বিজিবির উদ্যোগে এবার বাংলাদেশী মায়ের মরদেহ দেখার সুযোগ পেলেন মেয়ে

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে এবার ভারতে বসবাসকারী মেয়েকে মায়ের মরদেহ দেখার সুযোগ করে দিল ৫৯ বিজিবির মহানন্দা ব্যাটালিয়ন। গতকাল রাতে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন জমিনপুর গ্রামের বাসিন্দা তারাবানু। আজ সকালে মায়ের মরদেহ ভারতে বিবাহসূত্রে অবস্থানকারী মেয়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে দেখার সুযোগ করে দেয়া হয়। মৃত তারাবানু চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার জমিনপুর গ্রামের মৃত শামসুল হকের স্ত্রী।
৫৯ বিজিবির অধিনায়ক গোলাম কিবরিয়া জানান, মায়ের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে ভারতের মালদা জেলার কালিয়া থানার দুশতদিঘী এলাকার বাসিন্দা মৃতার মেয়ে মোছা. মালেকা বেগমসহ অন্যান্য আত্মীয়স্বজন মরদেহ দেখার জন্য বিএসএফের মাধ্যমে বিজিবির কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানান। মানবিক বিবেচনায় ভারতীয় স্বজনদের মরদেহ দেখানোর জন্য মঙ্গলবার সকালে ১৫ মিনিটের জন্য কিরণগঞ্জ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ১৭৯/৩এস এর কাছে শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে মরদেহ দেখানো হয়।
এ সময় উভয় দেশের মৃত মহিলার স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়লে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মেয়ে মালেকা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, দুটি আলাদা দেশের কারণে এবং আইনগত জটিলতার কারণে মায়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে খুব কষ্টে ছিলেন। শেষবার মাকে একবার একনজর দেখার জন্য আকুতি ছিল। পরে বিএসএফের কাছে আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং বিজিবি সাড়া দেয়ায় তিনি তার মায়ের মুখটা শেষবারের মতো দেখতে পেলেন। শেষবারের মতো মরদেহ দেখে এ উদ্যোগের জন্য তিনি বিজিবি এবং বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে ৫৯ বিজিবি মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন, “বিজিবি যে কোনো মানবিক কাজে সর্বদা সহানুভূতিশীল।” এর আগেও বাংলাদেশীদের আবেদনে সাড়া দিয়ে স্বজনদের মরদেহ দেখার সুযোগ করে দেয়া হয়।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত মাসের প্রথম সপ্তাহে এবং চলতি মাসের ৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ভারতে মারা যাওয়া দুজনের মরদেহ বিজিবি-বিএসএফের সহায়তায় দেখানোর সুযোগ করে দেয়া হয় স্বজনদের। তবে এবারই প্রথম ভারতীয় স্বজনরা মরদেহ দেখার আবেদন করে বাংলাদেশের কাছে।