতো মানুষের জন্মদিন কেন?

১ জানুয়ারি এতো মানুষের জন্মদিন কেন? পহেলা জানুয়ারি অনেককেই জন্মদিন পালন করতে দেখা যায়। সামাজিক মাধ্যমেও অনেকেই তাদের বন্ধুদের জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান জানুয়ারির ১ তারিখে। বলা যায়, বাংলাদেশের নাগরিকদের বিশাল একটা অংশ জন্মদিন পালন করেন বছরের প্রথম দিনে। তবে সত্যি সত্যিই কি এই নাগরিকদের সবার জন্ম বছরের প্রথম দিনেই। কিন্তু একই দিকে এই বিশাল সংখ্যক নাগরিকের জন্মগ্রহণের বিষয়টি কি সত্যি নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো রহস্য! আসুন জেনে নেওয়া যাক। জন্ম নিবন্ধন, এনআইডি, পাসপোর্ট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন জরিপে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের জন্ম তারিখের ক্ষেত্রে জানুয়ারির এক তারিখের প্রাধান্য দেখা গেছে। শিশুদের নিয়ে কাজ করেন, এমন বিশেষজ্ঞরাও এই প্রবণতা লক্ষ্য করেছেন। শিশু বিশেষজ্ঞ ড. ইশতিয়াক মান্নান বলেছেন, ‘বিষয়টি এমন না যে, জানুয়ারির এক তারিখে বেশির ভাগ শিশুর জন্ম হচ্ছে। আসলে এখনও আমাদের দেশের বেশির ভাগ শিশুর জন্ম হয় বাড়িতে, বিশেষ করে যারা গ্রামীণ এলাকায় থাকে। সেখানে এখনও শিক্ষার হার ততটা ভালো না। ফলে অভিভাবকরাও জন্ম নিবন্ধনের ব্যাপারে ততটা সতর্ক নন। তিনি আরও বলেন, আমাদের জন্ম নিবন্ধনও সঠিকভাবে সঠিক তারিখে হয় না। বাড়িতে বা হাসপাতালে জন্ম নেয়া শিশুদেরও ঠিকভাবে নিবন্ধন হচ্ছে না। পরবর্তীতে যখন তারা স্কুলে ভর্তি হয় বা কোনো সার্টিফিকেট পরীক্ষার সময় তার জন্ম তারিখটা দরকার হয়। তখন অনেক সময় স্কুলের শিক্ষকরা ইচ্ছামতো একটি তারিখ বসিয়ে দেন। নতুন করে জন্মদিন বসাতে গিয়ে তারা একটি কমন তারিখে জন্মদিন বসিয়ে দেন, যা সহজে মনে রাখা যায়। দেখা যায়, বেশির ভাগ সময়েই সেটা জানুয়ারির এক তারিখ হয়ে থাকে। এ কারণে দেখা যায় এখানে এটা খুবই কমন যে, মানুষের দুইটা করে জন্মদিন থাকে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শুধুমাত্র বাংলাদেশ নয়, ভারত-পাকিস্তান, নেপাল, ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানেও এই প্রবণতা রয়েছে। তবে শিশু বিশেষজ্ঞ ড. ইশতিয়াক মান্নান বলছেন, অনেকের জন্ম তারিখ বানিয়ে দেয়া হলেও এই তারিখেও কিন্তু সত্যিকারে বাংলাদেশে অনেক শিশুর জন্ম হচ্ছে, যাদের জন্মদিন আসলেই ১ জানুয়ারি।