দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে নতুন প্রজাতির ক্যাটফিশ আবিষ্কার

দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের পার্বত্য এলাকায় নতুন এক প্রজাতির মাছ আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। চীনের শিজাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের জায়ুল কাউন্টিতে এই মাছের সন্ধান পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার হিমালয় অঞ্চলের মাছের বৈচিত্র্য ও বিবর্তন (ধীরে ধীরে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া) বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নতুন এই মাছের নাম দেওয়া হয়েছে গ্ল্যারিডোগ্লানিস ভেরুকিলোবা (Glaridoglanis verruciloba sp. nov)। এটি এক ধরনের ক্যাটফিশ, যা দেখতে অন্য মাছের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এর নিচের ঠোঁট বেশ বড় এবং ঠোঁটের মাঝামাঝি অংশে চার থেকে সাতটি গুটি বা খাঁজের মতো অংশ রয়েছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলোর মাধ্যমেই মাছটিকে অন্য প্রজাতি থেকে আলাদা করা গেছে।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে শিজাং অঞ্চলের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে অবস্থিত শিয়াও নদী থেকে প্রথম এই মাছ সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় অংশ নেয় শিজাং ইনস্টিটিউট অব প্ল্যাটো বায়োলজি, শিজাং ন্যাচারাল সায়েন্স মিউজিয়াম, জাওঝুয়াং বিশ্ববিদ্যালয় এবং চীনা একাডেমি অব সায়েন্সেসের ইনস্টিটিউট অব হাইড্রোবায়োলজির একটি যৌথ গবেষক দল। শুরুতে মাছটিকে ভুল করে গ্ল্যারিডোগ্লানিস অ্যান্ডারসোনি নামে পরিচিত অন্য একটি প্রজাতি মনে করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে মাছটির দেহগঠন বিশ্লেষণ এবং জিনগত পরীক্ষা (মলিকুলার ফাইলোজেনেটিক বিশ্লেষণ—জিনের মাধ্যমে আত্মীয়তা নির্ধারণ) করার পর গবেষকরা নিশ্চিত হন, এটি আগে অজানা একটি নতুন প্রজাতি। এই গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ZooKeys-এ প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি গ্ল্যারিডোগ্লানিস গণের তৃতীয় স্বীকৃত প্রজাতি। এই আবিষ্কার হিমালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের মিঠাপানির মাছের উৎপত্তি, বৈচিত্র্য ও পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া বুঝতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেবে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভবিষ্যৎ গবেষণায় এই তথ্য বিশেষভাবে সহায়ক হবে।