থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার যুদ্ধবিরতিতে জোরদারে ৪৫ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতি জোরদার করতে প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ কাতার ভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। যুদ্ধবিরতি জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পূর্ব এশিয়া বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা মাইকেল ডেসোমব্রে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া সফর করছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতিকে একটি সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। ডেসোমব্রে জানান, যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশকে মাদক পাচার ও সাইবার প্রতারণা দমনে সহায়তার জন্য ২০ মিলিয়ন ডলার দেবে। কম্বোডিয়ায় এসব বিষয় বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে বাস্তুচ্যুত মানুষদের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র ১৫ মিলিয়ন ডলার দেবে। এছাড়া মাইন অপসারণ কার্যক্রমে দেওয়া হবে আরও ১০ মিলিয়ন ডলার।ডেসোমব্রে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড সরকারকে সহযোগিতা প্রদান চালিয়ে যাবে, যাতে কুয়ালালামপুর শান্তি চুক্তি বাস্তবায়িত হয় এবং জনগণ ও অঞ্চলের জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।

অক্টোবর মাসে ট্রাম্পের উপস্থিতিতে মালয়েশিয়ায় স্বাক্ষরিত চুক্তির কথা উল্লেখ করেন তিনি। ট্রাম্প তখন আসিয়ান আঞ্চলিক সংস্থার নেতৃত্ব দেন।

তিন সপ্তাহের লড়াইয়ের পর ২৭ ডিসেম্বর দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়। তবে গত মাসে আবার বড় ধরনের এক বিরোধ দেখা দেয়। কম্বোডিয়ার গোলাবর্ষণে থাই সৈন্য আহত হওয়ার এক ঘটনায় ব্যাংকক কম্বোডিয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করার অভিযোগ করে। তবে কম্বোডিয়া স্থানীয় থাইল্যান্ড বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানায় ঘটনাটি অপারেশনাল ভুলের কারণে ঘটেছে। কম্বোডিয়া থাইল্যান্ডকে আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন সীমান্তের কয়েকটি এলাকা থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করে। এগুলো নম পেন নিজেদের বলে দাবি করেছে।

উপনিবেশিক আমলের সীমান্ত নির্ধারণ সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে নতুনভাবে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দু’দেশের মধ্যে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। ট্রাম্প এই সংঘর্ষকে তার সমাধান করা একাধিক যুদ্ধের মধ্যে একটি বলে উল্লেখ করেন। এমন কি তিনি জোর দিয়েছেন এসব যুদ্ধের অবসানে তাঁর ভূমিকা নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য।