ক্ষমতায় এসেই কঠোর সিদ্ধান্ত নেপালে, শুরু হচ্ছে সম্পদ যাচাই

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে নেপাল। ক্ষমতায় এসেই সাবেক ও বর্তমান রাজনীতিবিদ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব খতিয়ে দেখতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বালেন্দ্র শাহ সরকার। হিমালয় পাদদেশের দেশটিতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত প্যানেল গঠন করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে বড় জয় পায় রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি আরএসপি। এরপর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন বালেন্দ্র শাহ। নির্বাচনের আগে থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলেন তিনি।
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কারণে জনপ্রিয়তা পান বালেন্দ্র শাহ। গত বছরের সেপ্টেম্বরের জেন জি আন্দোলনের সময়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, যা তাকে জাতীয় রাজনীতিতে আরও দৃশ্যমান করে তোলে।
মন্ত্রিসভার মুখপাত্র সস্মিত পোখরেল জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রাজেন্দ্র কুমার ভাণ্ডারির নেতৃত্বে গঠিত এই প্যানেল প্রমাণের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করবে। সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো প্যানেলের সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে বলেও জানান তিনি। তবে প্যানেলটি কতদিনে তদন্ত শেষ করবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০০৮ সালে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হওয়ার পর থেকে যারা গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে ছিলেন, এমন শত শত রাজনীতিবিদ ও কর্মকর্তা এই তদন্তের আওতায় আসতে পারেন।
চার বছরের পুরোনো দল আরএসপি নির্বাচনের সময় দুর্নীতি দমনকে প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে সামনে এনেছিল। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে প্রভাবশালী দলগুলোকে পেছনে ফেলে তাদের এই জয়কে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।