বিশ্বকাপের আগে জয়ের মানসিকতাই মূল লক্ষ্য: শন টেইট

বিশ্বকাপের আগে জয়ের মানসিকতাই মূল লক্ষ্য: শন টেইট টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ দলের ফাস্ট বোলিং কোচ শন টেইট। তার মতে, প্রতিপক্ষ যেই হোক, জয়ের মানসিকতা এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিশ্বকাপে যাওয়াটাই মূল লক্ষ্য। রোববার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সংবাদ সম্মেলনে টেইট দলের পরিকল্পনা ও পেসারদের নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। শেষ ম্যাচ নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানাতে গিয়ে টেইট বলেন, ‘বিষয়টি খুব জটিল করে দেখতে চাই না। আমরা ভালো খেলে ম্যাচটি জিততে চাই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জয় সব সময়ই আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। গত ম্যাচের আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে কালও (রোববার) আমরা জিততে চাই।’ আয়ারল্যান্ডের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আয়ারল্যান্ড বেশ ভালো ও গোছানো দল। টি-টোয়েন্টিতে তারা কঠিন প্রতিপক্ষ। বিশ্বকাপের ঠিক আগে আমরা এমন চ্যালেঞ্জই চেয়েছিলাম, যা আমাদের প্রস্তুতির জন্য সহায়ক হবে।’ বাংলাদেশের বর্তমান পেস অ্যাটাক নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট এই অস্ট্রেলিয়ান কোচ। দেশে এখন মানসম্পন্ন পেসারের সংখ্যা বাড়ায় দলে সুযোগ পাওয়ার প্রতিযোগিতা বেড়েছে, যা দলের জন্য ইতিবাচক। টেইট বলেন, ‘সম্ভবত বাংলাদেশের ক্রিকেটে এবারই প্রথম এতজন হাই কোয়ালিটি পেসার থেকে আমাদের সেরাটা বেছে নিতে হচ্ছে। সংখ্যা বেশি হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে, আর প্রত্যেক বোলার জানে প্রতিযোগিতা কতটা তীব্র।’ তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘তাসকিন আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একজন ভালো লিডার। তার সাথে আমার নিয়মিত কথা হয়। অন্যদিকে মোস্তাফিজ অভিজ্ঞতায় ভরপুর এবং বিশ্বমানের। সে নিজের শক্তির জায়গাটা ভালো চেনে, তাই সব জায়গাতেই তার কদর রয়েছে।’
হাসিনার ৫ রেহানার ৭ টিউলিপের ২ বছর কারাদণ্ড

হাসিনার ৫ রেহানার ৭ টিউলিপের ২ বছর কারাদণ্ড রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ৫ বছর কারাদণ্ড এবং তার বোন শেখ রেহানাকে ৭ বছর ও রেহেনার সন্তান ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে ২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (০১ ডিসেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক মো. রবিউল আলমের আদালতে এ রায় দেন। এর আগে ২৫ নভেম্বর মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য ছিল। সেদিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিচারক রায়ের জন্য এ দিন করেন আদালত। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন-জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউক-এর সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। এদের মধ্যে আসামি খুরশীদ আলম কারাগারে আটক রয়েছেন। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, শেখ রেহানার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি মামলা দায়ের করেন দুদক-এর উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন। তদন্ত শেষে গত ১০ মার্চ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। বিচার চলাকালে এই মামলায় ৩২ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।
সংঘাতের সমাধান ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র: পোপ

সংঘাতের সমাধান ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র: পোপ ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ লিও চতুর্দশ বলেছেন, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে কয়েক দশক ধরে চলমান সংঘাতের একমাত্র সমাধান হল একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। রবিবার তুরস্ক থেকে লেবাননের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার সময় সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেছেন। পোপ বলেছেন, “আমরা সবাই জানি, এই সময়ে ইসরায়েল এখনো সেই সমাধান গ্রহণ করে না, তবে আমরা এটিকে একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখি। আমরা ইসরায়েলেরও বন্ধু এবং আমরা দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী কণ্ঠস্বর হতে চাইছি যা তাদের সবার জন্য ন্যায়বিচারের সমাধানে সহায়তা করতে পারে।” ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বারবার ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের বিরোধিতা করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হবে না। লিও তার তুরস্ক সফরের উপর আলোকপাত করে আট মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। পোপ জানিয়েছেন, তিনি ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট তাইয়্যেব এরদোগান ইসরায়েল-ফিলিস্তিন এবং ইউক্রেন-রাশিয়া উভয় সংঘাত নিয়েই আলোচনা করেছেন। উভয় যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তুরস্কের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পোপ সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বিশ্বের অস্বাভাবিক সংখ্যক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কারণে মানবতার ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তিনি ধর্মের নামে সহিংসতার নিন্দা করেছেন।
ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’র তাণ্ডবে শ্রীলঙ্কায় মৃতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়াল

ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’র তাণ্ডবে শ্রীলঙ্কায় মৃতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়াল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’র প্রভাবে টানা ভারী বর্ষণ ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর নিম্নাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত ৩৩৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি)। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ৩৭০ জন। খবর দ্য স্টেটসম্যানের। শ্রীলঙ্কার শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলা হল ক্যান্ডি, যেখানে ৮৮ জন মারা গেছেন এবং ১৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বাদুল্লায় ৭১ জন, নুওয়ারা এলিয়ায় ৬৮ জন এবং মাতালেতে ২৩ জন মারা গেছেন। ডিএমসির মতে, দক্ষিণ এশীয় দ্বীপরাষ্ট্রটির বিশাল অংশ জুড়ে প্রবল বৃষ্টিপাত এবং বন্যার কারণে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় দুই লাখ মানুষ ১,২৭৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে মধ্যাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। উপড়ে পড়া গাছ ও ভূমিধসে বন্ধ হয়ে যাওয়া সড়কগুলো পরিষ্কার করতে ত্রাণকর্মীরা কাজ শুরু করায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে। ডিএমসি জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় মূল এলাকা থেকে সরে গেলেও উজানে ভারী বৃষ্টির কারণে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলোতে নতুন করে বন্যা দেখা দিচ্ছে। তবে উদ্ধার কাজও চলছে সমানতালে। ২৪ হাজারের বেশি পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর সদস্য এখনো বন্যায় আটকা পড়া পরিবারগুলোতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার দিশানায়েকে চলমান চরম আবহাওয়া সংকটকে দেশের সবচেয়ে খারাপ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসাবে বর্ণনা করেছেন ও দুর্যোগ থেকে পুনরুদ্ধারের জন্য পূর্ণ রাষ্ট্রীয় সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রবিবার জাতির উদ্দেশ্যে এক বিশেষ ভাষণে প্রেসিডেন্ট বলেন, দুর্যোগের সময় সরকারের তিনটি দায়িত্ব রয়েছে: তাৎক্ষণিক জরুরি অবস্থা পরিচালনা করা, স্বাভাবিকতা পুনরুদ্ধার করা এবং দেশকে আগের চেয়ে শক্তিশালী অবস্থায় পুনর্নির্মাণ করা। তিনি বলেন, “যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে এবং যখন আমরা তাদের প্রভাব প্রতিরোধ করতে অক্ষম হই, তখন জরুরি পরিস্থিতি পরিচালনা, দেশকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং পরিস্থিতির আগের চেয়েও বেশি উন্নতি করা সরকারের দায়িত্ব। পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক না কেন, আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি বলেন, বর্তমানে কার্যকর জরুরি অবস্থা কেবল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং এটি নাগরিক স্বাধীনতা খর্ব করবে না। তিনি আরো বলেন, অনেক অঞ্চলে পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সহ প্রয়োজনীয় পরিষেবা পুনরুদ্ধারের জন্য জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট বলেন, সব বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিরা সরকারি সহায়তা পাবেন। এই জাতীয় সংকটের সময় কাউকে সহায়তা ছাড়া রাখা হবে না। তিনি উদ্ধার ও ত্রাণ প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করে বলেন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর হাজার হাজার কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের সহায়তার জন্য দিনরাত কাজ করছেন। দিশানায়েকে আন্তর্জাতিক সংহতির জন্যও আহ্বান জানান। তিনি বলেন যে, তিনি দেশের পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন প্রচেষ্টায় বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ এবং শ্রীলঙ্কার প্রবাসীদের সমর্থন আশা করেন। ভারত ইতিমধ্যে দুটি বিমান ভর্তি ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে। এছাড়াও কলম্বোতে শুভেচ্ছা সফরে থাকা ভারতীয় একটি যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের জন্য তাদের রেশন দান করেছে। এছাড়া ভারতীয় উদ্ধারকারী দলগুলো শ্রীলঙ্কার বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করার জন্য কাজ করছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শ্রীলঙ্কায় নিহতদের জন্য শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, নয়াদিল্লি আরো সাহায্য পাঠাতে প্রস্তুত।
ট্রাম্পের ‘অবৈধ হুমকি’ মোকাবিলায় ওপেকের সহায়তা চান মাদুরো

ট্রাম্পের ‘অবৈধ হুমকি’ মোকাবিলায় ওপেকের সহায়তা চান মাদুরো যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ক্রমবর্ধমান ও অবৈধ হুমকি’ মোকাবিলার জন্য তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন (ওপেক)-এর সহায়তা চেয়েছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। সোমবার (১ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়, রবিবার (৩০ নভেম্বর) প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর এই জোটের সদস্যদের কাছে লেখা এক চিঠিতে মাদুরো অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম ভেনেজুয়েলার তেল মজুদ ‘দখল’ করার চেষ্টা করছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম টেলেসুরে প্রকাশিত চিঠির অনুলিপি অনুসারে, মাদুরো বলেন, “এই আগ্রাসন ঠেকাতে আপনাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা আমি আশা করি। এটি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ভারসাম্যের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে, তা হোক উৎপাদক কিংবা ভোক্তা দেশ।’ মাদুরো ওপেক এবং বৃহত্তর জোট ওপেক প্লাস- উভয়ের কাছে ‘ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ড, জনগণ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণঘাতী সামরিক শক্তি ব্যবহারের’ বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। ভেনেজুয়েলার কাছে বিশ্বের সর্বাধিক (আনুমানিক ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল) তেলের মজুদ থাকা সত্ত্বেও, দেশটি ২০২৩ সালে মাত্র ৪.০৫ বিলিয়ন ডলারের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছিল। অন্যান্য প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর তুলনায় যা অনেক কম। ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্সির সময় আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এর কারণ।
ইন্দোনেশিয়ায় বন্যায় মৃত বেড়ে ৪৪২, খাবার-পানির জন্য হাহাকার

