পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন ছাড়াল ৮ লাখ ৪৫ হাজার

পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন ছাড়াল ৮ লাখ ৪৫ হাজার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিবন্ধন দ্রুত বাড়ছে।  নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৮ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি প্রবাসী ভোটার অ্যাপটিতে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ১০মিনিট পর্যন্ত ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, মোট নিবন্ধনকারী প্রবাসী ভোটারের সংখ্যা ৮ লাখ ৪৫ হাজার ১১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭ লাখ ৬৫ হাজার ৪১২ জন এবং নারী ভোটার ৭৯ হাজার ৭০৪ জন। দেশভিত্তিক নিবন্ধনের পরিসংখ্যানে শীর্ষে রয়েছে সৌদি আরব। দেশটি থেকে নিবন্ধন করেছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৪৭ জন প্রবাসী বাংলাদেশি। এরপর কাতার থেকে নিবন্ধন করেছেন ৬১ হাজার ৬৪৩ জন, ওমান থেকে ৪৬ হাজার ৫৯২ জন, মালয়েশিয়া থেকে ৪৬ হাজার ৩৮৫ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৩০ হাজার ৯৮৪ জন এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিবন্ধন করেছেন ২৬ হাজার ৪৮৫ জন ভোটার। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনের সময়সীমা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট থেকে বিশ্বের সব দেশের প্রবাসীদের জন্য অ্যাপটি উন্মুক্ত করা হয়। ইসি সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আরো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী ভোটার এই ব্যবস্থার আওতায় নিবন্ধন করবেন।

আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল

আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় আরো এক মাস বাড়িয়েছে। বর্ধিত সময় অনুযায়ী ব্যক্তি শ্রেণির ও হিন্দু-অবিভক্ত পরিবার করদাতা জরিমানা ছাড়া ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে।  আদেশ বলা হয়, ২০২৩-এর ৩৩৪ উপধারার ক্ষমতাবলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জনস্বার্থে সরকারের পূর্বোনুমোদনক্রমে স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু-অবিভক্ত পরিবার করদাতাগণের আয়কর রিটার্নের নির্দিষ্ট তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের পরিবর্তে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ নির্ধারন করিল।  এর আগে, একবার আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানো হয়েছিল। সে অনুযায়ী রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় ছিল আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এদিন পর্যন্ত ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জরিমানা ছাড়া রিটার্ন দাখিল করার সময় ছিল।

মাদরাসা শিক্ষার সম্প্রসারণ ও মানোন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: নূরুল হক

মাদরাসা শিক্ষার সম্প্রসারণ ও মানোন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: নূরুল হক সারাদেশে মাদরাসা শিক্ষার সম্প্রসারণ ও মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিঞা মো. নূরুল হক। শনিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শহীদ সাটু হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাবালুন নূর আল জামিয়াতুল ইসলামিয়ার উদ্যোগে হিফজুল হাদিস পাঠ প্রতিযোগিতা ও হিফজ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা সম্মেলন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অধ্যাপক মিঞা মো. নূরুল হক বলেন, বিগত সময়ে বিভিন্ন আইনি জটিলতার কারণে মাদরাসা শিক্ষার বিস্তার বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। বর্তমানে নতুন বিধিমালা–২০২৫ সংশোধনের মাধ্যমে শর্ত শিথিল করা হয়েছে এবং মাদরাসা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় জমির পরিমাণ কমানো হয়েছে। এ শিথিল নীতির আওতায় নতুন নতুন মাদরাসার অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রাইভেট পর্যায়ের মাদরাসাগুলোকে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং সেখান থেকে ভালো ফলাফলও পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশ আমলে এ দেশে মাদরাসা শিক্ষা বন্ধ করে দিয়ে একটি সেক্যুলার শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, যেখানে মানুষের নৈতিক ও আদর্শিক গঠনের সুযোগ কম ছিল। শুধু ডিগ্রিনির্ভর শিক্ষা নয়, চরিত্রবান মানুষ গড়ে তুলতে মাদরাসা শিক্ষার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানে জাবালুন নূর আল জামিয়াতুল ইসলামিয়ার সভাপতি মাওলানা আবু জার গিফারীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন জামায়াত নেতা অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, মো. আবু বকর, মো. আব্দুল আলিম, মো. গোলাম রব্বানীসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

বৈশাখী টেলিভিশনের বিশ বছর পূর্তি উদযাপন

বৈশাখী টেলিভিশনের বিশ বছর পূর্তি উদযাপন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বৈশাখীর বিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও কেক কাটার আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে কেক কাটেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এ.এন.এম. ওয়াসিম ফিরোজ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। সুজনের সভাপতি আসলাম কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দৈনিক চাঁপাই দর্পণের সম্পাদক ও প্রকাশক আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু, সিটিজে’র সভাপতি রফিকুল আলম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ, সিটি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান, সিনিয়র সাংবাদিক ও মাছরাঙা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি ডাবলু কুমার ঘোষ এবং আইনজীবী নূরে আলম সিদ্দিক আসাদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিটিজে’র সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন জুয়েল। সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন বৈশাখী টেলিভিশনের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি আব্দুল ওয়াহাব। বক্তারা বলেন, গত দুই দশক ধরে বৈশাখী টেলিভিশন দেশের মানুষের কথা ও সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। আগামীতেও বস্তুনিষ্ঠ, সাহসী ও জনস্বার্থভিত্তিক সংবাদ প্রচারে চ্যানেলটি অগ্রণী ভূমিকা রাখবে— এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সংবাদ প্রচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপদ ও সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বদা পাশে থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। এর আগে বৈশাখী টেলিভিশনের বিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রেস ক্লাবে এসে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অন্ধ কল্যাণ সমিতির রজতজয়ন্তী উদযাপন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অন্ধ কল্যাণ সমিতির রজতজয়ন্তী উদযাপন বাংলাদেশ অন্ধ কল্যাণ সমিতি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার রজতজয়ন্তী উৎসব নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে। শনিবার দিনব্যাপী শোভাযাত্রা, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এই উপলক্ষ উদযাপন করা হয়। সকাল ১০টায় জেলা শহরের বালিগ্রামে অবস্থিত সমিতির কার্যালয় চত্বরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা ও সমিতির পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে বেলুন উড্ডয়নের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। এরপর সমিতি প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ–সোনামসজিদ মহাসড়কের শান্তিমোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সমিতি কার্যালয়ে ফিরে এসে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। সমিতির জেলা শাখার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুব আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সহকারী একান্ত সচিব শাব্বীর আহমদ এবং সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. লতিফুর রহমান, সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী সাদিকুল ইসলাম এবং রজতজয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল। অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হাকিম।

আমনুরায় কৃষিভিত্তিক ইপিজেড হলে ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে

আমনুরায় কৃষিভিত্তিক ইপিজেড হলে ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ বলেছেন, জেলার সদর উপজেলার আমনুরায় রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন বিস্তীর্ণ কৃষিজমি রয়েছে। সেখানে কৃষিভিত্তিক ইপিজেড বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হলে জেলা ও আশপাশের এলাকার উৎপাদিত কৃষিপণ্য রেলপথে সহজে পরিবহন করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি এতে প্রায় ৫০ হাজার বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। শনিবার দুপুরে জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, শনিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ৩৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জেলার ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করা হয়েছে। অনুমোদিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী সরাসরি রাত্রিকালীন অন্তঃনগর ট্রেন চালু, সোনামসজিদ স্থলবন্দর থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, বারঘরিয়া থেকে যাদুপুর-নয়াগোলা হয়ে আমনুরা পর্যন্ত বাইপাস সড়ক নির্মাণ ও নয়াগোলায় মহানন্দা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ, আমনুরা রেলস্টেশনের পাশে কৃষিভিত্তিক ইপিজেড স্থাপন, সোনামসজিদ স্থলবন্দর উন্নয়নে সাসেক প্রকল্পের ৩২০ কোটি টাকা দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন, রহনপুর রেলস্টেশনকে পূর্ণাঙ্গ রেলবন্দর ঘোষণা, ব্যবসায়ীদের জন্য সিঙ্গেল ডিজিট ব্যাংক সুদের হার পুনর্বহাল, মহানন্দা নদীর তীর ঘেঁষে বাইপাস সড়ক নির্মাণ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের পানি সমস্যার সমাধানে গোদাগাড়ীর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট সম্প্রসারণ। আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে এসব দাবি আপনাদের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো। সাংবাদিকদের লেখনী ও প্রচারের মাধ্যমে এসব দাবি বাস্তবায়নে সহযোগিতা কামনা করছি। তিনি আরও বলেন, সোনামসজিদ স্থলবন্দর থেকে প্রতিবছর সরকার প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা রাজস্ব পায়। কিন্তু বন্দরটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। ফলে ভারতের মহদীপুরে পণ্যবাহী ট্রাক তিন-চার দিন আটকে থাকায় ব্যবসায়ীদের বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হয় এবং পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়। তাই সোনামসজিদ স্থলবন্দরকে আধুনিক বন্দর হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি। তিনি জানান, কাস্টমস কর্মকর্তাদের আবাসন সুবিধা না থাকায় ২৪ ঘণ্টা বন্দর কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া রহনপুর রেলবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ রেলবন্দর হিসেবে গড়ে তোলার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। সবশেষে তিনি বলেন, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে এসব দাবি তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এরফান ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রয় কেন্দ্রের উদ্বোধন

এরফান ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রয় কেন্দ্রের উদ্বোধন ‘ঐতিহ্যের পথে, শুদ্ধতার টানে—চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরে আরো বৃহৎ পরিসরে যাত্রা’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে এরফান ব্র্যান্ডের নতুন পণ্য বিক্রয় কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের বাতেন খাঁ মোড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিক্রয় কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন এরফান গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এরফান গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম, সিনিয়র ব্যবস্থাপক মো. রেজাউল করিম, এরফান গ্রুপের জামে মসজিদের খতিব আব্দুল্লাহ আল মোমিনসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তা ও শুভানুধ্যায়ীরা। অনুষ্ঠানে নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, গ্রাহকদের জন্য উন্নত মান ও বিশুদ্ধ পণ্য সরবরাহের লক্ষ্যে এই শোরুমে বাছাইকৃত চিনি, গুড়া চাল ও বিভিন্ন প্রকার চাল, সরিষার তেল, মুড়ি, লাচ্ছা সেমাই, খিল সেমাই, নুডুলস, হট টমেটো সস, জুসি, পাউডার জুসি, মটর ভাজা, ডাল ভাজাসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় বিভিন্ন মানসম্মত কনজিউমার পণ্য পাওয়া যাবে।

১ জানুয়ারি বন্ধ হচ্ছে অতিরিক্ত মোবাইল সিম

১ জানুয়ারি বন্ধ হচ্ছে অতিরিক্ত মোবাইল সিম মোবাইল সিম ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরো কঠোর অবস্থান নিচ্ছে সরকার। অনিয়ম ও অপব্যবহার রোধে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে একজন গ্রাহক তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৫টি সিম সক্রিয় রাখতে পারবেন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে যাদের নামে ছয় থেকে ১০টি সিম রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে সংখ্যা কমিয়ে পাঁচে নামিয়ে আনা হবে। বিটিআরসি জানিয়েছে, অনিয়ম ও অপব্যবহার কমিয়ে আনতে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে। যদিও মোবাইল ফোন অপারেটররা আগের মতোই এ সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বে সিম ব্যবহারের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। এ তালিকায় বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো দেশ। বিটিআরসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবরে দেশে মোবাইল সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে গ্রামীণফোন ৮ কোটি ৫৯ লাখ, রবি ৫ কোটি ৭৫ লাখ, বাংলালিংক ৩ কোটি ৭৯ লাখ, টেলিটক ৬৬ লাখ ৭০ হাজার। বর্তমানে দেশে মোট নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা ২৬ কোটি ৬৩ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ১৯ কোটি সিম সক্রিয়, বাকিগুলো নিষ্ক্রিয় রয়েছে। গত আগস্টে এক ব্যক্তির নামে ১০টির বেশি সক্রিয় সিম থাকলে অতিরিক্ত সিম ৩০ অক্টোবরের মধ্যে বাতিল বা মালিকানা পরিবর্তনের নির্দেশ দেয় বিটিআরসি। সংস্থার তথ্যমতে, সে সময় এক ব্যক্তির নামে ১০টির বেশি সক্রিয় সিম ছিল প্রায় ৬৭ লাখ। এর মধ্যে গত তিন মাসে প্রায় ১৫ লাখ সিম গ্রাহক স্বেচ্ছায় বাতিল করেছেন। তবে এখনো প্রায় ৫০ থেকে ৫৩ লাখ সিম বাতিল হয়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব সিম বাতিল না করায় সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে সেগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

শীতে রান্নাঘরে তেলাপোকা? জেনে নিন তাড়ানোর উপায়

শীতে রান্নাঘরে তেলাপোকা? জেনে নিন তাড়ানোর উপায় তাপমাত্রা কমে গেলে অনেক পোকামাকড় অদৃশ্য হয়ে যায়, কিন্তু শীতকালে তেলাপোকা অদৃশ্য হয় না। শীতের সময়ে আপনার বাড়ির কেন্দ্রস্থলে, অর্থাৎ রান্নাঘরে তেলাপোকার উপদ্রব বেড়ে যেতে পারে। সিঙ্কের কাছে, ক্যাবিনেটের ভিতরে বা সংরক্ষিত শস্যের আশেপাশে তাদের দেখা মিলতে পারে। এটি একটি বিরক্তিকর এবং সেইসঙ্গে অস্বাস্থ্যকর বিষয়। শীতের সময়ে আপনার মজাদার খাবার খাওয়ার আনন্দ নষ্ট করে দিতে পারে এই তেলাপোকা। চলুন জেনে নেওয়া যাক শীতকালে রান্নাঘর থেকে তেলাপোকা তাড়ানোর উপায়- * উষ্ণ লুকানোর জায়গা এবং প্রবেশের স্থানগুলো সিল করুন তেলাপোকা শীতকালীন আস্তানা পছন্দ করে যেমন ক্যাবিনেটের পেছনে ফাটল, গ্যাস পাইপের কাছে ফাঁক এবং সিঙ্কের নিচের জায়গা। সিলিকন সিল্যান্ট বা ফিলার ব্যবহার করে এই প্রবেশের স্থানগুলো সিল করুন, বিশেষ করে প্লাম্বিং এবং দেয়ালের জয়েন্টগুলোর চারপাশে। রেফ্রিজারেটর এবং মাইক্রোওয়েভের পেছনের মতো উষ্ণ জায়গাগুলোতে মনোযোগ দিন। একবার এই কোণগুলো ব্লক হয়ে গেলে, তেলাপোকাগুলো তাদের নিরাপদ আশ্রয় হারাবে এবং বাইরে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হবে। এই পদক্ষেপটি শীতকালে সবচেয়ে ভালো কাজ করে কারণ তেলাপোকা কম সক্রিয় থাকে এবং বাইরে পালিয়ে যাওয়ার চেয়ে ঘরে আটকে রাখা সহজ। *রাতে সিঙ্ক শুকনো রাখুন শীতকালে রান্নাঘর দীর্ঘ সময় স্যাঁতসেঁতে থাকে, যার ফলে সিঙ্ক এবং ড্রেন একটি প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে। রাতের খাবারের পরে সিঙ্কটি সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন এবং ধীরগতির লিক দ্রুত মেরামত করুন। অবশিষ্টাংশ ভেঙে ফেলার জন্য সপ্তাহে একবার বা দুইবার লবণ বা বেকিং সোডা মিশ্রিত গরম পানি ড্রেনে ঢেলে দিন। ভেজা স্পঞ্জ বা কাপড় রাতারাতি রেখে যাওয়া এড়িয়ে চলুন। পানির প্রবেশ বন্ধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ আর্দ্রতা ছাড়া তেলাপোকা বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করে, বিশেষ করে ঠান্ডা মাসগুলোতে। *স্টোরেজে তেজপাতা এবং লবঙ্গ ব্যবহার করুন তেজপাতা এবং লবঙ্গ হলো প্রাকৃতিক তেলাপোকা প্রতিরোধক যা শীতকালে আশ্চর্যজনকভাবে ভালো কাজ করে। কয়েকটি তেজপাতা গুঁড়া করে শস্যের পাত্র, ড্রয়ার এবং অন্ধকার কোণে রাখুন। মসলার তাকের কাছে আস্ত রাখুন। এর তীব্র সুগন্ধ তেলাপোকাকে দূরে রাখতে কাজ করে। যার ফলে রাসায়নিক ছাড়াই তেলাপোকা দূরে রাখা সম্ভব হয়। যেহেতু শীতকালে বেশিরভাগ সময় জানালা বন্ধ থাকে, তাই এই গন্ধ দীর্ঘ সময় ধরে থাকে, যা ঠান্ডা ঋতুতে এই পদ্ধতিটিকে আরও কার্যকর করে তোলে।

কোমরের ডিস্ক সরে গেলে যা করবেন

কোমরের ডিস্ক সরে গেলে যা করবেন সায়াটিক নার্ভ নামে একটি স্নায়ু রয়েছে আমাদের দেহে। এটি মেরুদণ্ডের কোমরের অংশ থেকে উৎপত্তি হয়ে ঊরুর পেছন দিক দিয়ে হাঁটুর নিচের মাংসপেশির মধ্য দিয়ে পায়ের আঙুল পর্যন্ত বিস্তৃত। কোনো কারণে এই নার্ভের ওপর চাপ পড়লে কোমর থেকে পায়ের নিচ পর্যন্ত ব্যথা ছড়িয়ে যায়। একে বলে সায়াটিকা। অধিকাংশ মানুষ কোনো না কোনো সময় এ ব্যথায় আক্রান্ত হয়। ব্যথার অনেকগুলো কারণের মধ্যে অন্যতম হলো মেরুদণ্ডের কোমরের অংশের ডিস্ক সরে গিয়ে স্নায়ুতে চাপ পড়া। পুরুষ বা নারীর যে কেউ ৩০ থেকে ৫০ বয়সের মধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। কোমরের ডিস্ক বা নরম হাড় সরে যায়, বয়সজনিত ক্ষয়বাত, কোমরের শক্ত হাড় সরে গেলে, লাম্বার স্পাইনাল স্টেনসিস চলাচলের পথ সরু হয়ে গেলে, পিরিফর্মিস নামক মাংসপেশিতে টান পড়লে এ ধরনের ব্যথা হয়। সবসময় ভারী জিনিস উঠানো, ঝাড়ু দেওয়া, টিউবওয়েল চাপা, একনাগাড়ে অনেকক্ষণ বসে কাজ করা, কোমরের ঝাঁকুনি লাগে এমন কাজ, মোটরসাইকেল বা সাইকেলে দীর্ঘ ভ্রমণ করলে এমনটা হতে পারে। কোমর নাড়াতে, ঘোরাতে তীব্র ব্যথা লাগা, সামনে ঝুঁকে কাজ করার সময় ব্যথা তীব্র হয়, ব্যথা ঊরুর পেছনে, হাঁটুর নিচের মাংসপেশিতে, এমনকি পায়ের তলা ও আঙুল পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়, কিছুক্ষণ হাঁটলে বা দাঁড়িয়ে থাকলে ব্যথা ও ঝিঁঝি বাড়ে, বসলে আবার কমে যায়, আক্রান্ত পায়ে শিরশির অনুভূতি, অবশ ও ভার ভার ভাব, সুচ ফোটানোর অনুভূতি লাগা, হাঁচি বা কাশি দিলে, পায়খানা কষা হলে ব্যথা বেড়ে যায়। সাধারণত তিন ধাপে চিকিৎসা করা হয়। কনজারভেটিভ চিকিৎসা, ইন্টারভেনশন (ইঞ্জেকশন) চিকিৎসা, অপারেশন করা হয়। কনজারভেটিভ চিকিৎসা মূলত জীবনযাপনে পরিবর্তন, ফিজিওথেরাপি, ব্যায়াম ও ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। ফিজিওথেরাপি এ রোগের একটি আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি। বয়স্কদের যেহেতু এ রোগ বেশি হয়, তাই ওষুধের ব্যবহারই উত্তম। একজন ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে ফিজিওথেরাপির পরামর্শ দেন। এর মধ্যে শর্ট-ওয়েভ থেরাপি, ট্রাকশন থেরাপি, আলট্রাসাউন্ড থেরাপি, নার্ভ ইস্টিমুলেশন থেরাপি দিয়ে থাকেন। চিকিৎসক মূলত ব্যথানাশক ওষুধ, মাংসপেশি শিথিল করার ওষুধ ও দুশ্চিন্তা কমানোর ওষুধ দিয়ে থাকেন। ইন্টারভেনশন (কোমরে ইঞ্জেকশন) মেশিনের মাধ্যমে কোমরের জয়েন্টের ভেতরে নার্ভ বা স্নায়ুর গোড়ায় দেওয়া হয়। ফলে স্নায়ুমূলের উত্তেজনা কমে যায়, যা কোমরের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া অপারেশনের মাধ্যমেও এর চিকিৎসা করা হয়। বেশি নরম বিছানায় না ঘুমানো, কোমর বাঁকা করে কোনো কাজ না করা, সামনে ঝুঁকে ভারী কিছু না তোলা, ব্যথা থাকলে চেয়ারে বসে নামাজ পড়া, বাথরুমে হাইকমোড ব্যবহার করা, ব্যথা থাকলে ব্যায়াম না করা, শোয়া থেকে উঠার সময় একদিকে কাত হয়ে হাতে ভর দিয়ে ওঠা, চেয়ারে সোজা হয়ে বসে কাজ করা, বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে না থাকা, কাজের সময় বা উঁচু-নিচু স্থানে ভ্রমণের সময় কোমরে বেল্ট ব্যবহার করার মাধ্যমে রোগ থেমে মুক্তি মেলে।