এ শীতে বাড়ে চুলের রুক্ষতা, যত্ন নেবেন যেভাবে

এ শীতে বাড়ে চুলের রুক্ষতা, যত্ন নেবেন যেভাবে শীত এলেই বইতে শুরু করে ঠান্ডা হাওয়া। শুষ্ক আবহাওয়া আর কম আর্দ্রতার কারণে ত্বক হয়ে ওঠে রুক্ষ। বেড়ে যায় খুশকির পরিমাণও। অনেকের ক্ষেত্রেই খুশকি এতোটাই বেড়ে যায় যে তার জেরে দেয় মাথা চুলকানো, চুল পড়া এমনকি ইনফেকশন। সহজ কিছু যত্ন ও ঘরোয়া উপায়ে শীতকালে চুল ঠিক রাখা যায়। শীতে চুলের যত্নে করণীয় কী জানুন- এসময় বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকায় মাথার ত্বক শুকিয়ে যায়। সেসঙ্গে বারবার গরম পানি দিয়ে মাথা ধোয়া, হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার, পর্যাপ্ত তেল না লাগানো ইত্যাদি কারণে মাথার ত্বক ফেটে গিয়ে খুশকি বাড়ে। অনেকসময়ে ফাঙ্গাল ইনফেকশনও এই সমস্যার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিয়মিত চুলের যত্ন নেওয়াই এর মূল সমাধান। প্রথমেই, মাথার ত্বক আর্দ্র রাখা জরুরি। সপ্তাহে অন্তত দুইবার নারকেল তেল, অলিভ অয়েল বা আমন্ড অয়েল হালকা গরম করে মাথায় মালিশ করুন। এতে ত্বক নরম থাকে এবং খুশকি কমে। এছাড়া লেবুর রস ও দই মিশিয়ে চুলে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। প্রাকৃতিকভাবে খুশকি দূর হবে এতে। শীতে চুলের যত্নে ব্যবহার করুন অ্যালোভেরা জেল। এটি ত্বকের জ্বালা কমায় এবং মাথার ত্বক আর্দ্র রাখে। যাদের অনেক বেশি খুশকি হয়, তারা অ্যান্টি ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। তবে শ্যাম্পু ব্যবহারের পর কন্ডিশনার লাগাতে ভুলবেন না। কেননা শীতকালে চুল সহজেই রুক্ষ হয়ে যায়। পর্যাপ্ত ঘুম, সঠিক খাবার এবং পর্যাপ্ত পানি পান করাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন বি, ই এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চুল ও ত্বক সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। খুশকি অবহেলা করবেন না। এটি কেবল সাময়িক সমস্যা নয়, বরং সঠিক যত্ন না নিলে তা চুল পড়া এবং ত্বকের প্রদাহের কারণও হতে পারে। তাই শীতের সময়টায় একটু সচেতন থাকলেই চুল থাকবে সুন্দর, খুশকিমুক্ত ও প্রাণবন্ত। নিয়মিত চুলের যত্ন করুন। চুল যেন সবসময় হাইড্রেটেড থাকে তা নিশ্চিত করুন। তাহলে শীতে চুল পড়ার হাত থেকেও রক্ষা পাবেন। সপ্তাহে একবার হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করুন।

নাচোল শিল্প ও বণিক সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

নাচোল শিল্প ও বণিক সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে নাচোল শিল্প ও বণিক সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  শুক্রবার বিকেল ৪ টায় নাচোল ডাকবাংলো চত্বরে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সমিতির আহ্বায়ক আসগার আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায়, যুগ্ম আহ্বায়ক আলাউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন, সদস্য হাসানুল ইসলাম, আরশাদ আলী, তরিকুল ইসলাম, আব্দুস সাত্তার, ওমর ফারুক। সভায় সমিতির বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভার শুরুতে বক্তারা ১৯৮৯ সালে স্থাপিত এই প্রাচীন শিল্প ও বণিক সমিতিকে আগামীদিনে আরো গতিশীল ও সমৃদ্ধ করার জন্য সকল সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়। সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে আগামী এক বছরের জন্য একটি নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। সমিতির অগ্রযাত্রায় নেতৃত্ব দিতে সদস্যরা আহ্বায়ক আসগার আলীকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করেছেন। নবনির্বাচিত সভাপতি আসগার আলী সমিতির সকল সদস্যকে সাথে নিয়ে নাচোলের শিল্প ও বাণিজ্য খাতের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে সাধারণ সভা ও নির্বাচনের মাধ্যমে দ্বিবার্ষিক পরিচালনা কমিটি গঠন করা হবে বলে জানান।

পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ভিক্টরি রান

পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ভিক্টরি রান চাঁপাইনবাবগঞ্জে পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম বুলবুলের উদ্যোগে “ভিক্টরি রান উইথ বুলবুল” শীর্ষক ম্যারাথন দৌড় অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৭টায় ম্যারাথন দৌড়টির সূচনা হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী সড়কের হরিপুর ট্রাক টার্মিনাল থেকে। দৌড়টি বিশ্বরোড, বারোঘরিয়া, রাণীহাটি, সুন্দরপুর ও ইসলামপুর অতিক্রম করে দেবীনগরে শেষ হয়। ম্যারাথনে ৬ হাজার ৫০০ জন তরুণ-যুবক আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন করলেও ১০ সহস্রাধিক অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের জন্য স্মারক উপহার হিসেবে আকর্ষণীয় টি-শার্ট প্রদান করা হয়। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রায় শতাধিক প্রতিযোগী পুরো ৩৪ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করে দৃঢ় মনোবল ও শারীরিক সক্ষমতার অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জে সুস্বাস্থ্য, তারুণ্য ও ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আয়োজকরা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এতে অংশগ্রহণ করেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

শাহরুখ-কাজলের ভাস্কর্য লন্ডনে

 শাহরুখ-কাজলের ভাস্কর্য লন্ডনে   প্রায় ৩০ বছর পরেও বলিউডের জনপ্রিয় সিনেমা ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’এর স্মরণীয় মুহূর্ত উদযাপন করলেন শাহরুখ খান ও কাজল। লন্ডনের লেস্টার স্কোয়ারে সিনেমার আইকনিক দৃশ্যের ভঙ্গিমায় তৈরি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য উন্মোচন করেন এই দুজন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাজলের সন্তান, ছেলে যুগ ও মেয়ে নিসা। ছবিতে দেখা যায়, মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে ছাতা হাতে কাজলের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন শাহরুখ খান; দুজনেই হাসিমুখে এবং আনন্দিত। তাদের পেছনেই ভাস্কর্যটি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। ভাস্কর্যটি কাজলের চরিত্র সিমরান এবং শাহরুখের চরিত্র রাজ এর বিখ্যাত পোজে তৈরি। কাজল সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি সত্যিই অবিশ্বাস্য। ভাস্কর্যটির সামনে আমাদের সন্তানদের সঙ্গে থাকা যেন পুরনো স্মৃতিকে নতুনভাবে জীবন্ত করে তুলেছে। ৩০ বছর পরও ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’ যে ভালোবাসা পাচ্ছে, তা সত্যিই আশ্চর্যজনক। শাহরুখ খান মন্তব্য করেন, ‘আমরা সিনেমাটি পুরো হৃদয় দিয়ে করেছি। এটি এমন একটি ভালোবাসার গল্প, যা সব বাধা পার করতে পারে। হয়ত এজন্যই ৩০ বছর পরও এটি মানুষের হৃদয়ে অটুট স্থান ধরে রেখেছে। কাজল ও আমি এই ভালোবাসা দেখে সত্যিই খুশি। ভাস্কর্য উন্মোচনের সময় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ছাতা হাতে কাজলের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন শাহরুখ; কাজল তখন ছেলে-মেয়েকে ডাকছেন। নিসা ক্যামেরার সামনে হাসিমুখে পোজ দিচ্ছে, আর যুগ খানিকটা লাজুক ভঙ্গিতে দেখা যাচ্ছে। এই মুহূর্তটি দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ভক্তরা তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’ পরিচালনা করেছিলেন আদিত্য চোপড়া। এটি ১৯৯৫ সালে মুক্তি পায় এবং এখনও রোমান্টিক ক্লাসিক হিসেবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম সিনেমাপ্রেমীদের কাছে সমাদৃত।

