মেক্সিকোতে জরুরি অবতরণকালে ছোট প্লেন বিধ্বস্ত, ৭ আরোহী নিহত

মেক্সিকোতে জরুরি অবতরণকালে ছোট প্লেন বিধ্বস্ত, ৭ আরোহী নিহত মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে জরুরি অবতরণের সময় একটি ছোট প্লেন বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় তিন আরোহী ছাড়া বাকি সবাই নিহত হয়েছেন। আজ বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে সোমবার একটি ছোট প্লেন জরুরি অবতরণের চেষ্টা করার সময় বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন। মেক্সিকো স্টেট সিভিল প্রোটেকশন কো-অর্ডিনেটর আদ্রিয়ান হার্নান্দেজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সান মাতেও আতেনকো এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এটি একটি শিল্পাঞ্চল এবং টোলুকা বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। রাজধানী মেক্সিকো সিটি থেকে এলাকাটির দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে। প্লেনটি মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলবর্তী শহর আকাপুলকো থেকে উড্ডয়ন করেছিল। হার্নান্দেজ জানান, ব্যক্তিমালিকানাধীন ওই জেটে ৮ জন যাত্রী ও ২ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। তবে দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর পর্যন্ত মাত্র ৭টি মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্লেনটি একটি ফুটবল মাঠে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করছিল। কিন্তু অবতরণের সময় পাশের একটি কারখানার ধাতব ছাদে আঘাত হানে, যার ফলে বড় ধরনের আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

৩৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা, নিরাপত্তা নিশ্চিতে মমতার কড়া নির্দেশ

৩৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা, নিরাপত্তা নিশ্চিতে মমতার কড়া নির্দেশ দীর্ঘ ৩৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে ফের বসতে চলেছে বিশ্ব ইজতেমার আসর। নতুন বছরের শুরুতেই হুগলি জেলার তাজপুর থানার অন্তর্গত দাদপুরের পুইনান এলাকায় আয়োজন করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক এই ধর্মীয় মহাসমাবেশ। আগামী ২ থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে ইজতেমা। ৫ জানুয়ারি আখরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে আনুষ্ঠানিকতা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইজতেমাকে ঘিরে মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। আয়োজকদের প্রাথমিক অনুমান, চার দিনে দেশ-বিদেশ মিলিয়ে প্রায় ২০ লাখ মুসল্লির সমাগম হতে পারে। নামাজ আদায়, ইসলামী বয়ান শোনা এবং শান্তি-কল্যাণ ও আল্লাহর রহমত কামনায় একত্রিত হবেন মুসল্লিরা। বিশ্ব ইজতেমার মতো এত বড় জনসমাবেশ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সোমবার নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, বিশিষ্ট ইমাম, পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বিশ্ব ইজতেমা যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়, রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা যাতে বিঘ্নিত না হয়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। নবান্ন সূত্রে জানা, হুগলি জেলা প্রশাসনকে ইতোমধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রস্তুতি শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ২০ লাখ মানুষের জন্য থাকা, খাবার, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। কোনোরকম অপ্রীতিকর ঘটনা বা গুজব রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করার নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া খবর ছড়ানো ঠেকাতে সাইবার সেলকে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে শেষবার পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তিন দশকের বেশি সময় পর ২০২৬ সালে বৃহৎ এই ধর্মীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

বিজয় দিবসে বীর শহীদদের প্রতি বিজিবি মহাপরিচালকের শ্রদ্ধা

বিজয় দিবসে বীর শহীদদের প্রতি বিজিবি মহাপরিচালকের শ্রদ্ধা মহান বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। আজ সকালে ঢাকার পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের ‘সীমান্ত গৌরব’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি। এ সময় বিজিবির একটি সুসজ্জিত চৌকস দল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। এর আগে, দিবসের কর্মসূচি অনুযায়ী সকালে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরসহ সারাদেশে বিজিবির সব রিজিয়ন, প্রতিষ্ঠান, সেক্টর, ব্যাটালিয়ন ও ইউনিটগুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিজিবি মহাপরিচালক প্রত্যুষে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

মহান বিজয় দিবস আজ

মহান বিজয় দিবস আজ আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। এ বিজয় দিবস বাঙালি জাতির আত্মগৌরবের একটি দিন। এ বছর এ দিনটিতে বাঙালি জাতির বিজয়ের ৫৪ বছর পূর্ণ হলো। ১৯৭১ সালের এদিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব-মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন ও সার্বভৌম হানাদার মুক্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রের। ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম ও ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং কোটি বাঙালির আত্মনিবেদন ও গৌরবগাঁথা গণবীরত্বে পরাধীনতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পায় বাঙালি জাতি। বাঙালি জাতি তার অধিকার আদায়ে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় উজ্জীবিত হয়ে উঠে। ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্য দিয়েই স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের পথে এগিয়ে নিয়ে যায় জাতি। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ স্বাধীনতা লাভ করলেও ভ্রান্ত দ্বিজাতির তত্ত্বের ভিত্তিতে যে অসম পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয় তার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয় বাঙালি জাতিকে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের শুরু থেকে বাঙালি জাতির ওপর শুরু হয় বৈষম্য, শোষণ, অত্যাচার নির্যাতন। অর্থনৈতিক, সরকারি চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য সব দিক থেকে বঞ্চিত হতে থাকে বাঙালি তথা এ ভূখণ্ডের মানুষ। পাকিস্তানের এই শোষণ বঞ্চনা আর অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙালি সোচ্চার হতে থাকে এবং ধাপে ধাপে পাকিস্তানের অত্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে উঠতে থাকে। বাঙালির এই আন্দোলনের এক পর্যায়ে নেতৃত্বে আসেন শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালির এই আন্দোলনকে তিনি নেতৃত্ব দিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে পরিণত করেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চ লাইট নামে বাঙালিদের হত্যা যজ্ঞে মেতে উঠে। এরপর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন শেখ মুজিবুর রহমান। ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতার ঘোষণায় সারা দিয়ে সর্বস্তরের বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। কৃষক, শ্রমিক, চাকরিজীবী ছাত্র, শিক্ষক, যুবক, নারী, সাংস্কৃতিক কর্মী, পেশাজীবী মানুষ অস্ত্র হাতে তুলে নেয়। আধুনিক অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে নামে এবং জীবন দেয়। জীবনের নিশ্চিত ঝুঁকি নিয়ে বাংলার দামাল ছেলে, মুক্তিযোদ্ধারা অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের পাশে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে এগিয়ে আসে প্রতিবেশী দেশ ভারত। সরাসরি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ এবং কোটি বাঙালিকে আশ্রয় দিয়ে ভারত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। ওই সময় পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়নও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থন দিয়ে সরাসরি বাংলাদেশের পক্ষ নেয়। বিশ্ব জনমতও গড়ে উঠতে থাকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বাঙালির সাহসিকতার কাছে পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া যৌথবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। এর মধ্য দিয়ে পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামে নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। ১৬ ডিসেম্বর বীর বাঙালির বিজয় দিবস হিসেবে ঘোষিত হয়। প্রতি বছর বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে বিজয় দিবস উদযাপন করেন।

সর্বাধিক পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিংয়ে বাংলাদেশের

সর্বাধিক পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিংয়ে বাংলাদেশের বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর উপলক্ষে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা নিয়ে সর্বাধিক প্যারাস্যুটিং করে বিশ্বরেকর্ড করেছে বাংলাদেশ। এতে ৫৪ জন প্যারাট্রুপার পতাকা হাতে স্কাই ডাইভিং করেন। আজ বেলা ১২টার দিকে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে এই প্যারাস্যুটিং করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এতে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিভিন্ন বাহিনী প্রধান, রাজনৈতিক নেতা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ‘টিম বাংলাদেশ’ এর ৫৪ জন প্যারাট্রুপারের এই পতাকাবাহী স্কাইডাইভ প্রদর্শন বিশ্বের সর্ববৃহৎ পতাকা-প্যারাশুটিং প্রদর্শনী। এটি একটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড। ১২ হাজার উচ্চতা থেকে এই ফ্রি ফল জাম্পে অংশ নেওয়া এই ৫৪ জন হলেন- সেনাবাহিনীর ৪৬, নৌ বাহিনীর ৫, বিমান বাহিনীর ২ জন এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। ৪৯ থেকে ৫৪ নম্বরধারী ফ্রি ফল জাম্পাররা সুদানে নিহত ৬ জন শান্তিরক্ষীদের নাম বুকে ধারণ করেন। এই ফ্রি ফল জাম্পের সার্বিক তত্ত্বাবধায়ন এবং ড্রপ জোন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এম ইমরুল হাসান। এছাড়া তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে মহান বিজয় দিবসের এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী পৃথকভাবে ফ্লাই-পাস্ট প্রদর্শন করে। এখানে একটি বিশেষ বিজয় দিবস ব্যান্ড শো আয়োজন করা হয়।

বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি-প্রধান উপদেষ্টা

বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি-প্রধান উপদেষ্টা ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ সূর্যোদয়ের সময় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অপর্ণ করেন রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান উপদেষ্টা। প্রথমে সকাল ৬টা ৩৩ মিনিটে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর কিছুক্ষণ পর সকাল ৬টা ৫৬ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস। রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গার্ড অব অনার প্রদান করে সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল। এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনীতিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ১৬ ডিসেম্বর প্রত্যুষে ঢাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান বিজয় দিবস উদযাপন শুরু হয়। দিবসটি উপলক্ষে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হয়েছে। ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপগুলো জাতীয় পতাকাসহ ব্যানার, ফেস্টুন এবং রঙিন পতাকা দিয়ে সাজানো হয়েছে।

নাচোলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকে মৃত্যুহার কমাতে প্রশিক্ষণ কর্মশালা

নাচোলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকে মৃত্যুহার কমাতে প্রশিক্ষণ কর্মশালা চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকে মৃত্যুহার কমাতে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শক্তিশালীকরণের লক্ষে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল-এনসিডিসি প্রোগ্রাম ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে। প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. মাহাবুব-উল-আলম। প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম উপপরিচালক ডা. শামীম জুবায়ের, বিভাগীয় প্রোগ্রাম অফিসার এহসানুল আমিন ইমন ও সার্ভিলেন্স মেডিকেল অফিসার ডা. প্রিতম সাহা। বক্তারা বলেন, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের কারণে সারাদেশে মৃত্যুর মিছিল ক্রমেই লম্বা হচ্ছে। বাংলাদেশে শতকরা ৭০ ভাগ মৃত্যুর জন্য দায়ী উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ। এর মধ্যে হৃদরোগ, স্ট্রোকসহ সিভিডিজনিত মৃত্যুহার শতকরা ৩৭ ভাগ। শতকরা ১৯ ভাগ অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী এ সমস্ত অসংক্রামক রোগ। এই পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য সরকার উপজেলা হাসপাতালে এনসিডি কর্নার চালু করেছে। সেখান থেকে সিম্পল অ্যাপসের মাধ্যমে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশনকৃত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান করা হচ্ছে। এলাকাবাসীকে কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস শনাক্ত করে এনসিডি কর্নার থেকে সেবা প্রদানের তথ্য তুলে ধরা হয়। কর্মশালায় উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সরকারের এই কার্যক্রমকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, ইমামসহ অন্যান্য ধর্মীয় নেতা ও স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এতে উপজেলার ১৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকের সকল সিএইচসিপি ও কমিউনিটি গ্রুপের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

৫৩ বিজিবির অভিযানে শিবগঞ্জে ৪টি বিদেশী পিস্তলসহ ম্যাগজিন ও গুলি উদ্ধার

৫৩ বিজিবির অভিযানে শিবগঞ্জে ৪টি বিদেশী পিস্তলসহ ম্যাগজিন ও গুলি উদ্ধার চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ৪টি বিদেশী পিস্তল, ৯টি ম্যাগজিন ও ২৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে বিজিবি। সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের গোপালপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চলাকালে এগুলো উদ্ধার করা হয়। দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে ৫৩ বিজিবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে গত ১২ ডিসেম্বর গুলি করাকে কেন্দ্র করে বিজিবি সীমান্ত এবং দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ টহল, চেকপোস্ট স্থাপন এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকা দিয়ে দুষ্কৃতিকারীরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষে বেশ কিছু পরিমাণ অস্ত্র আনার পরিকল্পনা করেছে বলে গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে জানা যায়। সেই ধারণা থেকে সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের বর্ণনা দিতে গিয়ে অধিনায়ক কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় ৫৩ বিজিবির মনোহরপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত হতে আনুমানিক ১ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গোপালপুর নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনাকালে দুজন মোটরসাইকেল আরোহীকে দূর থেকে থামতে সংকেত দিলে তারা দ্রুত বাঁক পরিবর্তন করে যাওয়ার সময় তাদের কাছে থাকা একটি ব্যাগ পড়ে যায়। পরবর্তীতে টহলদল ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাগটি তল্লাশি করে পলিথিনে মোড়ানো ৪টি আমেরিকার তৈরি পিস্তল, ৯টি ম্যাগজিন ও ২৪ রাউন্ড গুলি জব্দ করে। দুষ্কৃতিকারীরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বড় ধরনের নাশকতা পরিস্থিতির সৃষ্টির লক্ষে অবৈধ পথে অস্ত্র গোলাবারুদ আনার সর্ব্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে বলে জানান ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক। তিনি বলেন, বিজিবি সবসময় তৎপর রয়েছে এবং আমাদের সকল সদস্য পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনে সংকল্পবদ্ধ। অস্ত্র গোলাবারুদ চোরাচালান প্রতিরোধ ও দুষ্কৃতিকারীদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।

মতবিনিমিয় সভা জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের

মতবিনিমিয় সভা জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের চাঁপাইনবাবগঞ্জে এনজিও, সিএসও, সাংবাদিক প্রতিনিধিদের সাথে জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে জেলাশহরের বেলেপুকুরে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির নকীব হোসেন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি প্রফেসর সুলতানা রাজিয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন— সনাকের প্রতিনিধি গোলাম ফারুক মিথুন, সূর্যের হাসি ক্লিনিকের ক্লিনিক ম্যানেজার শামীমা খাতুন, ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়কারী মোমেনা খাতুনসহ অন্যরা। মতবিনিময় সভা পরিচালনা করেন প্রয়াসের কনিষ্ঠ সহকারী পরিচালক ফারুক আহমেদ। এছাড়াও জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সহসভাপতি বাবর আলী ও বিলকিস আরা মহুয়া, স্বাস্থ্য সংগঠন বিষয়ক সম্পাদক শাহনাজ পারভীন, তথ্যায়ন ও গবেষণা সম্পাদক সাজিদ তৌহিদ, সদস্য মোস্তাক হোসেন, জেলা স্বাস্থ্য অধিকার যুব ফোরামের সমন্বয়কারী রাফিউল ইসলামসহ অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। সভায় জেলা স্বাস্থ্য অধিকার যুব ফোরামের সদস্যদের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল পরিদর্শনসহ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ ও প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির সহযোগিতায় এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরাম। পরে একই স্থানে জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরাম ও যুব ফোরামের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

নেপালকে উড়িয়ে টানা দ্বিতীয় জয় বাংলাদেশের

নেপালকে উড়িয়ে টানা দ্বিতীয় জয় বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে আজ টানা দ্বিতীয় জয়টি পেয়েছে দাপুটে। দুবাইয়ে আজ নেপালকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এ জয়ে সেমিফাইনালের পথ সহজ করেছে বাংলাদেশ। ৪ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে ‘বি’ গ্রুপে শীর্ষে রয়েছে আজিজুল হাকিম তামিমের দল। আফগানিস্তানের বিপক্ষে যদি শ্রীলঙ্কা জয় পায় তাহলে আজই শেষ চার নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের। সঙ্গে শ্রীলঙ্কারও। তখন দুই দলের মুখোমুখি দেখায় যে দল জিতবে তারাই গ্রুপ সেরা হবে। আগামী পরশু দিন এই দুবাইয়ে ম্যাচটি হবে। পালের দেওয়া ১৩১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অবশ্য শুরুটা ভালো ছিল না বাংলাদেশের। দলীয় ২৯ রানে ২ উইকেট হারায় তারা। তবে ওপেনিংয়ে নেমে এক প্রান্ত আগলে রেখে ঠিকই দলের জয় নিশ্চিত করেছেন জাওয়াদ আবরার। ৭ চার ও ৩ ছক্কায় খেলেছেন ম্যাচসেরা ৭০ রানের ইনিংস। শুরুর ধাক্কা সামলাতে তৃতীয় উইকেটে জাওয়াদকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন কালাম সিদ্দিকী। দুজনে মিলে গড়েছেন ৯২ রানের জুটি। তবে সতীর্থর মতো জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেননি ৩৪ রান করা সিদ্দিকী। জাওয়াদের সঙ্গে হাসিমুখে মাঠ ছেড়েছেন ১২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলা রিজান হোসেন। বাংলাদেশের জয়ের অর্ধেক কাজটা সেরে রাখেন বোলাররা। নেপালকে ১৩০ রানে অলআউট করে। প্রতিপক্ষের দুই ওপেনার সাহিল প্যাটেল ও নিরজ কুমার যাদব ৪০ রানের জুটি গড়লেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় তারা। দারুণ বোলিংয়ে নেপালকে উইকেট হারাতে বাধ্য করেছেন মোহাম্মদ সবুজ ও সাদ ইসলামরা। সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেওয়া সবুজের বিপরীতে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন তিন জন। অধিনায়ক আজিজুল তামিমের সঙ্গে সেই তালিকায় আছেন সাদ ও শাহরিয়ার আহমেদ। বাকি উইকেটটি নিয়েছেন শাহরিয়ার আল-আমিন। প্রতিপক্ষের হয়ে সর্বোচ্চ ৩০ রানের ইনিংস খেলেছেন আটে নামা অভিষেক তিওয়ারি।