থাইল্যান্ডে ভূমজাইথাইয়ের জয়,  সংবিধানের পক্ষে রায়

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে বিজয় অর্জন করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চানভিরাকুল। তার নেতৃত্বাধীন ভূমজাইথাই পার্টির এই বিজয়ে দেশটিতে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে তুলনামূলক স্থিতিশীল সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

নির্বাচনে জয়ের পর আনুতিন বলেন, আজকের এই জয় কেবল ভূমজাইথাই পার্টির নয়, আপনি আমাদের ভোট দিন বা না দিন এটি সব থাই নাগরিকের জয়। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে থাই জনগণের সেবা করতে চাই। প্রায় ৯৫ শতাংশ ভোটকেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক হিসাবে দেখা যায়, ভূমজাইথাই পার্টি পেয়েছে প্রায় ১৯২টি আসন। প্রগতিশীল পিপলস পার্টি পেয়েছে ১১৭টি এবং একসময় প্রভাবশালী পেউ থাই পার্টি পেয়েছে ৭৪টি আসন। রয়টার্সের হিসাবে, বাকি কয়েকটি দল মিলে ৫০০ আসনের সংসদে মোট ১১৭টি আসন পেয়েছে।

এর আগে, গত ডিসেম্বরে সংসদ ভেঙে দেয়ার সময় আনুতিন বলেছিলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর দ্বন্দ্ব ও অকার্যকর পরিস্থিতির কারণে সংখ্যালঘু সরকার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

ভূমজাইথাই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও নির্বাচনী ফল বলছে, দলটি এখন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এমনটাই মনে করেন ব্যাংককভিত্তিক থাইল্যান্ড ফিউচার থিঙ্ক-ট্যাংকের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী নাপোন জাতুস্রিপিতাক। এসব প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে ভোক্তাদের জন্য ভর্তুকি কর্মসূচি চালু এবং সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত কম্বোডিয়ার সঙ্গে করা একটি চুক্তি বাতিল।

এদিকে, রবিবার সংবিধান সংশোধন প্রশ্নে গণভোটও হয়েছে। নির্বাচনের পাশাপাশি হওয়া এই গণভোটে ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ২০১৭ সালে সামরিক বাহিনীর প্রণীত সংবিধানের পরিবর্তে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা হবে কি না। সমালোচকদের মতে, ওই সংবিধান অনির্বাচিত ও অগণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে পরোক্ষভাবে নির্বাচিত শক্তিশালী সিনেটের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছিল।

নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক গণনায় দেখা গেছে, প্রায় দুই-এক ব্যবধানে ভোটাররা নতুন সংবিধানের পক্ষে মত দিয়েছেন। ১৯৩২ সালে পূর্ণ রাজতন্ত্রের অবসানের পর থেকে থাইল্যান্ডে এখন পর্যন্ত ২০টি সংবিধান প্রণীত হয়েছে, যার বেশির ভাগই সামরিক অভ্যুত্থানের পর এসেছে। নতুন সরকার ও সংসদ সদস্যরা সংসদে সংশোধনী প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন। তবে নতুন সংবিধান চূড়ান্তভাবে অনুমোদনের জন্য আরও দুটি গণভোট প্রয়োজন হবে।