২০২৫-বিশ্বতারকায় জমে উঠেছে সৌদির ‘রেড সি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল

২০২৫-বিশ্বতারকায় জমে উঠেছে সৌদির ‘রেড সি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল    ‘সিনেমার প্রতি ভালোবাসা’ স্লোগানকে সামনে রেখে সৌদি আবের জেদ্দার ঐতিহাসিক শহর আল বালাদে পর্দা উঠেছে পঞ্চম রেড সি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই চলচ্চিত্র আসর শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর)। চলবে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) পর্যন্ত। প্রথম দিনেই লাল গালিচায় হাঁটলেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের তারকারা, জমে উঠল উৎসবের উদ্বোধনী রাত। উদ্বোধনী দিনেই রেড কার্পেটে উপস্থিত ছিলেন অস্কারজয়ী অভিনেতা অ্যাড্রিয়ান ব্রডি, মার্কিন তারকা কুইন লাটিফা, কির্সটেন ডানস্ট, জেসিকা আলবা, উমা থারম্যান, কিউবান–স্প্যানিশ অভিনেত্রী আনা ডি আর্মাস, ব্রিটিশ তারকা ড্যানিয়েল কালুয়া এবং গায়িকা রিতা ওরা। বলিউড তারকা ঐশ্বরিয়া রাইও নজর কাড়েন লাল গালিচায়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সৌদি অভিনেত্রী সারাহ তাইবাহসহ উপস্থিত ছিলেন জেইনা মাকি, হানা মানসুর ও আরও অনেকে। এ বছর উৎসবের মূল থিম- ‘সিনেমার প্রতি ভালোবাসা’। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার ৭০টিরও বেশি দেশ থেকে ১০০টিরও বেশি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। নতুন প্রতিভা আবিষ্কার, শিল্প কার্যক্রম, নারী চলচ্চিত্রকারদের ওপর বিশেষ ফোকাস এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাই এবারের আসরের প্রধান লক্ষ্য। অস্কারজয়ী অ্যাড্রিয়ান ব্রডি বলেন, ‘এটি আমার দ্বিতীয়বার রেড সি ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণ। সৌদি আরবের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। শুধু চলচ্চিত্র নয়, তারা নিজেদের সংস্কৃতিকেও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে নারী চলচ্চিত্রকারদের দৃশ্যমানতা বাড়াতে উৎসবটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উদ্বোধনী সন্ধ্যায় উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ অভিনেতা মাইকেল কেইনও। চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এই উৎসবে বিশেষ সম্মাননা পাবেন। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন জুরি সদস্য শন বেকার, লেবানিজ পরিচালক নাদিন লাবাকি, অস্কারজয়ী ব্রিটিশ তারকা রিজ আহমেদ, অভিনেত্রী অলগা কুরি্লেঙ্কো ও নাওমি হারিস। উদ্বোধনী রাতে প্রদর্শিত হয় ব্রিটিশ-ইয়েমেনি বক্সার প্রিন্স নাসিম হামেদের জীবনীভিত্তিক ছবি ‘জায়ান্ট’, পরিচালনায় রোয়ান আথাল। প্রধান চরিত্রে অভিনয়কারী আমির এল মাসরি বলেন, ‘এই ছবি আমাদের কঠোর পরিশ্রমের ফল। এটি পূর্ব ও পশ্চিম উভয় সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে। এক ইয়েমেনি মুসলিম বক্সারের সংগ্রাম এবং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে ওঠা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। পুরো উৎসবজুড়ে ফিচার, ডকুমেন্টারি, অ্যানিমেশন এবং শর্ট ফিল্মসহ নানা ঘরানার আন্তর্জাতিক সিনেমা প্রদর্শিত হবে। আরব স্পেকট্যাকুলার প্রোগ্রামে থাকছে আনেমারি জাসির ‘প্যালেস্টাইন ৩৬’, হাইফা আল মানসুরের ‘আনআইডেন্টিফায়েড’ এবং আনাস বে-থাফের ‘এ ম্যাটার অফ লাইফ অ্যান্ড ডেথ’। বিশ্ব সিনেমার এই মহাযজ্ঞে তারকারা, দর্শক ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা মিলিত হওয়ায় উৎসব প্রাঙ্গণে এখন উৎসবের আমেজ।

বলছে গবেষণা শরীরের ক্যালরি কমাতে সহায়ক ভূতের সিনেমা

বলছে গবেষণা শরীরের ক্যালরি কমাতে সহায়ক ভূতের সিনেমা   ওজন বা ক্যালরি কমানোর জন্য মানুষ ডায়েট কিংবা শরীরচর্চা- কত কিছুই না করেন! তবে এবার এক গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। শুধু ভয়ের সিনেমা বা হরর মুভি দেখলেই কমতে পারে শরীরের বাড়তি ক্যালরি! গবেষকরা দাবি করেছেন, ৯০ মিনিটের একটি শ্বাসরুদ্ধকর হরর সিনেমা দেখলে যে পরিমাণ ক্যালরি খরচ হয়, তা আধা ঘণ্টা হাঁটার সমান। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টমিনিস্টারের একদল গবেষক ২০১২ সালে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। তাদের মতে, একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য হরর সিনেমা দেখলে গড়ে ১১৩ ক্যালরি পর্যন্ত খরচ হতে পারে, যা একটি ছোট চকোলেট বারে থাকা ক্যালরির সমপরিমাণ। গবেষণায় দেখা গেছে, সব হরর সিনেমার প্রভাব এক রকম নয়। গবেষকরা ১০টি ক্লাসিক হরর সিনেমার ওপর এই পরীক্ষা চালিয়েছেন। এর মধ্যে ক্যালরি পোড়াতে সবচেয়ে এগিয়ে আছে স্ট্যানলি কুবরিকের বিখ্যাত সাইকোলজিক্যাল হরর সিনেমা ‘দ্য শাইনিং’। এই সিনেমাটি দেখলে গড়ে ১৮৪ ক্যালরি খরচ হয়। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা ‘জস’ দেখলে খরচ হয় ১৬১ ক্যালরি এবং তৃতীয় স্থানে থাকা ‘দ্য এক্সরসিস্ট’ দেখলে কমে ১৫৮ ক্যালরি। কেন কমে ক্যালরি? সোফায় বসে সিনেমা দেখলে কেন ক্যালরি খরচ হবে? এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও দিয়েছেন গবেষকরা। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব সিনেমায় হঠাৎ চমকে দেওয়ার মতো দৃশ্য বেশি থাকে, সেগুলো হৃৎস্পন্দন বা হার্ট রেট দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেল মেটাবলিজম ও ফিজিওলজি বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ডা. রিচার্ড ম্যাকেঞ্জি বলেন, ‘পরীক্ষায় দেখা গেছে ১০টি সিনেমাই দর্শকদের হৃৎস্পন্দন বাড়িয়ে দিয়েছে। নাড়ির গতি বাড়লে সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন দ্রুত হয় এবং শরীরে অ্যাড্রেনালিন হরমোনের প্রবাহ বেড়ে যায়। তীব্র মানসিক চাপ বা ভয়ের সময় নির্গত এই অ্যাড্রেনালিন ক্ষুধা কমায় এবং বেসাল মেটাবলিক রেট বাড়িয়ে দেয়, যা শেষ পর্যন্ত অধিক পরিমাণে ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করে।গবেষণা পদ্ধতি মুভি রেন্টাল প্রতিষ্ঠান ‘লাভফিল্ম’-এর সহায়তায় পরিচালিত এই গবেষণায় বিজ্ঞানীকরা দর্শকদের হৃৎস্পন্দন, অক্সিজেন গ্রহণের মাত্রা এবং কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগের পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করেন। ফলাফলে দেখা যায়, সাধারণ সময়ের তুলনায় ভয়ের সিনেমা দেখার সময় দর্শকদের ক্যালরি খরচের হার গড়ে এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে গেছে। লাভফিল্মের সম্পাদক হেলেন কাউলি বলেন, ‘ভয়ের দৃশ্য দেখার সময় আমরা অনেকেই বালিশের আড়ালে মুখ লুকাতে চাই। তবে যারা ক্যালরি কমাতে চান, এই গবেষণা বলছে তাদের চোখ আসলে পর্দার দিকেই রাখা উচিত। ক্যালরি কমাতে শীর্ষ ১০ হরর সিনেমা গবেষণায় উঠে আসা সবচেয়ে বেশি ক্যালরি পোড়ানো ১০টি সিনেমার তালিকাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো হলো- ১. দ্য শাইনিং (১৮৪ ক্যালরি) ২. জস (১৬১ ক্যালরি) ৩. দ্য এক্সরসিস্ট (১৫৮ ক্যালরি) ৪. এলিয়েন (১৫২ ক্যালরি) ৫. স (১৩৩ ক্যালরি) ৬. আ নাইটমেয়ার অন এলম স্ট্রিট (১১৮ ক্যালরি) ৭. প্যারান নরমাল অ্যাক্টিভিটি (১১১ ক্যালরি) ৮. দ্য ব্লেয়ার উইচ প্রজেক্ট (১০৫ ক্যালরি) ৯. দ্য টেক্সাস চেইন স ম্যাসাকার (১০৭ ক্যালরি) ১০. আরইসি [Rec] (১০১ ক্যালরি)

এখন ঢাকায় ‌‌‘কাভিশ’ কিন্তু হচ্ছে না কনসার্ট

এখন ঢাকায় ‌‌‘কাভিশ’ কিন্তু হচ্ছে না কনসার্ট ‘ওয়েভ ফেস্ট: ফিল দ্য উইন্টার’ নামের এক কনসার্টে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার ৪ ডিসেম্বর ঢাকায় পৌঁছেছে পাকিস্তানি ব্যান্ড ‘কাভিশ’। আজ শুক্রবার ৫ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকার মাদানী অ্যাভিনিউয়ের কোর্টসাইড এলাকায় কনসার্টটি হওয়ার কথা থাকলেও তা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। শেষ মুহূর্তে ভেন্যুর অনুমতি না পাওয়ায় অনুষ্ঠানটি স্থগিত করেছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান প্রাইম ওয়েভ কমিউনিকেশনস। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, পুরো আয়োজন বাতিল করা হয়নি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে। ঢাকায় এসেও কনসার্ট করতে পারল না পাকিস্তানি ব্যান্ড ‘কাভিশ’। কাভিশের পাশাপাশি এতে বাংলাদেশের ব্যান্ড শিরোনামহীন, মেঘদলসহ আরও কয়েকজন শিল্পী পারফর্ম করার কথা ছিল। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার কাভিশ ঢাকায় পৌঁছানোর পর ব্যান্ড সদস্যদের বিমানবন্দরের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে আয়োজকরা সামাজিক মাধ্যমে জানায় যে ব্যান্ডটি দেশে এসে গেছে। পরে কনসার্ট স্থগিত হওয়ার বিষয়ে ব্যান্ডটির পক্ষ থেকেও একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে আয়োজক প্রতিষ্ঠান। সেখানে তারা জানায়, সব ধরনের প্রস্তুতি, ভেন্যু, কাগজপত্র, শিল্পীদের পারিশ্রমিক এবং প্রয়োজনীয় অনুমতির জটিলতা অতিক্রম করা সত্ত্বেও দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অনুষ্ঠানটি আপাতত পুনঃনির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা অনুষ্ঠানটি করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন, কিন্তু পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আয়োজকদের ভাষ্যে, অনুষ্ঠানটি কেবল স্থগিত হয়েছে, বাতিল করা হয়নি। এ কারণে ভক্তদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে কাভিশের পাঠানো একটি ভিডিও বার্তাও, যেখানে দলটি দুঃখ প্রকাশ করেছে।

বিজিবি-বিএসএফ’র সহযোগিতায় সীমান্তে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা: আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি

বিজিবি-বিএসএফ’র সহযোগিতায় সীমান্তে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা: আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি এবং ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী-বিএসএফ সীমান্তে আবারও মানবিকতার এবং দু’দেশের জনগণের ভ্রাতৃপ্রতিম সংম্পর্ক বজায় রাখতে সহযোগিতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আজ সকাল সাড়ে ৮টা থেকে প্রায় আধাঘন্টা উভয় বাহিনীর সহযোগিতায় ভারতীয় নাগরিক ফনি বেগমের মরদেহ শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের কিরনগঞ্জ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ জমিনপুর সীমান্তের শূণ্য রেখায় তাঁর বাংলাদেশী স্বজনদের শেষবারের মত দেখানো হয়। এ সময় দু’দেশে বসবাসবাসকারী আত্মীয়দের মাঝে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনেকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। মৃত ফনি বেগম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার কালিয়াচক থানার হাজীপাড়া দুই ছতরবিঘি গ্রামের কসিমুদ্দিনের স্ত্রী। গতকাল সন্ধ্যা ৭ টার দিকে তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি অইন্না ইলাহি রাজিউন)। স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, ফনি বেগমের মারা যাবার খবর পেয়ে তাঁর ছোট ভাই জমিনপুর গ্রামের মৃত ফলিমুদ্দিনের ছেলে আতাউর রহমান(৬০) কিরনগঞ্জ ক্যাম্পের মাধ্যমে বড় বড় বোনের মরদেহ শেষ বারের মত দেখানোর সূযোগ করে দেবার জন্য বিজিবি’র সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করেন। রাতে আবেদন পেয়ে বিজিবি তাৎক্ষনিক প্রতিপক্ষ বিএসএফ’র সাথে যোগাযোগ করে। এরপর উভয়পক্ষের সম্মতিতে সকালে মরদেহ কাঁটাতারের বেড়ার গেইট খুলে মেইন আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার নং ১৭৯/৩ এস এর শূণ্যরেখায় বাংলাদেশী স্বজনদের দেখানোর আয়োজন করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন, বাাংলাদেশী স্বজনদের মরদেহ দেখানোর সময় উভয় বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিজিবি সীমান্তবসাী দু’দেশের জনগণের প্রতি এ ধরনের মানবিক সহযোগিতা অব্যহত রাখবে। এ ঘটনায় মৃতের স্বজনরা বিজিবি-বিএসএফ এর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সংশ্লিস্ট ইউপি চেয়্রাম্যান অধ্যক্ষ রুহুল আমীন বলেন,দুই বাহিনীর এ ধরণের আচরণ প্রশংসনীয়। দু’দেশের জনগণ ও বাহিনীগুলোর মধ্যে এ ধরণের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকা উচিত। সংম্লিস্ট ওয়ার্ড সদস্য কামাল উদ্দিন বলেন, ফনি বেগমের বাবার বাড়ি বাংলাদেশে।অর্ধশতাধিক বছর পূর্বে বিয়ে হয়ে তিনি ভারতে স্বামীর বাড়ি চলে যান। প্রতিবেশী দুই দেশে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ফনি বেগমের বাবা এবং স্বামীর বাড়ি। মাঝে রয়েছে শুধু তাঁরকাটার বেড়া। উল্লেখ্য গত ৮ নভেম্বর শিবগঞ্জের আজমতপুর সীমান্তে সেলিনা বেগম নামে অপর এক ভারতীয় নারীর মরনদেহ একই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশী স্বজনদের দেখার সূযোগ কওে দেয় দুই বাহিনী।

লি‌বিয়া থে‌কে দে‌শে ফির‌লেন আরো ৩১০ বাংলাদেশি

লি‌বিয়া থে‌কে দে‌শে ফির‌লেন আরো ৩১০ বাংলাদেশি অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় যাওয়া ৩১০ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে করে তারা দেশে ফেরেন। লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় তাদের ফিরিয়ে আনা হয়। ফেরত আসা বাংলাদেশিদের বেশির ভাগই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করে বলে জানা যায়। তাদের অনেকে লিবিয়ায় বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা প্রত্যবাসিত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান।  জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের এই দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সম্ভাব্য সবার সঙ্গে বিনিময় করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের অনুরোধ জানানো হয়। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনকৃত প্রত্যেককে পথখরচা, কিছু খাদ্যসামগ্রী এবং প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এর আগে, গত সোমবার (১ ডিসেম্বর) ১৭৩ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আরো ২০০ জন

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আরো ২০০ জন গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২০০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এ সময়ে কারও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯২ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ১৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ৭২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৬ জন এবং খুলনা বিভাগে ২ জন রয়েছেন। একই সময়ে ২২৬ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৯৪ হাজার ৬২৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯৬ হাজার ৮২৭ জন রোগী ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ৩৯৪ জন ডেঙ্গুতে মারা গেছেন।