ইন্দোনেশিয়ায় বন্যায় মৃত বেড়ে ৪৪২, খাবার-পানির জন্য হাহাকার ইন্দোনেশিয়ায় ঘূর্ণিঝড় ‘সেনিয়ার’ প্রভাবে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসের ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪২ জনে দাঁড়িয়েছে এবং প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার ৭০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এই বিপর্যয়ের ফলে সুমাত্রার তাপানুলি অঞ্চলে খাদ্য ও পানির সংকট দেখা দিয়েছে, যার কারণে বাসিন্দারা লুটপাটসহ চুরি করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। খবর বিবিসির। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় এক সপ্তাহ আগে আঘাত হানা বিরল গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় ‘সেনিয়ার’ প্রভাবে আচেহ, উত্তর সুমাত্রা ও পশ্চিম সুমাত্রায় টানা বর্ষণে ভয়াবহ ভূমিধস হয়েছে, ঘরবাড়ি ভেসে গেছে এবং হাজার হাজার ভবন ডুবে গেছে। সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, দ্বীপের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বৈরি আবহাওয়া ও ভারী যন্ত্রপাতির ঘাটতির কারণে উদ্ধারকাজও ব্যাহত হয়েছে। উত্তর সুমাত্রার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শহর সিবোলগা এবং মধ্য তাপানুলি জেলায় ধীরগতিতে ত্রাণ পৌঁছচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, মানুষ ভাঙা ব্যারিকেড, পানিতে ডুবে থাকা রাস্তা ও ভাঙা কাচ মাড়িয়ে খাবার, ওষুধ ও গ্যাস সংগ্রহের চেষ্টা করছে। কেউ কেউ হাঁটুপানির সমান বন্যার পানির ভেতর দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কনভিনিয়েন্স স্টোরে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে। পুলিশের মুখপাত্র ফেরি ওয়ালিনতুকান বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় দোকানে লুটপাটের খবর তারা পেয়েছেন এবং শৃঙ্খলা ফেরাতে আঞ্চলিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “লজিস্টিক সহায়তা পৌঁছনোর আগেই লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বাসিন্দারা জানতেন না যে সহায়তা আসবে এবং তারা না খেয়ে থাকার আশঙ্কায় ছিলেন।” ক্যাবিনেট সচিব টেডি ইন্দ্রা উইজায়া রবিবার বলেন, দুর্যোগের পরদিনই জাকার্তা থেকে ১১টি হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পাঠানো হয় চলমান ত্রাণ ও সরবরাহ বিতরণ কার্যক্রমের জন্য- বিশেষ করে যেখানে স্থলপথের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তবে তিনি যোগ করেন, ‘অনিশ্চিত আবহাওয়া প্রায়ই ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত করছে।’ ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সঙ্গে দেখা করছেন। প্রেসিডেন্টের প্রেস অফিসের এক বিবৃতি অনুসারে, প্রেসিডেন্ট আজ সোমবার সকালে উত্তর সুমাত্রা প্রদেশের মধ্য তাপানুলি জেলায় পৌঁছেছেন এবং বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের জন্য একটি পাবলিক রান্নাঘর ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন।
১ লাখ ১৬ হাজার ছাড়াল প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন

১ লাখ ১৬ হাজার ছাড়াল প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ চালুর পর মাত্র ১৩ দিনের মধ্যে নিবন্ধিত প্রবাসী ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ১৬ হাজার ১৫০ ছাড়িয়েছে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী,মোট নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ১৫ জন এবং নারী ১৬ হাজার ৬৫ জন। গত ১৮ নভেম্বর অ্যাপটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং ১৯ নভেম্বর নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর পর থেকে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া মিলছে। চলমান নিবন্ধন প্রক্রিয়া আগামী ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। ইসি সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, মিশর, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, কুয়েত, যুক্তরাষ্ট্রসহ এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বহু দেশে একযোগে অ্যাপের মাধ্যমে এই নিবন্ধন চলছে। মোট ৪০টিরও বেশি দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। নির্বাচন কমিশন জানায়, অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনের পর ভোটারদের ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠানো হবে পোস্টাল ব্যালট। ভোট সম্পন্ন করার পর তা নির্ধারিত খামে করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ফেরত পাঠাতে পারবেন প্রবাসী ভোটাররা।
কিউআর কোড স্ক্যান না করলে বাতিল হবে প্রবাসীদের ভোট

কিউআর কোড স্ক্যান না করলে বাতিল হবে প্রবাসীদের ভোট ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীরা কিউআর কোড স্ক্যান না করে ব্যালট পেপার ফেরত পাঠালে সংশ্লিষ্ট ভোট বাতিল করা হবে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে নিবন্ধন করার পর ভোটারের ঠিকানায় ফিরতি খামসহ ব্যালট পেপার পাঠাবে ইসি। ভোট দেওয়ার পর কিউআর কোড স্ক্যান করে ব্যালট ফেরত পাঠাতে হবে। অন্যথায় ব্যালট বাতিল করা হবে। এ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় এক লাখ ১৫ হাজার প্রবাসী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার অনুরোধ

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার অনুরোধ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে বিভ্রান্তিকর কোনো তথ্য প্রচার না করার জন্য দলটির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিকিৎসা–সংক্রান্ত সব আপডেট দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. জাহিদ হোসেনের মাধ্যমে জানানো হবে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য গণমাধ্যমে উপস্থাপনের দায়িত্ব জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রফেসর ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। শায়রুল কবির খান আরও জানান, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে যাচাইবিহীন, অযাচিত বা বিভ্রান্তিকর কোনো তথ্য প্রচার না করার জন্য সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে। দলের পক্ষ থেকে চিকিৎসা–সংক্রান্ত সব আপডেট একমাত্র ডা. জাহিদ হোসেনের মাধ্যমেই জানানো হবে। খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইতেও আহ্বান জানান বিএনপির মিডিয়া সেলের এই সদস্য।
ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন: প্রেস সচিব

ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন: প্রেস সচিব ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—এমন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম। সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ বার্তা দেন। প্রেস সচিব বলেন, জিল্লুর রহমান বলেছেন-তিনি ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের সম্ভাবনা দেখছেন না। কিন্তু আমরা দেখি। বাংলাদেশ ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের পথে রয়েছে। আমরা আশা করছি, নির্বাচন কমিশন খুব শিগগিরই তফসিল ঘোষণা করবে। তিনি আরও বলেন, জিল্লুর বিগত কয়েক মাস ধরে একই মন্তব্য করে চলেছেন এবং তিনি তা করতে স্বাধীন। কিন্তু আমরা প্রস্তুত নই—এমন দাবি করা বাস্তবতার অতিরঞ্জন। নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার সবসময়ই স্বচ্ছ থেকেছে। রেকর্ডসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাচনকালে নজিরবিহীন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। নতুন ডিসি-এসপি পোস্টিং সম্পন্ন হয়েছে, এগুলো নিয়ে কোনো প্রশ্নই ওঠেনি বা খুব কম উঠেছে। প্রেস সচিব বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে। বেশিরভাগ দল প্রার্থী ঘোষণা করেছে। সীমিত কিছু দলীয় অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃদলীয় কোন্দল ছাড়া নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল আছে। জুলাই চার্টার গৃহীত হওয়ায় একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরি হয়েছে। একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটের জন্যও দলগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে কি জিল্লুর কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দাবি করছেন যে ফেব্রুয়ারিতে কোনো নির্বাচনের সম্ভাবনা নেই? আর কেন তিনি ইঙ্গিত করছেন যে আমরা ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি, ২০১৪, ২০১৮ বা ২০২৪ সালের মতো পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছি? মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত একটি দলকে নির্বাচনের বাইরে রাখা মানে নির্বাচন ‘অবিশ্বাসযোগ্য’-এ দাবি আমরা মানি না, দেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষও মানেন না। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনার পক্ষে কেউ গুরুতরভাবে কথা বলছে না। দলের নেতাদের হাতে রক্ত লেগে আছে। কোনো সভ্য দেশই মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত এবং বহু নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে অভিযুক্ত একটি দলকে সহজে নির্বাচনে ফেরাতে পারে না। তার ভাষায়, তাদের নেতৃত্ব এখনো রক্তের পিপাসায় উন্মত্ত। আমাদের আন্তর্জাতিক সহযোগীরাও মনে করেন- প্রকাশ্য ক্ষমাপ্রার্থনা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ছাড়া আওয়ামী লীগ আবার স্বাভাবিক রাজনীতিতে ফিরতে পারবে না। সাম্প্রতিক ঘটনাও দেখিয়েছে- বাসে আগুন দেওয়া কিংবা ককটেল নিক্ষেপের মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড তারা এখনো রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। জিল্লুর রহমানের অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি একের পর এক মনোলগ ভিডিও তৈরি করছেন, যার বহু অংশ গুজবকে প্রশ্রয় দেয়, তথ্য দেওয়ার বদলে বিভ্রান্তি ছড়ায়। তিনি নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ ও গোলাম মাওলা রনির মতো ভুয়া তথ্যবাহকদেরও মঞ্চ করে দিয়েছেন। তিনি নিজেও ধীরে ধীরে সেই ভূমিকায় চলে যাচ্ছেন কি না-প্রশ্ন ওঠছে। পোস্টের শেষাংশে প্রেসসচিব লেখেন, মানুষ নিজের বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবে-তারা বোকা নয়। দুটি বিষয় আমি নিঃসংকোচে বলতে পারি: আওয়ামী লীগ নির্বাচন করতে পারবে না এবং অন্তর্বর্তী সরকার ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করবে, ইনশাআল্লাহ।