সিনেমার জন্য নতুন করে প্রস্তুতি নিচ্ছি ফারিন খান

রাসেল আজাদ বিদ্যুৎ: ফারিন খান। অভিনেত্রী ও মডেল। আরটিভির ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাচ্ছে তাঁর অভিনীত একক নাটক ‘রং নাম্বার’। এ নাটক, বর্তমান ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হয় তাঁর সঙ্গে আপনার নতুন একক নাটক ‘রং নাম্বার’ সম্পর্কে জানতে চাই। আপনার অন্যান্য নাটক থেকে এর গল্প ও চরিত্র কতটা আলাদা বলা যায়? আগে যে নাটকগুলোয় অভিনয় করেছি, তার সঙ্গে ‘রং নাম্বার’র কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। কারণ, নব্বই দশকের পটভূমিতে এর গল্প লেখা হয়েছে। যখন ল্যান্ডফোন ছিল যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। প্রায় সময় ভুল কল চলে আসত। রং নাম্বার বলে রেখে দেওয়া হতো ফোন। কেউ আবার ইচ্ছা করে ফোন করে চুপ করে থাকত। অপেক্ষা করত ফোনের ওপাশ থেকে কোনো নারীকণ্ঠ ভেসে আসে কিনা। এ ধরনের রং নাম্বারের সূত্র ধরে কারও কারও বন্ধুত্ব তৈরি হতো। বন্ধুত্ব থেকে প্রেম এবং এরপর সেই প্রেম নিয়ে জন্ম নিত নানা ঘটনা। এমনই এক গল্প নিয়ে ‘রং নাম্বার’ নাটক। নব্বই দশকে যাদের বেড়ে ওঠা, তাদের অনেকের এ ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে। অবশ্য এখনকার যুগে গল্পটা নতুন বলেই মনে হবে। তবে আমার কাজটা ছিল স্মৃতি হাতড়ে ফেরার মতো। স্মৃতি হাতড়ে ফেরা বলতে কী এ কথা বোঝাতে চাইছেন যে, ‘রং নাম্বার’ নাটকের গল্পের সঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতার মিল আছে?

আসলেই তাই, ‘রং নাম্বার’ গল্পটা পড়ে আমি পুরোনো দিনগুলোয় ফিরে গিয়েছিলাম। যখন আমাদের বাসায় ল্যান্ডফোন ছিল। যখন-তখন উটকো ফোন চলে আসত। যে কারও ফোন রিসিভ করা নিয়ে বাসায় কড়াকড়ি ছিল। পরিচিতদের অভিজ্ঞতাও ছিল প্রায় একই রকম। একেকটি ল্যান্ড ফোন কতরকম ঘটনার যে জন্ম দিয়েছে, তা বলে শেষ করা যাবে না। তাই ‘রং নাম্বার’ নাটকের শুটিংয়ে বারবার পুরোনো দিনের স্মৃতি মনে ভেসে উঠেছে। ওই সময়কে ধারণ করে একটি গল্প লেখা হয়েছে, সেখানে আমি অভিনয় করছি, এই ভাবনাও খানিকটা আনন্দ দিয়েছে। এক নাগাড়ে শুটিং করে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ বিরতি। পর্দায়ও খুব একটা দেখা মিলছে না, কারণ কী? দেশের পরিস্থিতির কারণে এ সময়ে কাজ খুব বেশি হয়নি। তা ছাড়া নিজেও চাইনি, নাটকের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য মনের বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ করতে হতো। যে গল্প ও চরিত্রগুলো আমার কাছে নতুন ও ভিন্ন ধরনের মনে হয়েছে, অভিনয়ের জন্য সেই নাটকগুলো বেছে নিয়েছি।

গত ছয় মাস সেভাবে কাজ করিনি বড় একটি প্রজেক্টের জন্য। আর কাজগুলোর জন্য এক নাগাড়ে শুটিং করতে দেখেছেন, সেগুলো বেশির ভাগই আটকে আছে। দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রযোজকরা নাটকগুলো প্রকাশ করছেন না। এজন্য পর্দায় একটু কম দেখা যাচ্ছে। বড় প্রজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত বললেন। সেটি কাজ বলা যায়? বেশি কিছু বলা যাবে না; শুধু এটুকু বলি, সিনেমার জন্য নতুন করে প্রস্তুতি নিচ্ছি। সিনেমার নাম কী, পরিচালক কে? সহশিল্পী কারা? এসব প্রশ্নের উত্তর আপাতত বলা নিষেধ আছে। তবু এটুকু আশ্বাস দিতে পারি, শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন। আপনার প্রথম সিনেমা ‘ধ্যাততেরিকি’ মুক্তি পেয়েছিল প্রায় ৯ বছর আগে। দ্বিতীয় সিনেমার জন্য এতটা সময় নেওয়ার কারণ? সিনেমা জগতে যখন পা রাখি তখন ছিলাম এসএসসি পরিক্ষার্থী। বয়স কম ছিল, ছিল পড়াশোনার চাপ। তা ছাড়া পরিবারের সদস্যরাও চায়নি সিনেমায় নিয়মিত কাজ করি।

সেজন্য অভিনয়ে বিরতি নিতে বাধ্য হয়েছিলাম। নইলে ‘অগ্নি’র সিকুয়েল’ থেকে শুরু করে ‘পোড়ামন-২’, ‘ককপিট’, ‘লিপস্টিক’, ‘দাগি’, ‘জংলি’সহ আরও বেশ কিছু সিনেমায় আমাকে দেখা যেত। প্রস্তাব পেয়েও এই সিনেমাগুলো ছাড়তে হয়েছিল আমাকে। তবে সিনেমায় কাজের ইচ্ছা একেবারে ফুরিয়ে যায়নি। তাই বিরতি ভেঙে যখন অভিনয়ে ফিরেছি, তখন ছোট পর্দায় কাজের মধ্য দিয়ে নিজেকে পরিণত করে তোলার চেষ্টা করেছি। যাতে করে সিনেমায় ফেরাটা ফেরার মতো হয়। একসময় মঞ্চেও কাজ করেছেন। এখন কেন সময় দিতে পারেন না? মঞ্চে কাজে সবসময় নিবেদিত থাকতে হয়। প্রতিটি কাজে চূড়ান্ত প্রস্তুতি থাকতে হয়। ক্যামেরার মতো এখানে কোনো দৃশ্যের কাট বলে থামিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। আর চাইলেও যখন-তখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে অভিনয় তুলে ধরা যায় না। তাই যখন থেকে ছোট পর্দায় ব্যস্ততা বেড়েছে, মঞ্চের জন্য আর সময় বের করা হয়ে উঠেনি। তারপরও মঞ্চের আকর্ষণ আগের মতোই রয়ে গেছে। মডেল হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন। অভিনয় আর মডেলিং একসঙ্গে চালিয়ে যেতে চান? অনেকে হয়তো জানেন না, মডেলিং থেকেই আমার অভিনয়ে আসা। তাই অভিনয়ের ব্যস্ততা বাড়লেও মডেলিং থেকে সরে যাইনি। কারণ, এই কাজের প্রতি আলাদা এক ধরনের ভালো লাগা আছে