চিত্রাঙ্গদার পঞ্চাশেও উছলে পড়ছে তারুণ্য, কোন মন্ত্রে চিরযৌবনা?

বয়স যে একটি সংখ্যামাত্র, তা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। আর বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে ৫০ পেরোনো অভিনেত্রীর সংখ্যা নেহাত কম নয়। অভিনেত্রী মালাইকা অরোরা, কাজল, কারিশমা কাপুর, সুস্মিতা সেন, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন প্রত্যেকেরই বয়স ৫০ থেকে ৫২ বছরের মধ্যে। এ তালিকায় নতুন সংযোজন অভিনেত্রী চিত্রাঙ্গদা সিং। বয়স বাড়লে তার প্রভাব চেহারায় এসে পড়বেই। কিন্তু সেই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিনের পর দিন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠছেন অভিনেত্রী চিত্রাঙ্গদা সিং। নামিদামি প্রসাধনী কিংবা বিদেশি ফলের গুণে প্রভাব নয়, অভিনেত্রী জানিয়েছেন তার ছিপছিপে গড়ন ও উজ্জ্বল ত্বকের রহস্য লুকিয়ে আছে প্রতিদিনের কিছু অভ্যাসে। বয়সের দিক থেকে খাতা-কলমে হাফসেঞ্চুরি ছুঁয়ে ফেলেছেন চিত্রাঙ্গদা। এ সময়ে নারীরা মেনোপজ অর্থাৎ রজোনিবৃত্তির মধ্য দিয়ে যান। ফলে শরীর ও মনে নানা ধরনের পরিবর্তন আসে। হরমোনের তারতম্যে মনমেজাজ বিগড়ে যায় এবং ত্বক নিষ্প্রাণ হতে শুরু করে। কোনো কাজেই এনার্জি পাওয়া যায় না। তাই এ সময় থেকেই শরীর ও মনের বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে চিত্রাঙ্গদা জানিয়েছেন, দিনের শুরুতে তিনি এমন কিছু খাবার ও পানীয় খান, যেগুলো অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ।
দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এ নিয়ম মেনে চলেন। ‘রাত আকেলি হ্যায়: দ্য বনশল মার্ডার্স’ -এর অভিনেত্রী বলেন, দিনের শুরুতে আমি এক কাপ উষ্ণ পানি খাই। কাপটি কিন্তু অনেক বড়। তারপর আগের দিন রাত থেকে ভিজিয়ে রাখা জিরা ও জোয়ানের পানি খাই। পানিটা সকালে একবার ফুটিয়ে নিই। এর মধ্যে আমি কয়েক ফোঁটা লেবুর রসও দিই। এর সঙ্গে আমার ডায়েটে থাকে কয়েকটি ভেজানো কাঠবাদাম। মিনিট দশেক পর আমি ফল খাই। মূলত কিউই ও পাকা পেঁপে থাকে বাটিতে। এ বিষয়ে পুষ্টিবিদরা বলছেন, চিত্রাঙ্গদা যে বয়সকালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, সেই সময়ে শরীর ও মনের বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। অক্সিডেটিভ স্ট্রেসও বাড়তে থাকে। তাই প্রতিদিনের ডায়েটে এমন খাবার ও পানীয় রাখতে হবে, যেগুলো অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ। যে ধরনের খাবার ও পানীয় তিনি খেয়ে থাকেন, সেগুলো অন্ত্রের জন্য ভালো। হজমসংক্রান্ত সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে গরম পানি কিংবা জিরা-জোয়ানের পানি দুই-ই ভালো। শরীরে ফ্লুইডের সমতা বজায় রাখতেও সহায়তা করে। পেটফাঁপার সমস্যা নিরাময় করে। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বিপাকহার বা মেটাবলিক রেট কমতে থাকে। এ পানীয়গুলো তা বাড়িয়ে তুলতেও সাহায্য করে। এর সঙ্গে পাতিলেবুর রস যোগ করলে ভিটামিন সির ঘাটতিও পূরণ হয়। বাকি রইল ফল। কিউই ও পাকা পেঁপে দুটি ফলেই যথেষ্ট পরিমাণে ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও রয়েছে।