আমরা অভিভাবকতুল্য একজন মানুষকে হারালাম: শাকিব খান

পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আজীবন সদস্য, কিংবদন্তি অভিনেতা ও বিশিষ্ট নৃত্য পরিচালক ইলিয়াস জাভেদ। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে চলচ্চিত্রাঙ্গনে। প্রিয় শিল্পীর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট অনেকেই। দেশের শীর্ষ চিত্রনায়ক শাকিব খান শোক প্রকাশ করে একটি পোস্ট দিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। জাভেদের সাদা-কালো একটি ছবি পোস্ট করে শাকিব খান লেখেন, “চলে গেলেন চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা ও নৃত্যপরিচালক, শ্রদ্ধেয় ইলিয়াস জাভেদ। তার প্রয়াণে আমরা হারালাম শুধু একজন শিল্পীকে নয়, হারালাম একজন অভিভাবকতুল্য মানুষকেও।”শরীরিভাবে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও জাভেদ বেঁচে থাকবেন তার কর্মে। এ তথ্য উল্লেখ করে শাকিব খান লেখেন, “তিনি আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিলেও পর্দায় ও শিল্পাঙ্গনে রেখে গেছেন অসংখ্য স্মৃতি ও অবদান, যা তাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বাঁচিয়ে রাখবে। তার সৃষ্টিকর্ম ও অনুপ্রেরণা চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।” বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরার নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জাভেদ। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসার ও হৃদরোগে ভুগছিলেন বর্ষীয়ান এই শিল্পী।  জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী বলেন, “আজ সকালে তার শারীরিক অবস্থার হঠাৎ মারাত্মক অবনতি হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। এক পর্যায়ে বাসায় রেখে চিকিৎসা চালানো হচ্ছিল। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক ও দুজন নার্স নিয়মিত এসে তাকে দেখতেন। সকালে নার্সরা এসে জানান, তার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”  ষাটের দশকে নৃত্য পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন ইলিয়াস জাভেদ। কায়সার পাশা পরিচালিত উর্দু ভাষার সিনেমা ‘মালান’–এ প্রথম নৃত্য পরিচালনা করেন তিনি। ১৯৬৪ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘নয়া জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে তার অভিষেক ঘটে। ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পায়েল’ সিনেমায় শাবানার বিপরীতে অভিনয়ের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। পরবর্তীতে প্রায় দুই শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেন জাভেদ। নব্বই দশক পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ছিলেন দর্শকপ্রিয় নায়ক।  জাভেদ অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে—মালকা বানু, অনেক দিন আগে, শাহজাদী, নিশান, রাজকুমারী চন্দ্রভান, কাজল রেখা, সাহেব বিবি গোলাম, নরম গরম, তিন বাহাদুর, চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা, চোরের রাজা, জালিম রাজকন্যা প্রভৃতি।