ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনে বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশে বড় পরিসরে নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। আজ ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে এ তথ্য জানান ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস আইজাবস।

বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান।

প্রেস সচিব বলেন, বৈঠকে নির্বাচন প্রস্তুতি, সমতাভিত্তিক প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড), গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।

তিনি জানান, ইভারস আইজাবস বৈঠকে উল্লেখ করেছেন যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখছে। এ কারণেই তারা বড় আকারের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সব দেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠায় না; তবে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে এবং বাংলাদেশকে তারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু দেশ হিসেবে বিবেচনা করে।

প্রেস সচিব বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন দেশের সব অঞ্চলে বিস্তৃতভাবে কাজ করবে। তারা বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবে এবং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।

নির্বাচনী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। এসব ক্যামেরা একটি কেন্দ্রীয় অ্যাপের মাধ্যমে উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও ঢাকা থেকে সরাসরি মনিটর করা হবে। পাশাপাশি সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে এবং দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী র‌্যাপিড রেসপন্স স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট চাওয়ার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার আইনগত মতামত নিয়েছে জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, শীর্ষ আইন বিশেষজ্ঞরা লিখিতভাবে জানিয়েছেন—এ ক্ষেত্রে কোনো আইনগত বাধা নেই। ফলে সরকার এ বিষয়ে প্রচার ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানো বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

তবে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, পতিত স্বৈরাচারের সমর্থকেরা নির্বাচন বিঘ্নিত করার চেষ্টা করতে পারে। এসব মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, নারী ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। ফলে আসন্ন নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ভোটার উপস্থিতির আশা করছে সরকার।

এ সময় ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।