যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ থেকে মাইন অপসারণে ‘লিটোরাল কমব্যাট শিপ

গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণে ‘লিটোরাল কমব্যাট শিপ’ নামের নতুন এক ধরনের যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করছে মার্কিন নৌবাহিনী। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স। ঐতিহ্যগতভাবে মার্কিন নৌবাহিনী জলমাইন অপসারের জন্য মানবচালিত মাইন-সুইপিং শিপ ব্যবহার করে থাকে। পানির নিচে পেতে রাখা মাইন শনাক্তের জন্য মাইন-সুইপিং শিপে সোনার সিস্টেম থাকে এবং সেই সিস্টেম দিয়ে শনাক্তের পর মাইন ধ্বংস করা হয়। যেহেতু মাইন-সুইপিং শিপ মানবচালিত, তাই স্বাভাবিকভাবেই জাহাজের চালক ও ক্রুদের মাইনফিল্ডে প্রবেশ করতে হয়, যা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তবে লিটোরাল কমব্যাট শিপে সেই ঝুঁকি নেই। হালকা বা লাইটার ধরনের এই জাহাজটি পরিচালিত হয় রিমোট-কন্ট্রোল্ড রোবটদের দ্বারা। মাইন শনাক্ত থেকে ধ্বংস করা পর্যন্ত যাবতীয় কাজ হয় রোবটদের মাধ্যমে। তাই সেনাদের আর মাইন ধ্বংসের জন্য মাইনফিল্ডে প্রবেশের প্রয়োজন থাকে না। তাদের প্রধান কাজ তখন হয় দূর থেকে রিমোট-কন্ট্রোলের মাধ্যমে রোবটগুলো নিয়ন্ত্রণ করা। মার্কিন নৌবাহিনীর বহরে এমন ৩টি লিটোরাল কমব্যাট শিপ আছে, তবে বর্তমানে কার্যকর আছে একটি। বাকি দু’টি জাহাজকে মেরামতের জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

মেরামত শেষ হলেই বহরে সেই দু’টি জাহাজ যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মধ্যে দিয়ে শুরু হয় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ। এই যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জলমাইন পাতে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ধারণা করা হচ্ছে, হরমুজ প্রণালির বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১ ডজন মাইন পেতেছে আইআরজিসি।

তবে প্রণালির কোন কোন জায়গায় মাইন পাতা হয়েছিল, তার রেকর্ড ঠিকমতো রাখেনি রেভল্যুনারি গার্ড কোর। ফলে ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে হরমুজ থেকে মাইন অপসারণ করা। কারণ, ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জলপথটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের মোট সরবরাহের এক প্রায় চতুর্থাংশ পণ্য এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। কারণ, ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জলপথটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের মোট সরবরাহের এক প্রায় ২৫ ভাগ বা এক চতুর্থাংশ পণ্য এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ইরান হরমুজে অবরোধ জারি করায় ব্যাপক চাপে পড়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকে, অনেক দেশেই দেখা দেয় জ্বালানি সংকট। গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রনিধিদের সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর ১২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি ও ইরানের সামরিক বন্দরগুলোতে অবরোধ জারির ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি সেই ঘোষণা দেওয়ার প্রায় দু’ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) জানায়, হরমুজ থেকে মাইন অপসারনে কাজ শুরু হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স