অ্যাপস-নিয়ন্ত্রিত তেল বিক্রি: দাম বাড়লেও কমেনি ভোগান্তি

জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণের পরও চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমেনি। পূর্বের মতোই সকাল থেকে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে তেল নিতে হচ্ছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে প্রতিদিন জ্বালানি সরবরাহ না দেওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বুধবার জেলা শহরের মেসার্স এমদাদুল হক অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, সকাল থেকেই মোটরসাইকেল চালকরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। আগের মতোই অ্যাপসের মাধ্যমে মোটরসাইকেলের নম্বর এন্ট্রি করে ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিটি মোটরসাইকেলকে ৭০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে।
বেলা ১২টার দিকে লাইন কিছুটা ছোট হলেও প্রচণ্ড রোদের মধ্যেই চালকদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। দোগাচ্ছির ইব্রাহিম নামের এক চালক জানান, তিনি দেড় ঘণ্টা লাইনে থাকার পর তেল পেয়েছেন। বিশাল নামের এক গ্রাহক বলেন, দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর তিনি তেল পান।
ফিলিং স্টেশনটির ব্যবস্থাপক শামসুল আলম জানান, আগের নিয়মেই অ্যাপসের মাধ্যমে ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রতিদিন নিয়মিত তেল সরবরাহ পাওয়া গেলে এই ভোগান্তি থাকত না। “একদিন পাচ্ছি, তো একদিন পাচ্ছি না,”—যোগ করেন তিনি।
এদিকে তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সেবাখাতে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যয়, পরিবহন খরচ এবং বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ। ইতোমধ্যে কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
শহরের শান্তি মোড় এলাকায় অটোরিকশা যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে মাহিন্দ্রা চালকরা ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেশি ভাড়া দাবি করছেন।
জ্বালানি সংকটের কারণে নিত্যপণ্যের বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের মতে, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। ডিজেল সংকটের কারণে অনেক পরিবহন মালিক গাড়ি রাস্তায় নামাচ্ছেন না, ফলে খেত থেকে সবজি আড়তে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। এর ফলে বাড়তি ব্যয় শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদেরই বহন করতে হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ একটি কৃষিপ্রধান অঞ্চল হওয়ায় ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে সেচ পাম্পের খরচও বেড়ে যাবে, যা কৃষকদের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়াবে। স্থানীয় কৃষকদের মতে, বর্তমান আম ও বোরো মৌসুমে এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি উৎপাদন ব্যয়ে প্রভাব ফেলবে।
কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “তেলের দাম বাড়লে সারের দামও বাড়ে, আবার গাড়ি ভাড়াও বাড়ে। শেষ পর্যন্ত আমরা কৃষকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হই।”
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসের নেতা শরিফুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে তেলের দাম বাড়ানো হলেও বাস ভাড়া এখনও বাড়ানো হয়নি। তবে শিগগিরই ভাড়া বাড়তে পারে বলে তিনি জানান।