হেড-স্মিথের সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়ার দাপট

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অ্যাশেজের পঞ্চম টেস্টের তৃতীয় দিনে ট্র্যাভিস হেড ও স্টিভ স্মিথের ব্যাটে একেবারে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে ইংল্যান্ড। জো রুটের ঝলমলে সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ৩৮৪ রান করলেও, ২১৮ রানে পিছিয়ে থেকে খেলতে নেমে অস্ট্রেলিয়া দিন শেষে তুলে নেয় ৭ উইকেটে ৫১৮ রান। ফলে চতুর্থ দিনে ১৩৪ রানের লিড নিয়ে মাঠে নামবে স্বাগতিকরা।

দিনের শুরুতে ২ উইকেটে ১৬৬ রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ট্র্যাভিস হেড নাইটওয়াচম্যান মাইকেল নেসারের সঙ্গে গড়েন ৭২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। নেসার ৯০ বলে করেন ২৪ রান। পরে স্টিভ স্মিথের সঙ্গে দ্বিতীয় সেশনে আরও ৫৪ রান যোগ করেন হেড। ১৬৬ বলে ২৪ চার ও একটি ছক্কায় ১৬৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে তিনি আউট হলেও তখন ম্যাচ পুরোপুরি অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রণে।

ইনিংসের দ্বিতীয় ভাগে দৃঢ়তা ও ধারাবাহিকতার প্রতীক হয়ে ওঠেন স্টিভ স্মিথ। ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে ৭১ এবং বেউ ওয়েবস্টারের সঙ্গে অপরাজিত ৮১ রানের জুটি গড়ে দিন শেষ করেন তিনি। ২০৫ বলে ১২৯ রানে অপরাজিত ছিলেন স্মিথ, যা ছিল তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩৭তম সেঞ্চুরি।

এই ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া গড়েছে সাতটি পঞ্চাশোর্ধ্ব জুটি যা টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। মাঠে ইংল্যান্ডের দিনটি ছিল হতাশার; চারটি ক্যাচ ও একটি রানআউটের সুযোগ নষ্ট করে তারা। ম্যাথু পটস ২৫ ওভারে দেন রেকর্ড ১৪১ রান।

ব্যক্তিগত কীর্তির দিক থেকেও দিনটি স্মরণীয় করে রাখেন হেড ও স্মিথ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় ডন ব্র্যাডম্যানের পরেই উঠে এসেছেন স্মিথ। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে অ্যাশেজে তিনটি সেঞ্চুরি করা প্রথম অস্ট্রেলীয় ওপেনার হিসেবে ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটান ট্র্যাভিস হেড। পাশাপাশি, ৯৬ বছর পুরোনো ব্র্যাডম্যানের দ্রুততম দেড়শ রানের একটি রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলেন তিনি।

সব মিলিয়ে, এসসিজির তৃতীয় দিনটি ছিল পুরোপুরি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটে, রেকর্ডে ও ম্যাচের গতিপথে।