দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষের দোয়ায় ভালো আছি -তানিয়া বৃষ্টি
এই প্রজন্মের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। গতকাল ছিল তার জন্মদিন। তবে এবারের জন্মদিনটি তার জন্য অন্য সব বছরের চেয়ে আলাদা। ব্রেন টিউমার অপারেশনের পর বর্তমানে তিনি উত্তরার বাসায় পূর্ণ বিশ্রামে আছেন। অসুস্থতা কাটিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন এই শিল্পী। সম্প্রতি হাসপাতালে সেলাই কাটার পর চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে তার হাস্যোজ্জ্বল ছবি ভক্তদের মনে স্বস্তি ফিরিয়েছে। জীবন ও ক্যারিয়ারের এই কঠিন সময় এবং আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- তারেক আনন্দ
কেমন আছেন এখন?
আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর অশেষ রহমতে, দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষের দোয়ায় এবং অগণিত শুভেচ্ছায় এই মুহূর্তে ভালো আছি। ডাক্তারের পরামর্শে বাসায় পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হচ্ছে। অপারেশনের ধকল কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। সবার ভালোবাসা আমাকে দ্রুত সুস্থ হতে শক্তি দিচ্ছে।
অসুস্থতার খবর শোনার পর সহকর্মীদের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?
আমার অনেক সহকর্মী ও শুভাকাক্সক্ষী বিভিন্ন মাধ্যমে নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছেন। শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে সবাইকে হয়তো উত্তর দিতে পারছি না, কিন্তু তাদের ভালোবাসা ও মমতা আমি প্রতি মুহূর্তে অনুভব করছি। সবাই আমাকে এতটা ভালোবাসেন, তা এই বিপদে না পড়লে হয়তো এভাবে জানা হতো না। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন যেন দ্রুত কর্মক্ষেত্রে ফিরতে পারি।
শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝে হঠাৎ এই বিরতিকে কীভাবে দেখছেন?
অভিনয় আমার প্রাণ। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আমি মনে-প্রাণে অভিনয়কে ভালোবেসেছি। ঈদুল ফিতরের বেশ কিছু নাটকের কাজ হাতে ছিল, কিছু গুছিয়েও এনেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থতা সবকিছু থামিয়ে দিল। তবে আমি বিশ্বাস করি, সুস্থ হয়ে ফিরলে আবারও দর্শকদের ভালো কিছু উপহার দিতে পারব। বিরতিটা অনিচ্ছাকৃত হলেও এটি আমাকে জীবনের নতুন মানে শিখিয়েছে।
সাম্প্রতিক কাজ নিয়ে দর্শকদের ভালো সাড়া পাচ্ছিলেন…
হ্যাঁ, সাগর জাহানের ‘চোখটা আমাকে দাও’ ও ‘ছোবল’ নাটকে অভিনয়ের জন্য প্রচুর প্রশংসা পেয়েছি। এ ছাড়া রায়হান খানের ‘ট্রাইবুনাল’ সিনেমাটিতে কাজ করাটাও ছিল দারুণ অভিজ্ঞতা। দর্শক যখন কাজ পছন্দ করেন, তখন শিল্পী হিসেবে দায়বদ্ধতা বেড়ে যায়। এই ভালোবাসাটাই আমাকে দ্রুত সেটে ফেরার জন্য তাড়না দিচ্ছে।
এক যুগের ক্যারিয়ার নিয়ে আপনার উপলব্ধি কী?
একটি রিয়েলিটি শোর মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয়েছিল। এরপর বিজ্ঞাপন ও নাটকের দীর্ঘ পথচলা। আমি সব সময় চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করতে চেয়েছি। আজ পেছনে ফিরে তাকালে মনে হয়, দর্শকদের এই অকৃত্রিম ভালোবাসাই আমার সার্থকতা। জন্মদিনে (গতকাল) আমার একটাই চাওয়া, পুরোপুরি সুস্থ হয়ে আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো।