হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর রাজশাহীকে শেষ বলে হারাল চট্টগ্রাম

রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে লো স্কোরিং ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর জিতেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। রাজশাহীর দেওয়া ১২৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ফল এসেছে একেবারে শেষ বলে। ১ বলে যখন আর দরকার ২ রান, ম্যাচটি সুপার ওভারে গড়ায় কি না সেই প্রশ্নও জেগেছিল। তবে মাথা ঠান্ডা রেখে হাসান নেওয়াজ ২ রান নিয়ে ২ উইকেটে চট্টগ্রামের জয় নিশ্চিত করেন। এ নিয়ে সাত ম্যাচে পঞ্চম জয় পেল টেবিল টপাররা।

চলমান বিপিএলে চট্টগ্রাম পর্বের বদলে সেখানকার ম্যাচগুলো সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে হচ্ছে। সেখানে আজ দিনের প্রথম ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে বিপর্যয়ে পড়ে রাজশাহী। যার শুরুটা হয়েছিল শুরু থেকেই। দলীয় ২১ রানে ১৪ বলে ১৯ রান করা ওপেনার মোহাম্মদ ওয়াসিমকে বোল্ড করে দেন চট্টগ্রামের স্পিনার তানভীর ইসলাম। এরপর রাজশাহী আর কোনো বড় জুটি গড়তে পারেনি। নিয়মিত বিরতিতে শেষ পর্যন্ত উইকেটের মিছিল চলমান ছিল।

নাজমুল হোসেন শান্ত এবং তানজিদ হাসান তামিম উভয়েই দুই অঙ্কের ঘরে ছুঁতে ব্যর্থ। ওয়াসিম এবং এস মেহরবের করা সমান ১৯ রানই রাজশাহীর পক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস। এ ছাড়া আকবর আলি ১৭, মুশফিকুর রহিম ১৫ ও তানজিম হাসান সাকিব ১৪ রান করেন। ফলে খুব একটা চ্যালেঞ্জিং দলীয় সংগ্রহ পায়নি রাজশাহী। চট্টগ্রামের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেন আমির জামাল। এ ছাড়া শরিফুল ইসলাম ও তানভীর ২টি করে শিকার ধরেন।

ছোট লক্ষ্য তাড়ায় নেমে চট্টগ্রামও যথারীতি শুরু থেকে বিপর্যয়ে পড়ে। তবে টেস্ট মেজাজে হাসান নেওয়াজ একপ্রান্ত আগলে রাখাটা তাদের জন্য কাজে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত তিনি ৩৬ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। এ ছাড়া অধিনায়ক শেখ মেহেদী ২৫ বলে ২৮, আসিফ আলি ২৫ বলে ২৭ এবং অ্যাডাম রসিংটন ১৭ রান করেছেন। শেষ ওভারে চট্টগ্রামের যখন ১০ রান প্রয়োজন, তখন রাজশাহীর পেসারদের বোলিং কোটা শেষ। ফলে আক্রমণে আনা হয় স্পিন অলরাউন্ডার মেহরবকে।

২০তম ওভারের প্রথম ৩ বলে মেহরব এক বাউন্ডারিসহ ৮ রান দেওয়ার পরের দুই ডেলিভারি ডট করেছেন। তিনি অবশ্য একটি রানআউট মিস না করলে ভিন্ন কিছুও হতে পারত। তবে জমে ওঠে লো স্কোরিং ম্যাচটি। শেষ বলে হাসান ২ রান নিয়ে জয় বাগিয়ে নেন চট্টগ্রামের পক্ষে। রাজশাহীর পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন বিনুরা ফার্নান্দো। মেহরব নেন ২ উইকেট। এ নিয়ে ৭ ম্যাচে পঞ্চম জয় নিয়ে ১০ পয়েন্টে শীর্ষস্থান আরও পাকাপোক্ত করল চট্টগ্রাম। ৬ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে রাজশাহী চার নম্বরে রয়েছে। যথাক্রমে দুই-তিনে থাকা রংপুর রাইডার্স ও সিলেট টাইটান্সের পয়েন্টও সমান ৮। তবে রংপুর ৫ এবং সিলেট ৮ ম্যাচ খেলেছে ইতোমধ্যে।