মিলিয়ন ডলার জালিয়াতির অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ার ধনকুবেরের ব্যক্তিগত সহকারি গ্রেফতার
অস্ট্রেলিয়ার বিশিষ্ট ধনকুবের ও সমাজসেবী জুডিথ নেলসনের ব্যক্তিগত সচিব অ্যানালুইস স্পেন্সের বিরুদ্ধে প্রায় ১০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যবহার করে তিনি নিজের জন্য বিলাসবহুল পোশাক, শিল্পকর্ম এবং দামি গহনা কিনেছেন বলে পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। সিডনির নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ এই ঘটনাকে একটি বড় ধরনের আর্থিক প্রতারণা হিসেবে দেখছে।
৫০ বছর বয়সী অ্যানালুইস স্পেন্সের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার মোট ৬৮টি অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার সকালে সিডনির এরসকিনভিল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় তার বাড়ি এবং ক্যাম্পবেল টাউনের একটি স্টোরেজ ইউনিটে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিলাসবহুল সামগ্রী জব্দ করা হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জব্দকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে নামি ব্র্যান্ডের হ্যান্ডব্যাগ, গহনা এবং দামি পোশাক। গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে এই চিপেনডেল ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের তদন্ত শুরু করেছিল প্রশাসন। দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে বুধবার এই গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তদন্তে জানা গেছে যে স্পেন্স ২০১৩ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত অফিসের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে নিজের ব্যক্তিগত কেনাকাটা চালিয়ে গেছেন। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তিনি প্রায় ১০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারেরও বেশি অর্থ খরচ করেছেন যা প্রতিষ্ঠানের নথিপত্রে অনুমোদিত ছিল না। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো বৃহস্পতিবার একটি ভার্চুয়াল বেল কোর্টে উপস্থাপন করা হয়েছে।
অ্যানালুইস স্পেন্স ২০১৭ সাল থেকে জুডিথ নেলসনের ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে গত বছর নেলসনের কার্যালয়ে প্রশাসনিক পুনর্গঠনের পর স্পেন্স তার পদ থেকে ইস্তফা দেন। এরপরই নতুন আসা একজন নির্বাহী সহকারী নেলসনের হিসাবপত্র পরীক্ষা করতে গিয়ে অসংগতিগুলো লক্ষ্য করেন। আর সেখানেই এই বড় জালিয়াতির প্রমাণ মেলে।
হিসাব পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখা যায় লন্ডন সফরের একটি বিলে ৫৬ হাজার ৬০০ ডলারের একটি দুর্লভ গোলাপি স্বর্ণের রোলেক্স ঘড়ি এবং হ্যারডস ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে ২১ হাজার ডলারের কেনাকাটা করা হয়েছে। অথচ জুডিথ নেলসন সেই সময় লন্ডনে ছিলেন না এবং তিনি সাধারণত এই ধরনের দামি গহনা ব্যবহার করেন না। এই সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা গভীর অনুসন্ধানে নামেন।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী স্পেন্স ভ্রমণের পেছনে প্রায় ৪ লাখ ডলার, ফ্যাশন আইটেমে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ডলার এবং গহনার পেছনে ১ লাখ ৮৪ হাজার ডলার ব্যয় করেছেন। শুধু তাই নয় তিনি জুডিথ নেলসনের প্রায় ১০ লাখ কোয়ান্টাস ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লায়ার পয়েন্টও নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জুডিথ নেলসন অস্ট্রেলিয়ার একজন অন্যতম ধনাঢ্য ব্যক্তি যার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১২০ কোটি ডলার। তিনি হোয়াইট র্যাবিট আর্ট গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা এবং মানসম্পন্ন সাংবাদিকতার প্রসারে ১০০ মিলিয়ন ডলারের একটি ইনস্টিটিউট তৈরি করেছেন। বর্তমানে এই জালিয়াতি মামলার অধিকতর তদন্ত চলছে এবং স্পেন্সের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে।