হরিনগর তাঁতপল্লী থেকে জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিহারিকা দাস

এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ-এর কৃষি অনুষদের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিহারিকা দাস জাপানের কাগোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য MONBUKAGAKUSHO স্কলারশিপে মনোনীত হয়েছেন। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে তাকে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. সফিকুল বারী। সভাপতিত্ব করেন কৃষি অনুষদের ডিন ড. মো. মাহাবুবুর রহমান।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন— এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক ড. মো. মেহেদী হাসান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. সাহেব আলী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কৃষি অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম।
উপাচার্য বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করছে। শিক্ষার্থীরা আজ দেশের সীমা অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের মেধার পরিচয় দিচ্ছে।” তিনি আরো বলেন, “নিহারিকার এই সাফল্য শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, সমগ্র জাতির জন্য গৌরবের। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমাদের মেধাবী এই শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা সম্পন্ন করে দেশে ফিরে আসবে এবং জাতীয় অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী গ্রাম হরিনগর তাঁতিপাড়া। সেখানকার এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেয়া নিহারিকা দাস। একসময় যার কাছে নিজের শহরের গণ্ডি পেরোনোটাই ছিল কঠিন, আজ সেই মেয়েই পাড়ি জমাচ্ছেন হাজার মাইল দূরের দেশ জাপানে, উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে।
জাপান সরকারের সম্মানজনক স্কলারশিপে তিনি সুযোগ পেয়েছেন দেশটির কাগোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার। এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের কৃষি অনুষদের ১৬তম ব্যাচের এই শিক্ষার্থী নিহারিকার পথচলা কিন্তু এতটা সহজ ছিল না। একটা সময় নানা চাপে তার পড়াশোনা প্রায় থেমে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। স্বপ্নগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছিল। ঠিক সেই সময় তার পাশে দাঁড়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা, বুঝতে পেরে সাহস জোগান পরিবারের সদস্যরা। আর নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমে ঘুরে দাঁড়ান নিহারিকা। সেই পথ ধরেই তার আজকের এই সাফল্য।
দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানে অনেকটায় আবেগঘন কণ্ঠে নিহারিকা বলেন, “একটা সময় মনে হয়েছিল, হয়তো আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারব না। কিন্তু স্যারদের সহযোগিতা আর পরিবারের সমর্থন আমাকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। আজ জাপানে পড়তে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি, এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।”
নিজ গ্রাম, নিজ শহর ও দেশ ছেড়ে সেই স্বপ্ন যাত্রার প্রাক্কালে নিহারিকা তাই বলেই গেলেন, “আগামীতে দেশের জন্য অবশ্যই কিছু করতে চাই।”
নিহারিকার বাবার নাম সুবোধ চন্দ্র দাস ও মাতার নাম লিলি রানী দাস। তারা দুই বোন। ছোট বোন শ্রেয়া এবার এইচএসসিতে অধ্যয়নরত। নিহারিকা তার স্বপ্ন পূরণে সকলের আশীর্বাদ কামনা করেন।