সুপার এইটে ওঠার কঠিন সমীকরণে অস্ট্রেলিয়া

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত হারের পর সুপার এইটে ওঠার লড়াইয়ে টিকে থাকতে কঠিন সমীকরণের মুখে অস্ট্রেলিয়া। বাকি ম্যাচগুলোতে শুধু জিতলেই চলবে না, তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য ম্যাচের ফলের দিকেও। আজ কলকাতায় বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে তিনটায় শুরু হবে ‘সি’ গ্রুপের ইংল্যান্ড-ইতালি ম্যাচ। সুপার এইটের আশা বাঁচিয়ে রাখতে ইতালিকে জিততেই হবে। একই দিনে ‘বি’ গ্রুপের অপর ম্যাচে টিকে থাকার লড়াইয়ে নামবে অস্ট্রেলিয়া। ইতালিকে আজ হারালে ইংল্যান্ড জিতলে সুপার এইটে উঠবে। হ্যারি ব্রুকের দলের পয়েন্ট হবে ৬। যদি ইতালি অঘটন ঘটায়, তাহলে সুপার এইটে ওঠা ইংল্যান্ডের জন্য একটু কঠিনই হয়ে যাবে।

স্কটল্যান্ড-ইতালি দুই দলেরই পয়েন্ট এখন ২। স্কটল্যান্ড ও ইতালির নেট রানরেট ‍+০.৩৫৯ ও -০.৩৫২। ৪ পয়েন্ট পাওয়া ইংল্যান্ডের নেট রানরেট ‍-০.১৪৩। তখন ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচটা ইতালির কাছে গুরুত্বপূর্ণ হবে। এরই মধ্যে বিশ্বকাপের সুপার এইট নিশ্চিত করা উইন্ডিজকে তখন ইতালির হারাতে হবে নেট রানরেটের কথা হিসেব করে।

অস্ট্রেলিয়ার জন্য সবচেয়ে স্বস্তির সমীকরণ—শ্রীলঙ্কা যেন জিম্বাবুয়ের কাছে হারে অথবা জিম্বাবুয়ে যেন আয়ারল্যান্ডের কাছে হারে। সে ক্ষেত্রে ছয় পয়েন্ট পেলেই অস্ট্রেলিয়া নিশ্চিতভাবে অন্তত দ্বিতীয় স্থানে থাকতে পারবে।

আজ শ্রীলঙ্কার কাছে হারলেও অস্ট্রেলিয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাবে না। সে ক্ষেত্রে ওমানকে হারিয়ে তাদের পয়েন্ট দাঁড়াবে ৪। তখন জিম্বাবুয়েকে বাকি দুটি ম্যাচ—আয়ারল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে—হারতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কা ৮ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে এবং অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ড সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানের জন্য লড়বে, যেখানে নেট রান রেট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

শ্রীলঙ্কার অবস্থান তুলনামূলক ভালো। দুই ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ২ হলেও নেট রান রেট ৩.১২৫। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিতলেই তারা সুপার এইট নিশ্চিত করবে। হারলেও সুযোগ থাকবে, যদি তারা জিম্বাবুয়েকে হারায় এবং পরে জিম্বাবুয়ে আয়ারল্যান্ডের কাছে হারে কিংবা অস্ট্রেলিয়া ওমানের কাছে হেরে যায়। অন্যথায় ছয় পয়েন্ট নিয়ে তিন দলের মধ্যে হিসাব-নিকাশ শুরু হবে।

শ্রীলঙ্কা যদি দুই ম্যাচই হেরে যায়, তাহলে জিম্বাবুয়ে সরাসরি পরের রাউন্ডে উঠবে। সে ক্ষেত্রে চার পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় হওয়ার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে অস্ট্রেলিয়াকে ওমানের কাছে হারতে হবে—যা সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলবে।

জিম্বাবুয়ের সামনে সবচেয়ে সহজ পথ—শ্রীলঙ্কাকে হারানো। সে জয় তাদের সুপার এইটে তুলে দেবে। তবে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে আয়ারল্যান্ডকে হারালে ছয় পয়েন্ট নিয়ে তাদেরও নেট রান রেটের লড়াইয়ে নামতে হবে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে। জিম্বাবুয়ে যদি দুটি ম্যাচই হারে, তবুও সুযোগ থাকবে—শর্ত একটাই, অস্ট্রেলিয়া যেন বাকি দুই ম্যাচের মধ্যে একটির বেশি না জেতে।

আয়ারল্যান্ডের সমীকরণ সবচেয়ে কঠিন। তিন ম্যাচে ২ পয়েন্ট ও ০.১৫০ নেট রান রেট নিয়ে তাদের শেষ ম্যাচ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। জিতলে তারা ৪ পয়েন্টে শেষ করবে। তবে তখন প্রয়োজন হবে—আর মাত্র একটি দল যেন চার পয়েন্টের বেশি পায়।

যদি শ্রীলঙ্কা দুই ম্যাচ জিতে ৮ পয়েন্টে শেষ করে, তাহলে অস্ট্রেলিয়া ওমানকে হারিয়ে ৪ পয়েন্ট পাবে। সে ক্ষেত্রে আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও জিম্বাবুয়ে সমান পয়েন্টে লড়বে। কিন্তু জিম্বাবুয়ে যদি শ্রীলঙ্কাকে হারায়, তাহলে তিন দলের সমান পয়েন্টের লড়াই সম্ভব কেবল তখনই, যদি অস্ট্রেলিয়া ওমানের কাছে হারে। অস্ট্রেলিয়া শেষ দুটি ম্যাচ জিতলে আয়ারল্যান্ডের বিদায় নিশ্চিত।

সব মিলিয়ে ‘বি’ গ্রুপে শেষ ম্যাচগুলো হয়ে উঠেছে অঘোষিত নকআউট। অস্ট্রেলিয়ার জন্য সমীকরণ পরিষ্কার—নিজেদের কাজ আগে শেষ করতে হবে, এরপর অপেক্ষা অন্যদের ফলের।