ওয়ানডে সিরিজও হারল পাকিস্তান

টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর ওয়ানডে সিরিজেও শোচনীয় পরাজয় বরণ করল পাকিস্তান।  তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের ২৯২ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৯ রানের মধ্যেই হারায় তিন উইকেট। এরপর ৩২ রানের মধ্যে পাঁচ উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচ থেকেই ছিটকে যায় রিজওয়ানের দল। তবে ফাহিম আশরাফ ও নাসিম শাহর লড়াকু ইনিংসের কারণে পাকিস্তান অন্তত ২০৮ রান পর্যন্ত যেতে পেরেছে।  বুধবার হ্যামিলটনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ড ৮৪ রানের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে। নেপিয়ারে প্রথম ম্যাচে ৭৩ রানে জয়ের পর এ ম্যাচেও দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে কিউইরা।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে পাকিস্তান

২৯৩ রানের লক্ষ্যে নেমে শুরুতেই ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ের শিকার হয় পাকিস্তান। মাত্র ৯ রানের মধ্যেই সাজঘরে ফেরেন আবদুল্লাহ শফিক, ইমাম-উল-হক ও বাবর আজম। এরপর ৩২ রানের মধ্যে অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আগার উইকেট হারালে চাপে পড়ে দল।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্রিজে আসেন ফাহিম আশরাফ। তাইব তাহিরের সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করলেও তাহির ১৩ রান করে আউট হন। এরপর মোহাম্মদ ওয়াসিমও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। ৭২ রানে সাত উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় পাকিস্তান।

কিন্তু এখান থেকে লড়াই চালিয়ে যান ফাহিম আশরাফ। হারিস রউফ, আকিব জাভেদ ও নাসিম শাহকে নিয়ে ১০২ রান যোগ করেন তিনি। নবম উইকেট হিসেবে ৭৩ রান করে আউট হন এই অলরাউন্ডার। দলীয় রান তখন ১৭৪। এরপর নাসিম শাহ শেষ উইকেট জুটিতে দলের স্কোর দুইশ পার করেন। ৪৪ বলে ৫১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি।

কিউইদের হয়ে বিধ্বংসী বোলিং করেছেন সিয়ার্স। মাত্র ৫৯ রান খরচায় পাঁচ উইকেট শিকার করেন তিনি।

মিচেল হে-র দুর্দান্ত ইনিংস 

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নিউজিল্যান্ড ভালো সূচনা করে। ৬ ওভারে ৫৪ রান তোলে স্বাগতিকরা। তবে এরপর ১৩২ রানের মধ্যেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় দলটি।

এসময় দলের হাল ধরেন মিচেল হে ও মোহাম্মদ আব্বাস। দুজন মিলে ৮০ বলে ৭৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। ৭৮ বলে ৯৯ রানে অপরাজিত থাকেন মিচেল হে, শেষ বলে সেঞ্চুরির জন্য প্রয়োজন ছিল ৫ রান, কিন্তু চার মেরে ৯৯ রানেই থামেন তিনি। অপরাজিত থেকে ১ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন এই কিউই ব্যাটার।

মোহাম্মদ আব্বাস ৬৬ বলে ৪১ রান করেন, আর টেল এন্ডারদের নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে তিনশোর কাছাকাছি নিয়ে যান হে। পাকিস্তানের হয়ে ওয়াসিম জুনিয়র ও সুফিয়ান মুকিম দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

এভাবে দুই ফরম্যাটের সিরিজেই ব্যর্থতার মুখ দেখল পাকিস্তান, যেখানে ব্যাটিং লাইনআপের দুর্বলতা চোখে পড়ার মতো।