তৃষার কারণে ভাঙছে বিজয়ের সংসার?

ভারতের দক্ষিণী সিনেমার তারকা অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয়। ব্যক্তিগত জীবনে সংগীতা স্বর্ণালিঙ্গমের সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন। কয়েক যুগ পর পরকীয়া প্রেমের অভিযোগে ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজয়ের স্ত্রী। এরপর থেকে বিজয়ের পরকীয়া প্রেমিকাকে নিয়ে চর্চা চলছে।

বিজয়ের পরকীয়া প্রেমিকা কে তা পরিষ্কারভাবে বলেননি সংগীতা। বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনে যেভাবে বর্ণনা করেছেন, তা দেখে নেটিজেনরা দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়েছেন। তাদের ভাষ্য—বিজয়ের পরকীয়া প্রেমিকা অন্য কেউ নন, দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণান। কিন্তু সত্যি কি তৃষার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়েছেন বিজয়? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে নেটিজেনদের হিসাবনিকাশ একনজরে দেখে নেওয়া যাক—

বিজয়ের স্ত্রীর কী অভিযোগ?
বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনে বিজয়ের স্ত্রী সংগীতা দাবি করেছেন, একজন অভিনেত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন বিজয়। ২০২১ সালে বিষয়টি তিনি জানতে পারেন, এখনো সেই সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছেন বিজয়। সংগীতা স্বর্ণালিঙ্গম দাবি করেছেন, সেই অভিনেত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টানার আশ্বাস দিয়েছিলেন বিজয়। তবে তা করেননি।

ওই অভিনেত্রীর সঙ্গে বিদেশ সফর করেন বিজয়। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমেও দুজনের ছবি প্রকাশ করেন। বিষয়টি নিয়ে দুই সন্তান ও তিনি অপমান বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন সংগীতা। কেবল তাই নয়, সংগীতাকে সামাজিক ও পেশাগত জীবন থেকে দূরে রাখা হয়েছে, এমনকি আর্থিক ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতাতেও বিজয় হস্তক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ সংগীতার।

বিজয়ের প্রাক্তন প্রেমিকা তৃষা
বিজয়ের সঙ্গে পুনরায় তৃষার নাম জড়ানোর অন্যতম কারণ হলো—তারা প্রাক্তন প্রেমিক-প্রেমিকা। পর্দার বাইরে বাস্তব জীবনে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন তৃষা-বিজয়। এটি ২০০৫ সালের ঘটনা। ‘গিলি’ সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে বলে গুঞ্জন উঠেছিল। বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা কম হয়নি। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর স্ত্রী সংগীতার সঙ্গে বিজয়ের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে এ সম্পর্ক আর আগায়নি এবং সংসারে মন দেন বিজয়। তবে এ ঘটনার পর অর্থাৎ ২০০৮ সালেও ‘কুরুভি’ সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেন তারা। এরপর তাদের আর কোনো সিনেমায় একসঙ্গে দেখা যায়নি।

তৃষা-বিজয়কে নিয়ে রাজনীতিবিদের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য
কিছুদিন আগে তৃষা-বিজয়কে জড়িয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন তামিলনাড়ু রাজ্যের বিজেপির সভাপতি নাইনন নাগেদ্রন। অভিনেতা-রাজনীতিবিদ থালাপাতি বিজয়কে কটাক্ষ করে বলেন, “বিজয় খুবই সরল, রাজনীতি বোঝেন না। প্রথমে তাকে নিজের খোলস থেকে বের হতে হবে। তামিলনাড়ুর তৃণমূল স্তরের পরিস্থিতি বুঝতে হলে তাকে তৃষার বাড়ি থেকেও বের হতে হবে।”

প্রেমিকার সঙ্গে বিজয়ের ছবি নিয়ে প্রশ্ন
সংগীতা বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন পত্রে বলেছেন, পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে তোলা বিজয়ের ছবিও সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রকাশ করা হচ্ছে। তার এই বক্তব্যের সঙ্গে নেটিজেনরা তৃষা নামে একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা ছবিকে মিলিয়েছেন। সেই পোস্টে বলা হয়েছে—“আমি খুবই অধিকারপ্রিয়। আমি তোমাকে আর কারো সঙ্গে ভাগ করে নেব না। তুমি শুধু আমার।” নেটিজেনদের অনেকে মনে করেন তৃষার এই বার্তা বিজয়ের স্ত্রী সংগীতাকে খোঁচা দেওয়ার জন্য লেখা। তবে এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যে অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটি করা হয়েছে, সেটি তৃষার অফিসিয়াল কোনো অ্যাকাউন্ট নয়। ফলে সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

তৃষা-বিজয় কী বলছেন?

সংগীতার বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিজয়কে নিয়ে চর্চা চলছে, এ চর্চায় যুক্ত হয়েছেন তৃষা কৃষ্ণানও। তবে এ নিয়ে এখনো টুঁ-শব্দ করেননি এই দুই তারকা।