৪র্থ বারের মতো ক্ষমতায় আসতে পারে মমতা ব্যানার্জির সরকার

পশ্চিমবঙ্গে আরও একটি মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে পারে মমতা ব্যানার্জি-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ আসনের মধ্যে দলটি ১৮৪–১৯৪টি আসন পেতে পারে বলে একটি জনমত জরিপে আভাস মিলেছে।

সর্বভারতীয় গণমাধ্যম CNN-News18-এ প্রকাশিত ‘ভোট-ভাইব’ জরিপ অনুযায়ী, প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পেতে পারে ৯৮–১০৮টি আসন। ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে তারা অনেকটাই পিছিয়ে থাকবে।

জরিপে আরও বলা হয়েছে, ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস এবং বামফ্রন্ট-সহ অন্যান্য দল মিলিয়ে পেতে পারে মাত্র ১-৩টি আসন। ভোটের হিসাবে তৃণমূল কংগ্রেস পেতে পারে ৪১.৯ শতাংশ এবং বিজেপি ৩৪.৯ শতাংশ ভোট। জরিপে বলা হচ্ছে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রবণতারই প্রতিফলন ঘটতে পারে এবারের বিধানসভা ভোটে।

সম্প্রদায়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মুসলিম ভোটারদের মধ্যে তৃণমূলের শক্ত অবস্থান বজায় রয়েছে—৫৭.৬ শতাংশ তাদের সমর্থন করছে। অন্যদিকে তফসিলি উপজাতিদের মধ্যে বিজেপির সমর্থন ৫১ শতাংশ। তফসিলি জাতি ও দলিত ভোটারদের মধ্যে কিছুটা বিভাজন থাকলেও ৪৩ শতাংশ বিজেপি এবং ৩৯.৫ শতাংশ তৃণমূলকে সমর্থন করছে।

মুখ্যমন্ত্রী পদের পছন্দের তালিকাতেও এগিয়ে রয়েছেন মমতা ব্যানার্জি—৪৮.৫ শতাংশ সমর্থন নিয়ে শীর্ষে। তাঁর পরে রয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী (৩৩.৪ শতাংশ)। এছাড়া মোহাম্মদ সেলিম পেয়েছেন ৪.৩ শতাংশ এবং অধীর রঞ্জন চৌধুরী পেয়েছেন ৩.৭ শতাংশ সমর্থন।

জরিপে উঠে এসেছে, এবারের নির্বাচনের অন্যতম প্রধান ইস্যু বেকারত্ব—৩৭.২ শতাংশ উত্তরদাতা এটিকে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা, নারী নিরাপত্তা, মূল্যবৃদ্ধি ও দুর্নীতিও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে।

একই সঙ্গে জরিপে বলা হয়েছে, নতুন রাজনৈতিক সমীকরণও প্রভাব ফেলতে পারে নির্বাচনে। বিশেষ করে ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (এজেইউপি) এবং অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম)-এর জোট তৃণমূলের ভোটব্যাংকে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জরিপ অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের কাজকে ৪৩.৩ শতাংশ মানুষ ‘ভালো’ বা ‘খুব ভালো’ বললেও ৩৮.৯ শতাংশ একে ‘খারাপ’ বা ‘খুব খারাপ’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। এতে বোঝা যায়, সরকারের প্রতি সমর্থনের পাশাপাশি কিছুটা অসন্তোষও রয়েছে।

অন্যদিকে বিজেপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে এসেছে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, নেতৃত্বের অভাব, দুর্বল সংগঠন ও জনসংযোগের ঘাটতি।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ১৫২ আসনে এবং দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল ১৪২ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গণনা হবে ৪ মে।