গিনির প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন সামরিক নেতা ডুম্বুয়া

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনির প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন ২০২১ সালে দেশটির সামরিক অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী জেনারেল মামাদি ডুম্বুয়া। খবর আল-জাজিরার। গত মাসের নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষিত হওয়ার পর শনিবার (১৭ জানুয়ারি) হাজার হাজার সমর্থক এবং বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রপ্রধানের উপস্থিতিতে এই শপথ অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। চার বছর আগে প্রেসিডেন্ট আলফা কন্ডেকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ডুম্বুয়ার অধীনে এটিই ছিল দেশটিতে প্রথম নির্বাচন। ক্ষমতা দখলের পর শুরুতে নির্বাচনে না দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও, শেষ পর্যন্ত ডুম্বুয়া আটজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে তার প্রধান বিরোধীরা নির্বাসিত থাকায় বিরোধী দলগুলো এই নির্বাচন বয়কটের ডাক দিয়েছিল। পরবর্তীতে গিনির সুপ্রিম কোর্ট জানায় যে, ডুম্বুয়া ৮৬.৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। রাজধানী কোনাক্রির উপকণ্ঠে জেনারেল ল্যানসানা কন্টে স্টেডিয়ামে কয়েক ঘণ্টা ব্যাপী এই অনুষ্ঠানে প্রথাগত পোশাক পরিহিত ডুম্বুয়া সংবিধান রক্ষার শপথ নেন। উল্লেখ্য, তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে সম্প্রতি দেশটির সংবিধানে পরিবর্তন আনা হয়। শপথ বাক্য পাঠকালে তিনি বলেন, “আমি ঈশ্বর এবং গিনির জনগণের সামনে আমার সম্মানের শপথ নিচ্ছি যে, আমি সংবিধান, আইন, বিধিবিধান এবং বিচারিক সিদ্ধান্তগুলো অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে সম্মান ও কার্যকর করব। অনুষ্ঠানে রুয়ান্ডা, গাম্বিয়া এবং সেনেগালসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা যোগ দেন। এছাড়া চীন, নাইজেরিয়া, ঘানা এবং নিরক্ষীয় গিনির ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। ২০২০ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী দেশ মালির ক্ষমতায় আসা জেনারেল আসিনি গোইতাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেপ্টেম্বরে গিনির নাগরিকরা এক নতুন সংবিধানের অনুমোদন দেয়, যা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেয়। এই সংবিধানে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে সাত বছর করা হয়েছে এবং দুই মেয়াদের সীমাবদ্ধতা রাখা হয়েছে। ডুম্বুয়ার দাবি, আলফা কন্ডের শাসনামলে ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার কারণে সামরিক অভ্যুত্থান অনিবার্য ছিল। ১৯৫৮ সালে গিনি স্বাধীনতা লাভের পর ২০১০ সালে আলফা কন্ডে দেশটির ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। তিনি ২০১৫ এবং ২০২০ সালেও পুনরায় নির্বাচিত হন। তবে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এরপর জেনারেল মামাদি ডুম্বুয়ার সামরিক সরকার গত চার বছর ক্ষমতায় থাকাকালীন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বিলুপ্ত করে ও সংবিধান স্থগিত করে। এই সময়ে তারা পশ্চিম আফ্রিকার আঞ্চলিক জোট ইকোওয়াস-এর সঙ্গে বেসামরিক গণতান্ত্রিক সরকারে ফেরার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল। তবে ডুম্বুয়ার বিরুদ্ধে নাগরিক স্বাধীনতা খর্ব করা, বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগও রয়েছে। গিনির প্রায় ৫২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করে। ডুম্বুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি দেশটির বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষ করে বিশ্বের বৃহত্তম বক্সাইট ভাণ্ডার এবং অব্যবহৃত আকরিক লোহা উত্তোলন করে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবেন।