মায়ের জন্মশতবার্ষিকীতে ব্রিটিশ রাজা চার্লসের শ্রদ্ধা নিবেদন

প্রয়াত মা রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের জন্মশত বার্ষিকীতে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন ব্রিটিশ রাজা চার্লস। যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় ধরে শাসন করা এই সম্রাজ্ঞীকে সম্মান জানাতে একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “তিনি যাদের সেবা করতেন, তাদের প্রতি অবিচল, দৃঢ় এবং সম্পূর্ণরূপে নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন।” প্রয়াত রানি বেঁচে থাকলে মঙ্গলবার ১০০ বছর পূর্ণ হতো। বর্তমান রাজা বলেছেন, “তাকে সম্মান জানাতে আয়োজিত একাধিক রাজকীয় অনুষ্ঠানের আগে এই দিনটিকে তার ‘অনুপস্থিতি’ চিহ্নিত না করে, বরং তার ‘সুখময় জীবনের’ জন্য উদযাপন করা উচিত।” তিনি তার বার্তায় বলেন, “আমার ধারণা, আমরা এখন যে সময়ে বাস করছি তার অনেক কিছুই তাকে গভীরভাবে বিচলিত করতো, কিন্তু তার এই বিশ্বাস থেকে আমি সাহস পাই যে, ভালোর জয় সর্বদা হবে এবং একটি উজ্জ্বলতর ভোর দিগন্ত থেকে কখনওই দূরে নয়। কারণ, মাত্র ১৪ বছর বয়সে তরুণী রাজকুমারী এলিজাবেথ তার প্রথম জনসমক্ষে দেওয়া ভাষণে যেমনটা বলেছিলেন, আমরা প্রত্যেকেই ‘আগামীকালের বিশ্বকে আরও ভালো ও সুখী একটি জায়গা করে তুলতে’ নিজ নিজ ভূমিকা পালন করতে পারি। এই বিশ্বাসটি আমি আমার সমস্ত হৃদয় দিয়ে পোষণ করি।”

তবে রাজা নির্দিষ্ট করে বলেননি তিনি কোন সমস্যাগুলোর কথা উল্লেখ করছেন। সাজাপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে তার ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের উপাধি কেড়ে নেওয়ার পর এই বার্তাটি আসে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের পর বিশ্ব অর্থনীতি অনিশ্চয়তার মুখোমুখি, যা তেলের দামে আকস্মিক বৃদ্ধি ঘটিয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচলকে প্রভাবিত করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন পঞ্চম বছরে পদার্পণ করেছে। ৭০ বছর সার্বভৌম শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর এলিজাবেথ ২০২২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ৯৬ বছর বয়সে তার বালমোরালের বাসভবনে শান্তিপূর্ণভাবে মৃত্যুবরণ করেন।

এপ্রিলের শুরুতে বালমোরাল ক্যাসেলের লাইব্রেরিতে ধারণ করা ভিডিও শ্রদ্ধাঞ্জলিতে রাজা বলেন, “তার প্রায় এক শতাব্দীর জীবনকাল ছিল উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের এক যুগ, তবুও প্রতিটি দশক পেরিয়ে, প্রতিটি রূপান্তরের মধ্য দিয়েও তিনি অবিচল, দৃঢ় এবং তার সেবাপ্রাপ্ত জনগণের প্রতি সম্পূর্ণরূপে নিবেদিত ছিলেন। লক্ষ লক্ষ মানুষ তাকে জাতীয় তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তগুলোর জন্য স্মরণ করবে; আরও অনেকে স্মরণ করবে একটি ক্ষণস্থায়ী ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ, একটি হাসি, মনকে উৎফুল্ল করা একটি সদয় কথার জন্য… অথবা জীবনের শেষ মাসগুলোতে প্যাডিংটন বেয়ারের সাথে মার্মালেড স্যান্ডউইচ ভাগ করে খাওয়ার সময় তার চোখের সেই চমৎকার ঝিলিকের জন্য।” মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে থাকবে প্রয়াত রানির সাথে যুক্ত বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা ও সংগঠন, যেমন ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে, জকি ক্লাব এবং আর্মি বেনিভোলেন্ট ফান্ডের সাথে বাকিংহাম প্যালেসে রাজপরিবারের একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদান।

দিনের বেলায়, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাজপরিবারের সদস্যরা ব্রিটিশ মিউজিয়ামে যাবেন এবং সেখানে জাতীয় এই স্মৃতিস্তম্ভের নকশা তৈরির জন্য বিজয়ী স্থপতি নরম্যান ফস্টারের সাথে রানি এলিজাবেথ মেমোরিয়ালের একটি স্কেল মডেল দেখবেন।