বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক, মরদেহ আনার প্রক্রিয়া শুরু বিজিবির

সদর উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের জহুরপুরটেক সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাবার পর পদ্মা নদীর ভারতীয় জলসীমায় বিএসএফর হাতে আটকের পর রবিউল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়েছে। বিএসএফ অসুস্থ হয়ে রবিউলের মৃত্যু হয়েছে দাবি করলেও স্থানীয়দের অভিযোগ বিএসএফর হাতেই তিনি নিহত হয়েছেন। রবিউল নারায়নপুরের সাতরশিয়া গ্রামের নেজাবুল হকের ছেলে। তিনি গরু চোরাচালানে জড়িত ছিলেন বলে স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, এ ঘটনায় গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জহুরপুরটেক সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানী কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ রবিউলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, মরদেহ ফেরৎ দেয়া হবে ময়নাতদন্তের পর।
সূত্রগুলো জানায়, গতকাল ভোররাতে ৩/৪ জন বাংলাদেশী গরু আনতে ভারতে যাবার পর অন্যরা পালিয়ে আসলেও নদী থেকে বিএসএফ এর হাতে আটক হন রবিউল। আটকের পর তাঁকে সংশ্লিষ্ট বিএসএফ ক্যাম্পে নেয়া হয়। এরপর মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর হাসপাতালে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
সংশ্লিস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, গতকাল সকাল থেকেই সীমান্তের ওপারে এক বাংলাদেশীর মৃত্যুর খবর পায় বিজিবি।
পরে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে রবিউলের বাবা জহুরপুরটেক ক্যাম্পে এসে মারা যাবার খবর দেন। তাঁর ছেলে কিছুটা অসুস্থ ছিল বলেও জানান তিনি। এরপর সন্ধ্যায় বিজিবির সাথে ৭১ বিএসএফর বয়রাঘাট ক্যাম্পের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ রবিউলকে বোট নিয়ে ধাওয়া করে আহত ও অসুস্থ অবস্থায় আটক এবং পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। মরদেহ ও মৃত্যু সংক্রান্ত কাগজপত্র পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তারপর সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান অধিনায়ক মুস্তাফিজ।