কালবৈশাখির ছোবল, জেলায় ৫ হাজার হেক্টর জমির আম আক্রান্ত

চাঁপাইনবাবঞ্জে আঘাত হেনেছে মৌসুমের প্রথম কাল বৈশাখী ঝড়। গতকাল দিবাগত রাত ১২টার দিক থেকে প্রায় ঘন্টাব্যাপী মাঝারি মাত্রার এই ঝড় বয়ে যায় জেলাজুড়ে। সাথে ছিল বজ্রসহ বৃষ্টি। সামান্য শিলাবৃষ্টিও হয় এ সময়। ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায় বাড়ি,ঘর ও বিভিন্ন স্থাপণা। উপড়ে যায় আমসহ বহু গাছ। উড়ে যায়  অনেক ঘরের চাল। বিঘিœত হয় বিদ্যুৎ সরবরাহ। ঝরে যায় বড় হয়ে উঠতে থাকা বিপুল পরিমান আম।
আজ  কৃষি বিভাগ সূত্র প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের পর জানায়, ঝড়ে সবথেকে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে জেলার প্রধান অর্থকরী আম ফসল। আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ৯ শত হেক্টর জমির আম। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে অল্প জমির ইরি-বেরো ধান,সব্জি ও ভূট্টা। বিগত ২৪ ঘন্টায় জেলায় বৃষ্টিপাত হয়েছে গড়ে ১৭.৪ মি.মি।
জেলা কৃষ্টি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াসিন আলী বলেন, ঝড়ে সবথেকে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে জেলার প্রধান আম উৎপাদনকারী অঞ্চল শিবগঞ্জ উপজেলা। ঝড় এখানে তীব্র ছিল। শিলাপাতও বেশি  হয়েছে এই উপজেলায়। এরপরই আক্রান্ত সদর উপজেলা। তবে গোমস্তাপুর,নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলায় ঝড়ের  তীব্রতা ছিল অপেক্ষাকৃত কম। তিনি বলেন, বৃষ্টির পানির খুব প্রয়োজন ছিল। যা বৃষ্টি হয়েছে, তা আম,ধান সহ সকল ফসলের জন্য উপকার বয়ে আনবে। ছুড়ান্ত ক্ষতি নিরুপণের কাজ ছলছে বলেও জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।
সদর উপজেলার বিদিরপুর গ্রামের আম চাষী বিষু মিয়া(৬০) বলেন,  চলমান  তীব্র গরম ও ক্ষরার মধ্যে টানা বেশ কয়েকদিন বৃষ্টি না হওয়ায় আমের বোঁটা দূর্বল হয়ে পড়েছিল। এমনিতেই ঝরে যাচ্ছিল গুটি আম। এ অবস্থায় ঝড়ে প্রচুর আম পড়ে গেছে। আমচাষীরা এ মৌসুমে আমের ফলন নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।
উল্লেখ্য,গত ৭ এপ্রিল জেলায়  টানা প্রায় সাড়ে ৪ মাস অনাবৃষ্টির পর মাঝারি থেকে ভারী শিলাবৃষ্টি হয়। আক্রান্ত হয় ৭ হাজারেরও বেশি হেক্টর জমির আম ও ধান। বিপুল ক্ষতি হয় আমের। এছাড়া বিরুপ আবহাওয়া ও পোকার আক্রমনেও এ মৌুমে মুকুল অনুযায়ী আমের গুটি অনেক কম হয়েছে। জেলায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে এবার আম চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৪ লক্ষ ৫৮ হাজার ৯১২ টন।