রশিদ খানের নেতৃত্বে আফগানিস্তানের শক্তিশালী দল ঘোষণা

রশিদ খানের নেতৃত্বে আফগানিস্তানের শক্তিশালী দল ঘোষণা ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ১৫ সদস্যের শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। প্রত্যাশিতভাবেই দলটির নেতৃত্বের ভার থাকছে তারকা লেগ স্পিনার রশিদ খানের কাঁধে। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে গড়া এই দল নিয়ে আবারও বড় চমক দেখানোর স্বপ্ন দেখছে আফগানরা। বিশ্বকাপ অভিযানের আগে নিজেদের প্রস্তুত করতে জানুয়ারি মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান। এই সিরিজেও বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত একই স্কোয়াড মাঠে নামবে, যা দল গঠনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও কম্বিনেশন যাচাইয়ের বড় সুযোগ হয়ে উঠবে। দলের অধিনায়ক হিসেবে রশিদ খানের নাম ঘোষণা করার পাশাপাশি সুখবর এসেছে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার গুলবাদিন নাইব ও ডানহাতি পেসার নাভিন উল হকের ফেরার মধ্য দিয়ে। কাঁধের চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন নাভিন, যা পেস আক্রমণে বাড়তি শক্তি যোগাবে। এ ছাড়া বাঁহাতি ব্যাটার শাহিদুল্লাহ কামাল ও উইকেটকিপার-ব্যাটার মোহাম্মদ ইশাক নিজেদের জায়গা ধরে রেখেছেন। তরুণ পেসার আব্দুল্লাহ আহমদজাই এর অন্তর্ভুক্তিও চোখে পড়ার মতো। দলে ফিরেছেন রহস্যময় স্পিনার মুজিব উর রহমান। তার অন্তর্ভুক্তির ফলে তরুণ স্পিনার এ এম গজনফার মূল স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ে রিজার্ভ তালিকায় চলে গেছেন। রিজার্ভে আরও আছেন মিডল অর্ডার ব্যাটার ইজাজ আহমদজাই এবং তরুণ ফাস্ট বোলার জিয়া উর রহমান শরীফি। স্কোয়াডে আছেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মোহাম্মদ নবী, রহমানউল্লাহ গুরবাজ, নূর আহমদ ও ফজল হক ফারুকি। বিশেষ করে ফারুকির ফেরাটা পেস বিভাগকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করবে। ২০২৪ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল আফগানিস্তান। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ চারে পৌঁছানো সেই সাফল্য দলটির আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়েছে, যদিও সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে থামতে হয়েছিল তাদের যাত্রা। এবারের বিশ্বকাপের আগে আগামী ১৯ থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজটি হবে আফগানিস্তানের জন্য শেষ বড় প্রস্তুতির মঞ্চ। এখানেই নিজেদের সেরা একাদশ ও কৌশল চূড়ান্ত করতে চাইবে রশিদ বাহিনী। আফগানিস্তানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াড: রশিদ খান (অধিনায়ক), ইব্রাহিম জাদরান, রহমানউল্লাহ গুরবাজ (উইকেটকিপার), মোহাম্মদ ইশাক (উইকেটকিপার), সেদিকুল্লাহ অটল, দারবিশ রসুলি, শাহিদুল্লাহ কামাল, আজমতুল্লাহ ওমরজাই, গুলবাদিন নাইব, মোহাম্মদ নবী, নূর আহমদ, মুজিব উর রহমান, নাভিন উল হক, ফজল হক ফারুকি ও আব্দুল্লাহ আহমদজাই। রিজার্ভ: এ এম গজনফর, ইজাজ আহমদজাই ও জিয়া উর রহমান শরীফি।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গভীর শোক

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গভীর শোক বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁকে বাংলাদেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র গভীর শোক প্রকাশ করার পাশাপাশি বাংলাদেশের আধুনিক ইতিহাস গঠনে তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করেছে। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এক শোকবার্তায় বলেছে, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র গভীর শোক প্রকাশ করছে।” তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের কথা উল্লেখ করে দূতাবাস বলেছে, “বেগম জিয়া তাঁর দেশের আধুনিক ইতিহাস গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং তাঁর নেতৃত্ব বাংলাদেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।” চীন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পাঠানো শোকবার্তায় খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের প্রবীণ রাজনীতিক এবং চীনা জনগণের পুরোনো বন্ধু হিসেবে অভিহিত করেছেন। চীনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রিত্বকালে চীন-বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্ব ও সমন্বিত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছিল, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছে।” চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নে বেগম খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করে চীনের প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, “এ সম্পর্ক জোরদারে তাঁর ভূমিকা চীন উচ্চভাবে মূল্যায়ন করে।” শোকবার্তায় আরো বলা হয়, চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বেইজিং। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করতে চীন প্রস্তুত রয়েছে, যেন উভয় দেশের জনগণ আরো বেশি উপকৃত হয়। ভারত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে গভীর শোক জানিয়েছেন। নরেন্দ্র মোদি লিখেছেন, “ঢাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি। তাঁর পরিবার এবং বাংলাদেশের সব মানুষের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা। সর্বশক্তিমান তাঁর পরিবারকে এই মর্মান্তিক ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দান করুন।” ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরো লিখেছেন, “বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, বাংলাদেশের উন্নয়নে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান, সেইসাথে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে, সর্বদা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ২০১৫ সালে ঢাকায় তাঁর সাথে আমার উষ্ণ সাক্ষাতের কথা আমি স্মরণ করছি। আমরা আশা করি তার দৃষ্টিভঙ্গি এবং উত্তরাধিকার আমাদের অংশীদারিত্বকে পরিচালিত করবে। তাঁর আত্মা শান্তিতে থাকুক।” পাকিস্তান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও শোকবার্তায় খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং পাকিস্তানের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শাহবাজ শরীফ নিজের ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে শোকবার্তা প্রকাশ করে লিখেছেন, “বিএনপির চেয়ারপারসন এবং বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে তাঁর আজীবনের অবদান এক স্থায়ী উত্তরাধিকার রেখে গেছে।” পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরো লিখেছেন, “বেগম জিয়া পাকিস্তানের একজন নিবেদিতপ্রাণ বন্ধু ছিলেন। পাকিস্তান সরকার এবং পাকিস্তানের জনগণ এই শোকের মুহূর্তে বাংলাদেশের জনগণের পাশে রয়েছে। এই কঠিন সময়ে আমাদের চিন্তাভাবনা এবং প্রার্থনা তাঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে রয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তার আত্মার শান্তি কামনা করুন। আমিন!” নেপাল নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে গভীর শোক জানিয়েছেন। সুশীলা কার্কি লিখেছেন, “বিএনপি চেয়ারপারসন এবং বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। নেপাল সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে, আমি তাঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।” নেপালের প্রধানমন্ত্রী আরো লিখেছেন, “বেগম জিয়া আজীবন জনসেবার এক অনন্য উত্তরাধিকার রেখে গেছেন। তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় এক ঐতিহাসিক অধ্যায় হয়ে থাকবে। নেপালের একজন অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে, নেপাল ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর বিদেহী আত্মা চির শান্তিতে থাকুক।” যুক্তরাজ্য যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তাঁর পরিবার এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। এক শোকবার্তায় বাংলাদেশে অবস্থিত ব্রিটিশ হাইকমিশন বলেছে, “বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।” এই অত্যন্ত দুঃখজনক সময়ে হাইকমিশন তাঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে। জাপান জাপান বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এক শোকবার্তায় বলেন, “বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সম্মানিত চেয়ারপারসন মহোদয়া বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি।” রাষ্ট্রদূত জানান, জাপান বেগম জিয়ার পরিবার, বিএনপির সব সদস্য এবং বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, “প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বেগম জিয়া দুইবার জাপান সফর করেছিলেন এবং দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে অমূল্য অবদান রেখেছিলেন।” রাষ্ট্রদূত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা ও অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য জাপান সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সবশেষে তিনি বলেন, “তাঁর বিদেহী আত্মা চিরশান্তিতে থাকুক।” জার্মানি ঢাকাস্থ জার্মান দূতাবাস এক শোকবার্তায় বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, দেশের প্রথম নারী সরকার প্রধান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দীর্ঘকালীন চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে। তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে দূতাবাস জানায়, “নিজের দীর্ঘ জনজীবনে বেগম জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।” প্রয়াত এই নেত্রীর সঙ্গে জার্মানির উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের কথা স্মরণ করে বার্তায় বলা হয়, “জার্মানি তাঁর সাথে কয়েক দশকের সম্পৃক্ততার কথা স্মরণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০০৪ সালে ঢাকা সফরকালে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোশকা ফিশারের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ এবং ২০১১ সালে জার্মান প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিয়ান উলফের রাষ্ট্রীয় সফর চলাকালীন তাঁর সাথে বৈঠক।” শোকবার্তায় আরো বলা হয়, “তিনি বছরের পর বছর ধরে জার্মানির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিদের সাথেও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।” “এই শোকের মুহূর্তে জার্মানি তাঁর জাতীয় জীবনের অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে এবং তাঁর পরিবার, দল ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছে।”সবশেষে বলা হয়, “জার্মানি আমাদের দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর আত্মা শান্তিতে থাকুক।” ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করার পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। ইইউ এক শোকবার্তায় বলেছে, “বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরা বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।” মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় ‘দেশনেত্রী’, ‘আপসহীন’ উপাধিতে ভূষিত বেগম খালেদা জিয়া ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া লিভার, কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আথ্রাইটিস ও ইনফেকশনজনিত সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। উল্লেখ্য চলতি বছর ৭ জানুয়ারি তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে তার স্বাস্থ্যের কিছুটা উন্নতি ঘটে। তিনি দেশে ফিরে আসেন। তবে বয়স প্রতিকূল থাকায় এবং নানাবিধ রোগের জটিলতার কারণে তিনি প্রায়ই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তেন। সর্বশেষ গত ২৩ নভেম্বর বেগম খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। দেশবাসীর প্রত্যাশা ছিল, তিনি পূর্বের ন্যায় এবারও কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে চিরদিনের মতো না ফেরার দেশে
খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন

খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় তার নামাজে জানাজা হওয়ার কথা থাকলেও আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় পৌনে ৩টার দিকে। বেলা ৩টায় জানাজা শুরু হয়। সেখানে প্রথমে খালেদা জিয়ার জীবনের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। জানান, ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ৪১ বছরই বলিষ্ঠ হাতে দলের নেতৃত্ব দেন। জনগণের কল্যাণে করেছেন কাজ। খালেদা জিয়ার জানাজা পড়ান জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। তাঁর জানাজায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, প্রধান বিচারপতি, সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। তার জানাজায় অংশ নিতে এসেছেন ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জানাজাস্থলে ছিলেন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ইরান, কাতারসহ ৩২ দেশের রাষ্ট্রদূত। হাজির ছিলেন তিন বাহিনীর প্রধান। মানুষের ঢল নামে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং সংসদ ভবনের সামনের মাঠে। জানাজা শেষে সংসদ ভবন এলাকাসংলগ্ন জিয়া উদ্যানে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হবে। জানাজায় অংশ নিতে মঙ্গলবার রাত থেকেই সংসদ ভবন এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়তে থাকে। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে তারা গণপরিবহন, ট্রেন, লঞ্চ ও ব্যক্তিগত যানবাহনে করে রাজধানীতে আসেন। জানাজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানিক মিয়া এভিনিউসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের মৃত্যুতে তিন দিনের শোক ঘোষণা করে সরকার। আজ সকাল থেকে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিতসহ সব সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বুধবার একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। দলের চেয়ারপারসেন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সাতদিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার থেকে আগামী একসপ্তাহ দলটির সব কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। এই সময়ে কালো ব্যাজ ধারণ করবেন দলের নেতাকর্মীরা। গতকাল মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় ‘দেশনেত্রী’, ‘আপসহীন’ উপাধিতে ভূষিত বেগম খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বেগম খালেদা জিয়া লিভার, কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আথ্রাইটিস ও ইনফেকশনজনিত সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। উল্লেখ্য চলতি বছর ৭ জানুয়ারি তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে তার স্বাস্থ্যের কিছুটা উন্নতি ঘটে। তিনি দেশে ফিরে আসেন। তবে বয়স প্রতিকূল থাকায় এবং নানাবিধ রোগের জটিলতার কারণে তিনি প্রায়ই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তেন। সর্বশেষ গত ২৩ নভেম্বর বেগম খালেদা জিয়াকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। দেশবাসীর প্রত্যাশা ছিল, তিনি পূর্বের ন্যায় এবারও কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে চিরদিনের মতো না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি।
২০৩৬ সালের মধ্যে চাঁদে বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়তে চায় রাশিয়া

২০৩৬ সালের মধ্যে চাঁদে বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়তে চায় রাশিয়া চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ও অবস্থান নিশ্চিত করতে নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে রাশিয়া। দেশটি জানিয়েছে, ২০৩৬ সালের মধ্যে চাঁদে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে চায়। এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে রাশিয়ার চন্দ্র কর্মসূচি এবং যৌথ রাশিয়া-চীন গবেষণা স্টেশনে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মহাকাশ সংস্থা রসকসমস জানিয়েছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে তারা ল্যাভোচকিন অ্যাসোসিয়েশন নামের একটি মহাকাশ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে। যদিও সরাসরি ‘পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি, তবে প্রকল্পে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম এবং কুরচাতভ ইনস্টিটিউট (দেশটির শীর্ষ পারমাণবিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান) যুক্ত রয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পারমাণবিক শক্তিভিত্তিক হবে (পারমাণবিক শক্তি মানে পরমাণু থেকে উৎপন্ন শক্তি)। রসকসমস বলেছে, এই বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে চাঁদে চলমান যান (রোভার), মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং গবেষণা স্টেশনের অন্যান্য স্থাপনায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হবে। তাদের মতে, এটি এককালীন অভিযানের যুগ শেষ করে চাঁদে স্থায়ী বৈজ্ঞানিক গবেষণার পথে বড় পদক্ষেপ। তবে রাশিয়া একা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসা জানিয়েছে, তারা ২০৩০ অর্থবছরের প্রথম ভাগের মধ্যেই চাঁদে একটি পারমাণবিক রিয়্যাক্টর (বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা) বসাতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, চাঁদে ঘাঁটি গড়তে হলে শক্তির বিকল্প নেই। এই শক্তি ভবিষ্যতে মানুষকে মঙ্গলে পাঠানোর পথও সহজ করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাঁদে বিপুল পরিমাণ হিলিয়াম-৩ (একটি বিরল জ্বালানি উপাদান) ও দুষ্প্রাপ্য ধাতু রয়েছে, যা আধুনিক প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হয়। এসব কারণেই চাঁদকে ঘিরে বিশ্বশক্তিগুলোর আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
সমুদ্রে সবচেয়ে জোরে শব্দ করে ছোট্ট এক চিংড়ি !

সমুদ্রে সবচেয়ে জোরে শব্দ করে ছোট্ট এক চিংড়ি ! সমুদ্রে সবচেয়ে জোরে শব্দ করা প্রাণী শুনলে অনেকেই তিমির কথা ভাবেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সমুদ্রের গভীরে সবচেয়ে জোরে শব্দ করে আঙুলের সমান ছোট একটি চিংড়ি। এই বিশেষ প্রজাতির নাম স্ন্যাপিং শ্রিম্প বা পিস্তল চিংড়ি। আকারে ছোট হলেও শব্দের দিক থেকে এরা বিশাল প্রাণীকেও ছাড়িয়ে গেছে। স্ন্যাপিং শ্রিম্পের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এর একটি দাঁড়া সাঁড়াশির মতো। এই দাঁড়াটি তারা অস্ত্রের মতো ব্যবহার করে। দাঁড়া খুব দ্রুত বন্ধ করার সময় পানির ভেতরে এক ধরনের শক্তিশালী প্রবাহ বা জেট তৈরি হয়। এতে পানিতে একটি ক্যাভিটেশন বাবল (তীব্র চাপের কারণে তৈরি বুদ্বুদ) সৃষ্টি হয়। সেই বুদ্বুদ ফেটে প্রচণ্ড শব্দ হয় এবং সামান্য আলোও দেখা যেতে পারে। এই ঘটনাকে বলা হয় শ্রিম্প লুমিনেসেন্স। জীববিজ্ঞানীদের মতে, রক কনসার্টের শব্দ সাধারণত ১১০ থেকে ১২০ ডেসিবেল হয়। একটি জেট ইঞ্জিনের শব্দ প্রায় ১৪০ থেকে ১৫০ ডেসিবেল। কিন্তু হাজার হাজার স্ন্যাপিং শ্রিম্প একসঙ্গে শব্দ করলে তা ২১০ ডেসিবেল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ এই ছোট চিংড়ির দল জেট ইঞ্জিনের চেয়েও বেশি শব্দ করতে সক্ষম। এই তীব্র শব্দ সামুদ্রিক গবেষণার জন্য বড় সমস্যা তৈরি করছে। বিজ্ঞানী রামেশ আইয়ার জানান, অনেক সময় এই চিংড়ির আওয়াজ জাহাজের ইঞ্জিনের শব্দকেও ঢেকে দেয়। ফলে সমুদ্রের তলদেশের মানচিত্র তৈরি বা ম্যাপিং কাজে বাধা সৃষ্টি হয়। অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ ও যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূলে ডলফিন ও তিমির চলাচলের পথ পর্যবেক্ষণেও এই শব্দ সমস্যা তৈরি করছে। কার্টিন ইউনিভার্সিটির গবেষক ক্রিস্টিন এরবে বলেন, বিষয়টি এমন যেন আতশবাজির ভেতরে দাঁড়িয়ে সাক্ষাৎকার নেওয়ার চেষ্টা করা। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ছে। এতে স্ন্যাপিং শ্রিম্পের শব্দ করার প্রবণতাও বাড়ছে। তবে এর একটি ইতিবাচক দিকও আছে। এক্সেটার ইউনিভার্সিটির গবেষক লুসিল চ্যাপুইসের মতে, এই চিংড়ির উপস্থিতি অনেক সময় সুস্থ ও প্রাণবন্ত প্রবাল প্রাচীরের সংকেত দেয়। অর্থাৎ সমস্যা থাকলেও, প্রকৃতির ভারসাম্য বোঝার ক্ষেত্রে এই শব্দ কখনো কখনো সহায়কও হতে পারে।
চাঁন্দলাইয়ে ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

চাঁন্দলাইয়ে ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১৪নং ওয়ার্ডের চাঁন্দলাই যুবসমাজের আয়োজনে নাইট মিনি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রাতে অনুষ্ঠিত খেলায় চাঁন্দলাই কিংস ইলেভেন চ্যাম্পিয়ন ও চাঁন্দলাই নাইট রাইডার্স রানার্সআপ হয়েছে। চাঁন্দলাই মিরের বাগান মাঠে অনুষ্ঠিত খেলায় প্রধান অতিথি থেকে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের মধ্যে পুরস্কার বিতরন করেন নবাব গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ইউনিটের সভাপতি মো. আকবর হোসেন। চাঁন্দলাই যুবসমাজের সভাপতি মো. মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন— মেসার্স রুবেল থাই অ্যালুমিনিয়ামের পরিচালক আলহাজ আব্বাস উদ্দিন রুবেল। সূচনা বক্তব্য দেন— সিটি প্রেস ক্লাব চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদি হাসান। এ সময় মো. কামাল উদ্দিন, মো. আলাউদ্দিন, মো. মতিউর রহমান, মো. সোহেল রানাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এই টুর্নামেন্টে মোট ১০টি দল অংশগ্রহণ করে।
নাচোলে আনসার-ভিডিপির নতুন অফিসের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন

নাচোলে আনসার-ভিডিপির নতুন অফিসের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন নাচোলে আনসার ও ভিডিপির নতুন অফিসের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ৩ তলা বিশিষ্ট নতুন অফিসের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম রব্বানী সর্দার। এসময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস, সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দুলাল উদ্দিন খান, বিআরডিবি কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ, আনসার ও ভিডিপি অফিসার মেহেদী হাসান, প্রশিক্ষক গোলাম সাকলাইনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনে মনোনয়ন জমা দিলেন ১৬ প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনে মনোনয়ন জমা দিলেন ১৬ প্রার্থী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ১৬ প্রার্থী। সোমবার দাখিলের শেষ দিনে এবং রবিবার এইসব প্রার্থী রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে তাদের মনোয়নপত্র দাখিল করেন। তাদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে মমোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ৬ জন। তারা হলেন— বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. কেরামত আলী, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের প্রার্থী মো. আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী নবাব মো. শামসুল হোদা, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহা. আফজাল হোসেন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. মনিরুল ইসলাম। অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ৫ জন। তারা হলেন— বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. মিজানুর রহমান, জাতীয় পার্টির খুরশিদ আলম