ইউক্রেন আমাদের শত্রু: হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী

হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান ইউক্রেনকে ‘শত্রু’ হিসেবে অ্যাখায়িত করেছেন। হাঙ্গেরি যেন রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনা বন্ধ করে দেয়- ইউক্রেনের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এই মন্তব্য করেন। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে হাঙ্গেরি রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি বন্ধের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে হাঙ্গেরি এর বিরোধিতা করে আসছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) হাঙ্গেরির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সোম্বাতেলিতে এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ওরবান ইউক্রেনের বিরুদ্ধে হাঙ্গেরির নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগ তোলেন। ওরবান বলেন, “ব্রাসেলসে বসে হাঙ্গেরিকে রাশিয়ার সস্তা জ্বালানি থেকে বিচ্ছিন্ন করার যে ক্রমাগত দাবি ইউক্রেন জানাচ্ছে, তা তাদের বন্ধ করতে হবে। তিনি সতর্ক করে আরো বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত ইউক্রেন দাবি করবে যে হাঙ্গেরিকে রাশিয়ার সস্তা জ্বালানি থেকে বিচ্ছিন্ন করা হোক, ততক্ষণ ইউক্রেন কেবল আমাদের প্রতিপক্ষ নয়, ইউক্রেন আমাদের শত্রু।” তিনি জানান, এমনটা হলে সাধারণ মানুষের ইউটিলিটি বিল বা জীবনযাত্রার ব্যয় নাটকীয়ভাবে বেড়ে যাবে।
ইউরোপীয় কমিশন বর্তমানে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ২০তম নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা করছে, যার মধ্যে রুশ তেলের সামুদ্রিক পরিষেবার ওপর নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গত মাসে ইউরোপীয় কাউন্সিল ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ রাশিয়ার সব গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করার একটি রোডম্যাপ অনুমোদন করেছে। গত সোমবার হাঙ্গেরি জানায়, তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সিদ্ধান্তে বিরুদ্ধে মামলা করবে। রাশিয়ার জ্বালানির ওপর এই নিষেধাজ্ঞাকে তারা ‘আত্মঘাতী’ বলে অভিহিত করেছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ওরবান ইউক্রেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের বিরোধিতার কথা আবারও পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি যুক্তি দেন, কিয়েভের সঙ্গে কোনো ‘সামরিক বা অর্থনৈতিক জোট’ শেষ পর্যন্ত বিপর্যয় ডেকে আনবে।