নাচোলের সুমাইয়া ল্যাঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডের জাতীয় মঞ্চে

নিজের মেধা, অধ্যবসায় ও শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতায় সাধারণ পরিবারের সন্তান হয়েও অসাধারণ সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মোসা. সুমাইয়া আক্তার জুঁই। চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার সোনাইচন্ডী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষার্থী সম্প্রতি ল্যাঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে বিদ্যালয় ও এলাকার মুখ উজ্জ্বল করেছে।

সুমাইয়া আক্তার জুঁই বর্তমানে সোনাইচন্ডী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী এবং শ্রেণিতে রোল নম্বর ১। রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজে অনুষ্ঠিত ‘ল্যাঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড ২০২৬’-এর আঞ্চলিক পর্বে অংশ নিয়ে সে রাজশাহী অঞ্চলের ‘ক’ বিভাগে মনোনীত হয়। এর ফলে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পর্যায়ের মূল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে সে।

ল্যাঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড মূলত ভাষাকে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উপস্থাপন করে শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণী ও ভাষাগত দক্ষতা বিকাশের একটি আন্তর্জাতিক মানের প্ল্যাটফর্ম। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট (আমাই) মাতৃভাষা চর্চা ও ভাষাবিজ্ঞানের প্রসারে নিয়মিতভাবে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে।

জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় সুমাইয়া তার তীক্ষ্ণ চিন্তাশক্তি ও বিশ্লেষণধর্মী দক্ষতার মাধ্যমে কঠিন প্রশ্নসমূহ সফলভাবে মোকাবিলা করে ঢাকার পর্বে উত্তরণ নিশ্চিত করে। তার এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং বিদ্যালয় ও পুরো নাচোল উপজেলার জন্য এক গর্বের অর্জন।

সুমাইয়ার পরিবার সাধারণ হলেও তার স্বপ্ন অনেক বড়। সে ভবিষ্যতে একজন চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চায়। নিয়মিত পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি নিজের লক্ষ্য অর্জনে সে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

সোনাইচন্ডী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম সুমাইয়ার সাফল্যে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন,

“সুমাইয়া অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী একজন শিক্ষার্থী। তার স্বপ্ন পূরণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সবসময় পাশে আছে। আমরা আশাবাদী, ঢাকার জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায়ও সে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখবে।”

আগামী ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য মূল প্রতিযোগিতায় সুমাইয়ার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, সহপাঠী ও এলাকাবাসী তার জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। সবার প্রত্যাশা—নিজের মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সুমাইয়া জাতীয় পর্যায়েও সাফল্য অর্জন করবে এবং ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।