বাচ্চু, বাংলাদেশের কমউিনিস্ট পার্টির প্রার্থী মো. সাদেকুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বংলাদেশের প্রার্থী মো. ইব্রাহিম খলিল। এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনেও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ৫ জন। তারা হলেন— বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. হারুনুর রশীদ, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির প্রার্থী মো. ফজলুর ইসলাম খান, গণঅধিকার পরিষদ জিওপি’র প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. মনিরুল ইসলাম। এদের মধ্যে অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা ও মো. আমিনুল ইসলাম গত রবিবার মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। জেলার এই তিনটি আসনে ২১ জন মনোনয়নপত্র ক্রয় করলেও ১৬ জন দাখিল করলেন। বাকি ৫ জন তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শাহাদাত হোসেন মাসুদ এসব তথ্য জানিয়েছেন। সোমবার ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ। আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৩ জানুয়ারি শনিবার। এছাড়া মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের তারিখ ৫ জানুয়ারি সোমবার থেকে ৯ জানুয়ারি শুক্রবার পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তির তারিখ ১০ জানুয়ারি শনিবার থেকে ১৮ জানুয়ারি রবিবার পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার। প্রতীক বরাদ্দের তারিখ ২১ জানুয়ারি বুধবার। ভোটগ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
৪৬তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত

৪৬তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঘোষিত সাধারণ ছুটি ও রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে ৪৬তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। ্আগামীকাল ও বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য ভাইভা পরীক্ষাগুলো আপাতত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন। আজ বিকালে এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পিএসসি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে আগামীকাল সারাদেশে সাধারণ ছুটি থাকায় ওই দিনের এবং পরবর্তী দিনের (১ জানুয়ারি) সকল মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত করা হলো। স্থগিত হওয়া এই মৌখিক পরীক্ষার তারিখ ও সময়সূচি পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। ৪৬তম বিসিএসের অন্যান্য তারিখের মৌখিক পরীক্ষাগুলো পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চলবে কি না, তা জানতে প্রার্থীদের পিএসসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট নিয়মিত দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ছুটি কমল ১২ দিন: রমজানেও খোলা থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয়

ছুটি কমল ১২ দিন: রমজানেও খোলা থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয় ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। নতুন ছুটির তালিকায় আগের বছরের তুলনায় ১২ দিন ছুটি কমানো হয়েছে। এতে পবিত্র রমজান মাসের প্রায় পুরো সময় বিদ্যালয় খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ বিকেলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপসচিব রওশন আরা পলির সই করা বাৎসরিক ছুটির তালিকা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু হবে ৮ মার্চ থেকে। তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকেই রোজা শুরু হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ২১ রমজান পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা থাকবে। পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৫ সালে পবিত্র রমজান, শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব, স্বাধীনতা দিবস, জুমাতুল বিদা, শবে কদর ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মোট ২৮ দিন ছুটি ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে এসব দিবস মিলিয়ে ছুটি কমিয়ে ১৯ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ মিলিয়ে আগে যেখানে ১৫ দিন ছুটি ছিল, সেখানে নতুন শিক্ষাবর্ষে তা কমিয়ে ১২ দিন করা হয়েছে। শীতকালীন অবকাশও এক দিন কমিয়ে ১০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর উল্লেখযোগ্য ছুটির মধ্যে রয়েছে—রোজা ও ঈদুল ফিতরসহ টানা ১৯ দিন, ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশে ১২ দিন, দুর্গাপূজায় পাঁচ দিন এবং শীতকালীন অবকাশে ১০ দিন। অন্যান্য ছুটি মিলিয়ে পুরো বছরে মোট ছুটি থাকবে ৬৪ দিন।