শেষ বলে ছক্কা- কোয়ালিফায়ারে সিলেট বিদায় রংপুরের

শেষ বলে জয়ের জন্য সিলেটের প্রয়োজন ছিল ৬ রান। ব্যাটিংয়ে ছিলেন ক্রিস ওকস, বোলিংয়ে রংপুরের ফাহিম আশরাফ। অফ স্টাম্পের বাইরের বল কভার অঞ্চলের ওপর দিয়ে সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দেন ওকস। সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে মাতে সিলেট শিবির, আর এবারের বিপিএল শেষ হয়ে যায় রংপুরের।
আজ মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে শুরুতেই ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সিলেট অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। শুরু থেকেই সেই সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করে সিলেটের বোলাররা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে মাত্র ২৯ রানের মধ্যেই তাওহীদ হৃদয়, ডেভিড মালান, লিটন দাস ও কাইল মেয়ার্সকে হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে রংপুর। চার ব্যাটারের সম্মিলিত অবদান ছিল মাত্র ১৭ রান।
এরপর খুশদিল শাহ আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। ১৯ বলে ৩০ রান করেন তিনি, হাঁকান তিনটি ছক্কা। তাকে সঙ্গ দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তবে খুশদিল ফিরতেই আবার চাপে পড়ে রংপুর। রিয়াদ ২৬ বলে ৩৩ রান করলেও অপরপ্রান্তে নুরুল হাসান সোহান বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১১ রানেই থামে রংপুরের ইনিংস।
সিলেটের বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন খালেদ আহমেদ। তিনি ১৫ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন। ক্রিস ওকস নেন ২ উইকেট, খরচ করেন ১৫ রান। নাসুম আহমেদও ১২ রানে নেন ২ উইকেট।
সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও সিলেটের শুরুটা ছিল নড়বড়ে। দলীয় ২ রানে তৌফিক খান আউট হলে চাপ তৈরি হয়। পারভেজ হোসেন ইমন ১২ বলে ১৮ রান করে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। আরিফুল ইসলাম ও আফিফ হোসেন ধ্রুব দ্রুত ফিরে গেলে ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায় রংপুর।
এরপর অধিনায়ক মিরাজ ও স্যাম বিলিংস ধৈর্যের সঙ্গে ইনিংস সাজান। আঁটসাঁট বোলিংয়ে সহজে রান তুলতে পারেননি তারা। মিরাজ ২৩ বলে ১৮ রান করে ফিরলে সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। শেষদিকে বিলিংস ৪০ বলে ২৯ রান করে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে আউট হন।
শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। শেষ ওভারে সমীকরণ নেমে আসে ৯ রানে। মঈন আলী আউট হলে চাপ চরমে ওঠে। তবে শেষ বলের নাটকীয় ছক্কায় সব চাপ উড়িয়ে দিয়ে সিলেটকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন ক্রিস ওকস।