বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ সরে গেলে ভারতের ক্ষতি কতটা

আসন্ন টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচের তিনটি কলকাতার ইডেন গার্ডেনে এবং একটি মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে আইপিএল থেকে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ইস্যুকে কেন্দ্র করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবি। নিরাপত্তা ইস্যুর কথা উল্লেখ করে বিসিবি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল আইসিসিকে জানিয়েছে, ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ দল পাঠানো হবে না। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো অন্য ভেন্যুতে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বোর্ড। এ বিষয়ে আইসিসি এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে ক্রিকেটবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজ জানিয়েছে, তাদের সূত্র অনুযায়ী ভারত থেকে বাংলাদেশের ম্যাচ সরে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বাস্তবে যদি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে বিশ্বকাপে ভারতের ক্ষতি কতটা হতে পারে, সেই হিসাব প্রকাশ করেছে দেশটির সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ম্যাচ সরে গেলে আইসিসির কেন্দ্রীয় রাজস্ব বা সম্প্রচার আয় বড় ধরনের প্রভাবের মুখে পড়বে না। তবে ম্যাচ ডে আয়, স্পনসরশিপ এবং স্থানীয় অ্যাক্টিভেশন ভ্যালুতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্বকাপের সি গ্রুপে থাকা বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ ইডেন গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওই তিন ম্যাচের পর নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল ওয়াংখেড়েতে। ইডেন গার্ডেনের দর্শক ধারণক্ষমতা প্রায় ৬৩ হাজার এবং ওয়াংখেড়ের ধারণক্ষমতা প্রায় ৩৩ হাজার। এ হিসাবে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচে মোট প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার টিকিট বিক্রির সম্ভাবনা ছিল। আইসিসির ঘোষিত তথ্য অনুযায়ী, ভারতের ম্যাচগুলোর টিকিটের দাম শুরু ১০০ রুপি থেকে। তবে অফিসিয়াল টিকিট ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, বাংলাদেশ ইতালি ম্যাচে সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ১০০ রুপি হলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশের ম্যাচে সেই দাম ছিল ৩০০ রুপি। মুম্বাইয়ে বাংলাদেশ নেপাল ম্যাচের টিকিটের দাম শুরু হয়েছে ২৫০ রুপি থেকে। হিন্দুস্থান টাইমস আরও জানিয়েছে, টিকিট বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থের সরাসরি মালিক বিসিসিআই নয়। আইসিসির টিকিট নীতিমালা অনুযায়ী, টিকিটের মালিকানা থাকে আইসিসি বিজনেস করপোরেশনের হাতে। বিসিসিআই টুর্নামেন্টের আয়োজক হিসেবে মাঠ পরিচালনা ও অপারেশনাল চুক্তির আওতায় নির্ধারিত অর্থ পায়। এই কারণে বিসিসিআইয়ের মূল ক্ষতিটা হবে ম্যাচ ডে ভিত্তিক উদ্বৃত্ত আয় থেকে। এর মধ্যে রয়েছে স্পনসরশিপ, স্থানীয় অ্যাক্টিভেশন, আতিথেয়তা এবং ভেন্যু কেন্দ্রিক অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম। এসব খাত থেকেই বড় অঙ্কের অর্থ হারাতে পারে ভারতের বোর্ড। হিন্দুস্থান টাইমসের বিশ্লেষণে আইসিসির সামনে তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে। প্রথমত, যদি বাংলাদেশের সব ম্যাচ ভারত থেকে একেবারে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং তার পরিবর্তে অন্য কোনো ম্যাচ ভারতে না দেওয়া হয়, তাহলে আনুমানিক ৭ থেকে ৩০ কোটি রুপি পর্যন্ত আয় ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এই হিসাব করা হয়েছে ৬০ থেকে ৯০ শতাংশ দর্শক উপস্থিতি এবং গড় টিকিট মূল্য ৫০০ থেকে ১৫০০ রুপি ধরে। দ্বিতীয় পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশের ম্যাচ সরিয়ে নেওয়া হলেও যদি তার বদলে অন্য ম্যাচ ভারতে আয়োজন করা হয়, তাহলে ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কমতে পারে। সে ক্ষেত্রে ক্ষতির অঙ্ক নির্ভর করবে বিকল্প হিসেবে কোন ম্যাচ দেওয়া হচ্ছে তার ওপর।
তৃতীয় পরিস্থিতিতে, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে সহ আয়োজক হিসেবে শুধু ভেন্যু ও তারিখ অদলবদল করা হলে এবং ভারতে মোট ম্যাচের সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকলে রাজস্বে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না। সেক্ষেত্রে ক্ষতি সীমাবদ্ধ থাকবে লজিস্টিকস ও নতুন করে সূচি সাজানোর অতিরিক্ত খরচে। সব মিলিয়ে আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে, বাংলাদেশের ম্যাচ সরে গেলে বিশ্বকাপে ভারতের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ঠিক কতটা হবে।