চার-ছক্কার বৃষ্টিতে রাজশাহীর নায়ক ওয়াসিম, নোয়াখালীর ষষ্ঠ হার

হারতে হারতে ক্লান্ত নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে আরো একটি পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ দিল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নোয়াখালীকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে রাজশাহী। তাদের জয়ের নায়ক সংযুক্ত আরব আমিরাতের মোহাম্মদ ওয়াসিম। চার-ছক্কার বৃষ্টি নামিয়ে দারুণ ব্যাটিং করেছেন ওয়াসিম। ৩৫ বলে ৪টি করে চার ও ছক্কায় ৬০ রান করেন তিনি। বিপিএলে এর আগে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে ১ ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। রান করেছিলেন ১। আজ রাজশাহীর জার্সিতে প্রথমবার মাঠে নেমে বাজিমাত করলেন ওয়াসিম।
তার বিস্ফোরক ইনিংসে রাজশাহী ৬ বল হাতে রেখে নোয়াখালীর দেওয়া ১৫২ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে অতি সহজে। ৫ ম্যাচে এটি রাজশাহীর চতুর্থ জয়। চট্টগ্রাম ও রংপুরের মতো তাদেরও পয়েন্ট ৮। টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে নোয়াখালীর ইনিংস এগিয়েছে ধীর গতিতে। পাওয়ার প্লে’তে দুই ওপেনার শাহাদাত ও সৌম্য ৪১ রান জমা করতে পারেন। তবে আশার বিষয় এদিন শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়েনি দলটি। এর আগে ওপেনিংয়ে তাদের সর্বোচ্চ রান হয়েছিল ২৪। সৌম্য ও শাহাদাত ৭.৫ ওভারে জমা করে ৫৭ রান।
শাহাদাতকে (৩০) আউট করে রিপন মন্ডল ভাঙেন এই জুটি। তিনে নামা মাজ সাদাকাত সুবিধা করতে পারেননি। ১৩ বলে ৭ রান করে শান্তর শিকার হন। আরেক প্রান্তে সৌম্য এগিয়ে যান নিজের মতো করে। আগ্রাসী ব্যাটিং করতে পারেননি। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী দলের দাবি মিটিয়েছেন। মোহাম্মদ নবীর সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৪০ রানের জুটি গড়ার পথে সৌম্য তুলে নেন টুর্নামেন্টের প্রথম ফিফটি। ৪০ বলে মাইলফলকে পৌঁছান তিনি। এজন্য ৬ চার ও ২টি ছক্কা হাঁকান। ফিফটির পর আরেকটি ছয় আসে তার ব্যাট থেকে। কিন্তু থেমে যান ওই ছক্কাতেই। হাসান মুরাদের শর্ট বল উড়াতে গিয়ে মিড উইকেটে ধরা পড়েন সৌম্য। ৪৩ বলে ৫৯ রানে আউট হন তিনি। সেখান থেকে নবীর ৩৫ এবং মাহিদুলের ১০ রানে নোয়াখালী বলার মতো ১৫১ রানের পুঁজি পায়। রাজশাহীর হয়ে বল হাতে ২৭ রানে ২ উইকেট নেন রিপন মন্ডল। ১টি করে উইকেট পেয়েছেন বিনুরা ফার্নান্দো, শান্ত ও হাসান। জবাব দিতে নেমে ৫ ওভারে ৪৭ রান তুলে নেয় রাজশাহী। পেসার মেহেদী হাসান রানা তানজিদকে ফিরিয়ে ভাঙেন জুটি। কিন্তু আরেক প্রান্তে ওয়াসিম অনায়েস ব্যাটিংয়ে রান তুলতে থাকেন। নোয়াখালীর বোলাররা তার সামনে খুব কার্যকর হতে পারেননি। চার-ছক্কার স্রোত ছিল তার ব্যাটে। ২৯ বলে ফিফটি তুলে নিতে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কা হাঁকান ডানহাতি হার্ডহিটার। মাইলফলক ছোঁয়ার পর এগিয়ে যায় ব্যাট। কিন্তু তার ইনিংসটি কাটা পড়ে রান আউটে। দৌড়ে ২ রান নেওয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হন। অবশ্য প্রান্ত বদলের সময় বোলারের সঙ্গে তার প্রায় সংঘর্ষ হয়ে যাচ্ছিল। তাতে নষ্ট হয় তার ছন্দ। ওয়াসিম ফেরার পর মুশফিকুর রহিমের ১৯ ও রায়ান বার্লের অপরাজিত ১৯ রানে রাজশাহীর জয় চলে আসে অতি সহজে।
বোলিংয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রানা চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পর্যাপ্ত পুঁজি না থাকায় তার একার লড়াই বৃথা যায়।