২৮ বছর বয়সেই আরসিবির চেয়ারম্যান আর্যমান বিরলা

আইপিএলের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু বড় অঙ্কের চুক্তিতে মালিকানা বদল হয়েছে। ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের একটি কনসোর্টিয়াম দলটি কিনে নিয়েছে। নতুন মালিকানা পাওয়ার পর আলোচনায় উঠে এসেছে একটি নাম-আর্যমান বিরলা। মাত্র ২৮ বছর বয়সেই তিনি হচ্ছেন আরসিবির নতুন চেয়ারম্যান।

দলের বর্তমান মালিক ইউনাইটেড স্পিরিটস লিমিটেড মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই কনসোর্টিয়ামে রয়েছে আদিত্য বিরলা গ্রুপ, ব্ল্যাকস্টোনের প্রাইভেট ইকুইটি ইউনিট, ডেভিড ব্লিটজারের বোল্ট ভেঞ্চারস এবং টাইমস অব ইন্ডিয়া গ্রুপ।

প্রায় ১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই চুক্তি এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পেলেই নতুন মালিকপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেবে। একই সঙ্গে ঘোষণা করা হয়েছে, দলের চেয়ারম্যান হচ্ছেন আদিত্য বিরলা গোষ্ঠীর তরুণ পরিচালক আর্যমান বিরলা।

আর্যমান বিরলা ভারতের প্রভাবশালী শিল্পপতি কুমার মাঙ্গালাম বিরলার ছেলে। তবে তিনি শুধু ব্যবসায়ী পরিবারের উত্তরাধিকারী নন, এক সময় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নও দেখেছিলেন। ১৭ বছর বয়সে তিনি মুম্বাই ছেড়ে মধ্যপ্রদেশে গিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলেন। ইংল্যান্ডেও ক্লাব ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

২০১৭ সালে প্রথমবার রঞ্জি ট্রফিতে খেলেন আর্যমান। তার আগে সি কে নাইডু ট্রফিতে দারুণ পারফরম করে নজর কাড়েন। সেই আসরে তিনি ৬০২ রান করেছিলেন এবং তিনটি শতক করেছিলেন। পরে রঞ্জি ট্রফিতেও শতকের দেখা পান। সেই সময় তার সতীর্থ ছিলেন বর্তমান বেঙ্গালুরু অধিনায়ক রজত পাতিদার ও অলরাউন্ডার ভেঙ্কটেশ আইয়ার।

২০১৮ সালে রাজস্থান তাকে দলে নিলেও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। ২০১৯ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে তিনি ক্রিকেট থেকে বিরতি নেন। সে সময় তিনি মানসিক চাপের কারণে খেলা থেকে দূরে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছিলেন।

ক্রিকেট ছেড়ে তিনি পুরোপুরি ব্যবসায় মন দেন। বর্তমানে তিনি আদিত্য বিরলা গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কাজ করছেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করেছেন এবং হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে ব্যবসা প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও উচ্চতর ডিগ্রি রয়েছে তার।

দীর্ঘদিন পর আবার ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন আর্যমান, তবে এবার মাঠে নয়, নেতৃত্বের ভূমিকায়।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “বেঙ্গালুরুর ভবিষ্যৎ গড়ার এই যাত্রায় যুক্ত হতে পেরে আমি গর্বিত। আমরা মাঠে ও মাঠের বাইরে সমর্থকদের জন্য নতুন কিছু করতে চাই।”