বাসায় গ্যাস সংকটে রান্নার বিকল্প উপায়

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আমরা সরকারি লাইনের বা এলপি গ্যাস ব্যবহার করে থাকি। বছরের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে শীত মৌসুমে এর ব্যবহার বেড়ে যায়। এই অবস্থায় অনেক সময় লাইনের গ্যাসের চাপ কমে যায়। মাঝেমধ্যেও একেবারেই থাকে না। কখনো কখনো বাসায় রাখা এলপি গ্যাস শেষ হয়ে যায়। তখন রান্না নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। তবে, এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। আজ আপনাদের জানাব, বাসায় গ্যাস না থাকলে বিকল্প উপায়ে কীভাবে রান্না করা যায়।
ইন্ডাকশন চুলা : গ্যাস না থাকলে সবচেয়ে আধুনিক ও দ্রুত সমাধান হলো ইলেকট্রিক বা ইন্ডাকশন চুলা। বিশেষ করে ইন্ডাকশন কুকার ২৫-৫০ শতাংশ দ্রুত সময়ে রান্না সম্পন্ন পারে। এটি সরাসরি পাতিলের তলায় তাপ দেয় বলে খাবার দ্রুত সেদ্ধ হয়। এতে আগুনের ঝুঁকিও কম। বাড়িতে ছোট শিশু থাকলে এটি তাদের জন্য নিরাপদ। তবে, মনে রাখতে হবে, ইন্ডাকশন চুলার জন্য ম্যাগনেটিক বা ধাতব তলাযুক্ত পাত্র ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।
রাইস কুকার : নাম রাইস কুকার হলেও এটি কার্যত একটি মাল্টি কুকার। গ্যাস না থাকলে ডিম সেদ্ধ, স্যুপ বানানো, নুডলস রান্না কিংবা সবজি ও মাছ ভাপানোর কাজে এটি দারুণ উপযোগী। একটু সৃজনশীল হলে রাইস কুকারেই বিরিয়ানি বা খিচুড়ি রান্না করা সম্ভব। তবে পরিমাপ ঠিক রাখা জরুরি।
এয়ার ফ্রায়ার ও ওভেন : এয়ার ফ্রায়ার ও ওভেনকেও বলা যায় ঝামেলাহীন ও স্বাস্থ্যকর সমাধান। এয়ার ফ্রায়ারে তেল ছাড়াই মাছ-মাংস ভাজা বা সবজি রোস্ট করা যায়। ওভেনে চিকেন রোস্ট, বিস্কুট কিংবা পাউরুটি সবই তৈরি করা সম্ভব। হবেও রেস্তোরাঁ মানের স্বাদ। যারা ডায়েট করেন, তাদের জন্য এগুলো গ্যাসের চুলার ভালো বিকল্প। অভ্যাস না থাকলে এই সংকটের সময়ই ওভেনে রান্না শেখার সুযোগ। গ্যাসের বদলে মাইক্রোওয়েভ ওভেন ব্যবহার করেও সবজি সেদ্ধ, ডিম পোচ কিংবা খাবার গরম করা যায় খুব দ্রুত। এ ছাড়া স্লো কুকারে দীর্ঘ সময় ধরে রান্না করা পদ, যেমন ডাল বা নেহারি, সহজেই তৈরি করা যায়। আর একদম জরুরি অবস্থায় বিদ্যুৎ না থাকলে বাইরে চারকোল গ্রিল বা কাঠ-কয়লার চুলায় বারবিকিউ স্টাইলে রান্না সেরে নেয়া যায়। যখন কোনো উপায়ই কাজ করে না, তখন ফলমূল, পাউরুটি-জ্যাম কিংবা সালাদের মতো খাবার বেছে নেয়াই ভালো। এগুলো পুষ্টিকর এবং রান্নার ঝামেলা নেই বললেই চলে। তবে ইলেকট্রিক যন্ত্র ব্যবহারে কিছু সতর্কতা জরুরি। বিদ্যুৎ-সংযোগ ত্রুটিপূর্ণ হলে আগুন বা শকের ঝুঁকি থাকে, তাই সঠিক ইনস্টলেশন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ দরকার। রান্নার সময় অমনোযোগী হলে ইলেকট্রিক যন্ত্র থেকেও আগুন লাগতে পারে, তাই ব্যবহার শেষে অবশ্যই সুইচ বন্ধ করতে হবে। গরম কয়েল বা পাত্র স্পর্শ করলে হাত পুড়ে যেতে পারে। সুইচ বন্ধ করার পরও কিছুক্ষণ এগুলো গরম থাকে এটি মনে রাখতে হবে। গ্যাস না থাকলেও রান্নাঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা জরুরি, যাতে ধোঁয়া ও বাষ্প বের হতে পারে। বাড়ির বিদ্যুৎ-সংযোগ ও তারের ক্ষমতার সঙ্গে মানানসই চুলা বা ওভেন কিনতে হবে। আর পোশাক বা কাপড় থেকে আগুন লাগার ঝুঁকি থাকায় সব সময় সতর্ক থাকা জরুরি।